দেশের আবহাওয়ায় আবারও পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। আগামী পাঁচ দিনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দমকা হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টি এবং কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। বিশেষ করে উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি বিভাগে এই বৃষ্টিপাতের প্রবণতা তুলনামূলকভাবে বেশি থাকতে পারে।
আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, হঠাৎ করেই আকাশে বিদ্যুৎ চমকানো, দমকা বাতাস এবং স্থানীয়ভাবে বজ্রসহ বৃষ্টির পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এতে কিছু এলাকায় শিলাবৃষ্টির ঝুঁকিও রয়েছে।
শনিবার ও রবিবার (১৮–১৯ এপ্রিল) রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু এলাকায় বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায়ও দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছে।
এই সময়ে কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টির ঘটনাও ঘটতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে হঠাৎ আবহাওয়া পরিবর্তনে জনজীবনে সাময়িক বিঘ্ন ঘটতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার দিনের তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে। তবে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে। রবিবার আবার দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে, যদিও রাতের তাপমাত্রায় তেমন পরিবর্তন হবে না।
সোমবার ও মঙ্গলবার (২০–২১ এপ্রিল) ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু এলাকায় বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে রংপুর, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু স্থানে বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টি হতে পারে।
বিশেষ করে সোমবার দেশের কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। মঙ্গলবার দিন ও রাতের তাপমাত্রা কিছুটা বাড়তে পারে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু এলাকায় বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। তবে দেশের বেশিরভাগ এলাকায় আকাশ আংশিক মেঘলা থেকে শুষ্ক থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, এই সময় থেকে ধীরে ধীরে তাপমাত্রা বাড়ার প্রবণতা দেখা দিতে পারে।
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় হালকা বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে রংপুরে সর্বোচ্চ ৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।
এছাড়া নীলফামারীর ডিমলায় ৪ মিলিমিটার, সিলেটে ২ মিলিমিটার এবং নারায়ণগঞ্জে ১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এতে কিছু এলাকায় সাময়িকভাবে তাপমাত্রা কিছুটা কমেছে।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, এপ্রিল মাসে বাংলাদেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রবৃষ্টির প্রবণতা স্বাভাবিকভাবেই বেশি থাকে। এ সময় তাপমাত্রার দ্রুত ওঠানামা বায়ুমণ্ডলে অস্থিরতা তৈরি করে, যা বজ্রঝড় ও শিলাবৃষ্টির প্রধান কারণ।
এ ধরনের আবহাওয়া কৃষির জন্য একদিকে যেমন ঝুঁকিপূর্ণ, অন্যদিকে অনেক সময় উপকারীও হতে পারে, কারণ এটি ফসলের জন্য প্রয়োজনীয় পানি সরবরাহ করে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এই সময়ে বজ্রপাতের ঝুঁকি বেশি থাকে। তাই খোলা মাঠ, উঁচু গাছের নিচে বা টিনের ঘরের পাশে অবস্থান না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বজ্রপাত শুরু হলে দ্রুত নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়া এবং বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
সব মিলিয়ে আগামী পাঁচ দিনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আবহাওয়ার মিশ্র পরিস্থিতি বিরাজ করবে—কোথাও বৃষ্টি, কোথাও আবার শুষ্ক আবহাওয়া। হঠাৎ আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে জনজীবনে সাময়িক প্রভাব পড়তে পারে।
তাই বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর সবাইকে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে, বিশেষ করে বজ্রঝড়ের সময় নিরাপদ অবস্থানে থাকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬
দেশের আবহাওয়ায় আবারও পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। আগামী পাঁচ দিনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দমকা হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টি এবং কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। বিশেষ করে উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি বিভাগে এই বৃষ্টিপাতের প্রবণতা তুলনামূলকভাবে বেশি থাকতে পারে।
আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, হঠাৎ করেই আকাশে বিদ্যুৎ চমকানো, দমকা বাতাস এবং স্থানীয়ভাবে বজ্রসহ বৃষ্টির পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এতে কিছু এলাকায় শিলাবৃষ্টির ঝুঁকিও রয়েছে।
শনিবার ও রবিবার (১৮–১৯ এপ্রিল) রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু এলাকায় বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায়ও দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছে।
এই সময়ে কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টির ঘটনাও ঘটতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে হঠাৎ আবহাওয়া পরিবর্তনে জনজীবনে সাময়িক বিঘ্ন ঘটতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার দিনের তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে। তবে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে। রবিবার আবার দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে, যদিও রাতের তাপমাত্রায় তেমন পরিবর্তন হবে না।
সোমবার ও মঙ্গলবার (২০–২১ এপ্রিল) ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু এলাকায় বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে রংপুর, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু স্থানে বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টি হতে পারে।
বিশেষ করে সোমবার দেশের কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। মঙ্গলবার দিন ও রাতের তাপমাত্রা কিছুটা বাড়তে পারে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু এলাকায় বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। তবে দেশের বেশিরভাগ এলাকায় আকাশ আংশিক মেঘলা থেকে শুষ্ক থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, এই সময় থেকে ধীরে ধীরে তাপমাত্রা বাড়ার প্রবণতা দেখা দিতে পারে।
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় হালকা বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে রংপুরে সর্বোচ্চ ৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।
এছাড়া নীলফামারীর ডিমলায় ৪ মিলিমিটার, সিলেটে ২ মিলিমিটার এবং নারায়ণগঞ্জে ১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এতে কিছু এলাকায় সাময়িকভাবে তাপমাত্রা কিছুটা কমেছে।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, এপ্রিল মাসে বাংলাদেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রবৃষ্টির প্রবণতা স্বাভাবিকভাবেই বেশি থাকে। এ সময় তাপমাত্রার দ্রুত ওঠানামা বায়ুমণ্ডলে অস্থিরতা তৈরি করে, যা বজ্রঝড় ও শিলাবৃষ্টির প্রধান কারণ।
এ ধরনের আবহাওয়া কৃষির জন্য একদিকে যেমন ঝুঁকিপূর্ণ, অন্যদিকে অনেক সময় উপকারীও হতে পারে, কারণ এটি ফসলের জন্য প্রয়োজনীয় পানি সরবরাহ করে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এই সময়ে বজ্রপাতের ঝুঁকি বেশি থাকে। তাই খোলা মাঠ, উঁচু গাছের নিচে বা টিনের ঘরের পাশে অবস্থান না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বজ্রপাত শুরু হলে দ্রুত নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়া এবং বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
সব মিলিয়ে আগামী পাঁচ দিনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আবহাওয়ার মিশ্র পরিস্থিতি বিরাজ করবে—কোথাও বৃষ্টি, কোথাও আবার শুষ্ক আবহাওয়া। হঠাৎ আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে জনজীবনে সাময়িক প্রভাব পড়তে পারে।
তাই বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর সবাইকে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে, বিশেষ করে বজ্রঝড়ের সময় নিরাপদ অবস্থানে থাকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন