দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

হজ পালনে সৌদি পৌঁছেছেন ৭৩ হাজার ১৮২ বাংলাদেশি, মৃত্যু ১৮ জনের

হজ পালনে সৌদি পৌঁছেছেন ৭৩ হাজার ১৮২ বাংলাদেশি, মৃত্যু ১৮ জনের

ওমানে একসঙ্গে নিহত ৪ প্রবাসী ভাইয়ের মরদেহ দেশে, বিমানবন্দরে আবেগঘন বক্তব্য হুম্মাম কাদের চৌধুরীর

সৌদি আরবে পৌঁছেছেন ৬২,৫২৮ বাংলাদেশি হজযাত্রী, এ পর্যন্ত মৃত্যু ১৭ জন—হজ বুলেটিনে তথ্য

ইরানে গোপন হামলায় সৌদি আরবও জড়িত? মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে নতুন তথ্য সামনে

মালয়েশিয়ায় অভিবাসীবাহী নৌকাডুবি, নিখোঁজ অন্তত ১৪ ইন্দোনেশীয়

নিহত শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ ৯ মে ঢাকায়, যুক্তরাষ্ট্রে রহস্যঘেরা ঘটনায় উদ্বেগ

প্রবাসী ‘জুলাই যোদ্ধা’দের জন্য ২৫ লাখ ক্ষতিপূরণ—হাইকোর্টের রুলে নতুন আলোচনা

সৌদিতে পৌঁছেছেন প্রায় ৪৫ হাজার হজযাত্রী, ফ্লাইট কার্যক্রমে গতি—হজ প্রস্তুতি নিয়ে আশাবাদ

লন্ডনে বসেই ভোট: প্রবাসীদের অংশগ্রহণে বদলাবে কি বাংলাদেশের নির্বাচনের হিসাব?

লন্ডনে বসেই ভোট: প্রবাসীদের অংশগ্রহণে বদলাবে কি বাংলাদেশের নির্বাচনের হিসাব?
-ফাইল ফটো

লন্ডনে বসেই বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ—এই প্রথমবার এমন সুযোগ পাচ্ছেন যুক্তরাজ্যে থাকা বাংলাদেশিরা। তাই প্রশ্ন উঠছে, এই ভোট কি দেশের নির্বাচনের ফলাফলে সত্যিই কোনো বড় প্রভাব ফেলতে পারবে?

লন্ডনের পূর্বাঞ্চলের হোয়াইটচ্যাপেল এলাকায় গেলে বিষয়টি খুব সহজেই বোঝা যায়। কাসাব্লাঙ্কা ক্যাফের মতো পরিচিত আড্ডাস্থলগুলোতে এখন শুধু চা, সিঙ্গাড়া আর বিরিয়ানি নিয়েই আলোচনা হচ্ছে না—রাজনীতি নিয়েও চলছে তুমুল কথা। অনেকেই বলছেন, বিদেশে বসে দেশের ভোট দিতে পারা তাদের জন্য গর্বের বিষয়। আবার কেউ কেউ বলছেন, বাস্তবে এই সুযোগ কাজে লাগানো এত সহজ হবে না।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনে প্রথমবারের মতো যুক্তরাজ্যে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের একটি অংশ ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে লন্ডনের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে যেমন উৎসাহ আছে, তেমনি আছে কিছুটা সন্দেহও। কারণ অনেকেই এখনো জানেন না কীভাবে নিবন্ধন করতে হবে বা কোথায় গিয়ে ভোট দিতে হবে।

লন্ডনের পূর্ব প্রান্ত, বিশেষ করে টাওয়ার হ্যামলেটস এলাকায় কয়েক লক্ষ বাংলাদেশির বসবাস। এই এলাকায় বহু বছর ধরেই বাংলাদেশি কমিউনিটির শক্ত উপস্থিতি রয়েছে। স্থানীয় রাজনীতিতেও তাদের প্রভাব দেখা যায়। তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—এই বড় কমিউনিটির ভোট যদি সংগঠিতভাবে দেওয়া যায়, তাহলে কি দেশের রাজনীতিতে তার কোনো প্রভাব পড়বে?তবে বাস্তবতা হলো, শুধু লন্ডনে বাংলাদেশির সংখ্যা বেশি হলেই নির্বাচনের ফল বদলে যাবে—এমনটা নিশ্চিত করে বলা কঠিন। কারণ দেশের মোট ভোটারের তুলনায় বিদেশে থাকা ভোটারের সংখ্যা এখনো তুলনামূলক কম। তাছাড়া ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করা, পরিচয় যাচাই করা এবং নির্ধারিত কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়া—এসব বিষয় অনেকের জন্য এখনো জটিল মনে হচ্ছে।

আল জাজিরার সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, অনেক প্রবাসী ভোটাধিকার পাওয়ার খবরে আনন্দিত হলেও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নিয়ে তারা কিছুটা হতাশ। কেউ কেউ বলছেন, সময় কম, তথ্য কম, আর প্রক্রিয়াটিও সহজ নয়। ফলে অনেকেই শেষ পর্যন্ত ভোট দিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।এর আগে দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশের নির্বাচনে সরাসরি ভোট দিতে পারতেন না। অথচ প্রতি বছর তারা বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দেশে পাঠান, যা দেশের অর্থনীতির একটি বড় শক্তি হিসেবে কাজ করে। তাই বহু বছর ধরেই প্রবাসীদের ভোটাধিকার দেওয়ার দাবি ছিল। এবার সেই দাবির আংশিক বাস্তবায়ন হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ যদি ধাপে ধাপে আরও বিস্তৃত করা যায় এবং আরও বেশি দেশে বসবাসরত বাংলাদেশিদের ভোটের আওতায় আনা যায়, তাহলে ভবিষ্যতে প্রবাসী ভোট একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে প্রথম ধাপে এর প্রভাব সীমিত থাকার সম্ভাবনাই বেশি।

সব মিলিয়ে বলা যায়, লন্ডনের বাংলাদেশি ভোটারদের অংশগ্রহণ একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা। এটি হয়তো এবারই নির্বাচনের ফল পাল্টে দেবে না, কিন্তু ভবিষ্যতে প্রবাসীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণের নতুন একটি পথ তৈরি করবে—এমনটাই আশা করছেন অনেকেই।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

সোমবার, ০১ জুন ২০২৬


লন্ডনে বসেই ভোট: প্রবাসীদের অংশগ্রহণে বদলাবে কি বাংলাদেশের নির্বাচনের হিসাব?

প্রকাশের তারিখ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

লন্ডনে বসেই বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ—এই প্রথমবার এমন সুযোগ পাচ্ছেন যুক্তরাজ্যে থাকা বাংলাদেশিরা। তাই প্রশ্ন উঠছে, এই ভোট কি দেশের নির্বাচনের ফলাফলে সত্যিই কোনো বড় প্রভাব ফেলতে পারবে?

লন্ডনের পূর্বাঞ্চলের হোয়াইটচ্যাপেল এলাকায় গেলে বিষয়টি খুব সহজেই বোঝা যায়। কাসাব্লাঙ্কা ক্যাফের মতো পরিচিত আড্ডাস্থলগুলোতে এখন শুধু চা, সিঙ্গাড়া আর বিরিয়ানি নিয়েই আলোচনা হচ্ছে না—রাজনীতি নিয়েও চলছে তুমুল কথা। অনেকেই বলছেন, বিদেশে বসে দেশের ভোট দিতে পারা তাদের জন্য গর্বের বিষয়। আবার কেউ কেউ বলছেন, বাস্তবে এই সুযোগ কাজে লাগানো এত সহজ হবে না।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনে প্রথমবারের মতো যুক্তরাজ্যে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের একটি অংশ ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে লন্ডনের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে যেমন উৎসাহ আছে, তেমনি আছে কিছুটা সন্দেহও। কারণ অনেকেই এখনো জানেন না কীভাবে নিবন্ধন করতে হবে বা কোথায় গিয়ে ভোট দিতে হবে।

লন্ডনের পূর্ব প্রান্ত, বিশেষ করে টাওয়ার হ্যামলেটস এলাকায় কয়েক লক্ষ বাংলাদেশির বসবাস। এই এলাকায় বহু বছর ধরেই বাংলাদেশি কমিউনিটির শক্ত উপস্থিতি রয়েছে। স্থানীয় রাজনীতিতেও তাদের প্রভাব দেখা যায়। তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—এই বড় কমিউনিটির ভোট যদি সংগঠিতভাবে দেওয়া যায়, তাহলে কি দেশের রাজনীতিতে তার কোনো প্রভাব পড়বে?তবে বাস্তবতা হলো, শুধু লন্ডনে বাংলাদেশির সংখ্যা বেশি হলেই নির্বাচনের ফল বদলে যাবে—এমনটা নিশ্চিত করে বলা কঠিন। কারণ দেশের মোট ভোটারের তুলনায় বিদেশে থাকা ভোটারের সংখ্যা এখনো তুলনামূলক কম। তাছাড়া ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করা, পরিচয় যাচাই করা এবং নির্ধারিত কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়া—এসব বিষয় অনেকের জন্য এখনো জটিল মনে হচ্ছে।

আল জাজিরার সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, অনেক প্রবাসী ভোটাধিকার পাওয়ার খবরে আনন্দিত হলেও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নিয়ে তারা কিছুটা হতাশ। কেউ কেউ বলছেন, সময় কম, তথ্য কম, আর প্রক্রিয়াটিও সহজ নয়। ফলে অনেকেই শেষ পর্যন্ত ভোট দিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।এর আগে দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশের নির্বাচনে সরাসরি ভোট দিতে পারতেন না। অথচ প্রতি বছর তারা বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দেশে পাঠান, যা দেশের অর্থনীতির একটি বড় শক্তি হিসেবে কাজ করে। তাই বহু বছর ধরেই প্রবাসীদের ভোটাধিকার দেওয়ার দাবি ছিল। এবার সেই দাবির আংশিক বাস্তবায়ন হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ যদি ধাপে ধাপে আরও বিস্তৃত করা যায় এবং আরও বেশি দেশে বসবাসরত বাংলাদেশিদের ভোটের আওতায় আনা যায়, তাহলে ভবিষ্যতে প্রবাসী ভোট একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে প্রথম ধাপে এর প্রভাব সীমিত থাকার সম্ভাবনাই বেশি।

সব মিলিয়ে বলা যায়, লন্ডনের বাংলাদেশি ভোটারদের অংশগ্রহণ একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা। এটি হয়তো এবারই নির্বাচনের ফল পাল্টে দেবে না, কিন্তু ভবিষ্যতে প্রবাসীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণের নতুন একটি পথ তৈরি করবে—এমনটাই আশা করছেন অনেকেই।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর