দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

হজ পালনে সৌদি পৌঁছেছেন ৭৩ হাজার ১৮২ বাংলাদেশি, মৃত্যু ১৮ জনের

হজ পালনে সৌদি পৌঁছেছেন ৭৩ হাজার ১৮২ বাংলাদেশি, মৃত্যু ১৮ জনের

ওমানে একসঙ্গে নিহত ৪ প্রবাসী ভাইয়ের মরদেহ দেশে, বিমানবন্দরে আবেগঘন বক্তব্য হুম্মাম কাদের চৌধুরীর

সৌদি আরবে পৌঁছেছেন ৬২,৫২৮ বাংলাদেশি হজযাত্রী, এ পর্যন্ত মৃত্যু ১৭ জন—হজ বুলেটিনে তথ্য

ইরানে গোপন হামলায় সৌদি আরবও জড়িত? মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে নতুন তথ্য সামনে

মালয়েশিয়ায় অভিবাসীবাহী নৌকাডুবি, নিখোঁজ অন্তত ১৪ ইন্দোনেশীয়

নিহত শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ ৯ মে ঢাকায়, যুক্তরাষ্ট্রে রহস্যঘেরা ঘটনায় উদ্বেগ

প্রবাসী ‘জুলাই যোদ্ধা’দের জন্য ২৫ লাখ ক্ষতিপূরণ—হাইকোর্টের রুলে নতুন আলোচনা

সৌদিতে পৌঁছেছেন প্রায় ৪৫ হাজার হজযাত্রী, ফ্লাইট কার্যক্রমে গতি—হজ প্রস্তুতি নিয়ে আশাবাদ

উত্তর ইতালিতে বন্যা ও ঝড়ের তাণ্ডব: পানির নিচে বহু এলাকা, উদ্ধার অভিযান জোরদার

উত্তর ইতালিতে বন্যা ও ঝড়ের তাণ্ডব: পানির নিচে বহু এলাকা, উদ্ধার অভিযান জোরদার
-ছবি: সংগৃহীত

উত্তর ইতালির বিভিন্ন অঞ্চলে টানা ভারী বৃষ্টি ও ঝড়ের কারণে হঠাৎ করেই বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। নদীর পানি দ্রুত বেড়ে গিয়ে অনেক সড়ক, বসতবাড়ি এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পানির নিচে চলে গেছে, ফলে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে ।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মিলান অঞ্চল। সেখানে সেভেসো নদীর বাঁধ ভেঙে পানি আশপাশের রাস্তাঘাট ও ঘরবাড়িতে ঢুকে পড়ে। হঠাৎ পানি ঢুকে পড়ায় অনেক মানুষ নিরাপদ জায়গায় যেতে বাধ্য হন। পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় কয়েকটি এলাকায় স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয় এবং ঝুঁকির মধ্যে থাকা স্কুলছাত্রদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।

লম্বারডি প্রদেশে পরিস্থিতি সামাল দিতে জরুরি উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, ইতিমধ্যে ৬৫০টিরও বেশি উদ্ধার অভিযান চালানো হয়েছে। এসব অভিযানে প্রায় ২০০ জন ফায়ারফাইটার কাজ করছেন। কোথাও আটকে পড়া মানুষকে বাড়ি থেকে বের করে আনা হয়েছে, আবার কোথাও পানিতে আটকে থাকা গাড়ি থেকে যাত্রীদের উদ্ধার করা হয়েছে।

মনজা ও ব্রিয়াঞ্জা প্রদেশে একটি হৃদয়স্পর্শী উদ্ধার ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। সেখানে বন্যার পানিতে একটি গাড়ির ছাদের ওপর আটকে পড়েছিলেন এক মা ও তার মাত্র ১০ মাস বয়সী শিশু। উদ্ধারকর্মীরা ঝুঁকি নিয়ে দ্রুত সেখানে পৌঁছে তাদের নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসেন। ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করলেও একই সঙ্গে উদ্ধারকর্মীদের সাহসিকতার প্রশংসাও পাচ্ছে।

অন্যদিকে পিয়েডমন্ট অঞ্চলে এক জার্মান পর্যটক বন্যার পানিতে নিখোঁজ হয়েছেন বলে জানা গেছে। তাকে খুঁজে বের করতে উদ্ধারকারী দল নদীর বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছে। এই ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন আরও সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে কয়েকটি এলাকায় অরেঞ্জ এবং হলুদ সতর্কতা জারি করেছে। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আগামী কয়েকদিন আরও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তাই সবাইকে নদীর তীর, সেতু এবং নিচু এলাকা থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

উত্তর ইতালির এই অঞ্চলগুলোতে আগে থেকেও হঠাৎ বন্যার ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে মিলানের সেভেসো নদী অতীতে কয়েকবার উপচে পড়ে শহরের বড় অংশে জলাবদ্ধতা তৈরি করেছিল। তাই কয়েক বছর ধরেই এই নদীর পানি নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে, তবে অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে পরিস্থিতি আবারও কঠিন হয়ে উঠেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হঠাৎ ভারী বৃষ্টিপাতের ঘটনা বেড়েছে। আবহাওয়ার এই পরিবর্তনের কারণে শহরাঞ্চলে দ্রুত জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে এবং উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করাও কঠিন হয়ে পড়ছে।

সব মিলিয়ে উত্তর ইতালির পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। উদ্ধার কাজ চলমান রয়েছে এবং প্রশাসন নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। আবহাওয়া পরিস্থিতি উন্নত না হওয়া পর্যন্ত স্থানীয়দের জন্য ঝুঁকি পুরোপুরি কাটবে না বলেই মনে করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬


উত্তর ইতালিতে বন্যা ও ঝড়ের তাণ্ডব: পানির নিচে বহু এলাকা, উদ্ধার অভিযান জোরদার

প্রকাশের তারিখ : ১৬ এপ্রিল ২০২৬

featured Image


উত্তর ইতালির বিভিন্ন অঞ্চলে টানা ভারী বৃষ্টি ও ঝড়ের কারণে হঠাৎ করেই বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। নদীর পানি দ্রুত বেড়ে গিয়ে অনেক সড়ক, বসতবাড়ি এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পানির নিচে চলে গেছে, ফলে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে ।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মিলান অঞ্চল। সেখানে সেভেসো নদীর বাঁধ ভেঙে পানি আশপাশের রাস্তাঘাট ও ঘরবাড়িতে ঢুকে পড়ে। হঠাৎ পানি ঢুকে পড়ায় অনেক মানুষ নিরাপদ জায়গায় যেতে বাধ্য হন। পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় কয়েকটি এলাকায় স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয় এবং ঝুঁকির মধ্যে থাকা স্কুলছাত্রদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।

লম্বারডি প্রদেশে পরিস্থিতি সামাল দিতে জরুরি উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, ইতিমধ্যে ৬৫০টিরও বেশি উদ্ধার অভিযান চালানো হয়েছে। এসব অভিযানে প্রায় ২০০ জন ফায়ারফাইটার কাজ করছেন। কোথাও আটকে পড়া মানুষকে বাড়ি থেকে বের করে আনা হয়েছে, আবার কোথাও পানিতে আটকে থাকা গাড়ি থেকে যাত্রীদের উদ্ধার করা হয়েছে।

মনজা ও ব্রিয়াঞ্জা প্রদেশে একটি হৃদয়স্পর্শী উদ্ধার ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। সেখানে বন্যার পানিতে একটি গাড়ির ছাদের ওপর আটকে পড়েছিলেন এক মা ও তার মাত্র ১০ মাস বয়সী শিশু। উদ্ধারকর্মীরা ঝুঁকি নিয়ে দ্রুত সেখানে পৌঁছে তাদের নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসেন। ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করলেও একই সঙ্গে উদ্ধারকর্মীদের সাহসিকতার প্রশংসাও পাচ্ছে।

অন্যদিকে পিয়েডমন্ট অঞ্চলে এক জার্মান পর্যটক বন্যার পানিতে নিখোঁজ হয়েছেন বলে জানা গেছে। তাকে খুঁজে বের করতে উদ্ধারকারী দল নদীর বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছে। এই ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন আরও সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে কয়েকটি এলাকায় অরেঞ্জ এবং হলুদ সতর্কতা জারি করেছে। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আগামী কয়েকদিন আরও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তাই সবাইকে নদীর তীর, সেতু এবং নিচু এলাকা থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

উত্তর ইতালির এই অঞ্চলগুলোতে আগে থেকেও হঠাৎ বন্যার ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে মিলানের সেভেসো নদী অতীতে কয়েকবার উপচে পড়ে শহরের বড় অংশে জলাবদ্ধতা তৈরি করেছিল। তাই কয়েক বছর ধরেই এই নদীর পানি নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে, তবে অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে পরিস্থিতি আবারও কঠিন হয়ে উঠেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হঠাৎ ভারী বৃষ্টিপাতের ঘটনা বেড়েছে। আবহাওয়ার এই পরিবর্তনের কারণে শহরাঞ্চলে দ্রুত জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে এবং উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করাও কঠিন হয়ে পড়ছে।

সব মিলিয়ে উত্তর ইতালির পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। উদ্ধার কাজ চলমান রয়েছে এবং প্রশাসন নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। আবহাওয়া পরিস্থিতি উন্নত না হওয়া পর্যন্ত স্থানীয়দের জন্য ঝুঁকি পুরোপুরি কাটবে না বলেই মনে করা হচ্ছে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর