মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসন দমনে চালানো পৃথক দুইটি বড় অভিযানে বাংলাদেশিসহ মোট ১৭১ জন বিদেশিকে আটক করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। রাজধানী কুয়ালালামপুর এবং জোহর অঞ্চলে ভোররাতে ও মধ্যরাতে চালানো এই অভিযানে নারী, পুরুষ এমনকি শিশুও আটক হওয়ার ঘটনায় আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযানগুলোর পর দেশটিতে অবৈধভাবে অবস্থানরত বিদেশিদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে বৃহস্পতিবার ভোরে চালানো বিশেষ অভিযানে ১২৫ জনকে আটক করা হয়। দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগের পরিচালক ওয়ান মোহাম্মদ সৌপি ওয়ান ইউসুফ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৮১ জন পুরুষ এবং ৪৪ জন নারী ছিলেন। তাদের বয়স ১৬ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে।
জাতীয়তার ভিত্তিতে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে—
অভিযান চলাকালে প্রায় ৪০০ জনের পরিচয় যাচাই করা হয়। যাচাই-বাছাই শেষে যাদের বৈধ কাগজপত্র পাওয়া যায়নি বা ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, তাদের আটক করা হয়।
ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে ওই এলাকায় নজরদারি চালানো হয়, এরপর পরিকল্পিতভাবে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
একই ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে বুধবার রাতে জোহর অঞ্চলের উলু তিরম এলাকায় ‘অপস সাপু’ নামে আরেকটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
এই অভিযানে মোট ৪৬ জনকে আটক করা হয়, যাদের মধ্যে ছিলেন—
শিশু দুটির বয়স ২ থেকে ৬ বছরের মধ্যে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
জোহর ইমিগ্রেশন বিভাগের পরিচালক দাতুক মোহাম্মদ রুসদি মোহাম্মদ দারুস জানান, আটক সবাইকে ইমিগ্রেশন ডিটেনশন সেন্টারে পাঠানো হয়েছে। সেখানে তাদের পরিচয় যাচাই ও আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
মালয়েশিয়ায় নির্মাণ, রেস্টুরেন্ট, ফ্যাক্টরি এবং গৃহস্থালি কাজসহ বিভিন্ন খাতে বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক কাজ করেন। তবে এর মধ্যে অনেকেই বৈধ কাগজপত্র ছাড়া অবস্থান করেন বা ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও থেকে যান।
ইমিগ্রেশন বিভাগ নিয়মিতভাবে এমন অভিযান পরিচালনা করে আসছে। বিশেষ করে স্থানীয় অভিযোগ এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বড় শহর ও শিল্পাঞ্চলে অভিযান জোরদার করা হয়।
এর আগেও কুয়ালালামপুর, জোহরসহ বিভিন্ন এলাকায় একাধিক বড় অভিযান চালিয়ে শত শত অবৈধ অভিবাসী আটক করা হয়েছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ বলছে, অভিবাসন আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন এবং শ্রমবাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে এসব অভিযান অব্যাহত থাকবে।
বিশ্লেষকদের মতে, মালয়েশিয়ার মতো শ্রমনির্ভর অর্থনীতিতে বিদেশি শ্রমিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও অবৈধ অভিবাসন দেশটির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে নিয়মিত অভিযান এখন একটি সাধারণ প্রক্রিয়ায় পরিণত হয়েছে।
এই ধরনের অভিযানের কারণে প্রবাসী শ্রমিকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। বিশেষ করে যারা সঠিক কাগজপত্র ছাড়া অবস্থান করছেন, তাদের জন্য ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে বৈধভাবে কাজ করা শ্রমিকদের কোনো সমস্যা হবে না বলেও আশ্বস্ত করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে কুয়ালালামপুর ও জোহরে চালানো এই যৌথ অভিযানে ১৭১ জন বিদেশি নাগরিকের আটক হওয়ার ঘটনা আবারও স্পষ্ট করেছে যে মালয়েশিয়া অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

রোববার, ৩১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ এপ্রিল ২০২৬
মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসন দমনে চালানো পৃথক দুইটি বড় অভিযানে বাংলাদেশিসহ মোট ১৭১ জন বিদেশিকে আটক করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। রাজধানী কুয়ালালামপুর এবং জোহর অঞ্চলে ভোররাতে ও মধ্যরাতে চালানো এই অভিযানে নারী, পুরুষ এমনকি শিশুও আটক হওয়ার ঘটনায় আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযানগুলোর পর দেশটিতে অবৈধভাবে অবস্থানরত বিদেশিদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে বৃহস্পতিবার ভোরে চালানো বিশেষ অভিযানে ১২৫ জনকে আটক করা হয়। দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগের পরিচালক ওয়ান মোহাম্মদ সৌপি ওয়ান ইউসুফ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৮১ জন পুরুষ এবং ৪৪ জন নারী ছিলেন। তাদের বয়স ১৬ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে।
জাতীয়তার ভিত্তিতে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে—
অভিযান চলাকালে প্রায় ৪০০ জনের পরিচয় যাচাই করা হয়। যাচাই-বাছাই শেষে যাদের বৈধ কাগজপত্র পাওয়া যায়নি বা ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, তাদের আটক করা হয়।
ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে ওই এলাকায় নজরদারি চালানো হয়, এরপর পরিকল্পিতভাবে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
একই ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে বুধবার রাতে জোহর অঞ্চলের উলু তিরম এলাকায় ‘অপস সাপু’ নামে আরেকটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
এই অভিযানে মোট ৪৬ জনকে আটক করা হয়, যাদের মধ্যে ছিলেন—
শিশু দুটির বয়স ২ থেকে ৬ বছরের মধ্যে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
জোহর ইমিগ্রেশন বিভাগের পরিচালক দাতুক মোহাম্মদ রুসদি মোহাম্মদ দারুস জানান, আটক সবাইকে ইমিগ্রেশন ডিটেনশন সেন্টারে পাঠানো হয়েছে। সেখানে তাদের পরিচয় যাচাই ও আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
মালয়েশিয়ায় নির্মাণ, রেস্টুরেন্ট, ফ্যাক্টরি এবং গৃহস্থালি কাজসহ বিভিন্ন খাতে বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক কাজ করেন। তবে এর মধ্যে অনেকেই বৈধ কাগজপত্র ছাড়া অবস্থান করেন বা ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও থেকে যান।
ইমিগ্রেশন বিভাগ নিয়মিতভাবে এমন অভিযান পরিচালনা করে আসছে। বিশেষ করে স্থানীয় অভিযোগ এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বড় শহর ও শিল্পাঞ্চলে অভিযান জোরদার করা হয়।
এর আগেও কুয়ালালামপুর, জোহরসহ বিভিন্ন এলাকায় একাধিক বড় অভিযান চালিয়ে শত শত অবৈধ অভিবাসী আটক করা হয়েছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ বলছে, অভিবাসন আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন এবং শ্রমবাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে এসব অভিযান অব্যাহত থাকবে।
বিশ্লেষকদের মতে, মালয়েশিয়ার মতো শ্রমনির্ভর অর্থনীতিতে বিদেশি শ্রমিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও অবৈধ অভিবাসন দেশটির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে নিয়মিত অভিযান এখন একটি সাধারণ প্রক্রিয়ায় পরিণত হয়েছে।
এই ধরনের অভিযানের কারণে প্রবাসী শ্রমিকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। বিশেষ করে যারা সঠিক কাগজপত্র ছাড়া অবস্থান করছেন, তাদের জন্য ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে বৈধভাবে কাজ করা শ্রমিকদের কোনো সমস্যা হবে না বলেও আশ্বস্ত করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে কুয়ালালামপুর ও জোহরে চালানো এই যৌথ অভিযানে ১৭১ জন বিদেশি নাগরিকের আটক হওয়ার ঘটনা আবারও স্পষ্ট করেছে যে মালয়েশিয়া অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

আপনার মতামত লিখুন