ইন্ট্রো:
দেশের অর্থনীতি, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা—সব মিলিয়ে কঠিন এক বাস্তবতার মধ্যেই নতুন সরকার দায়িত্ব নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বিপুল ঋণের বোঝা এবং ভঙ্গুর অর্থনৈতিক কাঠামো নিয়েই সরকারকে পথচলা শুরু করতে হয়েছে। রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক সম্মেলনে এই বক্তব্য দেন তিনি।
রবিবার সকালে অনুষ্ঠিত ডিসি সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পূর্ববর্তী শাসনামলে দুর্নীতি, অনিয়ম এবং লুটপাটের কারণে রাষ্ট্রের অর্থনীতি দুর্বল হয়ে পড়ে। তার দাবি অনুযায়ী, এই পরিস্থিতির ফলেই বর্তমান সরকারকে প্রায় ৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের ভার নিয়ে কাজ শুরু করতে হয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সরকার যখন দায়িত্ব গ্রহণ করে তখন দেশের অর্থনীতি ছিল “সবচেয়ে ভঙ্গুর অবস্থায়।” শুধু অর্থনীতিই নয়, জনপ্রশাসনেও ছিল বিভাজন এবং অদক্ষতা। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও সন্তোষজনক ছিল না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান কার্যত দুর্বল হয়ে পড়েছিল। এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হওয়ায় সাধারণ মানুষের আস্থাও কমে যায়।
তিনি বলেন, “রাষ্ট্রের মূল কাঠামোকে শক্তিশালী করতে হলে এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে আবার সক্রিয় ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে হবে।”
প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতেও দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা ছিল। এর ফলে এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ খাতেও কাঙ্ক্ষিত উন্নতি হয়নি। একই সঙ্গে দেশকে আমদানিনির্ভর অর্থনীতিতে পরিণত করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, কর্মসংস্থান সৃষ্টি না হওয়ায় বেকারত্ব বেড়েছে এবং দারিদ্র্যের হারও বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বলে তিনি জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু অভ্যন্তরীণ সমস্যা নয়, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিও দেশের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাত ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব বাংলাদেশের মতো দেশগুলোকেও মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, “বিশ্বের কোনো দেশই বর্তমান পরিস্থিতি থেকে পুরোপুরি মুক্ত নয়। তবে আমরা চেষ্টা করছি জনগণের ভোগান্তি কমিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে।”
গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সুষ্ঠু জনপ্রশাসন থাকলে জনগণের ভোটের প্রতিফলন সঠিকভাবে পাওয়া যায়। তিনি জেলা প্রশাসকদের উদ্দেশে বলেন, প্রশাসনের প্রতিটি পদই গুরুত্বপূর্ণ এবং দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে হবে।
একজন সিনিয়র প্রশাসনিক কর্মকর্তা, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রশাসনের ওপর চাপ অনেক বেশি। তবে সঠিক নির্দেশনা থাকলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব।”
প্রধানমন্ত্রী জানান, জনপ্রশাসনে শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণ করা হবে। একই সঙ্গে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি।
তার মতে, দক্ষ জনবল ছাড়া প্রশাসন কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব নয়। তাই যোগ্যতা ও সততার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি এবং বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সিন্ডিকেট ভেঙে বাজারকে স্থিতিশীল রাখতে নিয়মিত তদারকি করতে হবে।
ডিসিদের উদ্দেশে তিনি মোবাইল কোর্ট কার্যক্রম আরও জোরদার করার আহ্বান জানান, যাতে অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
সরকার দেশের ভেতরে ও বিদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার জন্য কাজ করছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিভিন্ন সেক্টর চিহ্নিত করে পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ শুরু হয়েছে।
একজন অর্থনীতিবিদ মন্তব্য করেন, “ঋণের চাপ থাকলেও সঠিক পরিকল্পনা ও বিনিয়োগ বাড়ানো গেলে অর্থনীতি ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াতে পারে।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, ৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণ একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলেও এটি একমাত্র সমস্যা নয়। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে রাজস্ব ঘাটতি, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ এবং বিনিয়োগের সংকট।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে,
তবে তারা মনে করেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং প্রশাসনিক দক্ষতা থাকলে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব।
বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রশাসনের জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরা হয়েছে—
এগুলো বাস্তবায়ন করতে পারলে সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নতুন সরকারের সামনে চ্যালেঞ্জ কম নয়—ঋণের চাপ, দুর্বল অর্থনীতি, প্রশাসনিক জটিলতা এবং বৈশ্বিক সংকট—সব মিলিয়ে কঠিন পথ পাড়ি দিতে হবে। তবে সরকার যদি পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করতে পারে এবং প্রশাসন সক্রিয় ভূমিকা পালন করে, তাহলে ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রোববার, ০৩ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ মে ২০২৬
ইন্ট্রো:
দেশের অর্থনীতি, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা—সব মিলিয়ে কঠিন এক বাস্তবতার মধ্যেই নতুন সরকার দায়িত্ব নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বিপুল ঋণের বোঝা এবং ভঙ্গুর অর্থনৈতিক কাঠামো নিয়েই সরকারকে পথচলা শুরু করতে হয়েছে। রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক সম্মেলনে এই বক্তব্য দেন তিনি।
রবিবার সকালে অনুষ্ঠিত ডিসি সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পূর্ববর্তী শাসনামলে দুর্নীতি, অনিয়ম এবং লুটপাটের কারণে রাষ্ট্রের অর্থনীতি দুর্বল হয়ে পড়ে। তার দাবি অনুযায়ী, এই পরিস্থিতির ফলেই বর্তমান সরকারকে প্রায় ৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের ভার নিয়ে কাজ শুরু করতে হয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সরকার যখন দায়িত্ব গ্রহণ করে তখন দেশের অর্থনীতি ছিল “সবচেয়ে ভঙ্গুর অবস্থায়।” শুধু অর্থনীতিই নয়, জনপ্রশাসনেও ছিল বিভাজন এবং অদক্ষতা। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও সন্তোষজনক ছিল না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান কার্যত দুর্বল হয়ে পড়েছিল। এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হওয়ায় সাধারণ মানুষের আস্থাও কমে যায়।
তিনি বলেন, “রাষ্ট্রের মূল কাঠামোকে শক্তিশালী করতে হলে এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে আবার সক্রিয় ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে হবে।”
প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতেও দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা ছিল। এর ফলে এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ খাতেও কাঙ্ক্ষিত উন্নতি হয়নি। একই সঙ্গে দেশকে আমদানিনির্ভর অর্থনীতিতে পরিণত করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, কর্মসংস্থান সৃষ্টি না হওয়ায় বেকারত্ব বেড়েছে এবং দারিদ্র্যের হারও বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বলে তিনি জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু অভ্যন্তরীণ সমস্যা নয়, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিও দেশের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাত ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব বাংলাদেশের মতো দেশগুলোকেও মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, “বিশ্বের কোনো দেশই বর্তমান পরিস্থিতি থেকে পুরোপুরি মুক্ত নয়। তবে আমরা চেষ্টা করছি জনগণের ভোগান্তি কমিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে।”
গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সুষ্ঠু জনপ্রশাসন থাকলে জনগণের ভোটের প্রতিফলন সঠিকভাবে পাওয়া যায়। তিনি জেলা প্রশাসকদের উদ্দেশে বলেন, প্রশাসনের প্রতিটি পদই গুরুত্বপূর্ণ এবং দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে হবে।
একজন সিনিয়র প্রশাসনিক কর্মকর্তা, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রশাসনের ওপর চাপ অনেক বেশি। তবে সঠিক নির্দেশনা থাকলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব।”
প্রধানমন্ত্রী জানান, জনপ্রশাসনে শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণ করা হবে। একই সঙ্গে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি।
তার মতে, দক্ষ জনবল ছাড়া প্রশাসন কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব নয়। তাই যোগ্যতা ও সততার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি এবং বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সিন্ডিকেট ভেঙে বাজারকে স্থিতিশীল রাখতে নিয়মিত তদারকি করতে হবে।
ডিসিদের উদ্দেশে তিনি মোবাইল কোর্ট কার্যক্রম আরও জোরদার করার আহ্বান জানান, যাতে অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
সরকার দেশের ভেতরে ও বিদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার জন্য কাজ করছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিভিন্ন সেক্টর চিহ্নিত করে পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ শুরু হয়েছে।
একজন অর্থনীতিবিদ মন্তব্য করেন, “ঋণের চাপ থাকলেও সঠিক পরিকল্পনা ও বিনিয়োগ বাড়ানো গেলে অর্থনীতি ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াতে পারে।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, ৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণ একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলেও এটি একমাত্র সমস্যা নয়। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে রাজস্ব ঘাটতি, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ এবং বিনিয়োগের সংকট।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে,
তবে তারা মনে করেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং প্রশাসনিক দক্ষতা থাকলে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব।
বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রশাসনের জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরা হয়েছে—
এগুলো বাস্তবায়ন করতে পারলে সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নতুন সরকারের সামনে চ্যালেঞ্জ কম নয়—ঋণের চাপ, দুর্বল অর্থনীতি, প্রশাসনিক জটিলতা এবং বৈশ্বিক সংকট—সব মিলিয়ে কঠিন পথ পাড়ি দিতে হবে। তবে সরকার যদি পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করতে পারে এবং প্রশাসন সক্রিয় ভূমিকা পালন করে, তাহলে ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আপনার মতামত লিখুন