দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

সামান্থাকে প্রকাশ্যে ‘লাভ ইউ’ বলতে নারাজ রাজ নিদিমরু, শুরু নতুন জল্পনা

সামান্থাকে প্রকাশ্যে ‘লাভ ইউ’ বলতে নারাজ রাজ নিদিমরু, শুরু নতুন জল্পনা

প্রিয়া বাপাটের বিস্ফোরক দাবি: শুটিংয়ে সহ-অভিনেতার আচরণে পড়েছিলেন চরম অস্বস্তিতে

প্রথমবার ধারাবাহিক নাটকের নায়ক প্রত্যয় খান, আজ শুরু ‘এই শহর এই পরিবার’

জীবনের অর্থ নিয়ে আবেগঘন বার্তা, ইনস্টাগ্রাম পোস্টে আলোচনায় ঐশ্বরিয়া রাই

আজম খানের ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকীতে চ্যানেল আইয়ের বিশেষ আয়োজন, প্রচার হবে ‘ট্রিবিউট টু গুরু আজম খান’

ব্রাজিলের পতাকার রঙে শাড়ি পরে আলোচনায় হিমি, ‘এইবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল’ পোস্ট ঘিরে তুমুল আলোচনা

সময়ের অভিনীত প্রথম সিনেমা ‘গুপ্তধনের খোঁজে’

পাকিস্তানে এমপিএ সাকিব চাধার বিরুদ্ধে অভিনেত্রী মোমিনা ইকবালের এফআইআর, প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

সুর, রঙ আর উৎসবে বরণ বাংলা নতুন বছর ১৪৩৩

সুর, রঙ আর উৎসবে বরণ বাংলা নতুন বছর ১৪৩৩
রবীন্দ্র সরোবর ও রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে গান-আবৃত্তি আর উৎসবে বরণ করা হচ্ছে বাংলা নতুন বছর ১৪৩৩। -ছবি: সংগৃহীত

বাংলা নতুন বছর ১৪৩৩-কে স্বাগত জানাতে সুর, রঙ, গান আর উৎসবের মিলনমেলায় মেতে উঠেছে পুরো দেশ। ভোরের প্রথম আলো ফুটতেই রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় শুরু হয় বর্ষবরণের আয়োজন। কোথাও গান, কোথাও আবৃত্তি, আবার কোথাও কনসার্ট—সব মিলিয়ে নতুন বছরকে ঘিরে তৈরি হয়েছে এক প্রাণবন্ত উৎসবমুখর পরিবেশ।

রাজধানীর রবীন্দ্র সরোবর এলাকায় ভোর থেকেই মানুষের ঢল নামে ‘হাজার কণ্ঠে বর্ষবরণ’ অনুষ্ঠানে। শত শত কণ্ঠ একসঙ্গে বাংলা গানের সুর তুললে পুরো এলাকা যেন পরিণত হয় এক বিশাল সাংস্কৃতিক মঞ্চে।


ভোরের সুরে বৈশাখ বরণ

Channel iসুরের ধারা–এর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে অংশ নেন বরেণ্য শিল্পী রফিকুল আলম, ফাহিম হোসেন চৌধুরী, কিরণ চন্দ্র রায়, কোনাললুইপা

আবৃত্তিতে ছিলেন জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় এবং উপস্থাপনায় ছিলেন দীপ্তি চৌধুরী

ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত চলা এই আয়োজন অনেকের কাছেই হয়ে ওঠে আবেগ আর ঐতিহ্যের এক অনন্য মুহূর্ত।


চৈত্রসংক্রান্তি পেরিয়ে নতুন বছরের উৎসব

বর্ষবরণের আগের সন্ধ্যাতেই শুরু হয় চৈত্রসংক্রান্তির বিদায় অনুষ্ঠান। এতে উপস্থিত ছিলেন ফরিদুর রেজা সাগরশাইখ সিরাজসহ বিভিন্ন অঙ্গনের বিশিষ্টজনরা।

সাংস্কৃতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধারাবাহিক আয়োজন এখন নগর জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে, যা মানুষকে শেকড়ের সঙ্গে নতুনভাবে যুক্ত করে।


টিভির পর্দাতেও বৈশাখের আমেজ

যারা বাইরে যেতে পারেননি, তাদের জন্যও ছিল বিশেষ আয়োজন। বাংলাদেশ টেলিভিশন দিনভর সম্প্রচার করছে বৈশাখী অনুষ্ঠানমালা।

রবীন্দ্রসংগীত, শিশুদের নাচ-গান, ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘চাওয়া পাওয়া’, কবিতা পাঠ ও বিশেষ টেলিফিল্ম—সব মিলিয়ে টেলিভিশন দর্শকরাও উপভোগ করছেন বাংলা নববর্ষের আনন্দ।


পাবনায় কনসার্টে তারুণ্যের উচ্ছ্বাস

রাজধানীর বাইরে পাবনাতেও জমে উঠেছে ‘রুচি বৈশাখী উৎসব ১৪৩৩’। সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ মাঠে আয়োজিত কনসার্টে গান পরিবেশন করছেন জেমস, ইমরান মাহমুদুলঐশী

নাচ ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় উৎসব আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।


বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে চিরকুটের মাতানো আয়োজন

তারুণ্যের বাড়তি উচ্ছ্বাস যোগ করেছে চিরকুট। রাজধানীর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তাদের পরিবেশনা দেখতে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক ভিড় দেখা যায়।

বিশেষ করে North South UniversityEast West University–এর ক্যাম্পাসে তরুণদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।


শহীদ মিনারে গণসংগীত

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকাতেও চলছে গণসংগীত সমন্বয় পরিষদের আয়োজন। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করছে।

আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন নিলুফার জাহান চিনু, মানজার চৌধুরী সুইটকাজী মিজানুর রহমান


ইতিহাসের শেকড়ে পহেলা বৈশাখ

পহেলা বৈশাখের ইতিহাস বহু পুরনো। ইতিহাসবিদদের মতে, আকবর–এর আমলে কৃষিভিত্তিক খাজনা আদায়ের সুবিধার্থে বাংলা সনের প্রচলন শুরু হয়।

সময়ের সঙ্গে এটি বাঙালির সবচেয়ে বড় অসাম্প্রদায়িক সাংস্কৃতিক উৎসবে পরিণত হয়েছে।


সংস্কৃতির শক্তিতে একতাবদ্ধ মানুষ

বিশ্লেষকদের মতে, পহেলা বৈশাখ শুধু উৎসব নয়—এটি বাঙালির ঐক্য, সংস্কৃতি ও পরিচয়ের প্রতীক। রাজনৈতিক, সামাজিক বা অর্থনৈতিক বিভাজনের বাইরে এই দিনটি মানুষকে একই আনন্দে যুক্ত করে।

শহর থেকে গ্রাম—সবখানেই এবার একই ছবি দেখা গেছে। রঙিন পোশাক, মঙ্গল শোভাযাত্রা, গান আর মানুষের হাসিমুখে নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়েছে পুরো দেশ।


উপসংহার

গান, নাচ, আবৃত্তি আর মানুষের মিলনে বাংলা নতুন বছর ১৪৩৩ হয়ে উঠেছে এক আনন্দঘন মিলনমেলা। ঐতিহ্য আর সংস্কৃতির বন্ধনে নতুন বছরকে বরণ করে আবারও প্রমাণ করল বাঙালি—সংস্কৃতিই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।

বিষয় : পহেলা বৈশাখ ১৪৩৩ বাংলা নববর্ষ বৈশাখ উৎসব ঢাকা রবীন্দ্র সরোবর বর্ষবরণ

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬


সুর, রঙ আর উৎসবে বরণ বাংলা নতুন বছর ১৪৩৩

প্রকাশের তারিখ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

বাংলা নতুন বছর ১৪৩৩-কে স্বাগত জানাতে সুর, রঙ, গান আর উৎসবের মিলনমেলায় মেতে উঠেছে পুরো দেশ। ভোরের প্রথম আলো ফুটতেই রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় শুরু হয় বর্ষবরণের আয়োজন। কোথাও গান, কোথাও আবৃত্তি, আবার কোথাও কনসার্ট—সব মিলিয়ে নতুন বছরকে ঘিরে তৈরি হয়েছে এক প্রাণবন্ত উৎসবমুখর পরিবেশ।

রাজধানীর রবীন্দ্র সরোবর এলাকায় ভোর থেকেই মানুষের ঢল নামে ‘হাজার কণ্ঠে বর্ষবরণ’ অনুষ্ঠানে। শত শত কণ্ঠ একসঙ্গে বাংলা গানের সুর তুললে পুরো এলাকা যেন পরিণত হয় এক বিশাল সাংস্কৃতিক মঞ্চে।


ভোরের সুরে বৈশাখ বরণ

Channel iসুরের ধারা–এর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে অংশ নেন বরেণ্য শিল্পী রফিকুল আলম, ফাহিম হোসেন চৌধুরী, কিরণ চন্দ্র রায়, কোনাললুইপা

আবৃত্তিতে ছিলেন জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় এবং উপস্থাপনায় ছিলেন দীপ্তি চৌধুরী

ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত চলা এই আয়োজন অনেকের কাছেই হয়ে ওঠে আবেগ আর ঐতিহ্যের এক অনন্য মুহূর্ত।


চৈত্রসংক্রান্তি পেরিয়ে নতুন বছরের উৎসব

বর্ষবরণের আগের সন্ধ্যাতেই শুরু হয় চৈত্রসংক্রান্তির বিদায় অনুষ্ঠান। এতে উপস্থিত ছিলেন ফরিদুর রেজা সাগরশাইখ সিরাজসহ বিভিন্ন অঙ্গনের বিশিষ্টজনরা।

সাংস্কৃতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধারাবাহিক আয়োজন এখন নগর জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে, যা মানুষকে শেকড়ের সঙ্গে নতুনভাবে যুক্ত করে।


টিভির পর্দাতেও বৈশাখের আমেজ

যারা বাইরে যেতে পারেননি, তাদের জন্যও ছিল বিশেষ আয়োজন। বাংলাদেশ টেলিভিশন দিনভর সম্প্রচার করছে বৈশাখী অনুষ্ঠানমালা।

রবীন্দ্রসংগীত, শিশুদের নাচ-গান, ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘চাওয়া পাওয়া’, কবিতা পাঠ ও বিশেষ টেলিফিল্ম—সব মিলিয়ে টেলিভিশন দর্শকরাও উপভোগ করছেন বাংলা নববর্ষের আনন্দ।


পাবনায় কনসার্টে তারুণ্যের উচ্ছ্বাস

রাজধানীর বাইরে পাবনাতেও জমে উঠেছে ‘রুচি বৈশাখী উৎসব ১৪৩৩’। সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ মাঠে আয়োজিত কনসার্টে গান পরিবেশন করছেন জেমস, ইমরান মাহমুদুলঐশী

নাচ ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় উৎসব আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।


বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে চিরকুটের মাতানো আয়োজন

তারুণ্যের বাড়তি উচ্ছ্বাস যোগ করেছে চিরকুট। রাজধানীর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তাদের পরিবেশনা দেখতে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক ভিড় দেখা যায়।

বিশেষ করে North South UniversityEast West University–এর ক্যাম্পাসে তরুণদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।


শহীদ মিনারে গণসংগীত

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকাতেও চলছে গণসংগীত সমন্বয় পরিষদের আয়োজন। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করছে।

আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন নিলুফার জাহান চিনু, মানজার চৌধুরী সুইটকাজী মিজানুর রহমান


ইতিহাসের শেকড়ে পহেলা বৈশাখ

পহেলা বৈশাখের ইতিহাস বহু পুরনো। ইতিহাসবিদদের মতে, আকবর–এর আমলে কৃষিভিত্তিক খাজনা আদায়ের সুবিধার্থে বাংলা সনের প্রচলন শুরু হয়।

সময়ের সঙ্গে এটি বাঙালির সবচেয়ে বড় অসাম্প্রদায়িক সাংস্কৃতিক উৎসবে পরিণত হয়েছে।


সংস্কৃতির শক্তিতে একতাবদ্ধ মানুষ

বিশ্লেষকদের মতে, পহেলা বৈশাখ শুধু উৎসব নয়—এটি বাঙালির ঐক্য, সংস্কৃতি ও পরিচয়ের প্রতীক। রাজনৈতিক, সামাজিক বা অর্থনৈতিক বিভাজনের বাইরে এই দিনটি মানুষকে একই আনন্দে যুক্ত করে।

শহর থেকে গ্রাম—সবখানেই এবার একই ছবি দেখা গেছে। রঙিন পোশাক, মঙ্গল শোভাযাত্রা, গান আর মানুষের হাসিমুখে নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়েছে পুরো দেশ।


উপসংহার

গান, নাচ, আবৃত্তি আর মানুষের মিলনে বাংলা নতুন বছর ১৪৩৩ হয়ে উঠেছে এক আনন্দঘন মিলনমেলা। ঐতিহ্য আর সংস্কৃতির বন্ধনে নতুন বছরকে বরণ করে আবারও প্রমাণ করল বাঙালি—সংস্কৃতিই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর