দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
আপডেট : শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

গুম-শহীদ পরিবারের পাশে আমিনুল হক, ঈদ উপহার ও আর্থিক সহায়তা প্রদান

গুম-শহীদ পরিবারের পাশে আমিনুল হক, ঈদ উপহার ও আর্থিক সহায়তা প্রদান

ঈদযাত্রার সকালে রাজধানীতে ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনা, নর্দ্দায় নিহত ৪, আহত বহু

নরসিংদীর রায়পুরায় তৃতীয় লিঙ্গের সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা, আতঙ্কে এলাকাবাসী

টাঙ্গাইলে যমুনা সেতুর পূর্বপাড়ে ট্রাক দুর্ঘটনায় ১৫ প্রাণহানি, শোকে স্তব্ধ চাপাইনবাবগঞ্জ

বাংলাদেশ পরিচ্ছন্ন জ্বালানির পথে এগোচ্ছে, সংসদ ভবনে ১ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প উদ্বোধন

রায়পুরায় নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা, আতঙ্কে স্থানীয়রা

ঈদে ঘরমুখো মানুষের নিরাপত্তায় তুরাগ থানার বিশেষ প্রস্তুতি, ২৪ দিনে গ্রেপ্তার ২৯৬

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সিআরপি প্রতিনিধিদের সাক্ষাৎ, পুনর্বাসন সেবার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়

আজ প্রার্থনা ও গণমিছিল করবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন

আজ প্রার্থনা ও গণমিছিল করবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন
-ফাইল ফটো

র্থনা ও গণমিছিলের ডাক বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের, ডিবি হেফাজত থেকে মুক্ত সমন্বয়কদের কড়া প্রতিক্রিয়া

গণগ্রেফতার, নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। সংগঠনটি জানিয়েছে, শুক্রবার (২ আগস্ট) দেশব্যাপী “প্রার্থনা ও ছাত্র-জনতার গণমিছিল” কর্মসূচি পালন করা হবে।

এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে জুমার নামাজ শেষে দোয়া, শহীদদের কবর জিয়ারত এবং বিভিন্ন উপাসনালয়ে প্রার্থনার আয়োজন করা হবে। একই সঙ্গে ছাত্র-জনতার গণমিছিলও অনুষ্ঠিত হবে বলে জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আবদুল কাদের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এই কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়।


সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাদের ৯ দফা দাবি আদায় এবং চলমান সহিংসতা ও গণগ্রেফতারের প্রতিবাদে এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

এরই মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে আন্দোলনের ছয়জন শীর্ষ সমন্বয়ক ডিবি হেফাজত থেকে মুক্তি পাওয়া। বৃহস্পতিবার দুপুরে তাদের বাসায় পৌঁছে দেওয়া হয়।

মুক্তি পাওয়া সমন্বয়করা হলেন— নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ, আবু বাকের মজুমদার, সারজিস আলম, হাসনাত আবদুল্লাহ এবং নুসরাত তাবাসসুম। তারা সবাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

মুক্তির পরপরই কয়েকজন সমন্বয়ক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানান। সারজিস আলম অভিযোগ করেন, আন্দোলনকারীদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে।

তিনি আরও দাবি করেন, আন্দোলনকারীদের গ্রেফতার, পরিবারকে ভয় দেখানো এবং নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে, যা তারা মেনে নেবেন না।

অন্যদিকে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, এই আন্দোলন শুধু ব্যক্তির জন্য নয়, বরং বৈষম্য, নিপীড়ন ও গণগ্রেফতারের বিরুদ্ধে একটি বৃহত্তর আন্দোলন।

আসিফ মাহমুদ বলেন, রাজপথের আন্দোলনের সিদ্ধান্ত রাজপথ থেকেই আসবে। তিনি আন্দোলনকারীদের উপর নির্যাতন ও হত্যার বিচার এবং দায়ীদের পদত্যাগ দাবি করেন।

আবু বাকের মজুমদার জানান, তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতনের মধ্য দিয়ে গেছেন এবং আন্দোলন থেমে থাকবে না। আন্দোলনের সিদ্ধান্ত রাজপথেই নেওয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশে কোটা সংস্কার ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন সময়ে এই আন্দোলন কেন্দ্র করে দেশব্যাপী বিক্ষোভ, কর্মসূচি ও সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে।

এই আন্দোলনের মূল দাবি হলো চাকরিতে সমতা, স্বচ্ছ নিয়োগ ব্যবস্থা এবং বৈষম্য দূর করা। সাম্প্রতিক সময়ে এটি আরও বিস্তৃত হয়ে গণগ্রেফতার ও নির্যাতনের বিরুদ্ধেও অবস্থান নিয়েছে।

নতুন করে ঘোষিত “প্রার্থনা ও গণমিছিল” কর্মসূচি এবং সমন্বয়কদের মুক্তির পর দেওয়া বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে।

সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এখনো অস্থির। আন্দোলনকারীরা যেখানে রাজপথে কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন, সেখানে প্রশাসনের অবস্থান ও পরবর্তী পরিস্থিতি কী হয়—সেদিকেই এখন নজর সবার।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

বুধবার, ২৭ মে ২০২৬


আজ প্রার্থনা ও গণমিছিল করবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন

প্রকাশের তারিখ : ০১ আগস্ট ২০২৪

featured Image

র্থনা ও গণমিছিলের ডাক বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের, ডিবি হেফাজত থেকে মুক্ত সমন্বয়কদের কড়া প্রতিক্রিয়া

গণগ্রেফতার, নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। সংগঠনটি জানিয়েছে, শুক্রবার (২ আগস্ট) দেশব্যাপী “প্রার্থনা ও ছাত্র-জনতার গণমিছিল” কর্মসূচি পালন করা হবে।

এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে জুমার নামাজ শেষে দোয়া, শহীদদের কবর জিয়ারত এবং বিভিন্ন উপাসনালয়ে প্রার্থনার আয়োজন করা হবে। একই সঙ্গে ছাত্র-জনতার গণমিছিলও অনুষ্ঠিত হবে বলে জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আবদুল কাদের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এই কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়।


সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাদের ৯ দফা দাবি আদায় এবং চলমান সহিংসতা ও গণগ্রেফতারের প্রতিবাদে এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

এরই মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে আন্দোলনের ছয়জন শীর্ষ সমন্বয়ক ডিবি হেফাজত থেকে মুক্তি পাওয়া। বৃহস্পতিবার দুপুরে তাদের বাসায় পৌঁছে দেওয়া হয়।

মুক্তি পাওয়া সমন্বয়করা হলেন— নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ, আবু বাকের মজুমদার, সারজিস আলম, হাসনাত আবদুল্লাহ এবং নুসরাত তাবাসসুম। তারা সবাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

মুক্তির পরপরই কয়েকজন সমন্বয়ক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানান। সারজিস আলম অভিযোগ করেন, আন্দোলনকারীদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে।

তিনি আরও দাবি করেন, আন্দোলনকারীদের গ্রেফতার, পরিবারকে ভয় দেখানো এবং নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে, যা তারা মেনে নেবেন না।

অন্যদিকে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, এই আন্দোলন শুধু ব্যক্তির জন্য নয়, বরং বৈষম্য, নিপীড়ন ও গণগ্রেফতারের বিরুদ্ধে একটি বৃহত্তর আন্দোলন।

আসিফ মাহমুদ বলেন, রাজপথের আন্দোলনের সিদ্ধান্ত রাজপথ থেকেই আসবে। তিনি আন্দোলনকারীদের উপর নির্যাতন ও হত্যার বিচার এবং দায়ীদের পদত্যাগ দাবি করেন।

আবু বাকের মজুমদার জানান, তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতনের মধ্য দিয়ে গেছেন এবং আন্দোলন থেমে থাকবে না। আন্দোলনের সিদ্ধান্ত রাজপথেই নেওয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশে কোটা সংস্কার ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন সময়ে এই আন্দোলন কেন্দ্র করে দেশব্যাপী বিক্ষোভ, কর্মসূচি ও সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে।

এই আন্দোলনের মূল দাবি হলো চাকরিতে সমতা, স্বচ্ছ নিয়োগ ব্যবস্থা এবং বৈষম্য দূর করা। সাম্প্রতিক সময়ে এটি আরও বিস্তৃত হয়ে গণগ্রেফতার ও নির্যাতনের বিরুদ্ধেও অবস্থান নিয়েছে।

নতুন করে ঘোষিত “প্রার্থনা ও গণমিছিল” কর্মসূচি এবং সমন্বয়কদের মুক্তির পর দেওয়া বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে।

সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এখনো অস্থির। আন্দোলনকারীরা যেখানে রাজপথে কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন, সেখানে প্রশাসনের অবস্থান ও পরবর্তী পরিস্থিতি কী হয়—সেদিকেই এখন নজর সবার।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর