বগুড়ায় অন্যের হয়ে পরীক্ষা দিতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়েছেন এক কলেজছাত্রী। শুক্রবার দুপুরে পরীক্ষার হলে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকের সন্দেহ থেকেই পুরো ঘটনা ফাঁস হয়ে যায়। পরে তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়, যা এলাকায় ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে।
আটক হওয়া শিক্ষার্থীর নাম ঈশিতা আক্তার তিশা (১৮)। তিনি বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজের উচ্চমাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। জানা গেছে, তিনি বগুড়া শহর মহিলা দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নিপা খাতুনের হয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে গিয়েছিলেন। নিপা খাতুন তার খালা হন বলেও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
পুলিশ ও পরীক্ষা কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুর ২টা থেকে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এসএসসি (দ্বিতীয় বর্ষ) প্রোগ্রামের বাংলা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষা শুরু হয়। বগুড়া জিলা স্কুল কেন্দ্রে পরীক্ষার আয়োজন করা হয়। নির্ধারিত কক্ষ ছিল ২০১ নম্বর। সেখানে পরীক্ষার্থী হিসেবে নিবন্ধিত ছিলেন নিপা খাতুন, কিন্তু তার জায়গায় পরীক্ষায় বসেন ঈশিতা।
পরীক্ষা চলাকালে কক্ষ পরিদর্শক উত্তরপত্রে স্বাক্ষর নেওয়ার সময় প্রবেশপত্রের ছবির সঙ্গে পরীক্ষার্থীর চেহারার অমিল লক্ষ্য করেন। এতে সন্দেহ তৈরি হলে তিনি ওই ছাত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। প্রথমে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও একপর্যায়ে ঈশিতা নিজের পরিচয় প্রকাশ করেন এবং স্বীকার করেন যে তিনি অন্যের হয়ে পরীক্ষা দিতে এসেছেন।
ঘটনার পরপরই কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ তাকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। বর্তমানে তিনি বগুড়া সদর থানার হেফাজতে রয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ পেলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
থানায় নেওয়ার পর ঈশিতা জানান, নিপা খাতুন তার খালা হওয়ায় আত্মীয়তার সূত্র ধরেই তিনি এই কাজ করেছেন। তিনি বলেন, খালার অনুরোধেই তিনি পরীক্ষায় বসেন। বিষয়টি যে এত বড় সমস্যার সৃষ্টি করবে, তা তিনি বুঝতে পারেননি।
তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নিপা খাতুন। তিনি দাবি করেন, পরীক্ষার সময় তিনি শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়েছিলেন। সামান্য সময়ের জন্য তিনি তার ভাগনিকে কেন্দ্রে বসিয়ে রেখে গিয়েছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি নিজেই মূলত পরীক্ষা দিচ্ছিলেন এবং বিষয়টি ভুল বোঝাবুঝি।
এ বিষয়ে বগুড়া সদর থানার ওসি ইব্রাহীম আলী বলেন, “ঈশিতা বর্তমানে আমাদের হেফাজতে রয়েছে। কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বিভাগ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে পাবলিক পরীক্ষাগুলোতে প্রক্সি দেওয়া বা অন্যের হয়ে পরীক্ষা দেওয়া আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ধরনের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে শিক্ষা আইন অনুযায়ী শাস্তির বিধান রয়েছে। আগে বিভিন্ন সময় দেশের বিভিন্ন স্থানে এমন ঘটনা ঘটলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তা ধরা পড়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় মূলত এমন শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করে যারা নিয়মিত শিক্ষা ব্যবস্থার বাইরে থেকেও পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চান। তাই এই ধরনের পরীক্ষায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
সব মিলিয়ে ঘটনাটি শুধু একটি পরীক্ষার অনিয়ম নয়, বরং শিক্ষা ব্যবস্থার সততা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। কর্তৃপক্ষ দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
বিষয় : আটক বিএনপি নেত্রীর কলেজছাত্রী

শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬
বগুড়ায় অন্যের হয়ে পরীক্ষা দিতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়েছেন এক কলেজছাত্রী। শুক্রবার দুপুরে পরীক্ষার হলে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকের সন্দেহ থেকেই পুরো ঘটনা ফাঁস হয়ে যায়। পরে তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়, যা এলাকায় ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে।
আটক হওয়া শিক্ষার্থীর নাম ঈশিতা আক্তার তিশা (১৮)। তিনি বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজের উচ্চমাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। জানা গেছে, তিনি বগুড়া শহর মহিলা দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নিপা খাতুনের হয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে গিয়েছিলেন। নিপা খাতুন তার খালা হন বলেও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
পুলিশ ও পরীক্ষা কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুর ২টা থেকে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এসএসসি (দ্বিতীয় বর্ষ) প্রোগ্রামের বাংলা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষা শুরু হয়। বগুড়া জিলা স্কুল কেন্দ্রে পরীক্ষার আয়োজন করা হয়। নির্ধারিত কক্ষ ছিল ২০১ নম্বর। সেখানে পরীক্ষার্থী হিসেবে নিবন্ধিত ছিলেন নিপা খাতুন, কিন্তু তার জায়গায় পরীক্ষায় বসেন ঈশিতা।
পরীক্ষা চলাকালে কক্ষ পরিদর্শক উত্তরপত্রে স্বাক্ষর নেওয়ার সময় প্রবেশপত্রের ছবির সঙ্গে পরীক্ষার্থীর চেহারার অমিল লক্ষ্য করেন। এতে সন্দেহ তৈরি হলে তিনি ওই ছাত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। প্রথমে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও একপর্যায়ে ঈশিতা নিজের পরিচয় প্রকাশ করেন এবং স্বীকার করেন যে তিনি অন্যের হয়ে পরীক্ষা দিতে এসেছেন।
ঘটনার পরপরই কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ তাকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। বর্তমানে তিনি বগুড়া সদর থানার হেফাজতে রয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ পেলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
থানায় নেওয়ার পর ঈশিতা জানান, নিপা খাতুন তার খালা হওয়ায় আত্মীয়তার সূত্র ধরেই তিনি এই কাজ করেছেন। তিনি বলেন, খালার অনুরোধেই তিনি পরীক্ষায় বসেন। বিষয়টি যে এত বড় সমস্যার সৃষ্টি করবে, তা তিনি বুঝতে পারেননি।
তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নিপা খাতুন। তিনি দাবি করেন, পরীক্ষার সময় তিনি শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়েছিলেন। সামান্য সময়ের জন্য তিনি তার ভাগনিকে কেন্দ্রে বসিয়ে রেখে গিয়েছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি নিজেই মূলত পরীক্ষা দিচ্ছিলেন এবং বিষয়টি ভুল বোঝাবুঝি।
এ বিষয়ে বগুড়া সদর থানার ওসি ইব্রাহীম আলী বলেন, “ঈশিতা বর্তমানে আমাদের হেফাজতে রয়েছে। কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বিভাগ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে পাবলিক পরীক্ষাগুলোতে প্রক্সি দেওয়া বা অন্যের হয়ে পরীক্ষা দেওয়া আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ধরনের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে শিক্ষা আইন অনুযায়ী শাস্তির বিধান রয়েছে। আগে বিভিন্ন সময় দেশের বিভিন্ন স্থানে এমন ঘটনা ঘটলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তা ধরা পড়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় মূলত এমন শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করে যারা নিয়মিত শিক্ষা ব্যবস্থার বাইরে থেকেও পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চান। তাই এই ধরনের পরীক্ষায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
সব মিলিয়ে ঘটনাটি শুধু একটি পরীক্ষার অনিয়ম নয়, বরং শিক্ষা ব্যবস্থার সততা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। কর্তৃপক্ষ দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

আপনার মতামত লিখুন