নারায়ণগঞ্জে এক রাতেই পৃথক তিন স্থানে বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত নয়জন দগ্ধ হয়েছেন। গ্যাস সিলিন্ডার ও পাইপলাইনের লিকেজ এবং রাসায়নিক গুদামে গ্যাস জমে এসব বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। দগ্ধদের মধ্যে কয়েকজনের শরীরের বড় অংশ পুড়ে গেছে। কয়েকজনকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) গভীর রাত থেকে রোববার (১১ অক্টোবর) ভোর পর্যন্ত সোনারগাঁয়ের কাঁচপুর, ফতুল্লা ও নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে। দগ্ধ ব্যক্তিদের রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।
শনিবার রাত দেড়টার দিকে সোনারগাঁয়ের কাঁচপুর এলাকায় তাজুল ইসলামের ছয়তলা ভাড়াবাড়ির দ্বিতীয় তলায় গ্যাস সিলিন্ডারের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে একই পরিবারের চারজন দগ্ধ হন।
দগ্ধ ব্যক্তিরা হলেন পোশাকশ্রমিক রোজিনা, তাঁর স্বামী শরিফ এবং তাঁর দুই ভাই রিয়াজ ও রনি।
জানা গেছে, রোজিনার শরীরের ৬০ শতাংশ, শরিফ ও রিয়াজের ৪০ শতাংশ করে এবং রনির শরীরের ৭০ শতাংশ পুড়ে গেছে।
গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাঁদের হাসপাতালে নেওয়া হয়। শরীরের বড় অংশ পুড়ে যাওয়ায় তাঁদের চিকিৎসা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
একই রাতে ফতুল্লার একটি রাসায়নিক গুদামে বিস্ফোরণে দুই শ্রমিক দগ্ধ হন। তাঁদের মধ্যে আনোয়ারের শরীরের ৫৪ শতাংশ এবং শামসুলের ৫৫ শতাংশ পুড়ে গেছে।
ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা, গুদামের ভেতরে রাসায়নিক গ্যাস জমে বিস্ফোরণটি ঘটে থাকতে পারে। তবে বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে তদন্ত প্রয়োজন।
রাসায়নিক পদার্থ সংরক্ষণের স্থানে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল, নিরাপদ সংরক্ষণব্যবস্থা এবং অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করা না হলে এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
রোববার ভোরে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ আখড়া এলাকার একটি তিনতলা ভবনের নিচতলার রান্নাঘরে জমে থাকা গ্যাস থেকে বিস্ফোরণ ঘটে।
এ ঘটনায় গৃহবধূ শিখা রানী, তাঁর স্বামী মনা আচার্য এবং তাঁর বৃদ্ধা শাশুড়ি দগ্ধ হন। পাশের একটি টিনশেড ঘরে থাকা আরও একজন আহত হন বলে জানা গেছে।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের মণ্ডলপাড়া ইউনিটের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে দগ্ধ ও আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল আরেফিন জানান, কাঁচপুরে গ্যাস সিলিন্ডার এবং দেওভোগে তিতাসের পাইপলাইনের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
অন্যদিকে ফতুল্লার রাসায়নিক গুদামে গ্যাস জমে বিস্ফোরণ হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
তিনটি ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে নিরাপত্তাব্যবস্থা যথাযথ ছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের চিকিৎসক সুলতান মাহমুদ শিকদার জানান, দগ্ধদের মধ্যে কয়েকজনের শ্বাসনালি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাঁদের কয়েকজনকে আইসিইউতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
শরীরের বড় অংশ পুড়ে যাওয়া এবং শ্বাসনালিতে আঘাত গুরুতর শারীরিক জটিলতা তৈরি করতে পারে। এ কারণে দগ্ধ ব্যক্তিদের চিকিৎসায় নিবিড় পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন হচ্ছে।
একই রাতে আবাসিক ভবন, রাসায়নিক গুদাম ও বাসার রান্নাঘরে বিস্ফোরণের ঘটনা গ্যাস ব্যবস্থাপনা ও অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
গ্যাসের গন্ধ পাওয়া গেলে আগুন জ্বালানো, বৈদ্যুতিক সুইচ চালু বা বন্ধ করা কিংবা এমন কোনো কাজ করা উচিত নয়, যাতে স্ফুলিঙ্গ তৈরি হতে পারে। নিরাপদ হলে গ্যাসের সরবরাহ বন্ধ করে স্থানটি ছেড়ে জরুরি সেবায় খবর দেওয়া প্রয়োজন।
একইভাবে রাসায়নিক গুদামে নিরাপদ সংরক্ষণ, বায়ু চলাচল, গ্যাস শনাক্তকরণ এবং অগ্নিনির্বাপণব্যবস্থা নিয়মিত পরীক্ষা করা জরুরি।

রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ অক্টোবর ২০২৬
নারায়ণগঞ্জে এক রাতেই পৃথক তিন স্থানে বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত নয়জন দগ্ধ হয়েছেন। গ্যাস সিলিন্ডার ও পাইপলাইনের লিকেজ এবং রাসায়নিক গুদামে গ্যাস জমে এসব বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। দগ্ধদের মধ্যে কয়েকজনের শরীরের বড় অংশ পুড়ে গেছে। কয়েকজনকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) গভীর রাত থেকে রোববার (১১ অক্টোবর) ভোর পর্যন্ত সোনারগাঁয়ের কাঁচপুর, ফতুল্লা ও নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে। দগ্ধ ব্যক্তিদের রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।
শনিবার রাত দেড়টার দিকে সোনারগাঁয়ের কাঁচপুর এলাকায় তাজুল ইসলামের ছয়তলা ভাড়াবাড়ির দ্বিতীয় তলায় গ্যাস সিলিন্ডারের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে একই পরিবারের চারজন দগ্ধ হন।
দগ্ধ ব্যক্তিরা হলেন পোশাকশ্রমিক রোজিনা, তাঁর স্বামী শরিফ এবং তাঁর দুই ভাই রিয়াজ ও রনি।
জানা গেছে, রোজিনার শরীরের ৬০ শতাংশ, শরিফ ও রিয়াজের ৪০ শতাংশ করে এবং রনির শরীরের ৭০ শতাংশ পুড়ে গেছে।
গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাঁদের হাসপাতালে নেওয়া হয়। শরীরের বড় অংশ পুড়ে যাওয়ায় তাঁদের চিকিৎসা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
একই রাতে ফতুল্লার একটি রাসায়নিক গুদামে বিস্ফোরণে দুই শ্রমিক দগ্ধ হন। তাঁদের মধ্যে আনোয়ারের শরীরের ৫৪ শতাংশ এবং শামসুলের ৫৫ শতাংশ পুড়ে গেছে।
ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা, গুদামের ভেতরে রাসায়নিক গ্যাস জমে বিস্ফোরণটি ঘটে থাকতে পারে। তবে বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে তদন্ত প্রয়োজন।
রাসায়নিক পদার্থ সংরক্ষণের স্থানে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল, নিরাপদ সংরক্ষণব্যবস্থা এবং অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করা না হলে এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
রোববার ভোরে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ আখড়া এলাকার একটি তিনতলা ভবনের নিচতলার রান্নাঘরে জমে থাকা গ্যাস থেকে বিস্ফোরণ ঘটে।
এ ঘটনায় গৃহবধূ শিখা রানী, তাঁর স্বামী মনা আচার্য এবং তাঁর বৃদ্ধা শাশুড়ি দগ্ধ হন। পাশের একটি টিনশেড ঘরে থাকা আরও একজন আহত হন বলে জানা গেছে।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের মণ্ডলপাড়া ইউনিটের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে দগ্ধ ও আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল আরেফিন জানান, কাঁচপুরে গ্যাস সিলিন্ডার এবং দেওভোগে তিতাসের পাইপলাইনের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
অন্যদিকে ফতুল্লার রাসায়নিক গুদামে গ্যাস জমে বিস্ফোরণ হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
তিনটি ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে নিরাপত্তাব্যবস্থা যথাযথ ছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের চিকিৎসক সুলতান মাহমুদ শিকদার জানান, দগ্ধদের মধ্যে কয়েকজনের শ্বাসনালি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাঁদের কয়েকজনকে আইসিইউতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
শরীরের বড় অংশ পুড়ে যাওয়া এবং শ্বাসনালিতে আঘাত গুরুতর শারীরিক জটিলতা তৈরি করতে পারে। এ কারণে দগ্ধ ব্যক্তিদের চিকিৎসায় নিবিড় পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন হচ্ছে।
একই রাতে আবাসিক ভবন, রাসায়নিক গুদাম ও বাসার রান্নাঘরে বিস্ফোরণের ঘটনা গ্যাস ব্যবস্থাপনা ও অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
গ্যাসের গন্ধ পাওয়া গেলে আগুন জ্বালানো, বৈদ্যুতিক সুইচ চালু বা বন্ধ করা কিংবা এমন কোনো কাজ করা উচিত নয়, যাতে স্ফুলিঙ্গ তৈরি হতে পারে। নিরাপদ হলে গ্যাসের সরবরাহ বন্ধ করে স্থানটি ছেড়ে জরুরি সেবায় খবর দেওয়া প্রয়োজন।
একইভাবে রাসায়নিক গুদামে নিরাপদ সংরক্ষণ, বায়ু চলাচল, গ্যাস শনাক্তকরণ এবং অগ্নিনির্বাপণব্যবস্থা নিয়মিত পরীক্ষা করা জরুরি।

আপনার মতামত লিখুন