দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : রোববার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬

ভারতের সঙ্গে সমঝোতা হলেই মোগলহাট স্থলবন্দর চালুর উদ্যোগ: নৌপ্রতিমন্ত্রী

ভারতের সঙ্গে সমঝোতা হলেই মোগলহাট স্থলবন্দর চালুর উদ্যোগ: নৌপ্রতিমন্ত্রী

নরসিংদী থেকে লোক ভাড়া করে এনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধসহ আহত ১০

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার ২৭ কিশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে

ফেনীতে চেকপোস্টে দায়িত্ব পালনকালে ট্রাকের ধাক্কায় এসআরবি কর্মকর্তা নিহত

ভঙ্গুর অর্থনীতি ও খেলাপি ঋণে শীর্ষস্থান উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি: অর্থ উপদেষ্টা

এক ঘণ্টার ব্যবধানে পরপর ৩ ভূমিকম্প, কেঁপে উঠল চট্টগ্রাম-ফেনী-কুমিল্লাসহ বিভিন্ন এলাকা

গাজীপুরে মেট্রিক্স গার্মেন্টসে আগুন, ৬৯ জনকে জীবিত উদ্ধার

উত্তরায় ডিজিএফআই পরিচয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, গ্রেপ্তার ৩

ভারতের সঙ্গে সমঝোতা হলেই মোগলহাট স্থলবন্দর চালুর উদ্যোগ: নৌপ্রতিমন্ত্রী

ভারতের সঙ্গে সমঝোতা হলেই মোগলহাট স্থলবন্দর চালুর উদ্যোগ: নৌপ্রতিমন্ত্রী
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা মোগলহাট স্থলবন্দর এলাকা পরিদর্শন শেষে স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় করেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান।

দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা লালমনিরহাটের মোগলহাট স্থলবন্দর পুনরায় চালুর বিষয়ে আশার কথা জানিয়েছে সরকার। তবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রস্তুতি থাকলেও ভারতের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত বন্দরটি চালু করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান।

রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে মোগলহাট স্থলবন্দর এলাকা পরিদর্শন শেষে মোগলহাট জিরো পয়েন্টে স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। জেলা প্রশাসন এ সভার আয়োজন করে।

রাজীব আহসান বলেন, মোগলহাট স্থলবন্দর চালুর দাবির সঙ্গে সরকার একমত। বাংলাদেশের অংশে বন্দর পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও জনবল প্রস্তুতের সক্ষমতা রয়েছে।

এরই মধ্যে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোগলহাট এলাকা পরিদর্শন করে একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছেন বলেও জানান তিনি।

তবে প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য, মোগলহাট একটি আন্তর্জাতিক বন্দর হওয়ায় শুধু বাংলাদেশের প্রস্তুতি থাকলেই হবে না। ভারতের পক্ষেও বন্দরটির কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় সমঝোতা থাকতে হবে।

ভারতের সঙ্গে এ বিষয়ে অগ্রগতি হলে বন্দরটি পুনরায় চালুর প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।

মোগলহাট স্থলবন্দর চালু করতে নদীর ওপর প্রয়োজনীয় সেতু নির্মাণ, সড়ক যোগাযোগ উন্নয়ন এবং শুল্ক স্টেশনসহ অন্যান্য অবকাঠামো তৈরির বিষয় বিবেচনা করা হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

তার মতে, বন্দরটি চালু হলে শুধু মোগলহাট বা লালমনিরহাট নয়, উত্তরাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য ও আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকার ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন বাণিজ্যপথ তৈরি হলে পরিবহন ব্যয় ও সময় কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এর বাস্তব সুফল নির্ভর করবে দুই দেশের বাণিজ্যিক সমঝোতা, অবকাঠামো এবং কাস্টমস ব্যবস্থাপনার ওপর।

এর আগে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুও মোগলহাট স্থলবন্দর এলাকা পরিদর্শন করেন। পরে সাংবাদিকদের তিনি জানান, ভারতের সঙ্গে আলোচনা করে বন্দরটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, মোগলহাট স্থলবন্দর চালু করা এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি। কীভাবে দ্রুত এটি চালু করা যায়, সে বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাই করা হবে। তবে আন্তর্জাতিক বন্দর হওয়ায় ভারতের সঙ্গে প্রয়োজনীয় চুক্তি ও সমঝোতা আগে নিশ্চিত করতে হবে।

আসাদুল হাবিব দুলুর দাবি, আগের আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে মোগলহাট স্থলবন্দর চালুর বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে চুক্তি হওয়ার কথা বলা হলেও বাস্তবে কোনো চুক্তি হয়নি। বর্তমান সরকার ভারতের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে বলেও জানান তিনি।

মতবিনিময় সভায় মোগলহাট স্থলবন্দর চালুর সম্ভাব্যতা যাচাই, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, সড়ক যোগাযোগ এবং বন্দর চালু হলে স্থানীয় ও আঞ্চলিক অর্থনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আলোচনা হয়।

লালমনিরহাটের সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলে বন্দর চালু হলে আমদানি-রপ্তানির পাশাপাশি পরিবহন, পণ্য খালাস, গুদাম, স্থানীয় বাজার ও ছোট ব্যবসায় কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়তে পারে। তবে বন্দর চালুর আগে অবকাঠামো, কাস্টমস, নিরাপত্তা ও দুই দেশের সীমান্ত ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো সমন্বিতভাবে প্রস্তুত করা জরুরি।

বিষয় : মোগলহাট স্থলবন্দর ভারত-বাংলাদেশ স্থলবন্দর উত্তরাঞ্চলের বাণিজ্য স্থলবন্দর চালুর উদ্যোগ

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

রোববার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬


ভারতের সঙ্গে সমঝোতা হলেই মোগলহাট স্থলবন্দর চালুর উদ্যোগ: নৌপ্রতিমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ০৪ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা লালমনিরহাটের মোগলহাট স্থলবন্দর পুনরায় চালুর বিষয়ে আশার কথা জানিয়েছে সরকার। তবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রস্তুতি থাকলেও ভারতের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত বন্দরটি চালু করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান।

রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে মোগলহাট স্থলবন্দর এলাকা পরিদর্শন শেষে মোগলহাট জিরো পয়েন্টে স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। জেলা প্রশাসন এ সভার আয়োজন করে।

রাজীব আহসান বলেন, মোগলহাট স্থলবন্দর চালুর দাবির সঙ্গে সরকার একমত। বাংলাদেশের অংশে বন্দর পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও জনবল প্রস্তুতের সক্ষমতা রয়েছে।

এরই মধ্যে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোগলহাট এলাকা পরিদর্শন করে একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছেন বলেও জানান তিনি।

তবে প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য, মোগলহাট একটি আন্তর্জাতিক বন্দর হওয়ায় শুধু বাংলাদেশের প্রস্তুতি থাকলেই হবে না। ভারতের পক্ষেও বন্দরটির কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় সমঝোতা থাকতে হবে।

ভারতের সঙ্গে এ বিষয়ে অগ্রগতি হলে বন্দরটি পুনরায় চালুর প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।

মোগলহাট স্থলবন্দর চালু করতে নদীর ওপর প্রয়োজনীয় সেতু নির্মাণ, সড়ক যোগাযোগ উন্নয়ন এবং শুল্ক স্টেশনসহ অন্যান্য অবকাঠামো তৈরির বিষয় বিবেচনা করা হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

তার মতে, বন্দরটি চালু হলে শুধু মোগলহাট বা লালমনিরহাট নয়, উত্তরাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য ও আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকার ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন বাণিজ্যপথ তৈরি হলে পরিবহন ব্যয় ও সময় কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এর বাস্তব সুফল নির্ভর করবে দুই দেশের বাণিজ্যিক সমঝোতা, অবকাঠামো এবং কাস্টমস ব্যবস্থাপনার ওপর।

এর আগে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুও মোগলহাট স্থলবন্দর এলাকা পরিদর্শন করেন। পরে সাংবাদিকদের তিনি জানান, ভারতের সঙ্গে আলোচনা করে বন্দরটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, মোগলহাট স্থলবন্দর চালু করা এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি। কীভাবে দ্রুত এটি চালু করা যায়, সে বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাই করা হবে। তবে আন্তর্জাতিক বন্দর হওয়ায় ভারতের সঙ্গে প্রয়োজনীয় চুক্তি ও সমঝোতা আগে নিশ্চিত করতে হবে।

আসাদুল হাবিব দুলুর দাবি, আগের আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে মোগলহাট স্থলবন্দর চালুর বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে চুক্তি হওয়ার কথা বলা হলেও বাস্তবে কোনো চুক্তি হয়নি। বর্তমান সরকার ভারতের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে বলেও জানান তিনি।

মতবিনিময় সভায় মোগলহাট স্থলবন্দর চালুর সম্ভাব্যতা যাচাই, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, সড়ক যোগাযোগ এবং বন্দর চালু হলে স্থানীয় ও আঞ্চলিক অর্থনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আলোচনা হয়।

লালমনিরহাটের সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলে বন্দর চালু হলে আমদানি-রপ্তানির পাশাপাশি পরিবহন, পণ্য খালাস, গুদাম, স্থানীয় বাজার ও ছোট ব্যবসায় কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়তে পারে। তবে বন্দর চালুর আগে অবকাঠামো, কাস্টমস, নিরাপত্তা ও দুই দেশের সীমান্ত ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো সমন্বিতভাবে প্রস্তুত করা জরুরি।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর