বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের নতুন সহকারী কোচ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার মালিবংওয়ে মাকেতা। ৪৬ বছর বয়সী এই প্রোটিয়া কোচের সঙ্গে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) চুক্তির মেয়াদ ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৮ সালের নভেম্বর পর্যন্ত।
বিসিবি এক বিবৃতিতে মাকেতার নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে জাতীয় দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তার।
মূলত ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ সামনে রেখেই মাকেতাকে কোচিং স্টাফে যুক্ত করেছে বিসিবি। দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ায় অনুষ্ঠেয় ওই বিশ্বকাপের কন্ডিশন সম্পর্কে মাকেতার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে চায় বাংলাদেশ।
দক্ষিণ আফ্রিকার ঘরোয়া ক্রিকেটের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ও হাই-পারফরম্যান্স ক্রিকেটে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন মাকেতা। আফ্রিকার কন্ডিশন, পিচ ও ক্রিকেট সংস্কৃতি সম্পর্কে তার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য কাজে লাগতে পারে।
২০১৭ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকা জাতীয় দলের সহকারী কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপেও প্রোটিয়া দলের কোচিং স্টাফের সদস্য ছিলেন মাকেতা।
ওই সময় দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ জয় এবং ভারত, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিপাক্ষিক সিরিজগুলোতেও কোচিং স্টাফের অংশ হিসেবে কাজ করেছেন তিনি।
জাতীয় দলের বাইরে দক্ষিণ আফ্রিকার বয়সভিত্তিক ও উদীয়মান ক্রিকেটারদের নিয়েও কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে মাকেতার।
সম্প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকা অনূর্ধ্ব-১৯ দল ও জাতীয় একাডেমির হেড কোচের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের সঙ্গেও কাজ করেছেন।
২০২৩-২৪ মৌসুমে তার অধীনে দক্ষিণ আফ্রিকা ইমার্জিং দল সিএসএ ওয়ানডে কাপের দ্বিতীয় বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয়। এর আগে তার অধীনে দক্ষিণ আফ্রিকা অনূর্ধ্ব-১৯ দল আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয়।
বাংলাদেশ দলের জন্য মাকেতার নিয়োগের সবচেয়ে বড় প্রেক্ষাপট ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ। দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ায় হতে যাওয়া টুর্নামেন্টে আফ্রিকান কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে।
সেই জায়গায় মাকেতার অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চায় বিসিবি। বিশেষ করে পেস-বান্ধব কন্ডিশন, বাউন্স, ম্যাচ পরিস্থিতি এবং স্থানীয় ক্রিকেটের ধরন সম্পর্কে তার অভিজ্ঞতা দলের প্রস্তুতিতে সহায়ক হতে পারে।
তবে শুধু কন্ডিশন সম্পর্কে অভিজ্ঞতা নয়, তরুণ ক্রিকেটারদের নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতাও মাকেতার নিয়োগের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। বাংলাদেশ দলে সামনের সময়ে নতুন ও তরুণ ক্রিকেটারদের বিকাশে তার ভূমিকা দেখা যেতে পারে।
বাংলাদেশ দলের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন মাকেতা।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশ জাতীয় দলের সহকারী কোচের দায়িত্ব নিতে পেরে আমি আনন্দিত। বিসিবি আমার ওপর যে আস্থা ও বিশ্বাস রেখেছে, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। দলের সাফল্যে ইতিবাচক অবদান রাখতে আমি আশাবাদী।”
দলের তরুণ ক্রিকেটারদের নিয়েও আশাবাদী এই দক্ষিণ আফ্রিকান কোচ। মাকেতা বলেন, “আমাদের একটি তরুণ ও সম্ভাবনাময় দল রয়েছে। ফিল (সিমন্স) ও অন্য কোচিং স্টাফদের সঙ্গে কাজ করার জন্য আমি উন্মুখ। খেলোয়াড়দের সেরাটা বের করে আনা এবং তাদের ধারাবাহিক উন্নতিতে সহায়তা করাই আমার লক্ষ্য।”

শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ অক্টোবর ২০২৬
বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের নতুন সহকারী কোচ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার মালিবংওয়ে মাকেতা। ৪৬ বছর বয়সী এই প্রোটিয়া কোচের সঙ্গে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) চুক্তির মেয়াদ ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৮ সালের নভেম্বর পর্যন্ত।
বিসিবি এক বিবৃতিতে মাকেতার নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে জাতীয় দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তার।
মূলত ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ সামনে রেখেই মাকেতাকে কোচিং স্টাফে যুক্ত করেছে বিসিবি। দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ায় অনুষ্ঠেয় ওই বিশ্বকাপের কন্ডিশন সম্পর্কে মাকেতার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে চায় বাংলাদেশ।
দক্ষিণ আফ্রিকার ঘরোয়া ক্রিকেটের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ও হাই-পারফরম্যান্স ক্রিকেটে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন মাকেতা। আফ্রিকার কন্ডিশন, পিচ ও ক্রিকেট সংস্কৃতি সম্পর্কে তার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য কাজে লাগতে পারে।
২০১৭ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকা জাতীয় দলের সহকারী কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপেও প্রোটিয়া দলের কোচিং স্টাফের সদস্য ছিলেন মাকেতা।
ওই সময় দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ জয় এবং ভারত, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিপাক্ষিক সিরিজগুলোতেও কোচিং স্টাফের অংশ হিসেবে কাজ করেছেন তিনি।
জাতীয় দলের বাইরে দক্ষিণ আফ্রিকার বয়সভিত্তিক ও উদীয়মান ক্রিকেটারদের নিয়েও কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে মাকেতার।
সম্প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকা অনূর্ধ্ব-১৯ দল ও জাতীয় একাডেমির হেড কোচের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের সঙ্গেও কাজ করেছেন।
২০২৩-২৪ মৌসুমে তার অধীনে দক্ষিণ আফ্রিকা ইমার্জিং দল সিএসএ ওয়ানডে কাপের দ্বিতীয় বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয়। এর আগে তার অধীনে দক্ষিণ আফ্রিকা অনূর্ধ্ব-১৯ দল আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয়।
বাংলাদেশ দলের জন্য মাকেতার নিয়োগের সবচেয়ে বড় প্রেক্ষাপট ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ। দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ায় হতে যাওয়া টুর্নামেন্টে আফ্রিকান কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে।
সেই জায়গায় মাকেতার অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চায় বিসিবি। বিশেষ করে পেস-বান্ধব কন্ডিশন, বাউন্স, ম্যাচ পরিস্থিতি এবং স্থানীয় ক্রিকেটের ধরন সম্পর্কে তার অভিজ্ঞতা দলের প্রস্তুতিতে সহায়ক হতে পারে।
তবে শুধু কন্ডিশন সম্পর্কে অভিজ্ঞতা নয়, তরুণ ক্রিকেটারদের নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতাও মাকেতার নিয়োগের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। বাংলাদেশ দলে সামনের সময়ে নতুন ও তরুণ ক্রিকেটারদের বিকাশে তার ভূমিকা দেখা যেতে পারে।
বাংলাদেশ দলের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন মাকেতা।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশ জাতীয় দলের সহকারী কোচের দায়িত্ব নিতে পেরে আমি আনন্দিত। বিসিবি আমার ওপর যে আস্থা ও বিশ্বাস রেখেছে, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। দলের সাফল্যে ইতিবাচক অবদান রাখতে আমি আশাবাদী।”
দলের তরুণ ক্রিকেটারদের নিয়েও আশাবাদী এই দক্ষিণ আফ্রিকান কোচ। মাকেতা বলেন, “আমাদের একটি তরুণ ও সম্ভাবনাময় দল রয়েছে। ফিল (সিমন্স) ও অন্য কোচিং স্টাফদের সঙ্গে কাজ করার জন্য আমি উন্মুখ। খেলোয়াড়দের সেরাটা বের করে আনা এবং তাদের ধারাবাহিক উন্নতিতে সহায়তা করাই আমার লক্ষ্য।”

আপনার মতামত লিখুন