দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬

বিষাক্ত ইনজেকশন নয়, গুলি করে মৃত্যুদণ্ডের আবেদন এক নারীর

বিষাক্ত ইনজেকশন নয়, গুলি করে মৃত্যুদণ্ডের আবেদন এক নারীর

মাঝ আকাশে পাইলটকে ছুরিকাঘাত, ১৮০ যাত্রী নিয়ে সৌদিতে জরুরি অবতরণ

ইন্দোনেশিয়ার কারাগারে এসি-সুইমিং পুল-জিম, বরখাস্ত ৫ কর্মকর্তা

সেনা প্রত্যাহার করলেও ইরাকের তেল রাজস্বে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ

ট্রাম্প প্রশাসন বদলের আহ্বান আইআরজিসির, মার্কিন ভোটারদের উদ্দেশে খোলা চিঠি

বাংলাদেশকে নভেম্বর পর্যন্ত এলএনজি দিতে পারবে না কাতার

আমিরাতে নেতানিয়াহুর ছয় ঘণ্টার গোপন সফর, আলোচনায় ইরান

এক সপ্তাহে ১৩ হাজারের বেশি বিদেশি আটক, ১২ হাজারের বেশি ফেরত পাঠাল সৌদি আরব

বিষাক্ত ইনজেকশন নয়, গুলি করে মৃত্যুদণ্ডের আবেদন এক নারীর

বিষাক্ত ইনজেকশন নয়, গুলি করে মৃত্যুদণ্ডের আবেদন এক নারীর
ক্রিস্টা গেইল পাইক ছিলেন টেনেসির একমাত্র নারী, যার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে যাচ্ছিল। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে ক্রিস্টা গেইল পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার কথা ছিল বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর)। বিষাক্ত ইনজেকশনের মাধ্যমে দণ্ড কার্যকরের প্রস্তুতিও শেষ পর্যায়ে ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মাত্র এক ঘণ্টা আগে আদালতের আদেশে তা স্থগিত হয়ে যায়।

টেনেসির একমাত্র নারী হিসেবে পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কথা ছিল। তবে ষষ্ঠ সার্কিট আপিল আদালত শেষ মুহূর্তে দণ্ড কার্যকর স্থগিত করে জানায়, মামলাটি আরও বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। নতুন করে শুনানি বা পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত স্থগিতাদেশ কতদিন কার্যকর থাকবে, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি।

ক্রিস্টা গেইল পাইকের বিরুদ্ধে ১৮ বছর বয়সে এক সহপাঠীকে হত্যার অভিযোগ ওঠে। ওই মামলায় তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

এরপর প্রায় ৩২ বছর ধরে কারাগারে রয়েছেন তিনি। দীর্ঘ কারাবাসের পর বুধবার তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দিন নির্ধারিত ছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট তার আপিল খারিজ করে দেয়। টেনেসির গভর্নরও তাকে ক্ষমা করতে রাজি হননি। ফলে বিষাক্ত ইনজেকশনের মাধ্যমে দণ্ড কার্যকরের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল।

কিন্তু নির্ধারিত সময়ের অল্প আগে ষষ্ঠ সার্কিট আপিল আদালতের আদেশে সেই প্রক্রিয়া থেমে যায়।

টেনেসিতে সাধারণত বিষাক্ত ইনজেকশনের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। তবে এই পদ্ধতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে।

পাইকের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, বিষাক্ত ইনজেকশনের পরিবর্তে তাকে গুলি করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হোক। তার পছন্দের পদ্ধতি ছিল সম্পূর্ণ নারীদের নিয়ে গঠিত একটি ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে দণ্ড কার্যকর করা।

তার আইনজীবীদের বক্তব্য ছিল, ইনজেকশনের পদ্ধতি নিয়ে যে উদ্বেগ ও সম্ভাব্য যন্ত্রণার কথা বলা হয়, সেটি বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

পাইক টেনেসিতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নারী হিসেবে বিশেষভাবে আলোচিত। গত দুই শতাব্দীতে অঙ্গরাজ্যটিতে কোনো নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফলে তার মামলাটি শুধু একটি ব্যক্তিগত মৃত্যুদণ্ডের মামলা নয়; টেনেসিতে নারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ইতিহাসের সঙ্গেও এটি যুক্ত হয়ে গেছে।

তার দণ্ড কার্যকরের সময় শেষ মুহূর্তে স্থগিত হওয়ায় এখন মামলাটির পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার দিকে নজর রয়েছে।

ষষ্ঠ সার্কিট আপিল আদালত মামলাটি আরও বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে বলে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করেছে। তবে আদালতের এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে পাইক স্থায়ীভাবে মৃত্যুদণ্ড থেকে মুক্তি পেয়েছেন—এমনটি বলা যাচ্ছে না।

স্থগিতাদেশ কতদিন থাকবে এবং পরবর্তী সময়ে আদালত কী সিদ্ধান্ত নেবে, সেটিও এখনো পরিষ্কার নয়।

অর্থাৎ বুধবারের নির্ধারিত দণ্ড কার্যকর না হলেও তার বিরুদ্ধে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল আছে কি না, কিংবা ভবিষ্যতে নতুন করে দণ্ড কার্যকরের তারিখ নির্ধারিত হবে কি না—এসব প্রশ্ন পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় পরিষ্কার হবে।

বিষয় : ক্রিস্টা গেইল পাইক টেনেসিতে মৃত্যুদণ্ড নারীর মৃত্যুদণ্ড যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ড

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬


বিষাক্ত ইনজেকশন নয়, গুলি করে মৃত্যুদণ্ডের আবেদন এক নারীর

প্রকাশের তারিখ : ০১ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে ক্রিস্টা গেইল পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার কথা ছিল বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর)। বিষাক্ত ইনজেকশনের মাধ্যমে দণ্ড কার্যকরের প্রস্তুতিও শেষ পর্যায়ে ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মাত্র এক ঘণ্টা আগে আদালতের আদেশে তা স্থগিত হয়ে যায়।

টেনেসির একমাত্র নারী হিসেবে পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কথা ছিল। তবে ষষ্ঠ সার্কিট আপিল আদালত শেষ মুহূর্তে দণ্ড কার্যকর স্থগিত করে জানায়, মামলাটি আরও বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। নতুন করে শুনানি বা পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত স্থগিতাদেশ কতদিন কার্যকর থাকবে, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি।

ক্রিস্টা গেইল পাইকের বিরুদ্ধে ১৮ বছর বয়সে এক সহপাঠীকে হত্যার অভিযোগ ওঠে। ওই মামলায় তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

এরপর প্রায় ৩২ বছর ধরে কারাগারে রয়েছেন তিনি। দীর্ঘ কারাবাসের পর বুধবার তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দিন নির্ধারিত ছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট তার আপিল খারিজ করে দেয়। টেনেসির গভর্নরও তাকে ক্ষমা করতে রাজি হননি। ফলে বিষাক্ত ইনজেকশনের মাধ্যমে দণ্ড কার্যকরের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল।

কিন্তু নির্ধারিত সময়ের অল্প আগে ষষ্ঠ সার্কিট আপিল আদালতের আদেশে সেই প্রক্রিয়া থেমে যায়।

টেনেসিতে সাধারণত বিষাক্ত ইনজেকশনের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। তবে এই পদ্ধতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে।

পাইকের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, বিষাক্ত ইনজেকশনের পরিবর্তে তাকে গুলি করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হোক। তার পছন্দের পদ্ধতি ছিল সম্পূর্ণ নারীদের নিয়ে গঠিত একটি ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে দণ্ড কার্যকর করা।

তার আইনজীবীদের বক্তব্য ছিল, ইনজেকশনের পদ্ধতি নিয়ে যে উদ্বেগ ও সম্ভাব্য যন্ত্রণার কথা বলা হয়, সেটি বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

পাইক টেনেসিতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নারী হিসেবে বিশেষভাবে আলোচিত। গত দুই শতাব্দীতে অঙ্গরাজ্যটিতে কোনো নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফলে তার মামলাটি শুধু একটি ব্যক্তিগত মৃত্যুদণ্ডের মামলা নয়; টেনেসিতে নারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ইতিহাসের সঙ্গেও এটি যুক্ত হয়ে গেছে।

তার দণ্ড কার্যকরের সময় শেষ মুহূর্তে স্থগিত হওয়ায় এখন মামলাটির পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার দিকে নজর রয়েছে।

ষষ্ঠ সার্কিট আপিল আদালত মামলাটি আরও বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে বলে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করেছে। তবে আদালতের এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে পাইক স্থায়ীভাবে মৃত্যুদণ্ড থেকে মুক্তি পেয়েছেন—এমনটি বলা যাচ্ছে না।

স্থগিতাদেশ কতদিন থাকবে এবং পরবর্তী সময়ে আদালত কী সিদ্ধান্ত নেবে, সেটিও এখনো পরিষ্কার নয়।

অর্থাৎ বুধবারের নির্ধারিত দণ্ড কার্যকর না হলেও তার বিরুদ্ধে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল আছে কি না, কিংবা ভবিষ্যতে নতুন করে দণ্ড কার্যকরের তারিখ নির্ধারিত হবে কি না—এসব প্রশ্ন পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় পরিষ্কার হবে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর