আগামী বছরের জানুয়ারিতে পাকিস্তানের মাটিতে হওয়ার কথা ছিল তিন দেশের ওয়ানডে সিরিজ। স্বাগতিক পাকিস্তান, আয়ারল্যান্ড ও জিম্বাবুয়েকে নিয়ে পরিকল্পিত সেই ত্রিদেশীয় সিরিজ থেকে শেষ মুহূর্তে সরে দাঁড়িয়েছে জিম্বাবুয়ে। বাণিজ্যিক হিসাব-নিকাশে সমঝোতা না হওয়ায় জিম্বাবুয়ের এই সিদ্ধান্তে পুরো আয়োজনই বাতিল হওয়ার পথে।
ক্রিকইনফোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জিম্বাবুয়ে সফর বাতিল করায় এখন পাকিস্তান ও আয়ারল্যান্ডের মধ্যে একটি দ্বিপক্ষীয় সীমিত ওভারের সিরিজ আয়োজনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তবে সফরের চূড়ান্ত সূচি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা হয়নি।
জানুয়ারি ২০২৭-এ পাকিস্তানে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজ আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু বাণিজ্যিক বিষয় নিয়ে সমঝোতা না হওয়ায় জিম্বাবুয়ে সফর থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেয় বলে জানিয়েছে ক্রিকইনফো।
জিম্বাবুয়ের সরে দাঁড়ানোর পর তিন দলের টুর্নামেন্ট আয়োজনের আর সুযোগ থাকছে না। ফলে পাকিস্তান ও আয়ারল্যান্ডকে নিয়ে নতুন করে সফরের সূচি তৈরির কাজ চলছে।
অন্যদিকে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) ও জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট ভবিষ্যতে অন্য কোনো সময়ে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ আয়োজনের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ত্রিদেশীয় সিরিজের পাশাপাশি পাকিস্তান সফরে আয়ারল্যান্ডের একটি টেস্ট খেলার পরিকল্পনাও ছিল। তবে বর্তমান সূচি পুনর্বিন্যাসের ফলে সেই টেস্ট ম্যাচ হওয়ার সম্ভাবনাও প্রায় নেই বলে জানিয়েছে ক্রিকইনফো।
ক্রিকেট আয়ারল্যান্ডের এক মুখপাত্র সংবাদমাধ্যমটিকে বলেছেন, পিসিবি ও ক্রিকেট আয়ারল্যান্ড যৌথভাবে সফরের নতুন সূচি চূড়ান্ত করার কাজ করছে। শিগগিরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে।
অর্থাৎ সফরটি পুরোপুরি বাতিল না হলেও আগের পরিকল্পনায় থাকা ম্যাচের সংখ্যা ও ফরম্যাটে পরিবর্তন আসতে পারে।
২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ সামনে রেখে পাকিস্তান বেশি ৫০ ওভারের ম্যাচ খেলতে আগ্রহী। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আগামী মাসে শ্রীলঙ্কা ও ইংল্যান্ডকে নিয়ে আরেকটি ত্রিদেশীয় সিরিজ আয়োজনের কথা রয়েছে।
এরপর বাংলাদেশ সফরে পাকিস্তানের পাঁচটি ওয়ানডে খেলার আলোচনা চলছে বলেও জানিয়েছে ক্রিকইনফো। আগামী গ্রীষ্মে ইংল্যান্ড সফরেও পাকিস্তানের আরও পাঁচটি ওয়ানডে খেলার সূচি চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে।
ফলে বিশ্বকাপের আগে ওয়ানডে ক্রিকেটে নিজেদের প্রস্তুতি জোরদার করতে চাইছে পাকিস্তান।
অন্যদিকে আয়ারল্যান্ডের সামনে রয়েছে ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব। আগামী ফেব্রুয়ারিতে সেই বাছাইপর্বে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে আইরিশদের।
বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নেওয়াই তাদের লক্ষ্য। আগামী বছরের অক্টোবর-নভেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ায় বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
এই কারণে পাকিস্তানের বিপক্ষে সম্ভাব্য ওয়ানডে সিরিজটি আয়ারল্যান্ডের জন্য বিশ্বকাপ প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
জিম্বাবুয়ে সরে দাঁড়ানোয় নির্ধারিত ত্রিদেশীয় সিরিজটি আর হচ্ছে না। তবে পাকিস্তান ও আয়ারল্যান্ড নতুন সূচিতে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ আয়োজনের চেষ্টা করছে।
এতে দুই দলেরই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের প্রস্তুতি চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকবে। বিশেষ করে পাকিস্তানের জন্য ২০২৭ বিশ্বকাপের আগে বেশি ওয়ানডে খেলার পরিকল্পনার সঙ্গে এই সিরিজের নতুন সূচি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। আয়ারল্যান্ডও বিশ্বকাপ বাছাইয়ের আগে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে।
ত্রিদেশীয় সিরিজ বাতিলের মূল কারণ হিসেবে বাণিজ্যিক সমঝোতার বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে দুই বোর্ডের মধ্যে নতুন সূচি তৈরির আলোচনা চলায় ক্রিকেটীয় সম্পর্ক পুরোপুরি থেমে যাচ্ছে না।
বরং দুই দলের সামনে আলাদা লক্ষ্য থাকায় নতুন দ্বিপক্ষীয় সিরিজটি উভয়ের জন্য কার্যকর হতে পারে। পাকিস্তান যেখানে ২০২৭ বিশ্বকাপের আগে ওয়ানডে ম্যাচ বাড়াতে চাইছে, আয়ারল্যান্ড সেখানে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের প্রস্তুতিতে আন্তর্জাতিক ম্যাচকে কাজে লাগাতে চাইবে।

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আগামী বছরের জানুয়ারিতে পাকিস্তানের মাটিতে হওয়ার কথা ছিল তিন দেশের ওয়ানডে সিরিজ। স্বাগতিক পাকিস্তান, আয়ারল্যান্ড ও জিম্বাবুয়েকে নিয়ে পরিকল্পিত সেই ত্রিদেশীয় সিরিজ থেকে শেষ মুহূর্তে সরে দাঁড়িয়েছে জিম্বাবুয়ে। বাণিজ্যিক হিসাব-নিকাশে সমঝোতা না হওয়ায় জিম্বাবুয়ের এই সিদ্ধান্তে পুরো আয়োজনই বাতিল হওয়ার পথে।
ক্রিকইনফোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জিম্বাবুয়ে সফর বাতিল করায় এখন পাকিস্তান ও আয়ারল্যান্ডের মধ্যে একটি দ্বিপক্ষীয় সীমিত ওভারের সিরিজ আয়োজনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তবে সফরের চূড়ান্ত সূচি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা হয়নি।
জানুয়ারি ২০২৭-এ পাকিস্তানে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজ আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু বাণিজ্যিক বিষয় নিয়ে সমঝোতা না হওয়ায় জিম্বাবুয়ে সফর থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেয় বলে জানিয়েছে ক্রিকইনফো।
জিম্বাবুয়ের সরে দাঁড়ানোর পর তিন দলের টুর্নামেন্ট আয়োজনের আর সুযোগ থাকছে না। ফলে পাকিস্তান ও আয়ারল্যান্ডকে নিয়ে নতুন করে সফরের সূচি তৈরির কাজ চলছে।
অন্যদিকে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) ও জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট ভবিষ্যতে অন্য কোনো সময়ে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ আয়োজনের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ত্রিদেশীয় সিরিজের পাশাপাশি পাকিস্তান সফরে আয়ারল্যান্ডের একটি টেস্ট খেলার পরিকল্পনাও ছিল। তবে বর্তমান সূচি পুনর্বিন্যাসের ফলে সেই টেস্ট ম্যাচ হওয়ার সম্ভাবনাও প্রায় নেই বলে জানিয়েছে ক্রিকইনফো।
ক্রিকেট আয়ারল্যান্ডের এক মুখপাত্র সংবাদমাধ্যমটিকে বলেছেন, পিসিবি ও ক্রিকেট আয়ারল্যান্ড যৌথভাবে সফরের নতুন সূচি চূড়ান্ত করার কাজ করছে। শিগগিরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে।
অর্থাৎ সফরটি পুরোপুরি বাতিল না হলেও আগের পরিকল্পনায় থাকা ম্যাচের সংখ্যা ও ফরম্যাটে পরিবর্তন আসতে পারে।
২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ সামনে রেখে পাকিস্তান বেশি ৫০ ওভারের ম্যাচ খেলতে আগ্রহী। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আগামী মাসে শ্রীলঙ্কা ও ইংল্যান্ডকে নিয়ে আরেকটি ত্রিদেশীয় সিরিজ আয়োজনের কথা রয়েছে।
এরপর বাংলাদেশ সফরে পাকিস্তানের পাঁচটি ওয়ানডে খেলার আলোচনা চলছে বলেও জানিয়েছে ক্রিকইনফো। আগামী গ্রীষ্মে ইংল্যান্ড সফরেও পাকিস্তানের আরও পাঁচটি ওয়ানডে খেলার সূচি চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে।
ফলে বিশ্বকাপের আগে ওয়ানডে ক্রিকেটে নিজেদের প্রস্তুতি জোরদার করতে চাইছে পাকিস্তান।
অন্যদিকে আয়ারল্যান্ডের সামনে রয়েছে ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব। আগামী ফেব্রুয়ারিতে সেই বাছাইপর্বে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে আইরিশদের।
বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নেওয়াই তাদের লক্ষ্য। আগামী বছরের অক্টোবর-নভেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ায় বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
এই কারণে পাকিস্তানের বিপক্ষে সম্ভাব্য ওয়ানডে সিরিজটি আয়ারল্যান্ডের জন্য বিশ্বকাপ প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
জিম্বাবুয়ে সরে দাঁড়ানোয় নির্ধারিত ত্রিদেশীয় সিরিজটি আর হচ্ছে না। তবে পাকিস্তান ও আয়ারল্যান্ড নতুন সূচিতে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ আয়োজনের চেষ্টা করছে।
এতে দুই দলেরই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের প্রস্তুতি চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকবে। বিশেষ করে পাকিস্তানের জন্য ২০২৭ বিশ্বকাপের আগে বেশি ওয়ানডে খেলার পরিকল্পনার সঙ্গে এই সিরিজের নতুন সূচি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। আয়ারল্যান্ডও বিশ্বকাপ বাছাইয়ের আগে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে।
ত্রিদেশীয় সিরিজ বাতিলের মূল কারণ হিসেবে বাণিজ্যিক সমঝোতার বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে দুই বোর্ডের মধ্যে নতুন সূচি তৈরির আলোচনা চলায় ক্রিকেটীয় সম্পর্ক পুরোপুরি থেমে যাচ্ছে না।
বরং দুই দলের সামনে আলাদা লক্ষ্য থাকায় নতুন দ্বিপক্ষীয় সিরিজটি উভয়ের জন্য কার্যকর হতে পারে। পাকিস্তান যেখানে ২০২৭ বিশ্বকাপের আগে ওয়ানডে ম্যাচ বাড়াতে চাইছে, আয়ারল্যান্ড সেখানে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের প্রস্তুতিতে আন্তর্জাতিক ম্যাচকে কাজে লাগাতে চাইবে।

আপনার মতামত লিখুন