দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কুমিল্লায় যুবকের ধারালো অস্ত্রের হামলায় মা ও আট মাসের ভাতিজি নিহত

কুমিল্লায় যুবকের ধারালো অস্ত্রের হামলায় মা ও আট মাসের ভাতিজি নিহত

মোবাইল না দেওয়ায় মা-বাবার বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে থানায় ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী

সিদ্ধিরগঞ্জে গভীর রাতে পার্কিং করা বাসে আগুন, তদন্তে পুলিশ

আখাউড়া সীমান্তে কাঁটাতারের পাশে বাংলাদেশি কিশোরের মরদেহ উদ্ধার

বাংলাদেশে আট মাসে ৩৬ নিখোঁজ শিশুর মরদেহ উদ্ধার, উদ্বেগ বাড়াচ্ছে শিশুদের নিরাপত্তা

চুয়াডাঙ্গায় ২১ হাজার কেজি ভুট্টাভর্তি ট্রাক নিয়ে চালক লাপাত্তা, থানায় মামলা

খিলগাঁওয়ে দুই বাসের চাপায় মাইলস্টোন শিক্ষিকার মৃত্যু, আটক ২

গাজীপুরের ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে জং ধরা তালা, কাঁটাতারের বেড়া সরিয়ে ঢুকলেন এমপি

মোবাইল না দেওয়ায় মা-বাবার বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে থানায় ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী

মোবাইল না দেওয়ায় মা-বাবার বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে থানায় ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী
মোবাইল ফোন না দেওয়ায় বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে রাতে হাজীগঞ্জ থানায় যায় ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী।

মোবাইল ফোন না দেওয়ায় অভিমান করে বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ নিয়ে রাতে থানায় হাজির হয়েছে ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী। একা থানায় শিশুটির উপস্থিতির বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় কৌতূহলের সৃষ্টি হয়।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে হাজীগঞ্জ থানায় ওই শিক্ষার্থী উপস্থিত হয়। পরদিন সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগকারী শিক্ষার্থী স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। তার পরিচয় গোপন রাখতে প্রতিবেদনে তাকে ‘মিনার’ (ছদ্মনাম) হিসেবে উল্লেখ করা হলো।

পুলিশ ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মোবাইল ফোন ব্যবহারের জন্য বাবা-মায়ের কাছে আবদার করেছিল মিনার। তবে তাকে মোবাইল ফোন না দেওয়ায় পরিবারের সঙ্গে তার মনোমালিন্য হয়।

একপর্যায়ে অভিমান করে বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ নিয়ে রাতের বেলায় একাই হাজীগঞ্জ থানায় চলে আসে সে।

বিষয়টি জানার পর থানায় শিশুটির সঙ্গে কথা বলেন পুলিশ পরিদর্শক জহির হোসেন। তিনি শিশুটির বক্তব্য শোনেন এবং পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করেন।

পুলিশ পরিদর্শক জহির হোসেন বলেন, শিশুটি অভিমান করে বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে থানায় এসেছিল। পুলিশ তার সঙ্গে শান্তভাবে কথা বলে বিষয়টি বোঝার চেষ্টা করে।

পরে শিশুটির বাবা-মাকেও থানায় ডেকে আনা হয়। তাদের সঙ্গে সন্তানের বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন পুলিশ সদস্যরা। পারিবারিক বিষয়গুলো ভালোবাসা, ধৈর্য ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে সমাধানের পরামর্শ দেওয়া হয়।

পুলিশের উদ্যোগে শেষ পর্যন্ত শিশুটিকে তার বাবা-মায়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

পুলিশ পরিদর্শক জহির হোসেন আরও বলেন, ছোট একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে যেন শিশুটির মনে কোনো ধরনের নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে, সে বিষয়েও বাবা-মাকে সতর্ক করা হয়েছে।

পুলিশের পরামর্শ এবং পারিবারিকভাবে বিষয়টি সমাধানের পর শিশুটিকে বাবা-মায়ের সঙ্গে বাড়িতে পাঠানো হয়েছে।

শিশু-কিশোরদের কাছে মোবাইল ফোন এখন বিনোদন, যোগাযোগ ও নানা ধরনের শেখার মাধ্যম। তবে বয়স অনুযায়ী এর ব্যবহার নিয়ে পরিবারে মতবিরোধ তৈরি হওয়াও অস্বাভাবিক নয়। এ ধরনের পরিস্থিতিতে শাসন বা কঠোরতার বদলে শিশুর সঙ্গে কথা বলে নিয়ম ও সীমারেখা ঠিক করা গুরুত্বপূর্ণ।

এই ঘটনায় শিশুটি কেন এতটা অভিমান করেছিল এবং তার অভিযোগের প্রকৃত পরিস্থিতি কী ছিল—সেটিও পরিবারের জন্য গুরুত্ব দিয়ে বোঝার বিষয়। কারণ কোনো শিশুর কাছে ছোট মনে হওয়া ঘটনা কখনো কখনো তার মানসিক অবস্থায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

  • মোবাইল ফোন না দেওয়াকে কেন্দ্র করে বাবা-মায়ের সঙ্গে মনোমালিন্য হয় শিশুটির।
  • রাতে একাই হাজীগঞ্জ থানায় গিয়ে বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ করে সে।
  • পুলিশ শিশুটির সঙ্গে কথা বলে এবং তার বাবা-মাকেও থানায় ডাকে।
  • পারিবারিকভাবে বিষয়টি সমাধানের পর শিশুটিকে বাবা-মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
  • শিশুর মানসিক অবস্থার বিষয়ে বাবা-মাকে সতর্ক করেছে পুলিশ।

শিশু-কিশোরদের মোবাইল ব্যবহারের ক্ষেত্রে অভিভাবকদের যেমন সীমা নির্ধারণ করা প্রয়োজন, তেমনি সেই সীমার কারণটিও শিশুকে বুঝিয়ে বলা জরুরি। মোবাইল না দেওয়ার মতো বিষয় যেন পারিবারিক দ্বন্দ্ব বা শিশুর মনে গভীর অভিমানে রূপ না নেয়, সেদিকে নজর রাখা দরকার।

এই ঘটনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক শুধু একটি শিশুর রাতে থানায় চলে আসা নয়; বরং শিশুটি কেন পরিবারকে পাশ কাটিয়ে পুলিশের কাছে সাহায্য চাইতে গেল, সেটিও ভাবার বিষয়। অভিযোগের সত্যতা আলাদাভাবে যাচাইয়ের বিষয় হলেও, শিশুর কথা মন দিয়ে শোনা এবং তার অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া পরিবার ও সমাজ—দুই পক্ষেরই দায়িত্ব। কঠোর শাসনের পাশাপাশি সন্তানের সঙ্গে নিয়মিত কথোপকথনের সুযোগ তৈরি করাও এমন পরিস্থিতি এড়াতে সহায়ক হতে পারে।

বিষয় : মোবাইল না দেওয়ায় থানায় শিশু ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী থানায় হাজীগঞ্জ থানায় শিশু মোবাইল নিয়ে পারিবারিক বিরোধ শিশু নির্যাতনের অভিযোগ

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


মোবাইল না দেওয়ায় মা-বাবার বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে থানায় ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী

প্রকাশের তারিখ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

মোবাইল ফোন না দেওয়ায় অভিমান করে বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ নিয়ে রাতে থানায় হাজির হয়েছে ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী। একা থানায় শিশুটির উপস্থিতির বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় কৌতূহলের সৃষ্টি হয়।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে হাজীগঞ্জ থানায় ওই শিক্ষার্থী উপস্থিত হয়। পরদিন সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগকারী শিক্ষার্থী স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। তার পরিচয় গোপন রাখতে প্রতিবেদনে তাকে ‘মিনার’ (ছদ্মনাম) হিসেবে উল্লেখ করা হলো।

পুলিশ ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মোবাইল ফোন ব্যবহারের জন্য বাবা-মায়ের কাছে আবদার করেছিল মিনার। তবে তাকে মোবাইল ফোন না দেওয়ায় পরিবারের সঙ্গে তার মনোমালিন্য হয়।

একপর্যায়ে অভিমান করে বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ নিয়ে রাতের বেলায় একাই হাজীগঞ্জ থানায় চলে আসে সে।

বিষয়টি জানার পর থানায় শিশুটির সঙ্গে কথা বলেন পুলিশ পরিদর্শক জহির হোসেন। তিনি শিশুটির বক্তব্য শোনেন এবং পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করেন।

পুলিশ পরিদর্শক জহির হোসেন বলেন, শিশুটি অভিমান করে বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে থানায় এসেছিল। পুলিশ তার সঙ্গে শান্তভাবে কথা বলে বিষয়টি বোঝার চেষ্টা করে।

পরে শিশুটির বাবা-মাকেও থানায় ডেকে আনা হয়। তাদের সঙ্গে সন্তানের বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন পুলিশ সদস্যরা। পারিবারিক বিষয়গুলো ভালোবাসা, ধৈর্য ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে সমাধানের পরামর্শ দেওয়া হয়।

পুলিশের উদ্যোগে শেষ পর্যন্ত শিশুটিকে তার বাবা-মায়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

পুলিশ পরিদর্শক জহির হোসেন আরও বলেন, ছোট একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে যেন শিশুটির মনে কোনো ধরনের নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে, সে বিষয়েও বাবা-মাকে সতর্ক করা হয়েছে।

পুলিশের পরামর্শ এবং পারিবারিকভাবে বিষয়টি সমাধানের পর শিশুটিকে বাবা-মায়ের সঙ্গে বাড়িতে পাঠানো হয়েছে।

শিশু-কিশোরদের কাছে মোবাইল ফোন এখন বিনোদন, যোগাযোগ ও নানা ধরনের শেখার মাধ্যম। তবে বয়স অনুযায়ী এর ব্যবহার নিয়ে পরিবারে মতবিরোধ তৈরি হওয়াও অস্বাভাবিক নয়। এ ধরনের পরিস্থিতিতে শাসন বা কঠোরতার বদলে শিশুর সঙ্গে কথা বলে নিয়ম ও সীমারেখা ঠিক করা গুরুত্বপূর্ণ।

এই ঘটনায় শিশুটি কেন এতটা অভিমান করেছিল এবং তার অভিযোগের প্রকৃত পরিস্থিতি কী ছিল—সেটিও পরিবারের জন্য গুরুত্ব দিয়ে বোঝার বিষয়। কারণ কোনো শিশুর কাছে ছোট মনে হওয়া ঘটনা কখনো কখনো তার মানসিক অবস্থায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

  • মোবাইল ফোন না দেওয়াকে কেন্দ্র করে বাবা-মায়ের সঙ্গে মনোমালিন্য হয় শিশুটির।
  • রাতে একাই হাজীগঞ্জ থানায় গিয়ে বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ করে সে।
  • পুলিশ শিশুটির সঙ্গে কথা বলে এবং তার বাবা-মাকেও থানায় ডাকে।
  • পারিবারিকভাবে বিষয়টি সমাধানের পর শিশুটিকে বাবা-মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
  • শিশুর মানসিক অবস্থার বিষয়ে বাবা-মাকে সতর্ক করেছে পুলিশ।

শিশু-কিশোরদের মোবাইল ব্যবহারের ক্ষেত্রে অভিভাবকদের যেমন সীমা নির্ধারণ করা প্রয়োজন, তেমনি সেই সীমার কারণটিও শিশুকে বুঝিয়ে বলা জরুরি। মোবাইল না দেওয়ার মতো বিষয় যেন পারিবারিক দ্বন্দ্ব বা শিশুর মনে গভীর অভিমানে রূপ না নেয়, সেদিকে নজর রাখা দরকার।

এই ঘটনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক শুধু একটি শিশুর রাতে থানায় চলে আসা নয়; বরং শিশুটি কেন পরিবারকে পাশ কাটিয়ে পুলিশের কাছে সাহায্য চাইতে গেল, সেটিও ভাবার বিষয়। অভিযোগের সত্যতা আলাদাভাবে যাচাইয়ের বিষয় হলেও, শিশুর কথা মন দিয়ে শোনা এবং তার অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া পরিবার ও সমাজ—দুই পক্ষেরই দায়িত্ব। কঠোর শাসনের পাশাপাশি সন্তানের সঙ্গে নিয়মিত কথোপকথনের সুযোগ তৈরি করাও এমন পরিস্থিতি এড়াতে সহায়ক হতে পারে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর