রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর কোনো সদস্য জড়িত ছিলেন না বলে দাবি করেছে বাহিনীটি। তাদের বক্তব্য, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) সদস্যরা।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর গণসংযোগ কর্মকর্তা ও সহকারী পরিচালক মো. নাজমুস সাকিবের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে আনসার সদস্যদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠার পরিপ্রেক্ষিতে বাহিনীটি এই ব্যাখ্যা দিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রোববার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে রাবির এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে আরএনবি সদস্যদের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। এর প্রতিবাদে পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা স্টেশনে বিক্ষোভ ও স্লোগান দেন।
আনসারের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় আরএনবি সদস্যদের রাতের পোশাকের সঙ্গে আনসার সদস্যদের পোশাকের সাদৃশ্য থাকায় শিক্ষার্থীরা ভুলবশত আনসার সদস্যদের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। পরে প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে জানার পর তারা বুঝতে পারেন, মারধরের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিরা আরএনবির সদস্য।
আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের দপ্তরাদেশ অনুযায়ী এরই মধ্যে আরএনবির চার সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
তবে শিক্ষার্থীকে মারধরের পুরো ঘটনা, ঘটনার পেছনের কারণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী তদন্ত বা আইনগত পদক্ষেপের বিস্তারিত তথ্য বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়নি। ফলে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র পেতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট তদন্তের ফল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
আনসার বাহিনীর দাবি, প্রকৃত তথ্য যাচাই না করে তাদের সদস্যদের ঘটনায় জড়িয়ে সংবাদ প্রকাশ করা বিভ্রান্তিকর। এতে একটি সুশৃঙ্খল বাহিনীর ভাবমূর্তি অযাচিতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ কারণে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমকে প্রকৃত তথ্য যাচাই করে প্রয়োজনীয় সংশোধনী প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী।
কোনো ঘটনার তাৎক্ষণিক উত্তেজনার মধ্যে পোশাক বা পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে দায়ী করার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্য যাচাই করা জরুরি। বিশেষ করে একই ধরনের পোশাক ব্যবহারকারী একাধিক নিরাপত্তা বাহিনী থাকলে ভুল পরিচয়ের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
এই ঘটনায় আনসার বাহিনী নিজেদের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছে এবং আরএনবি সদস্যদের জড়িত থাকার কথা জানিয়েছে। তাই পরবর্তী সময়ে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের তদন্ত, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং আনুষ্ঠানিক নথিই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র পরিষ্কার করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ঘটনাটির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক শুধু শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ নয়; একই সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের পরিচয় শনাক্ত করার ব্যবস্থাও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। একই ধরনের পোশাকের কারণে যদি ঘটনাস্থলে সাধারণ মানুষ বা শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়, তাহলে ভবিষ্যতে বাহিনীগুলোর দৃশ্যমান পরিচয় আরও স্পষ্ট করার বিষয়টি বিবেচনার দাবি রাখে।

সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর কোনো সদস্য জড়িত ছিলেন না বলে দাবি করেছে বাহিনীটি। তাদের বক্তব্য, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) সদস্যরা।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর গণসংযোগ কর্মকর্তা ও সহকারী পরিচালক মো. নাজমুস সাকিবের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে আনসার সদস্যদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠার পরিপ্রেক্ষিতে বাহিনীটি এই ব্যাখ্যা দিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রোববার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে রাবির এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে আরএনবি সদস্যদের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। এর প্রতিবাদে পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা স্টেশনে বিক্ষোভ ও স্লোগান দেন।
আনসারের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় আরএনবি সদস্যদের রাতের পোশাকের সঙ্গে আনসার সদস্যদের পোশাকের সাদৃশ্য থাকায় শিক্ষার্থীরা ভুলবশত আনসার সদস্যদের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। পরে প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে জানার পর তারা বুঝতে পারেন, মারধরের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিরা আরএনবির সদস্য।
আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের দপ্তরাদেশ অনুযায়ী এরই মধ্যে আরএনবির চার সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
তবে শিক্ষার্থীকে মারধরের পুরো ঘটনা, ঘটনার পেছনের কারণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী তদন্ত বা আইনগত পদক্ষেপের বিস্তারিত তথ্য বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়নি। ফলে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র পেতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট তদন্তের ফল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
আনসার বাহিনীর দাবি, প্রকৃত তথ্য যাচাই না করে তাদের সদস্যদের ঘটনায় জড়িয়ে সংবাদ প্রকাশ করা বিভ্রান্তিকর। এতে একটি সুশৃঙ্খল বাহিনীর ভাবমূর্তি অযাচিতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ কারণে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমকে প্রকৃত তথ্য যাচাই করে প্রয়োজনীয় সংশোধনী প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী।
কোনো ঘটনার তাৎক্ষণিক উত্তেজনার মধ্যে পোশাক বা পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে দায়ী করার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্য যাচাই করা জরুরি। বিশেষ করে একই ধরনের পোশাক ব্যবহারকারী একাধিক নিরাপত্তা বাহিনী থাকলে ভুল পরিচয়ের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
এই ঘটনায় আনসার বাহিনী নিজেদের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছে এবং আরএনবি সদস্যদের জড়িত থাকার কথা জানিয়েছে। তাই পরবর্তী সময়ে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের তদন্ত, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং আনুষ্ঠানিক নথিই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র পরিষ্কার করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ঘটনাটির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক শুধু শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ নয়; একই সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের পরিচয় শনাক্ত করার ব্যবস্থাও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। একই ধরনের পোশাকের কারণে যদি ঘটনাস্থলে সাধারণ মানুষ বা শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়, তাহলে ভবিষ্যতে বাহিনীগুলোর দৃশ্যমান পরিচয় আরও স্পষ্ট করার বিষয়টি বিবেচনার দাবি রাখে।

আপনার মতামত লিখুন