দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : রোববার, ০৯ আগস্ট ২০২৬

অনুমোদিত নকশার বাইরে ভবন নির্মাণ বন্ধে নতুন উদ্যোগ, কী বললেন গৃহায়নমন্ত্রী?

অনুমোদিত নকশার বাইরে ভবন নির্মাণ বন্ধে নতুন উদ্যোগ, কী বললেন গৃহায়নমন্ত্রী?

সৌদির স্কুলের বইয়ে আমূল পরিবর্তন, ইহুদি-খ্রিস্টানদের নিয়ে বদলে গেল পুরোনো বয়ান

৬ মাস শেষে সরকারের অর্জন-সীমাবদ্ধতা জানাবেন প্রধানমন্ত্রী, চলছে সূক্ষ্ম মূল্যায়ন

দিল্লিতে শেখ হাসিনার বক্তব্য ঘিরে ঢাকা–দিল্লি টানাপোড়েন, সম্পর্ক কি আবার কঠিন পথে?

জ্বালানি খাত নিয়ে বড় সতর্কবার্তা প্রধানমন্ত্রীর, নিয়োগ হবে ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী

নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস: তরুণ প্রতিভাদের নিয়ে ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে জমজমাট সমাপনী

মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডার ফুরিয়ে আসছে? ট্রাম্পের কড়া জবাবে চাঞ্চল্য

শারীরিক অসুস্থতায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ, ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ

দিল্লিতে শেখ হাসিনার বক্তব্য ঘিরে ঢাকা–দিল্লি টানাপোড়েন, সম্পর্ক কি আবার কঠিন পথে?

দিল্লিতে শেখ হাসিনার বক্তব্য ঘিরে ঢাকা–দিল্লি টানাপোড়েন, সম্পর্ক কি আবার কঠিন পথে?
দিল্লিতে শেখ হাসিনার সাংবাদিকদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় ঘিরে নতুন করে আলোচনায় বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্ক।

দিল্লিতে শেখ হাসিনার সাংবাদিকদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়কে কেন্দ্র করে আবারও অস্বস্তিতে পড়েছে বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্ক। ঢাকার দাবি, অনুষ্ঠানটির বিষয়ে ভারতকে আগেই উদ্বেগ জানানো হয়েছিল। এরপরও ভারতের মাটিতে শেখ হাসিনাকে সরাসরি কথা বলার সুযোগ দেওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বাংলাদেশ।

অন্যদিকে ভারত সরকার বলছে, ওই অনুষ্ঠানের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই এবং বাংলাদেশের বৈধভাবে গঠিত সরকারের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার বক্তব্য তারা সমর্থন করে না। দুই পক্ষের এমন পাল্টাপাল্টি অবস্থানের মধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে—সম্পর্ক স্বাভাবিক করার যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, দিল্লির এই ঘটনা কি তাতে নতুন করে বাধা তৈরি করছে?

বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন, ঘটনাটি দুই দেশের মধ্যে আস্থার ঘাটতি আরও বাড়াতে পারে। তবে একই সঙ্গে বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও আলোচনার দরজা খোলা রাখার বার্তা দেওয়া হয়েছে।

কী ঘটেছিল দিল্লিতে?

বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে দক্ষিণ এশিয়া ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব (এফসিসি সাউথ এশিয়া) দিল্লিতে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। সেখানে ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা সাংবাদিকদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন।

ঘটনাটি নিয়ে ওই দিন রাতেই কড়া প্রতিক্রিয়া জানায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বার্ষিকীর দিনে দিল্লিতে শেখ হাসিনাকে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া অত্যন্ত হতাশাজনক। ঢাকার দাবি, অনুষ্ঠানটির সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে ভারত সরকারকে আগেই জানানো হয়েছিল।

বাংলাদেশ আরও বলেছে, ভারতের মাটিতে বসে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়া বন্ধে দিল্লির সহযোগিতা চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু এরপরও সরাসরি সংবাদ সম্মেলনের সুযোগ দেওয়ায় দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

কেন এতটা ক্ষুব্ধ বাংলাদেশ?

ঢাকার উদ্বেগের মূল জায়গাটি শুধু শেখ হাসিনার বক্তব্য নয়; বরং তিনি ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাতে পারছেন কি না, সেটিও বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার রাজনৈতিক বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড যাতে বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির কোনো সুযোগ না পায়, সে বিষয়ে ভারতকে ব্যবস্থা নিতে হবে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদও বলেছেন, ভারতের মাটিতে বসে শেখ হাসিনার বক্তব্য দেওয়া বন্ধ না হলে তা বাংলাদেশের জনগণের জন্য উদ্বেগ তৈরি করে।

তবে একই সঙ্গে তিনি দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনার দরজাও খোলা রেখেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অনেক দ্বিপক্ষীয় বিষয় রয়েছে, যেগুলো আলোচনা ও বৈঠকের মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। বাংলাদেশ আলোচনায় বসতে চায়, তবে এখন সিদ্ধান্ত ভারতের নেওয়া উচিত।

এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, ঢাকার ক্ষোভ থাকলেও কূটনৈতিক যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ করার অবস্থানে বাংলাদেশ যেতে চাইছে না।

ভারত কী বলছে?

শেখ হাসিনার দিল্লির বক্তব্যের পর ভারত সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে, ওই অনুষ্ঠানের সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পর্ক নেই।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, বাংলাদেশের বৈধভাবে গঠিত সরকারের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার বক্তব্যকে তারা সমর্থন করে না।

ভারতের এই অবস্থান একদিকে বাংলাদেশ সরকারের অভিযোগ থেকে নিজেদের দূরে রাখার চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে ঢাকার প্রশ্ন হলো—ভারত সরকারের সঙ্গে অনুষ্ঠানটির সরাসরি সম্পর্ক না থাকলেও, ভারতের ভূখণ্ডে এমন একটি রাজনৈতিক বক্তব্যের সুযোগ কীভাবে তৈরি হলো?

সাবেক কূটনীতিক হুমায়ুন কবিরের বক্তব্যেও এই প্রশ্ন উঠে এসেছে। তাঁর মতে, ভারত সরকার অনুষ্ঠানটির দায় নিচ্ছে না বা বক্তব্যের সঙ্গে একমত নয়—এমন অবস্থান দিলেও সেটি বাংলাদেশের উদ্বেগ পুরোপুরি দূর করছে না।

তবে এটিও মনে রাখা জরুরি, কোনো বেসরকারি সংগঠনের আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভারত সরকারের সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল—এমন দাবির পক্ষে এখানে স্বাধীন কোনো প্রমাণ দেওয়া হয়নি। তাই বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট তথ্যের আরও যাচাই প্রয়োজন।

সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টায় ধাক্কা?

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা ভারতে চলে যাওয়ার ঘটনায় ঢাকা–দিল্লি সম্পর্ক দ্রুত অবনতি ঘটে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য একাধিকবার ভারতের কাছে অনুরোধ করা হয়েছিল বলে বাংলাদেশ জানিয়েছে।

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পরও তাঁকে ফেরত দেওয়ার বিষয়ে ভারতকে অনুরোধ জানানো হয়েছিল। ভারত তখন বিষয়টি পর্যালোচনা করছে বলে জানিয়েছিল।

এই সময় দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে সীমান্ত, পানি, বাণিজ্য ও নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয়ে অস্বস্তি ছিল।

তবে বিএনপির নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পর পরিস্থিতিতে পরিবর্তনের চেষ্টা দেখা যায়। দুই দেশের পররাষ্ট্র পর্যায়ে যোগাযোগ বাড়ে এবং সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়ে উভয় পক্ষ থেকেই আগ্রহের বার্তা আসে।

এই প্রেক্ষাপটে দিল্লিতে শেখ হাসিনার সরাসরি সংবাদ সম্মেলনকে তাই অনেকেই আলাদা গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন।

আবার কি আস্থার সংকট বাড়ছে?

সাবেক কূটনীতিক হুমায়ুন কবিরের মতে, সম্পর্ক উন্নয়নের যে প্রচেষ্টা ছিল, সাম্প্রতিক ঘটনাটি তার জন্য সহায়ক নয়।

তাঁর এই মূল্যায়নের পেছনে মূল কারণ হলো—বাংলাদেশ মনে করছে, অনুষ্ঠানটির বিষয়ে ভারতকে আগেই সতর্ক করা হয়েছিল। তারপরও সেটি অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফলে ঢাকার কাছে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, ভারতের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যে শেখ হাসিনার অবস্থান এবং তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে কীভাবে দেখা হচ্ছে।

এখানে দুই দেশের বক্তব্যের মধ্যে একটি স্পষ্ট পার্থক্যও দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশ চাইছে ভারতের ভূখণ্ড থেকে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সীমিত করা হোক। ভারত বলছে, তাঁর বক্তব্য সরকার সমর্থন করে না এবং অনুষ্ঠানটির সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক নেই।

অর্থাৎ সমস্যাটি এখন শুধু একজন রাজনৈতিক নেতার বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি ধীরে ধীরে দুই দেশের পারস্পরিক আস্থার প্রশ্নে পরিণত হচ্ছে।

তারেক রহমানের সরকার আসার পর যে পরিবর্তন দেখা গিয়েছিল

বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর ঢাকা–দিল্লির সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা নতুন গতি পেয়েছিল বলে বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করেন।

এর আগে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর তাঁকে শ্রদ্ধা জানাতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের ঢাকায় আসা এবং পরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের দিল্লি সফর—দুই দেশের কূটনৈতিক যোগাযোগের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে দেখা হয়েছিল।

কিন্তু শেখ হাসিনাকে ঘিরে রাজনৈতিক বিরোধ এখনো রয়ে গেছে। বাংলাদেশ চায় তিনি ভারত থেকে রাজনৈতিক বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড চালাতে না পারেন এবং তাঁকে দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে ভারত ইতিবাচক পদক্ষেপ নিক।

ভারতের পক্ষ থেকে অবশ্য বলা হচ্ছে, প্রত্যর্পণের অনুরোধ তারা পর্যালোচনা করছে।

সামনে কোন পথে ঢাকা–দিল্লি সম্পর্ক?

এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—দুই দেশ সাম্প্রতিক উত্তেজনাকে কত দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে পারে।

বাংলাদেশের কর্মকর্তারা মনে করছেন, সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে এখন ভারতের পক্ষ থেকেই দৃশ্যমান উদ্যোগ প্রয়োজন। অন্যদিকে ভারতের জন্যও বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী রাষ্ট্র—বাণিজ্য, যোগাযোগ, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সহযোগিতার কারণে দুই দেশের সম্পর্ককে দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিতে দেখা জরুরি।

তাই সাম্প্রতিক ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক বক্তব্য যতই কঠোর হোক, বাস্তব স্বার্থের জায়গা থেকে দুই দেশের কূটনৈতিক যোগাযোগ চালু রাখা দুপক্ষের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।

গুরুত্বপূর্ণ দিক

  • ৫ আগস্ট দিল্লিতে শেখ হাসিনার সরাসরি সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় নিয়ে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষোভ জানিয়েছে।
  • ঢাকার দাবি, অনুষ্ঠানটির বিষয়ে ভারতকে আগেই উদ্বেগ জানানো হয়েছিল।
  • ভারত সরকার জানিয়েছে, শেখ হাসিনার বক্তব্য তারা সমর্থন করে না এবং অনুষ্ঠানের সঙ্গে সরকারের কোনো সম্পর্ক নেই।
  • বাংলাদেশ সম্পর্ক উন্নয়নের আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার আগ্রহের কথাও জানিয়েছে।
  • সাবেক কূটনীতিকদের মতে, ঘটনাটি ঢাকা–দিল্লির আস্থার ঘাটতি আরও বাড়াতে পারে।

সাধারণ মানুষের ভাবনা: সম্পর্কের উত্তাপ যেন মানুষের জীবনে না পড়ে

বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের টানাপোড়েন শুধু কূটনৈতিক বৈঠকের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। দুই দেশের সীমান্তবর্তী মানুষের জীবন, ব্যবসা-বাণিজ্য, যাতায়াত, চিকিৎসা, শিক্ষা, পণ্য সরবরাহ এবং আঞ্চলিক যোগাযোগের ওপরও এর প্রভাব পড়ে।

তাই রাজনৈতিক মতবিরোধ যতই থাকুক, সাধারণ মানুষের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়—এটি দুই দেশের নীতিনির্ধারকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাচাইহীন তথ্য ও গুজব পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করতে পারে। তাই শেখ হাসিনাকে ঘিরে নতুন কোনো বক্তব্য বা সিদ্ধান্ত সামনে এলে সেটি সরকারি সূত্র, নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য মিলিয়ে দেখা জরুরি।

আমাদের নিজস্ব পর্যবেক্ষণ: আসল পরীক্ষা এখন ‘আস্থা পুনর্গঠন’

সাম্প্রতিক ঘটনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—ঢাকা ও দিল্লি দুপক্ষই প্রকাশ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের কথা বলছে, কিন্তু শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রশ্নে তাদের অবস্থানের মধ্যে বড় পার্থক্য রয়ে গেছে।

এই ব্যবধান কমানো না গেলে একদিকে রাজনৈতিক উত্তেজনা চলতে থাকবে, অন্যদিকে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার অন্যান্য উদ্যোগও বারবার বাধার মুখে পড়তে পারে।

বাংলাদেশের জন্য এখন চ্যালেঞ্জ হলো—শেখ হাসিনাকে ঘিরে নিজের উদ্বেগ স্পষ্টভাবে তুলে ধরার পাশাপাশি ভারতের সঙ্গে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক যোগাযোগ চালু রাখা। ভারতের জন্য চ্যালেঞ্জ হলো—একদিকে শেখ হাসিনাকে নিয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করা, অন্যদিকে বাংলাদেশের সঙ্গে নতুন করে তৈরি হওয়া সম্পর্কের আস্থাকে ধরে রাখা।

শেষ পর্যন্ত ঢাকা–দিল্লি সম্পর্ক একজন ব্যক্তিকে ঘিরে কতটা প্রভাবিত হবে, নাকি দুই দেশ বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থকে সামনে রেখে সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে পারবে—সেটিই আগামী দিনের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

বিষয় : বাংলাদেশ ভারত সম্পর্ক শেখ হাসিনা ঢাকা দিল্লি সম্পর্ক শেখ হাসিনা ভারত তারেক রহমান সরকার

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬


দিল্লিতে শেখ হাসিনার বক্তব্য ঘিরে ঢাকা–দিল্লি টানাপোড়েন, সম্পর্ক কি আবার কঠিন পথে?

প্রকাশের তারিখ : ০৯ আগস্ট ২০২৬

featured Image

দিল্লিতে শেখ হাসিনার সাংবাদিকদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়কে কেন্দ্র করে আবারও অস্বস্তিতে পড়েছে বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্ক। ঢাকার দাবি, অনুষ্ঠানটির বিষয়ে ভারতকে আগেই উদ্বেগ জানানো হয়েছিল। এরপরও ভারতের মাটিতে শেখ হাসিনাকে সরাসরি কথা বলার সুযোগ দেওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বাংলাদেশ।

অন্যদিকে ভারত সরকার বলছে, ওই অনুষ্ঠানের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই এবং বাংলাদেশের বৈধভাবে গঠিত সরকারের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার বক্তব্য তারা সমর্থন করে না। দুই পক্ষের এমন পাল্টাপাল্টি অবস্থানের মধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে—সম্পর্ক স্বাভাবিক করার যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, দিল্লির এই ঘটনা কি তাতে নতুন করে বাধা তৈরি করছে?

বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন, ঘটনাটি দুই দেশের মধ্যে আস্থার ঘাটতি আরও বাড়াতে পারে। তবে একই সঙ্গে বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও আলোচনার দরজা খোলা রাখার বার্তা দেওয়া হয়েছে।

কী ঘটেছিল দিল্লিতে?

বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে দক্ষিণ এশিয়া ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব (এফসিসি সাউথ এশিয়া) দিল্লিতে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। সেখানে ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা সাংবাদিকদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন।

ঘটনাটি নিয়ে ওই দিন রাতেই কড়া প্রতিক্রিয়া জানায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বার্ষিকীর দিনে দিল্লিতে শেখ হাসিনাকে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া অত্যন্ত হতাশাজনক। ঢাকার দাবি, অনুষ্ঠানটির সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে ভারত সরকারকে আগেই জানানো হয়েছিল।

বাংলাদেশ আরও বলেছে, ভারতের মাটিতে বসে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়া বন্ধে দিল্লির সহযোগিতা চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু এরপরও সরাসরি সংবাদ সম্মেলনের সুযোগ দেওয়ায় দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

কেন এতটা ক্ষুব্ধ বাংলাদেশ?

ঢাকার উদ্বেগের মূল জায়গাটি শুধু শেখ হাসিনার বক্তব্য নয়; বরং তিনি ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাতে পারছেন কি না, সেটিও বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার রাজনৈতিক বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড যাতে বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির কোনো সুযোগ না পায়, সে বিষয়ে ভারতকে ব্যবস্থা নিতে হবে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদও বলেছেন, ভারতের মাটিতে বসে শেখ হাসিনার বক্তব্য দেওয়া বন্ধ না হলে তা বাংলাদেশের জনগণের জন্য উদ্বেগ তৈরি করে।

তবে একই সঙ্গে তিনি দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনার দরজাও খোলা রেখেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অনেক দ্বিপক্ষীয় বিষয় রয়েছে, যেগুলো আলোচনা ও বৈঠকের মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। বাংলাদেশ আলোচনায় বসতে চায়, তবে এখন সিদ্ধান্ত ভারতের নেওয়া উচিত।

এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, ঢাকার ক্ষোভ থাকলেও কূটনৈতিক যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ করার অবস্থানে বাংলাদেশ যেতে চাইছে না।

ভারত কী বলছে?

শেখ হাসিনার দিল্লির বক্তব্যের পর ভারত সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে, ওই অনুষ্ঠানের সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পর্ক নেই।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, বাংলাদেশের বৈধভাবে গঠিত সরকারের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার বক্তব্যকে তারা সমর্থন করে না।

ভারতের এই অবস্থান একদিকে বাংলাদেশ সরকারের অভিযোগ থেকে নিজেদের দূরে রাখার চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে ঢাকার প্রশ্ন হলো—ভারত সরকারের সঙ্গে অনুষ্ঠানটির সরাসরি সম্পর্ক না থাকলেও, ভারতের ভূখণ্ডে এমন একটি রাজনৈতিক বক্তব্যের সুযোগ কীভাবে তৈরি হলো?

সাবেক কূটনীতিক হুমায়ুন কবিরের বক্তব্যেও এই প্রশ্ন উঠে এসেছে। তাঁর মতে, ভারত সরকার অনুষ্ঠানটির দায় নিচ্ছে না বা বক্তব্যের সঙ্গে একমত নয়—এমন অবস্থান দিলেও সেটি বাংলাদেশের উদ্বেগ পুরোপুরি দূর করছে না।

তবে এটিও মনে রাখা জরুরি, কোনো বেসরকারি সংগঠনের আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভারত সরকারের সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল—এমন দাবির পক্ষে এখানে স্বাধীন কোনো প্রমাণ দেওয়া হয়নি। তাই বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট তথ্যের আরও যাচাই প্রয়োজন।

সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টায় ধাক্কা?

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা ভারতে চলে যাওয়ার ঘটনায় ঢাকা–দিল্লি সম্পর্ক দ্রুত অবনতি ঘটে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য একাধিকবার ভারতের কাছে অনুরোধ করা হয়েছিল বলে বাংলাদেশ জানিয়েছে।

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পরও তাঁকে ফেরত দেওয়ার বিষয়ে ভারতকে অনুরোধ জানানো হয়েছিল। ভারত তখন বিষয়টি পর্যালোচনা করছে বলে জানিয়েছিল।

এই সময় দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে সীমান্ত, পানি, বাণিজ্য ও নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয়ে অস্বস্তি ছিল।

তবে বিএনপির নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পর পরিস্থিতিতে পরিবর্তনের চেষ্টা দেখা যায়। দুই দেশের পররাষ্ট্র পর্যায়ে যোগাযোগ বাড়ে এবং সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়ে উভয় পক্ষ থেকেই আগ্রহের বার্তা আসে।

এই প্রেক্ষাপটে দিল্লিতে শেখ হাসিনার সরাসরি সংবাদ সম্মেলনকে তাই অনেকেই আলাদা গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন।

আবার কি আস্থার সংকট বাড়ছে?

সাবেক কূটনীতিক হুমায়ুন কবিরের মতে, সম্পর্ক উন্নয়নের যে প্রচেষ্টা ছিল, সাম্প্রতিক ঘটনাটি তার জন্য সহায়ক নয়।

তাঁর এই মূল্যায়নের পেছনে মূল কারণ হলো—বাংলাদেশ মনে করছে, অনুষ্ঠানটির বিষয়ে ভারতকে আগেই সতর্ক করা হয়েছিল। তারপরও সেটি অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফলে ঢাকার কাছে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, ভারতের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যে শেখ হাসিনার অবস্থান এবং তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে কীভাবে দেখা হচ্ছে।

এখানে দুই দেশের বক্তব্যের মধ্যে একটি স্পষ্ট পার্থক্যও দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশ চাইছে ভারতের ভূখণ্ড থেকে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সীমিত করা হোক। ভারত বলছে, তাঁর বক্তব্য সরকার সমর্থন করে না এবং অনুষ্ঠানটির সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক নেই।

অর্থাৎ সমস্যাটি এখন শুধু একজন রাজনৈতিক নেতার বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি ধীরে ধীরে দুই দেশের পারস্পরিক আস্থার প্রশ্নে পরিণত হচ্ছে।

তারেক রহমানের সরকার আসার পর যে পরিবর্তন দেখা গিয়েছিল

বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর ঢাকা–দিল্লির সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা নতুন গতি পেয়েছিল বলে বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করেন।

এর আগে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর তাঁকে শ্রদ্ধা জানাতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের ঢাকায় আসা এবং পরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের দিল্লি সফর—দুই দেশের কূটনৈতিক যোগাযোগের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে দেখা হয়েছিল।

কিন্তু শেখ হাসিনাকে ঘিরে রাজনৈতিক বিরোধ এখনো রয়ে গেছে। বাংলাদেশ চায় তিনি ভারত থেকে রাজনৈতিক বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড চালাতে না পারেন এবং তাঁকে দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে ভারত ইতিবাচক পদক্ষেপ নিক।

ভারতের পক্ষ থেকে অবশ্য বলা হচ্ছে, প্রত্যর্পণের অনুরোধ তারা পর্যালোচনা করছে।

সামনে কোন পথে ঢাকা–দিল্লি সম্পর্ক?

এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—দুই দেশ সাম্প্রতিক উত্তেজনাকে কত দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে পারে।

বাংলাদেশের কর্মকর্তারা মনে করছেন, সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে এখন ভারতের পক্ষ থেকেই দৃশ্যমান উদ্যোগ প্রয়োজন। অন্যদিকে ভারতের জন্যও বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী রাষ্ট্র—বাণিজ্য, যোগাযোগ, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সহযোগিতার কারণে দুই দেশের সম্পর্ককে দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিতে দেখা জরুরি।

তাই সাম্প্রতিক ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক বক্তব্য যতই কঠোর হোক, বাস্তব স্বার্থের জায়গা থেকে দুই দেশের কূটনৈতিক যোগাযোগ চালু রাখা দুপক্ষের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।

গুরুত্বপূর্ণ দিক

  • ৫ আগস্ট দিল্লিতে শেখ হাসিনার সরাসরি সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় নিয়ে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষোভ জানিয়েছে।
  • ঢাকার দাবি, অনুষ্ঠানটির বিষয়ে ভারতকে আগেই উদ্বেগ জানানো হয়েছিল।
  • ভারত সরকার জানিয়েছে, শেখ হাসিনার বক্তব্য তারা সমর্থন করে না এবং অনুষ্ঠানের সঙ্গে সরকারের কোনো সম্পর্ক নেই।
  • বাংলাদেশ সম্পর্ক উন্নয়নের আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার আগ্রহের কথাও জানিয়েছে।
  • সাবেক কূটনীতিকদের মতে, ঘটনাটি ঢাকা–দিল্লির আস্থার ঘাটতি আরও বাড়াতে পারে।

সাধারণ মানুষের ভাবনা: সম্পর্কের উত্তাপ যেন মানুষের জীবনে না পড়ে

বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের টানাপোড়েন শুধু কূটনৈতিক বৈঠকের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। দুই দেশের সীমান্তবর্তী মানুষের জীবন, ব্যবসা-বাণিজ্য, যাতায়াত, চিকিৎসা, শিক্ষা, পণ্য সরবরাহ এবং আঞ্চলিক যোগাযোগের ওপরও এর প্রভাব পড়ে।

তাই রাজনৈতিক মতবিরোধ যতই থাকুক, সাধারণ মানুষের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়—এটি দুই দেশের নীতিনির্ধারকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাচাইহীন তথ্য ও গুজব পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করতে পারে। তাই শেখ হাসিনাকে ঘিরে নতুন কোনো বক্তব্য বা সিদ্ধান্ত সামনে এলে সেটি সরকারি সূত্র, নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য মিলিয়ে দেখা জরুরি।

আমাদের নিজস্ব পর্যবেক্ষণ: আসল পরীক্ষা এখন ‘আস্থা পুনর্গঠন’

সাম্প্রতিক ঘটনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—ঢাকা ও দিল্লি দুপক্ষই প্রকাশ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের কথা বলছে, কিন্তু শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রশ্নে তাদের অবস্থানের মধ্যে বড় পার্থক্য রয়ে গেছে।

এই ব্যবধান কমানো না গেলে একদিকে রাজনৈতিক উত্তেজনা চলতে থাকবে, অন্যদিকে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার অন্যান্য উদ্যোগও বারবার বাধার মুখে পড়তে পারে।

বাংলাদেশের জন্য এখন চ্যালেঞ্জ হলো—শেখ হাসিনাকে ঘিরে নিজের উদ্বেগ স্পষ্টভাবে তুলে ধরার পাশাপাশি ভারতের সঙ্গে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক যোগাযোগ চালু রাখা। ভারতের জন্য চ্যালেঞ্জ হলো—একদিকে শেখ হাসিনাকে নিয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করা, অন্যদিকে বাংলাদেশের সঙ্গে নতুন করে তৈরি হওয়া সম্পর্কের আস্থাকে ধরে রাখা।

শেষ পর্যন্ত ঢাকা–দিল্লি সম্পর্ক একজন ব্যক্তিকে ঘিরে কতটা প্রভাবিত হবে, নাকি দুই দেশ বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থকে সামনে রেখে সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে পারবে—সেটিই আগামী দিনের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর