সাইকেল মেরামতের দোকানের টুংটাং শব্দের মাঝে বড় হওয়া বরিশালের কিশোর দেব মণ্ডল কিংবা নিজের শহরে একটা সুইমিংপুল না থাকা সত্ত্বেও সাঁতারের স্বপ্ন দেখা শেরপুরের রাজমিস্ত্রির ছেলে রাকিব মিয়া—এমনই হাজারো প্রান্তিক কিশোরের জীবনের গল্প এবার মোড় নিয়েছে নতুন এক ঠিকানায়। গত সোমবার বিকেলে রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে 'নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস'-এর প্রথম আসরের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে দেশের নানা প্রান্ত থেকে উঠে আসা এই খুদে প্রতিভারা এসে মিশেছিল এক মোহনায়। অনুষ্ঠানের মধ্যমণি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে, যিনি তরুণদের আত্মবিশ্বাসী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, "তোমরা নিজেকে কখনো ছোট ভাববে না, নিজেকে গড়ে তুলতে হবে।"
চলতি বছরের গত ২ মে 'স্বপ্নের পথে, বিজয়ের সাথে' এই স্লোগান এবং 'ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা' প্রতিপাদ্য নিয়ে শুরু হওয়া এই আসরটি দরিদ্র ও মেধাবী কিশোরদের জন্য প্রতিভার আলো ছড়ানোর বড় এক দুয়ার খুলে দিয়েছে। সরকারি উজিরপুর বারো বাইকা মডেল ইনস্টিটিউশনের নবম শ্রেণির ছাত্র দেব মণ্ডল সাইকেল সারার ফাঁকে ফুটবল খেলার চর্চা করে আজ সেরা প্রতিভাদের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। অন্যদিকে, অষ্টম শ্রেণির ছাত্র রাকিব মিয়া ৫০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোক ও বাটারফ্লাইতে সোনা জিতে প্রমাণ করেছে সুযোগ পেলে অভাব জয় করা সম্ভব।
অনুষ্ঠানের মঞ্চে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, নারী, শিশু ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক উপস্থিত ছিলেন। তরুণদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, তোমরা যদি আগামী দিনে নিজেদের সঠিকভাবে গড়ে তুলতে পারো, তবেই দেশ সুন্দরভাবে গড়ে উঠবে। গ্যালারিতে বসে থাকা হাজারো খুদে বন্ধুর মধ্য থেকেই একেকজন দক্ষ চিকিৎসক, স্থপতি, প্রকৌশলী, ক্রিকেটার কিংবা সাঁতারু হিসেবে দেশমাতাকে নেতৃত্ব দেবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, দেশের তৃণমূল পর্যায়ে লুকিয়ে থাকা প্রতিভাগুলো এতদিন সঠিক প্ল্যাটফর্ম বা পরিচর্যার অভাবে হারিয়ে যেত। নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের মতো উদ্যোগগুলো সেই শূন্যতা পূরণে দারুণ ভূমিকা রাখছে। খেলাধুলাকে কেবল বিনোদন নয়, বরং একটি সম্মানজনক পেশা হিসেবে দাঁড় করানোর এই উদ্যোগ দরিদ্র পরিবারগুলোর মুখে হাসি ফোটাতে শুরু করেছে।
আমাদের দেশের আনাচে-কানাচে এমন অসংখ্য দেব বা রাকিব ছড়িয়ে আছেন, যাদের প্রতিভা অর্থাভাবে অঙ্কুরেই নষ্ট হয়ে যায়। এই প্রতিযোগিতার সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো, এটি শুধু কিছু পদক বিতরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং এটি প্রমাণ করেছে যে মেধা কোনো নির্দিষ্ট ঠিকানায় জন্ম নেয় না—সেটি বস্তি বা সাইকেলের দোকান থেকেও আলো ছড়াতে পারে।
'নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস' প্রতিযোগিতার মূল স্লোগান ছিল 'স্বপ্নের পথে, বিজয়ের সাথে' এবং প্রতিপাদ্য 'ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা'।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং দেশের বিশিষ্ট মন্ত্রী ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীরা মঞ্চ আলো করেছিলেন।
বরিশালের দেব মণ্ডল ও শেরপুরের রাকিব মিয়ার মতো দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের বহু অভাবী কিশোর নিজেদের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছে।
রাজধানী ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে গত সোমবার বিকেলে এই জমজমাট সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়।
সাধারণ মানুষের মনে এখন আশার সঞ্চার হয়েছে যে, এই ধরনের উদ্যোগ নিয়মিত চলতে থাকলে দেশের খেলাধুলার চিত্র চিরতরে বদলে যাবে। তবে শুধু এককালীন পুরস্কার নয়, এসব প্রতিভাবান কিশোরদের দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষণ ও পৃষ্ঠপোষকতা নিশ্চিত করাটাই এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ফেডারেশনগুলো যদি এই ধারা ধরে রাখতে পারে, তবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে লাল-সবুজের পতাকা তোলার মতো বহু বিশ্বমানের অ্যাথলেট আমাদের মাঝ থেকেই তৈরি হবে।

মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ জুলাই ২০২৬
সাইকেল মেরামতের দোকানের টুংটাং শব্দের মাঝে বড় হওয়া বরিশালের কিশোর দেব মণ্ডল কিংবা নিজের শহরে একটা সুইমিংপুল না থাকা সত্ত্বেও সাঁতারের স্বপ্ন দেখা শেরপুরের রাজমিস্ত্রির ছেলে রাকিব মিয়া—এমনই হাজারো প্রান্তিক কিশোরের জীবনের গল্প এবার মোড় নিয়েছে নতুন এক ঠিকানায়। গত সোমবার বিকেলে রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে 'নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস'-এর প্রথম আসরের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে দেশের নানা প্রান্ত থেকে উঠে আসা এই খুদে প্রতিভারা এসে মিশেছিল এক মোহনায়। অনুষ্ঠানের মধ্যমণি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে, যিনি তরুণদের আত্মবিশ্বাসী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, "তোমরা নিজেকে কখনো ছোট ভাববে না, নিজেকে গড়ে তুলতে হবে।"
চলতি বছরের গত ২ মে 'স্বপ্নের পথে, বিজয়ের সাথে' এই স্লোগান এবং 'ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা' প্রতিপাদ্য নিয়ে শুরু হওয়া এই আসরটি দরিদ্র ও মেধাবী কিশোরদের জন্য প্রতিভার আলো ছড়ানোর বড় এক দুয়ার খুলে দিয়েছে। সরকারি উজিরপুর বারো বাইকা মডেল ইনস্টিটিউশনের নবম শ্রেণির ছাত্র দেব মণ্ডল সাইকেল সারার ফাঁকে ফুটবল খেলার চর্চা করে আজ সেরা প্রতিভাদের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। অন্যদিকে, অষ্টম শ্রেণির ছাত্র রাকিব মিয়া ৫০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোক ও বাটারফ্লাইতে সোনা জিতে প্রমাণ করেছে সুযোগ পেলে অভাব জয় করা সম্ভব।
অনুষ্ঠানের মঞ্চে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, নারী, শিশু ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক উপস্থিত ছিলেন। তরুণদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, তোমরা যদি আগামী দিনে নিজেদের সঠিকভাবে গড়ে তুলতে পারো, তবেই দেশ সুন্দরভাবে গড়ে উঠবে। গ্যালারিতে বসে থাকা হাজারো খুদে বন্ধুর মধ্য থেকেই একেকজন দক্ষ চিকিৎসক, স্থপতি, প্রকৌশলী, ক্রিকেটার কিংবা সাঁতারু হিসেবে দেশমাতাকে নেতৃত্ব দেবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, দেশের তৃণমূল পর্যায়ে লুকিয়ে থাকা প্রতিভাগুলো এতদিন সঠিক প্ল্যাটফর্ম বা পরিচর্যার অভাবে হারিয়ে যেত। নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের মতো উদ্যোগগুলো সেই শূন্যতা পূরণে দারুণ ভূমিকা রাখছে। খেলাধুলাকে কেবল বিনোদন নয়, বরং একটি সম্মানজনক পেশা হিসেবে দাঁড় করানোর এই উদ্যোগ দরিদ্র পরিবারগুলোর মুখে হাসি ফোটাতে শুরু করেছে।
আমাদের দেশের আনাচে-কানাচে এমন অসংখ্য দেব বা রাকিব ছড়িয়ে আছেন, যাদের প্রতিভা অর্থাভাবে অঙ্কুরেই নষ্ট হয়ে যায়। এই প্রতিযোগিতার সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো, এটি শুধু কিছু পদক বিতরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং এটি প্রমাণ করেছে যে মেধা কোনো নির্দিষ্ট ঠিকানায় জন্ম নেয় না—সেটি বস্তি বা সাইকেলের দোকান থেকেও আলো ছড়াতে পারে।
'নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস' প্রতিযোগিতার মূল স্লোগান ছিল 'স্বপ্নের পথে, বিজয়ের সাথে' এবং প্রতিপাদ্য 'ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা'।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং দেশের বিশিষ্ট মন্ত্রী ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীরা মঞ্চ আলো করেছিলেন।
বরিশালের দেব মণ্ডল ও শেরপুরের রাকিব মিয়ার মতো দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের বহু অভাবী কিশোর নিজেদের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছে।
রাজধানী ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে গত সোমবার বিকেলে এই জমজমাট সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়।
সাধারণ মানুষের মনে এখন আশার সঞ্চার হয়েছে যে, এই ধরনের উদ্যোগ নিয়মিত চলতে থাকলে দেশের খেলাধুলার চিত্র চিরতরে বদলে যাবে। তবে শুধু এককালীন পুরস্কার নয়, এসব প্রতিভাবান কিশোরদের দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষণ ও পৃষ্ঠপোষকতা নিশ্চিত করাটাই এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ফেডারেশনগুলো যদি এই ধারা ধরে রাখতে পারে, তবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে লাল-সবুজের পতাকা তোলার মতো বহু বিশ্বমানের অ্যাথলেট আমাদের মাঝ থেকেই তৈরি হবে।

আপনার মতামত লিখুন