দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

হরমুজ সংকটের মধ্যেই ভারত-আমিরাত ঘনিষ্ঠতা, ৩ কোটি ব্যারেল তেল মজুত ও ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ চুক্তি

হরমুজ সংকটের মধ্যেই ভারত-আমিরাত ঘনিষ্ঠতা, ৩ কোটি ব্যারেল তেল মজুত ও ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ চুক্তি

স্বর্ণের বাজারে বড় ধাক্কা: এক ভরিতে কমলো ৪ হাজার টাকার বেশি, নতুন দামে চাপে জুয়েলারি বাজার

বাংলাদেশ-চীন বিনিয়োগে ‘উইন-উইন’ সম্ভাবনা, সবুজ শিল্পে সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান

এআই ও স্মার্ট মার্কেটিংয়ে বদলাচ্ছে স্বাস্থ্যখাত, রাজধানীতে হেলথ অ্যান্ড ওয়েল বিয়িং মার্কেটিং ফেস্ট

গরুর মাংস আমদানির দাবি জোরালো, খামারিদের সুরক্ষায় আপাতত অনড় সরকার

ঘরে বসেই ডাক জীবনবিমার কিস্তি পরিশোধ, নগদে মিলছে নতুন সুবিধা

২৫ বছরের পথচলায় শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংকের নতুন অধ্যায়: রজতজয়ন্তীতে এসএমই খাতে বড় উদ্যোগ

ঈদ সামনে রেখে টিসিবির ট্রাকসেল শুরু সোমবার, তেলের দাম বেড়ে নতুন দুশ্চিন্তা

স্বর্ণের বাজারে বড় ধাক্কা: এক ভরিতে কমলো ৪ হাজার টাকার বেশি, নতুন দামে চাপে জুয়েলারি বাজার

স্বর্ণের বাজারে বড় ধাক্কা: এক ভরিতে কমলো ৪ হাজার টাকার বেশি, নতুন দামে চাপে জুয়েলারি বাজার
ঢাকার একটি জুয়েলারি দোকানে স্বর্ণের নতুন দামের তালিকা ঝুলছে, ক্রেতাদের ভিড় ও কৌতূহল বাড়ছে বাজারে-ছবি: সংগৃহীত

দেশের স্বর্ণবাজারে আবারও বড় ধরনের মূল্য সমন্বয় করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন ঘোষণায় ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম এক লাফে ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা কমে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩৮ হাজার ১২১ টাকা। শনিবার সকাল থেকে নতুন এই দাম কার্যকর হয়েছে, যা দেশের স্বর্ণ ব্যবসায় ও ক্রেতা উভয় পক্ষেই নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।


নতুন দামের ঘোষণা কী বলছে বাজুস

স্বর্ণের দাম কমানোর সিদ্ধান্তটি আসে শনিবার (১৬ মে) সকালে এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে। এতে জানানো হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা বিশুদ্ধ স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম কমে যাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।


নতুন দর অনুযায়ী—

  • ২২ ক্যারেট: ২,৩৮,১২১ টাকা (প্রতি ভরি)
  • ২১ ক্যারেট: ২,২৭,৩৩১ টাকা
  • ১৮ ক্যারেট: ১,৯৪,৮৪৭ টাকা
  • সনাতন পদ্ধতি: ১,৫৮,৬৮৯ টাকা

এই দাম কার্যকর হয়েছে সকাল ১০টা থেকে।

এই ঘোষণা দিয়েছে Bangladesh Jewellers Association, যারা দেশের স্বর্ণের দাম নির্ধারণ ও বাজার সমন্বয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।


একদিন আগেই কমেছিল দাম, আবারও নতুন সমন্বয়

এর আগের দিন অর্থাৎ ১৫ মে-ও স্বর্ণের দাম কমানো হয়েছিল। তখন ২২ ক্যারেটের ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা কমিয়ে দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা।

তুলনামূলকভাবে দেখা যাচ্ছে, মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দ্বিতীয় দফায় বড় ধরনের মূল্য সংশোধন হলো। ফলে স্বর্ণবাজারে এক ধরনের দ্রুত ওঠানামার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যা ব্যবসায়ীদের মধ্যে কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।

চলতি বছরের পরিসংখ্যান আরও চমকপ্রদ। বাজুসের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত বছরে ৬৫ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৫ বার দাম বেড়েছে এবং ৩০ বার কমেছে। আগের বছরের তুলনায় এই পরিবর্তনের হার অনেক বেশি, যা বাজারের অস্থিরতার ইঙ্গিত দেয়।


কেন কমছে স্বর্ণের দাম

বাজুসের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, মূল কারণ হলো আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারে কাঁচা স্বর্ণের দাম হ্রাস। বিশেষ করে তেজাবি স্বর্ণের দামের পতন সরাসরি দেশের খুচরা বাজারে প্রভাব ফেলছে।

তবে বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, এর পেছনে আরও কয়েকটি কারণ কাজ করতে পারে—

সব মিলিয়ে স্বর্ণকে ঘিরে বিনিয়োগকারীদের আচরণও বদলাচ্ছে, যার প্রভাব সরাসরি দেশের বাজারে পড়ছে।


জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের দুশ্চিন্তা

ঢাকার বিভিন্ন জুয়েলারি দোকান ঘুরে দেখা গেছে, নতুন দামের ঘোষণার পর ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের মধ্যেই মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, দাম দ্রুত কমে গেলে আগে কেনা স্টকে লোকসানের ঝুঁকি থাকে। আবার দাম কম থাকলে কিছুটা ক্রেতা বাড়ে, তবে বাজারে স্থিতিশীলতা না থাকায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করা কঠিন হয়ে পড়ে।

একজন জুয়েলারি ব্যবসায়ী বলেন, “আজ কিনলাম, কাল দাম আবার কমে গেলে ক্ষতি। এই অস্থিরতা আমাদের জন্য বড় চাপ।”


সাধারণ ক্রেতাদের জন্য স্বস্তি নাকি বিভ্রান্তি

অন্যদিকে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে বিয়ে-শাদি বা বিনিয়োগের জন্য স্বর্ণ কিনতে যারা পরিকল্পনা করছেন, তারা কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছেন।

তবে অনেকে আবার বলছেন, দাম এত দ্রুত ওঠানামা করায় সঠিক সময়ে কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। ফলে অনেকেই অপেক্ষা করার মানসিকতায় চলে যাচ্ছেন।

একজন ক্রেতা বলেন, “আজ কিনলে কম লাগছে, কিন্তু কাল আবার কত হবে কেউ জানে না। তাই সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন।”


বাজারে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতার ইঙ্গিত

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, স্বর্ণের দামের এত ঘন ঘন পরিবর্তন বাজারে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি করছে। স্বর্ণ সাধারণত স্থিতিশীল বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হলেও এখন তা অনেকটাই ওঠানামার পণ্যে পরিণত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি যদি দীর্ঘায়িত হয় তাহলে—

  • বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমতে পারে
  • মধ্যবিত্ত ক্রেতারা অপেক্ষা প্রবণ হয়ে পড়বেন
  • জুয়েলারি ব্যবসায় পুঁজির চাপ বাড়বে

সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব

স্বর্ণের দাম শুধু একটি পণ্যের মূল্য নয়, এটি সামাজিক ও অর্থনৈতিক আচরণের সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত। বাংলাদেশে বিয়ে, সামাজিক অনুষ্ঠান এবং সঞ্চয়ের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে স্বর্ণের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

এই দামের ওঠানামা অনেক পরিবারকে তাদের বাজেট পুনর্বিন্যাস করতে বাধ্য করছে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো, যারা ধীরে ধীরে গয়না কিনে সঞ্চয় তৈরি করে, তারা সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হচ্ছে।

একই সঙ্গে স্বর্ণকে ঘিরে বিনিয়োগের ধরণও বদলাচ্ছে। আগে যেখানে অনেকেই স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ মনে করতেন, এখন সেখানে অনিশ্চয়তা কাজ করছে।


উপসংহার

বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বর্ণের বাজার দ্রুত পরিবর্তনশীল অবস্থায় রয়েছে। একদিন আগের তুলনায় নতুন করে বড় অঙ্কে দাম কমলেও ভবিষ্যতে এই ধারা কোন দিকে যাবে তা নিয়ে স্পষ্ট কোনো নিশ্চয়তা নেই। 


বাজুসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজার পর্যবেক্ষণ করে নিয়মিতভাবে মূল্য সমন্বয় করা হবে। ফলে ক্রেতা ও ব্যবসায়ী—দুই পক্ষকেই আপাতত বাজারের গতিবিধির ওপর নজর রাখতে হবে।

বিষয় : স্বর্ণের দাম বাংলাদেশ স্বর্ণ বাজার জুয়েলারি ব্যবসা

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

রোববার, ১৭ মে ২০২৬


স্বর্ণের বাজারে বড় ধাক্কা: এক ভরিতে কমলো ৪ হাজার টাকার বেশি, নতুন দামে চাপে জুয়েলারি বাজার

প্রকাশের তারিখ : ১৬ মে ২০২৬

featured Image

দেশের স্বর্ণবাজারে আবারও বড় ধরনের মূল্য সমন্বয় করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন ঘোষণায় ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম এক লাফে ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা কমে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩৮ হাজার ১২১ টাকা। শনিবার সকাল থেকে নতুন এই দাম কার্যকর হয়েছে, যা দেশের স্বর্ণ ব্যবসায় ও ক্রেতা উভয় পক্ষেই নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।


নতুন দামের ঘোষণা কী বলছে বাজুস

স্বর্ণের দাম কমানোর সিদ্ধান্তটি আসে শনিবার (১৬ মে) সকালে এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে। এতে জানানো হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা বিশুদ্ধ স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম কমে যাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।


নতুন দর অনুযায়ী—

  • ২২ ক্যারেট: ২,৩৮,১২১ টাকা (প্রতি ভরি)
  • ২১ ক্যারেট: ২,২৭,৩৩১ টাকা
  • ১৮ ক্যারেট: ১,৯৪,৮৪৭ টাকা
  • সনাতন পদ্ধতি: ১,৫৮,৬৮৯ টাকা

এই দাম কার্যকর হয়েছে সকাল ১০টা থেকে।

এই ঘোষণা দিয়েছে Bangladesh Jewellers Association, যারা দেশের স্বর্ণের দাম নির্ধারণ ও বাজার সমন্বয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।


একদিন আগেই কমেছিল দাম, আবারও নতুন সমন্বয়

এর আগের দিন অর্থাৎ ১৫ মে-ও স্বর্ণের দাম কমানো হয়েছিল। তখন ২২ ক্যারেটের ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা কমিয়ে দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা।

তুলনামূলকভাবে দেখা যাচ্ছে, মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দ্বিতীয় দফায় বড় ধরনের মূল্য সংশোধন হলো। ফলে স্বর্ণবাজারে এক ধরনের দ্রুত ওঠানামার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যা ব্যবসায়ীদের মধ্যে কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।

চলতি বছরের পরিসংখ্যান আরও চমকপ্রদ। বাজুসের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত বছরে ৬৫ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৫ বার দাম বেড়েছে এবং ৩০ বার কমেছে। আগের বছরের তুলনায় এই পরিবর্তনের হার অনেক বেশি, যা বাজারের অস্থিরতার ইঙ্গিত দেয়।


কেন কমছে স্বর্ণের দাম

বাজুসের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, মূল কারণ হলো আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারে কাঁচা স্বর্ণের দাম হ্রাস। বিশেষ করে তেজাবি স্বর্ণের দামের পতন সরাসরি দেশের খুচরা বাজারে প্রভাব ফেলছে।

তবে বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, এর পেছনে আরও কয়েকটি কারণ কাজ করতে পারে—

  • আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদার ওঠানামা
  • ডলারের বিপরীতে টাকার অবস্থান
  • আমদানি খরচের পরিবর্তন
  • বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা

সব মিলিয়ে স্বর্ণকে ঘিরে বিনিয়োগকারীদের আচরণও বদলাচ্ছে, যার প্রভাব সরাসরি দেশের বাজারে পড়ছে।


জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের দুশ্চিন্তা

ঢাকার বিভিন্ন জুয়েলারি দোকান ঘুরে দেখা গেছে, নতুন দামের ঘোষণার পর ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের মধ্যেই মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, দাম দ্রুত কমে গেলে আগে কেনা স্টকে লোকসানের ঝুঁকি থাকে। আবার দাম কম থাকলে কিছুটা ক্রেতা বাড়ে, তবে বাজারে স্থিতিশীলতা না থাকায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করা কঠিন হয়ে পড়ে।

একজন জুয়েলারি ব্যবসায়ী বলেন, “আজ কিনলাম, কাল দাম আবার কমে গেলে ক্ষতি। এই অস্থিরতা আমাদের জন্য বড় চাপ।”


সাধারণ ক্রেতাদের জন্য স্বস্তি নাকি বিভ্রান্তি

অন্যদিকে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে বিয়ে-শাদি বা বিনিয়োগের জন্য স্বর্ণ কিনতে যারা পরিকল্পনা করছেন, তারা কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছেন।

তবে অনেকে আবার বলছেন, দাম এত দ্রুত ওঠানামা করায় সঠিক সময়ে কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। ফলে অনেকেই অপেক্ষা করার মানসিকতায় চলে যাচ্ছেন।

একজন ক্রেতা বলেন, “আজ কিনলে কম লাগছে, কিন্তু কাল আবার কত হবে কেউ জানে না। তাই সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন।”


বাজারে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতার ইঙ্গিত

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, স্বর্ণের দামের এত ঘন ঘন পরিবর্তন বাজারে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি করছে। স্বর্ণ সাধারণত স্থিতিশীল বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হলেও এখন তা অনেকটাই ওঠানামার পণ্যে পরিণত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি যদি দীর্ঘায়িত হয় তাহলে—

  • বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমতে পারে
  • মধ্যবিত্ত ক্রেতারা অপেক্ষা প্রবণ হয়ে পড়বেন
  • জুয়েলারি ব্যবসায় পুঁজির চাপ বাড়বে

সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব

স্বর্ণের দাম শুধু একটি পণ্যের মূল্য নয়, এটি সামাজিক ও অর্থনৈতিক আচরণের সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত। বাংলাদেশে বিয়ে, সামাজিক অনুষ্ঠান এবং সঞ্চয়ের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে স্বর্ণের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

এই দামের ওঠানামা অনেক পরিবারকে তাদের বাজেট পুনর্বিন্যাস করতে বাধ্য করছে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো, যারা ধীরে ধীরে গয়না কিনে সঞ্চয় তৈরি করে, তারা সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হচ্ছে।

একই সঙ্গে স্বর্ণকে ঘিরে বিনিয়োগের ধরণও বদলাচ্ছে। আগে যেখানে অনেকেই স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ মনে করতেন, এখন সেখানে অনিশ্চয়তা কাজ করছে।


উপসংহার

বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বর্ণের বাজার দ্রুত পরিবর্তনশীল অবস্থায় রয়েছে। একদিন আগের তুলনায় নতুন করে বড় অঙ্কে দাম কমলেও ভবিষ্যতে এই ধারা কোন দিকে যাবে তা নিয়ে স্পষ্ট কোনো নিশ্চয়তা নেই। 


বাজুসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজার পর্যবেক্ষণ করে নিয়মিতভাবে মূল্য সমন্বয় করা হবে। ফলে ক্রেতা ও ব্যবসায়ী—দুই পক্ষকেই আপাতত বাজারের গতিবিধির ওপর নজর রাখতে হবে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর