দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

তিন বছর পর ফিরছে ‘মা বাবা ভাই বোন’, এবার ঈদে সাত পর্বের বিশেষ আয়োজন

তিন বছর পর ফিরছে ‘মা বাবা ভাই বোন’, এবার ঈদে সাত পর্বের বিশেষ আয়োজন

চেন্নাইয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলেন অভিনেত্রী ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর কারিনা কায়সার

এ সপ্তাহের ওটিটি: নেটফ্লিক্স-প্রাইমে আসছে যে সিনেমা ও সিরিজগুলো

কোরবানির ঈদে আসছে মৌয়ের থ্রিলারধর্মী ওয়েব ফিল্ম ‘সারার সংসার’

ভারতে কারিনার লিভার প্রতিস্থাপনে দেরি, চিকিৎসকদের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ ফুসফুসের সংক্রমণ

জেবার অভিযোগে থেমে গেল ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ মুক্তি, সেন্সর সনদ স্থগিত

ভণ্ড হুজুর’ মন্তব্যে নতুন আলোচনা: কাকে ইঙ্গিত করলেন মারিয়া মিম?

অ্যাকশন হিরো থেকে গায়ক শাকিব, ‘রকস্টার’ নিয়ে চরকির বড় ঘোষণা

চেন্নাইয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলেন অভিনেত্রী ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর কারিনা কায়সার

চেন্নাইয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলেন অভিনেত্রী ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর কারিনা কায়সার
প্রাণবন্ত উপস্থিতি আর সৃজনশীল কাজের জন্য দর্শকদের কাছে পরিচিত ছিলেন কারিনা কায়সার । -ছবি: সংগৃহীত

লিভার জটিলতায় দীর্ঘ কয়েকদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই শেষে না–ফেরার দেশে চলে গেলেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সার। উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতে নেওয়ার পর শুক্রবার চেন্নাইয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার বাবা, জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক খেলোয়াড় কায়সার হামিদ

কারিনার মৃত্যুর খবরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। সহকর্মী, নির্মাতা, অভিনয়শিল্পী ও ভক্তরা তাকে স্মরণ করছেন প্রাণবন্ত, হাসিখুশি এবং পরিশ্রমী একজন মানুষ হিসেবে। অল্প সময়ের ক্যারিয়ারে ডিজিটাল কনটেন্ট থেকে নাটক ও ওটিটির জগতে নিজের আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছিলেন তিনি।

শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই

শুক্রবার গণমাধ্যমকে কায়সার হামিদ জানান, কারিনার শারীরিক অবস্থার হঠাৎ অবনতি ঘটে চিকিৎসার সময়। তিনি বলেন, ফুসফুসে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগের সময় তার রক্তচাপ আশঙ্কাজনকভাবে নেমে যায়। এরপর চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তাকে আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি।


পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েকদিন ধরেই গুরুতর শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন কারিনা। শুরুতে জ্বর দেখা দিলেও পরে তার শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়ে। একইসঙ্গে হেপাটাইটিস এ ও ই–জনিত জটিলতায় তার লিভারের কার্যকারিতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে জানা যায়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সেখানে প্রথমে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়। পরে শারীরিক পরিস্থিতি আরও সংকটাপন্ন হয়ে উঠলে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয় তাকে। চিকিৎসকদের পরামর্শে পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত সোমবার রাতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ভারতের চেন্নাই নেওয়া হয়।

ভেলোরের হাসপাতালে চলছিল চিকিৎসা

ভারতে নেওয়ার পর কারিনার চিকিৎসা চলছিল ভেলোরের খ্রিষ্টান মেডিক্যাল কলেজ (সিএমসি) হাসপাতালে। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, চিকিৎসকরা প্রথমদিকে তার ফুসফুসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। পাশাপাশি লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের প্রস্তুতিও চলছিল।

তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থা আরও জটিল হয়ে পড়ে বলে দাবি করা হচ্ছে। একাধিক অঙ্গের কার্যক্রম দুর্বল হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। শেষ পর্যন্ত শুক্রবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

কারিনার মৃত্যুর পর তার মরদেহ দেশে আনার প্রক্রিয়া নিয়ে পরিবারের সদস্যরা কাজ করছেন বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

ডিজিটাল কনটেন্ট থেকে অভিনয়ের জগতে

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে পরিচিতি পাওয়া কারিনা কায়সার ধীরে ধীরে তরুণ দর্শকদের কাছে জনপ্রিয় মুখ হয়ে ওঠেন। জীবনঘনিষ্ঠ বিষয়, দৈনন্দিন অভিজ্ঞতা এবং সহজ উপস্থাপনার কারণে তার কনটেন্ট দ্রুত দর্শক টানতে শুরু করে।

শুধু কনটেন্ট নির্মাণেই থেমে থাকেননি তিনি। পরবর্তীতে অভিনয় এবং চিত্রনাট্য লেখার কাজেও যুক্ত হন। ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ও নাটকে কাজ করে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করার চেষ্টা করছিলেন। সহকর্মীদের অনেকেই মনে করেন, ডিজিটাল মাধ্যম থেকে মূলধারার অভিনয়ে সফলভাবে জায়গা করে নেওয়ার পথে ছিলেন তিনি।

তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ‘ইন্টার্নশিপ’ ও ‘৩৬-২৪-৩৬’। এসব কাজের মাধ্যমে তরুণ দর্শকদের একটি বড় অংশের কাছে তিনি পরিচিতি পান। অভিনয়ের পাশাপাশি গল্প ও চিত্রনাট্য নিয়েও কাজ করতেন বলে জানিয়েছেন ঘনিষ্ঠজনরা।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোকের ঢল

কারিনার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে শোক প্রকাশ করছেন তার সহকর্মী ও অনুসারীরা। কেউ তার সঙ্গে কাজের স্মৃতি তুলে ধরছেন, কেউ আবার তার প্রাণবন্ত ব্যক্তিত্বের কথা স্মরণ করছেন।

অনেকেই লিখেছেন, ক্যামেরার সামনে সবসময় হাসিখুশি থাকলেও ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন ভীষণ পরিশ্রমী এবং স্বপ্নবান একজন মানুষ। তরুণ নির্মাতা ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের মধ্যেও তার মৃত্যু নিয়ে শোক ও হতাশা দেখা গেছে।

তবে পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো শোকবার্তা প্রকাশ করা হয়নি। ঘনিষ্ঠজনদের দাবি, পরিবার এখনও গভীর শোকের মধ্যে রয়েছে।

হেপাটাইটিস ও লিভার জটিলতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা

কারিনার মৃত্যুর ঘটনায় হেপাটাইটিস ও লিভারজনিত জটিলতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, হেপাটাইটিস এ এবং ই অনেক সময় দ্রুত লিভারের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে, বিশেষ করে সংক্রমণ গুরুতর আকার নিলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে।

স্বাস্থ্যসচেতনতা নিয়ে কাজ করা কয়েকজন বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত ও দ্রুত চিকিৎসা পাওয়া গেলে অনেক ক্ষেত্রে ঝুঁকি কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে বিশুদ্ধ খাবার ও পানির ব্যবহার, ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার বিষয়েও গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।

বিনোদন অঙ্গনের জন্য বড় ধাক্কা

বাংলাদেশের ডিজিটাল বিনোদন অঙ্গনে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নতুন প্রজন্মের যেসব মুখ দ্রুত জনপ্রিয়তা পেয়েছেন, তাদের মধ্যে কারিনা কায়সার ছিলেন অন্যতম। খুব অল্প সময়ের মধ্যে তিনি যে দর্শকগোষ্ঠী তৈরি করেছিলেন, তা অনেকের কাছেই বিস্ময়কর ছিল।

তার মৃত্যু শুধু পরিবার বা ভক্তদের জন্য নয়, নতুন প্রজন্মের কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্যও একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক বিনোদন জগতে যারা নতুনভাবে কাজ শুরু করছেন, তাদের অনেকে কারিনাকে অনুপ্রেরণার জায়গায় দেখতেন।


বর্তমানে তার মৃত্যুর পর পরিবারের সদস্যরা মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। জানাজা ও দাফনের বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে পারিবারিক সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

বিষয় : কারিনা কায়সার মৃত্যু, লিভার জটিলতা চেন্নাই চিকিৎসা

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

রোববার, ১৭ মে ২০২৬


চেন্নাইয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলেন অভিনেত্রী ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর কারিনা কায়সার

প্রকাশের তারিখ : ১৬ মে ২০২৬

featured Image

লিভার জটিলতায় দীর্ঘ কয়েকদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই শেষে না–ফেরার দেশে চলে গেলেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সার। উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতে নেওয়ার পর শুক্রবার চেন্নাইয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার বাবা, জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক খেলোয়াড় কায়সার হামিদ

কারিনার মৃত্যুর খবরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। সহকর্মী, নির্মাতা, অভিনয়শিল্পী ও ভক্তরা তাকে স্মরণ করছেন প্রাণবন্ত, হাসিখুশি এবং পরিশ্রমী একজন মানুষ হিসেবে। অল্প সময়ের ক্যারিয়ারে ডিজিটাল কনটেন্ট থেকে নাটক ও ওটিটির জগতে নিজের আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছিলেন তিনি।

শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই

শুক্রবার গণমাধ্যমকে কায়সার হামিদ জানান, কারিনার শারীরিক অবস্থার হঠাৎ অবনতি ঘটে চিকিৎসার সময়। তিনি বলেন, ফুসফুসে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগের সময় তার রক্তচাপ আশঙ্কাজনকভাবে নেমে যায়। এরপর চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তাকে আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি।


পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েকদিন ধরেই গুরুতর শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন কারিনা। শুরুতে জ্বর দেখা দিলেও পরে তার শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়ে। একইসঙ্গে হেপাটাইটিস এ ও ই–জনিত জটিলতায় তার লিভারের কার্যকারিতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে জানা যায়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সেখানে প্রথমে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়। পরে শারীরিক পরিস্থিতি আরও সংকটাপন্ন হয়ে উঠলে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয় তাকে। চিকিৎসকদের পরামর্শে পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত সোমবার রাতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ভারতের চেন্নাই নেওয়া হয়।

ভেলোরের হাসপাতালে চলছিল চিকিৎসা

ভারতে নেওয়ার পর কারিনার চিকিৎসা চলছিল ভেলোরের খ্রিষ্টান মেডিক্যাল কলেজ (সিএমসি) হাসপাতালে। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, চিকিৎসকরা প্রথমদিকে তার ফুসফুসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। পাশাপাশি লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের প্রস্তুতিও চলছিল।

তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থা আরও জটিল হয়ে পড়ে বলে দাবি করা হচ্ছে। একাধিক অঙ্গের কার্যক্রম দুর্বল হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। শেষ পর্যন্ত শুক্রবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

কারিনার মৃত্যুর পর তার মরদেহ দেশে আনার প্রক্রিয়া নিয়ে পরিবারের সদস্যরা কাজ করছেন বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

ডিজিটাল কনটেন্ট থেকে অভিনয়ের জগতে

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে পরিচিতি পাওয়া কারিনা কায়সার ধীরে ধীরে তরুণ দর্শকদের কাছে জনপ্রিয় মুখ হয়ে ওঠেন। জীবনঘনিষ্ঠ বিষয়, দৈনন্দিন অভিজ্ঞতা এবং সহজ উপস্থাপনার কারণে তার কনটেন্ট দ্রুত দর্শক টানতে শুরু করে।

শুধু কনটেন্ট নির্মাণেই থেমে থাকেননি তিনি। পরবর্তীতে অভিনয় এবং চিত্রনাট্য লেখার কাজেও যুক্ত হন। ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ও নাটকে কাজ করে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করার চেষ্টা করছিলেন। সহকর্মীদের অনেকেই মনে করেন, ডিজিটাল মাধ্যম থেকে মূলধারার অভিনয়ে সফলভাবে জায়গা করে নেওয়ার পথে ছিলেন তিনি।

তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ‘ইন্টার্নশিপ’ ও ‘৩৬-২৪-৩৬’। এসব কাজের মাধ্যমে তরুণ দর্শকদের একটি বড় অংশের কাছে তিনি পরিচিতি পান। অভিনয়ের পাশাপাশি গল্প ও চিত্রনাট্য নিয়েও কাজ করতেন বলে জানিয়েছেন ঘনিষ্ঠজনরা।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোকের ঢল

কারিনার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে শোক প্রকাশ করছেন তার সহকর্মী ও অনুসারীরা। কেউ তার সঙ্গে কাজের স্মৃতি তুলে ধরছেন, কেউ আবার তার প্রাণবন্ত ব্যক্তিত্বের কথা স্মরণ করছেন।

অনেকেই লিখেছেন, ক্যামেরার সামনে সবসময় হাসিখুশি থাকলেও ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন ভীষণ পরিশ্রমী এবং স্বপ্নবান একজন মানুষ। তরুণ নির্মাতা ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের মধ্যেও তার মৃত্যু নিয়ে শোক ও হতাশা দেখা গেছে।

তবে পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো শোকবার্তা প্রকাশ করা হয়নি। ঘনিষ্ঠজনদের দাবি, পরিবার এখনও গভীর শোকের মধ্যে রয়েছে।

হেপাটাইটিস ও লিভার জটিলতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা

কারিনার মৃত্যুর ঘটনায় হেপাটাইটিস ও লিভারজনিত জটিলতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, হেপাটাইটিস এ এবং ই অনেক সময় দ্রুত লিভারের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে, বিশেষ করে সংক্রমণ গুরুতর আকার নিলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে।

স্বাস্থ্যসচেতনতা নিয়ে কাজ করা কয়েকজন বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত ও দ্রুত চিকিৎসা পাওয়া গেলে অনেক ক্ষেত্রে ঝুঁকি কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে বিশুদ্ধ খাবার ও পানির ব্যবহার, ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার বিষয়েও গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।

বিনোদন অঙ্গনের জন্য বড় ধাক্কা

বাংলাদেশের ডিজিটাল বিনোদন অঙ্গনে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নতুন প্রজন্মের যেসব মুখ দ্রুত জনপ্রিয়তা পেয়েছেন, তাদের মধ্যে কারিনা কায়সার ছিলেন অন্যতম। খুব অল্প সময়ের মধ্যে তিনি যে দর্শকগোষ্ঠী তৈরি করেছিলেন, তা অনেকের কাছেই বিস্ময়কর ছিল।

তার মৃত্যু শুধু পরিবার বা ভক্তদের জন্য নয়, নতুন প্রজন্মের কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্যও একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক বিনোদন জগতে যারা নতুনভাবে কাজ শুরু করছেন, তাদের অনেকে কারিনাকে অনুপ্রেরণার জায়গায় দেখতেন।


বর্তমানে তার মৃত্যুর পর পরিবারের সদস্যরা মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। জানাজা ও দাফনের বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে পারিবারিক সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর