চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে হৃদয়বিদারক এক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন মা ও তার দুই বছরের শিশুকন্যা। চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে যাওয়া মেয়েকে বাঁচাতে গিয়ে সড়কে পড়ে যান মা তারিন আক্তার। ঠিক সেই মুহূর্তে পেছন থেকে আসা একটি দ্রুতগতির কাভার্ডভ্যান তাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। পরে আহত শিশুকন্যা ইয়াসাকেও হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত ঘোষণা করা হয়।
শুক্রবার (১৫ মে) রাত ৮টার দিকে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারী ইউনিয়নের বিএমএ গেট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া ফেলেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্বামী ও দুই বছরের মেয়ে ইয়াসাকে নিয়ে ভাটিয়ারীর একটি মেলায় গিয়েছিলেন তারিন আক্তার। রাতে মোটরসাইকেলে করে বাসায় ফিরছিলেন তারা। মোটরসাইকেলের মাঝখানে বসানো ছিল ছোট্ট ইয়াসাকে, আর পেছনে বসেছিলেন তারিন।
পথে কোনো একসময় অসাবধানতাবশত শিশুটি মোটরসাইকেল থেকে সড়কে পড়ে যায়। মেয়েকে পড়ে যেতে দেখে তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন তারিন। এ সময় তিনিও ভারসাম্য হারিয়ে রাস্তায় পড়ে যান।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, ঠিক তখনই পেছন দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা একটি কাভার্ডভ্যান তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুকন্যা ইয়াসাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত তারিন আক্তার চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সহকর্মীদের কাছে তিনি ছিলেন ভদ্র ও দায়িত্বশীল একজন মানুষ।
সীতাকুণ্ড উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, “তারিন অত্যন্ত বিনয়ী ও দায়িত্বশীল একজন কর্মী ছিলেন। তার মৃত্যু আমাদের জন্য খুবই কষ্টের। একজন মা নিজের জীবন দিয়ে সন্তানকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত দুজনকেই হারাতে হলো।”
তার সহকর্মীরাও এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার স্মৃতিচারণ করছেন।
দুর্ঘটনার পর কাভার্ডভ্যানটি ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত চলে যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে গাড়িটি আটক করা সম্ভব হয়নি।
বার আউলিয়া হাইওয়ে থানার ওসি এম এ হক বলেন, “খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনায় জড়িত গাড়িটি এখনো শনাক্ত করা যায়নি। তবে আমরা সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করে গাড়িটি চিহ্নিত করার চেষ্টা করছি।”
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলমান।
এই দুর্ঘটনার পর আবারও মোটরসাইকেলে শিশু বহনের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মহাসড়কে মোটরসাইকেলে ছোট শিশু নিয়ে চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে রাতে এবং ভারী যানবাহনের ভিড়ে সামান্য অসতর্কতাও বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
স্থানীয়দের একাংশের দাবি, ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কে বেপরোয়া গতির যানবাহন নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর পদক্ষেপ দরকার। পাশাপাশি মোটরসাইকেল আরোহীদের নিরাপত্তা সচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “এ ধরনের ঘটনা শুধু একটি পরিবারের ক্ষতি নয়, পুরো সমাজের জন্য বেদনার। একটু সচেতনতা হয়তো দুটি প্রাণ বাঁচাতে পারত।”
মা ও শিশুকন্যার একসঙ্গে মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোক। স্বজনরা এখনো ঘটনার ধাক্কা সামলে উঠতে পারেননি। প্রতিবেশীরাও বলছেন, কিছুক্ষণ আগেও যারা একসঙ্গে মেলায় ঘুরছিলেন, রাতেই তাদের নিথর দেহ ফিরেছে—এ দৃশ্য মেনে নেওয়া কঠিন।
স্থানীয়রা দ্রুত দোষী গাড়িচালককে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে মহাসড়কে নিরাপত্তা জোরদারের দাবিও উঠেছে।

রোববার, ১৭ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ মে ২০২৬
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে হৃদয়বিদারক এক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন মা ও তার দুই বছরের শিশুকন্যা। চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে যাওয়া মেয়েকে বাঁচাতে গিয়ে সড়কে পড়ে যান মা তারিন আক্তার। ঠিক সেই মুহূর্তে পেছন থেকে আসা একটি দ্রুতগতির কাভার্ডভ্যান তাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। পরে আহত শিশুকন্যা ইয়াসাকেও হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত ঘোষণা করা হয়।
শুক্রবার (১৫ মে) রাত ৮টার দিকে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারী ইউনিয়নের বিএমএ গেট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া ফেলেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্বামী ও দুই বছরের মেয়ে ইয়াসাকে নিয়ে ভাটিয়ারীর একটি মেলায় গিয়েছিলেন তারিন আক্তার। রাতে মোটরসাইকেলে করে বাসায় ফিরছিলেন তারা। মোটরসাইকেলের মাঝখানে বসানো ছিল ছোট্ট ইয়াসাকে, আর পেছনে বসেছিলেন তারিন।
পথে কোনো একসময় অসাবধানতাবশত শিশুটি মোটরসাইকেল থেকে সড়কে পড়ে যায়। মেয়েকে পড়ে যেতে দেখে তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন তারিন। এ সময় তিনিও ভারসাম্য হারিয়ে রাস্তায় পড়ে যান।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, ঠিক তখনই পেছন দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা একটি কাভার্ডভ্যান তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুকন্যা ইয়াসাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত তারিন আক্তার চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সহকর্মীদের কাছে তিনি ছিলেন ভদ্র ও দায়িত্বশীল একজন মানুষ।
সীতাকুণ্ড উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, “তারিন অত্যন্ত বিনয়ী ও দায়িত্বশীল একজন কর্মী ছিলেন। তার মৃত্যু আমাদের জন্য খুবই কষ্টের। একজন মা নিজের জীবন দিয়ে সন্তানকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত দুজনকেই হারাতে হলো।”
তার সহকর্মীরাও এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার স্মৃতিচারণ করছেন।
দুর্ঘটনার পর কাভার্ডভ্যানটি ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত চলে যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে গাড়িটি আটক করা সম্ভব হয়নি।
বার আউলিয়া হাইওয়ে থানার ওসি এম এ হক বলেন, “খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনায় জড়িত গাড়িটি এখনো শনাক্ত করা যায়নি। তবে আমরা সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করে গাড়িটি চিহ্নিত করার চেষ্টা করছি।”
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলমান।
এই দুর্ঘটনার পর আবারও মোটরসাইকেলে শিশু বহনের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মহাসড়কে মোটরসাইকেলে ছোট শিশু নিয়ে চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে রাতে এবং ভারী যানবাহনের ভিড়ে সামান্য অসতর্কতাও বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
স্থানীয়দের একাংশের দাবি, ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কে বেপরোয়া গতির যানবাহন নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর পদক্ষেপ দরকার। পাশাপাশি মোটরসাইকেল আরোহীদের নিরাপত্তা সচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “এ ধরনের ঘটনা শুধু একটি পরিবারের ক্ষতি নয়, পুরো সমাজের জন্য বেদনার। একটু সচেতনতা হয়তো দুটি প্রাণ বাঁচাতে পারত।”
মা ও শিশুকন্যার একসঙ্গে মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোক। স্বজনরা এখনো ঘটনার ধাক্কা সামলে উঠতে পারেননি। প্রতিবেশীরাও বলছেন, কিছুক্ষণ আগেও যারা একসঙ্গে মেলায় ঘুরছিলেন, রাতেই তাদের নিথর দেহ ফিরেছে—এ দৃশ্য মেনে নেওয়া কঠিন।
স্থানীয়রা দ্রুত দোষী গাড়িচালককে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে মহাসড়কে নিরাপত্তা জোরদারের দাবিও উঠেছে।

আপনার মতামত লিখুন