দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

নওগাঁর পত্নীতলায় বাবাহারা দুই শিশুর জীবনে নতুন সংকট, কারাগারে মা—অনিশ্চয়তায় ভবিষ্যৎ

নওগাঁর পত্নীতলায় বাবাহারা দুই শিশুর জীবনে নতুন সংকট, কারাগারে মা—অনিশ্চয়তায় ভবিষ্যৎ

বিশ্ব পরিবেশ দিবসে দিনাজপুরে মহিলা পরিষদের বৃক্ষরোপণ ও আলোচনা সভা

খুলনা বিভাগে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের অভিযান, ১১ প্রতিষ্ঠানকে ৮২ হাজার টাকা জরিমানা

নাটোর সদর হাসপাতালে শিশুর মাকে ধর্ষণের অভিযোগ, তিন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা; ভিডিও ধারণেরও অভিযোগ

দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগের নেপথ্যে কী? পার্বত্য জেলা পরিষদ গঠন, দলীয় দ্বন্দ্ব ও রাজনৈতিক চাপের অভিযোগ

মান্দার হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থল পরিদর্শনে পুলিশ সুপার, আটক দুই; প্রকৃত জড়িতদের খুঁজছে পুলিশ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দোকানের জায়গা নিয়ে সংঘর্ষ, ২০ জন আহত; গ্রেপ্তার ৫

শেরপুরে একই মাদরাসার তিন শিশুসহ পাঁচজন নিখোঁজ, উৎকণ্ঠায় পরিবার; তদন্তে পুলিশ

দোকানে যাওয়ার পথে স্কুলছাত্রীকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ, নরসিংদীতে যুবক গ্রেপ্তার

দোকানে যাওয়ার পথে স্কুলছাত্রীকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ, নরসিংদীতে যুবক গ্রেপ্তার
ঘটনার পর নরসিংদীর পলাশ এলাকায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও আলোচনা দেখা যায়।-ছবি: সংগৃহীত

নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে জোর করে তুলে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক যুবকের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর এলাকাবাসীর সহায়তায় অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। এ ঘটনায় আরও একজনকে আসামি করা হলেও তিনি এখনো পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাতে ঘোড়াশাল পৌর এলাকার দড়িহাওলাপাড়া গ্রামে। শুক্রবার সকালে ভুক্তভোগী ছাত্রীর মা বাদী হয়ে পলাশ থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে প্রধান অভিযুক্ত মিশাত শেখকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়া মিশাত শেখ (২২) একই এলাকার বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ওই স্কুলছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করা এবং বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে চাপ দেওয়ার অভিযোগ ছিল। পরিবারের পক্ষ থেকে কয়েকবার সতর্ক করা হলেও পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি বলে দাবি করেছেন স্বজনরা।


সন্ধ্যায় দোকানে যাওয়ার পর নিখোঁজ

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে মেয়েটি বাড়ির পাশের একটি দোকানে যাওয়ার জন্য বের হয়। এরপর দীর্ঘ সময় পার হলেও সে বাড়ি ফিরে না আসায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা।

রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মা ও এক খালাতো ভাই আশপাশের এলাকায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে গ্রামের একটি পরিত্যক্ত বসতঘরের সামনে গিয়ে তারা সন্দেহজনক অবস্থায় এক যুবককে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন। পরে ঘরের ভেতর থেকে কান্নার শব্দ শুনে তারা ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন।

অভিযোগ রয়েছে, বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা যুবক প্রথমে তাদের বাধা দেন। পরে পরিবারের সদস্যরা জোর করে দরজা খুলে ভেতরে ঢুকলে পরিস্থিতি প্রকাশ্যে আসে। এ সময় অভিযুক্তদের একজন পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এলাকাবাসীর সহায়তায় আটক

ভুক্তভোগীর মায়ের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে জড়ো হন। পরে ঘরের ভেতর থেকে মিশাত শেখকে আটক করা হয় বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে হেফাজতে নেয়।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত মিশাত শেখ ও তার সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করা মারুফ নামে আরেক যুবকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, পলাতক আসামিকে ধরতে অভিযান চলছে।

পরিবার বলছে, আগে থেকেই উত্ত্যক্ত করত অভিযুক্ত

ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, অভিযুক্ত যুবক দীর্ঘদিন ধরে স্কুলে যাওয়া-আসার পথে মেয়েটিকে বিরক্ত করত। কখনো বিয়ের প্রস্তাব, আবার কখনো বিভিন্নভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করত সে। বিষয়টি নিয়ে কয়েকবার স্থানীয়ভাবেও আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

তাদের অভিযোগ, শুরুতেই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হলে হয়তো এমন ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতো।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দাও জানিয়েছেন, এলাকায় তরুণীদের উত্যক্ত করার ঘটনা মাঝে মধ্যেই শোনা যায়। তবে অধিকাংশ পরিবার সামাজিক চাপ বা মান-সম্মানের ভয়ে প্রকাশ্যে অভিযোগ করতে চায় না।

পুলিশের বক্তব্য

পলাশ থানার ওসি (তদন্ত) কুতুব উল আলম বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই প্রধান অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে। তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে এবং অপর আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।


তিনি আরও জানান, ভুক্তভোগী কিশোরীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। পুরো ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সামাজিক বাস্তবতা ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন

এ ধরনের ঘটনা স্থানীয় পর্যায়ে নারী ও কিশোরীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে পরিচিত বা প্রতিবেশী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠায় অনেক পরিবার আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে।

সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, অনেক সময় দীর্ঘদিনের উত্যক্ত করা বা অনুসরণ করার ঘটনাকে পরিবার ও আশপাশের মানুষ “ছেলেমানুষি” ভেবে এড়িয়ে যান। কিন্তু এসব আচরণ পরবর্তীতে বড় অপরাধের দিকে গড়াতে পারে। তাই প্রাথমিক অভিযোগকেও গুরুত্ব দিয়ে দেখা জরুরি।

এছাড়া কিশোরীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন এবং সামাজিক সংগঠনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা



ভোগীর বক্তব্য, মেডিকেল রিপোর্ট এবং অন্যান্য আলামতের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে জোর করে তুলে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক যুবকের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর এলাকাবাসীর সহায়তায় অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। এ ঘটনায় আরও একজনকে আসামি করা হলেও তিনি এখনো পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাতে ঘোড়াশাল পৌর এলাকার দড়িহাওলাপাড়া গ্রামে। শুক্রবার সকালে ভুক্তভোগী ছাত্রীর মা বাদী হয়ে পলাশ থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে প্রধান অভিযুক্ত মিশাত শেখকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়া মিশাত শেখ (২২) একই এলাকার বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ওই স্কুলছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করা এবং বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে চাপ দেওয়ার অভিযোগ ছিল। পরিবারের পক্ষ থেকে কয়েকবার সতর্ক করা হলেও পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি বলে দাবি করেছেন স্বজনরা।

সন্ধ্যায় দোকানে যাওয়ার পর নিখোঁজ

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে মেয়েটি বাড়ির পাশের একটি দোকানে যাওয়ার জন্য বের হয়। এরপর দীর্ঘ সময় পার হলেও সে বাড়ি ফিরে না আসায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা।

রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মা ও এক খালাতো ভাই আশপাশের এলাকায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে গ্রামের একটি পরিত্যক্ত বসতঘরের সামনে গিয়ে তারা সন্দেহজনক অবস্থায় এক যুবককে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন। পরে ঘরের ভেতর থেকে কান্নার শব্দ শুনে তারা ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন।

অভিযোগ রয়েছে, বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা যুবক প্রথমে তাদের বাধা দেন। পরে পরিবারের সদস্যরা জোর করে দরজা খুলে ভেতরে ঢুকলে পরিস্থিতি প্রকাশ্যে আসে। এ সময় অভিযুক্তদের একজন পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এলাকাবাসীর সহায়তায় আটক

ভুক্তভোগীর মায়ের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে জড়ো হন। পরে ঘরের ভেতর থেকে মিশাত শেখকে আটক করা হয় বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে হেফাজতে নেয়।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত মিশাত শেখ ও তার সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করা মারুফ নামে আরেক যুবকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, পলাতক আসামিকে ধরতে অভিযান চলছে।

পরিবার বলছে, আগে থেকেই উত্ত্যক্ত করত অভিযুক্ত

ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, অভিযুক্ত যুবক দীর্ঘদিন ধরে স্কুলে যাওয়া-আসার পথে মেয়েটিকে বিরক্ত করত। কখনো বিয়ের প্রস্তাব, আবার কখনো বিভিন্নভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করত সে। বিষয়টি নিয়ে কয়েকবার স্থানীয়ভাবেও আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

তাদের অভিযোগ, শুরুতেই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হলে হয়তো এমন ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতো।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দাও জানিয়েছেন, এলাকায় তরুণীদের উত্যক্ত করার ঘটনা মাঝে মধ্যেই শোনা যায়। তবে অধিকাংশ পরিবার সামাজিক চাপ বা মান-সম্মানের ভয়ে প্রকাশ্যে অভিযোগ করতে চায় না।

পুলিশের বক্তব্য

পলাশ থানার ওসি (তদন্ত) কুতুব উল আলম বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই প্রধান অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে। তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে এবং অপর আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

তিনি আরও জানান, ভুক্তভোগী কিশোরীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। পুরো ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সামাজিক বাস্তবতা ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন

এ ধরনের ঘটনা স্থানীয় পর্যায়ে নারী ও কিশোরীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে পরিচিত বা প্রতিবেশী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠায় অনেক পরিবার আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে।

সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, অনেক সময় দীর্ঘদিনের উত্যক্ত করা বা অনুসরণ করার ঘটনাকে পরিবার ও আশপাশের মানুষ “ছেলেমানুষি” ভেবে এড়িয়ে যান। কিন্তু এসব আচরণ পরবর্তীতে বড় অপরাধের দিকে গড়াতে পারে। তাই প্রাথমিক অভিযোগকেও গুরুত্ব দিয়ে দেখা জরুরি।

এছাড়া কিশোরীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন এবং সামাজিক সংগঠনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা

বর্তমানে মামলার তদন্ত চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগীর বক্তব্য, মেডিকেল রিপোর্ট এবং অন্যান্য আলামতের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অনেকে দ্রুত বিচার ও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অনেকে দ্রুত বিচার ও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।

বিষয় : নরসিংদী সংবাদ স্কুলছাত্রী নির্যাতন নারী নিরাপত্তা

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬


দোকানে যাওয়ার পথে স্কুলছাত্রীকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ, নরসিংদীতে যুবক গ্রেপ্তার

প্রকাশের তারিখ : ১৬ মে ২০২৬

featured Image

নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে জোর করে তুলে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক যুবকের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর এলাকাবাসীর সহায়তায় অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। এ ঘটনায় আরও একজনকে আসামি করা হলেও তিনি এখনো পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাতে ঘোড়াশাল পৌর এলাকার দড়িহাওলাপাড়া গ্রামে। শুক্রবার সকালে ভুক্তভোগী ছাত্রীর মা বাদী হয়ে পলাশ থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে প্রধান অভিযুক্ত মিশাত শেখকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়া মিশাত শেখ (২২) একই এলাকার বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ওই স্কুলছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করা এবং বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে চাপ দেওয়ার অভিযোগ ছিল। পরিবারের পক্ষ থেকে কয়েকবার সতর্ক করা হলেও পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি বলে দাবি করেছেন স্বজনরা।


সন্ধ্যায় দোকানে যাওয়ার পর নিখোঁজ

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে মেয়েটি বাড়ির পাশের একটি দোকানে যাওয়ার জন্য বের হয়। এরপর দীর্ঘ সময় পার হলেও সে বাড়ি ফিরে না আসায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা।

রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মা ও এক খালাতো ভাই আশপাশের এলাকায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে গ্রামের একটি পরিত্যক্ত বসতঘরের সামনে গিয়ে তারা সন্দেহজনক অবস্থায় এক যুবককে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন। পরে ঘরের ভেতর থেকে কান্নার শব্দ শুনে তারা ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন।

অভিযোগ রয়েছে, বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা যুবক প্রথমে তাদের বাধা দেন। পরে পরিবারের সদস্যরা জোর করে দরজা খুলে ভেতরে ঢুকলে পরিস্থিতি প্রকাশ্যে আসে। এ সময় অভিযুক্তদের একজন পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এলাকাবাসীর সহায়তায় আটক

ভুক্তভোগীর মায়ের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে জড়ো হন। পরে ঘরের ভেতর থেকে মিশাত শেখকে আটক করা হয় বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে হেফাজতে নেয়।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত মিশাত শেখ ও তার সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করা মারুফ নামে আরেক যুবকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, পলাতক আসামিকে ধরতে অভিযান চলছে।

পরিবার বলছে, আগে থেকেই উত্ত্যক্ত করত অভিযুক্ত

ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, অভিযুক্ত যুবক দীর্ঘদিন ধরে স্কুলে যাওয়া-আসার পথে মেয়েটিকে বিরক্ত করত। কখনো বিয়ের প্রস্তাব, আবার কখনো বিভিন্নভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করত সে। বিষয়টি নিয়ে কয়েকবার স্থানীয়ভাবেও আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

তাদের অভিযোগ, শুরুতেই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হলে হয়তো এমন ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতো।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দাও জানিয়েছেন, এলাকায় তরুণীদের উত্যক্ত করার ঘটনা মাঝে মধ্যেই শোনা যায়। তবে অধিকাংশ পরিবার সামাজিক চাপ বা মান-সম্মানের ভয়ে প্রকাশ্যে অভিযোগ করতে চায় না।

পুলিশের বক্তব্য

পলাশ থানার ওসি (তদন্ত) কুতুব উল আলম বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই প্রধান অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে। তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে এবং অপর আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।


তিনি আরও জানান, ভুক্তভোগী কিশোরীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। পুরো ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সামাজিক বাস্তবতা ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন

এ ধরনের ঘটনা স্থানীয় পর্যায়ে নারী ও কিশোরীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে পরিচিত বা প্রতিবেশী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠায় অনেক পরিবার আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে।

সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, অনেক সময় দীর্ঘদিনের উত্যক্ত করা বা অনুসরণ করার ঘটনাকে পরিবার ও আশপাশের মানুষ “ছেলেমানুষি” ভেবে এড়িয়ে যান। কিন্তু এসব আচরণ পরবর্তীতে বড় অপরাধের দিকে গড়াতে পারে। তাই প্রাথমিক অভিযোগকেও গুরুত্ব দিয়ে দেখা জরুরি।

এছাড়া কিশোরীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন এবং সামাজিক সংগঠনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা



ভোগীর বক্তব্য, মেডিকেল রিপোর্ট এবং অন্যান্য আলামতের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে জোর করে তুলে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক যুবকের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর এলাকাবাসীর সহায়তায় অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। এ ঘটনায় আরও একজনকে আসামি করা হলেও তিনি এখনো পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাতে ঘোড়াশাল পৌর এলাকার দড়িহাওলাপাড়া গ্রামে। শুক্রবার সকালে ভুক্তভোগী ছাত্রীর মা বাদী হয়ে পলাশ থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে প্রধান অভিযুক্ত মিশাত শেখকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়া মিশাত শেখ (২২) একই এলাকার বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ওই স্কুলছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করা এবং বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে চাপ দেওয়ার অভিযোগ ছিল। পরিবারের পক্ষ থেকে কয়েকবার সতর্ক করা হলেও পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি বলে দাবি করেছেন স্বজনরা।

সন্ধ্যায় দোকানে যাওয়ার পর নিখোঁজ

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে মেয়েটি বাড়ির পাশের একটি দোকানে যাওয়ার জন্য বের হয়। এরপর দীর্ঘ সময় পার হলেও সে বাড়ি ফিরে না আসায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা।

রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মা ও এক খালাতো ভাই আশপাশের এলাকায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে গ্রামের একটি পরিত্যক্ত বসতঘরের সামনে গিয়ে তারা সন্দেহজনক অবস্থায় এক যুবককে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন। পরে ঘরের ভেতর থেকে কান্নার শব্দ শুনে তারা ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন।

অভিযোগ রয়েছে, বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা যুবক প্রথমে তাদের বাধা দেন। পরে পরিবারের সদস্যরা জোর করে দরজা খুলে ভেতরে ঢুকলে পরিস্থিতি প্রকাশ্যে আসে। এ সময় অভিযুক্তদের একজন পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এলাকাবাসীর সহায়তায় আটক

ভুক্তভোগীর মায়ের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে জড়ো হন। পরে ঘরের ভেতর থেকে মিশাত শেখকে আটক করা হয় বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে হেফাজতে নেয়।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত মিশাত শেখ ও তার সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করা মারুফ নামে আরেক যুবকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, পলাতক আসামিকে ধরতে অভিযান চলছে।

পরিবার বলছে, আগে থেকেই উত্ত্যক্ত করত অভিযুক্ত

ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, অভিযুক্ত যুবক দীর্ঘদিন ধরে স্কুলে যাওয়া-আসার পথে মেয়েটিকে বিরক্ত করত। কখনো বিয়ের প্রস্তাব, আবার কখনো বিভিন্নভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করত সে। বিষয়টি নিয়ে কয়েকবার স্থানীয়ভাবেও আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

তাদের অভিযোগ, শুরুতেই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হলে হয়তো এমন ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতো।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দাও জানিয়েছেন, এলাকায় তরুণীদের উত্যক্ত করার ঘটনা মাঝে মধ্যেই শোনা যায়। তবে অধিকাংশ পরিবার সামাজিক চাপ বা মান-সম্মানের ভয়ে প্রকাশ্যে অভিযোগ করতে চায় না।

পুলিশের বক্তব্য

পলাশ থানার ওসি (তদন্ত) কুতুব উল আলম বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই প্রধান অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে। তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে এবং অপর আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

তিনি আরও জানান, ভুক্তভোগী কিশোরীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। পুরো ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সামাজিক বাস্তবতা ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন

এ ধরনের ঘটনা স্থানীয় পর্যায়ে নারী ও কিশোরীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে পরিচিত বা প্রতিবেশী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠায় অনেক পরিবার আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে।

সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, অনেক সময় দীর্ঘদিনের উত্যক্ত করা বা অনুসরণ করার ঘটনাকে পরিবার ও আশপাশের মানুষ “ছেলেমানুষি” ভেবে এড়িয়ে যান। কিন্তু এসব আচরণ পরবর্তীতে বড় অপরাধের দিকে গড়াতে পারে। তাই প্রাথমিক অভিযোগকেও গুরুত্ব দিয়ে দেখা জরুরি।

এছাড়া কিশোরীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন এবং সামাজিক সংগঠনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা

বর্তমানে মামলার তদন্ত চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগীর বক্তব্য, মেডিকেল রিপোর্ট এবং অন্যান্য আলামতের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অনেকে দ্রুত বিচার ও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অনেকে দ্রুত বিচার ও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর