দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
আপডেট : মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

মাদকবিরোধী অভিযানে জাতীয় স্বীকৃতি, দেশসেরা তালিকায় শেরপুর জেলা পুলিশ

মাদকবিরোধী অভিযানে জাতীয় স্বীকৃতি, দেশসেরা তালিকায় শেরপুর জেলা পুলিশ

সিগারেটের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব, সর্বনিম্ন শলাকা ১৭ টাকা করার দাবি

উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে নতুন রোডম্যাপ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মশালায় গবেষণা ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় জোর

বাংলাদেশ কাঁটাতার ভয় পায় না’—সীমান্ত ইস্যুতে হুমায়ুন কবিরের কড়া বার্তা

দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া রুটে হতে পারে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু, সরকার বলছে প্রস্তুতি শেষের পথে

পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬: রাজারবাগে জমজমাট ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ

পুনাক সমাজের নানা ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে: ডা. জুবাইদা রহমান

পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬: ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনা, জননিরাপত্তায় কঠোর ও মানবিক হওয়ার আহ্বান

মাদকবিরোধী অভিযানে জাতীয় স্বীকৃতি, দেশসেরা তালিকায় শেরপুর জেলা পুলিশ

মাদকবিরোধী অভিযানে জাতীয় স্বীকৃতি, দেশসেরা তালিকায় শেরপুর জেলা পুলিশ
পুলিশ সপ্তাহে মাদকবিরোধী অভিযানের সাফল্যের স্বীকৃতি গ্রহণ করছেন শেরপুরের পুলিশ সুপার

মাদকবিরোধী অভিযানে বিশেষ সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে সমগ্র বাংলাদেশে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে শেরপুর জেলা পুলিশ। পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে ২০২৫ সালের মাদকদ্রব্য উদ্ধার কার্যক্রম মূল্যায়নে ‘গ’ গ্রুপে এই অর্জন আসে। মঙ্গলবার রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শেরপুর জেলা পুলিশের হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।


পুলিশ সপ্তাহে সম্মাননা প্রদান

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন ইউনিট ও জেলার কার্যক্রম মূল্যায়ন করা হয়। এর অংশ হিসেবে ২০২৫ সালে মাদক উদ্ধার ও মাদকবিরোধী অভিযানে কার্যকর ভূমিকার জন্য শেরপুর জেলা পুলিশকে বিশেষভাবে মূল্যায়ন করা হয়।

মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মাননা প্রদান করা হয়।


অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ মোঃ আলী হোসেন ফকির শেরপুর জেলার পুলিশ সুপার এ কে এম জহিরুল ইসলাম-এর হাতে সম্মাননা স্মারক ও পুরস্কার তুলে দেন।


মাদকবিরোধী অভিযানে ধারাবাহিক কার্যক্রম

শেরপুর জেলা পুলিশ জানিয়েছে, গত এক বছরে জেলার বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে ইয়াবা, গাঁজা, ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয় এবং একাধিক মামলাও দায়ের করা হয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তাদের দাবি, শুধু অভিযান পরিচালনা নয়—মাদক কারবারিদের শনাক্ত করতে গোয়েন্দা নজরদারিও জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বিশেষ তৎপরতা চালানো হয়েছে।

জেলার বিভিন্ন থানা ও ফাঁড়ির সমন্বিত কার্যক্রমের কারণেই এই অর্জন সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।


পুলিশ সদস্যদের মধ্যে উচ্ছ্বাস

জাতীয় পর্যায়ে এই স্বীকৃতি পাওয়ার পর শেরপুর জেলা পুলিশের কর্মকর্তা ও সদস্যদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। তারা মনে করছেন, এই সম্মাননা ভবিষ্যতে আরও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করার অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।

শেরপুর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় বলা হয়, “এই অর্জন শুধু একজন কর্মকর্তার নয়, পুরো জেলার পুলিশ সদস্যদের সম্মিলিত পরিশ্রমের ফল।”

এছাড়া পুলিশ সুপারের নেতৃত্ব ও পরিকল্পিত কার্যক্রমের কথাও উল্লেখ করেছেন অনেকে।


মাদকমুক্ত জেলা গঠনের অঙ্গীকার

সম্মাননা পাওয়ার পর শেরপুর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সাফল্যকে সামনে রেখে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত করতে কাজ করা হবে। বিশেষ করে তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, শুধু অভিযান দিয়ে মাদক সমস্যা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। এজন্য পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সামাজিক সংগঠনগুলোকেও একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

তাদের মতে, মাদক সমাজের জন্য বড় ধরনের হুমকি। এটি শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, পুরো পরিবার ও সামাজিক পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।


জনসচেতনতার গুরুত্ব তুলে ধরলেন বিশ্লেষকরা

অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, দেশের বিভিন্ন জেলায় মাদকবিরোধী অভিযানের সাফল্য ইতিবাচক বার্তা দিলেও দীর্ঘমেয়াদে টেকসই ফল পেতে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি।

তারা বলছেন, তরুণদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম বাড়ানো এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা গেলে মাদকের বিস্তার অনেকটাই কমানো সম্ভব।

একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত নজরদারি ও তথ্যভিত্তিক অভিযান অব্যাহত রাখার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।



নিরাপদ জনপদ গঠনের প্রত্যয়

শেরপুর জেলা পুলিশ জানিয়েছে, ভবিষ্যতেও মাদক, চোরাচালান ও অন্যান্য অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থান বজায় রাখা হবে। “আমার পুলিশ, আমার দেশ—সবার আগে বাংলাদেশ” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জনগণের আস্থা অর্জনে কাজ করার কথাও জানিয়েছে তারা।

জেলার সাধারণ মানুষও এই অর্জনকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। অনেকের আশা, ধারাবাহিক অভিযান ও সামাজিক সচেতনতার মাধ্যমে শেরপুরকে আরও নিরাপদ ও মাদকমুক্ত জেলা হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

বিষয় : বাংলাদেশ পুলিশ সংস্কার ২০২৬ ভোলা মাদকবিরোধী অভিযান শেরপুর জেলা পুলিশ পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬


মাদকবিরোধী অভিযানে জাতীয় স্বীকৃতি, দেশসেরা তালিকায় শেরপুর জেলা পুলিশ

প্রকাশের তারিখ : ১২ মে ২০২৬

featured Image

মাদকবিরোধী অভিযানে বিশেষ সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে সমগ্র বাংলাদেশে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে শেরপুর জেলা পুলিশ। পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে ২০২৫ সালের মাদকদ্রব্য উদ্ধার কার্যক্রম মূল্যায়নে ‘গ’ গ্রুপে এই অর্জন আসে। মঙ্গলবার রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শেরপুর জেলা পুলিশের হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।


পুলিশ সপ্তাহে সম্মাননা প্রদান

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন ইউনিট ও জেলার কার্যক্রম মূল্যায়ন করা হয়। এর অংশ হিসেবে ২০২৫ সালে মাদক উদ্ধার ও মাদকবিরোধী অভিযানে কার্যকর ভূমিকার জন্য শেরপুর জেলা পুলিশকে বিশেষভাবে মূল্যায়ন করা হয়।

মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মাননা প্রদান করা হয়।


অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ মোঃ আলী হোসেন ফকির শেরপুর জেলার পুলিশ সুপার এ কে এম জহিরুল ইসলাম-এর হাতে সম্মাননা স্মারক ও পুরস্কার তুলে দেন।


মাদকবিরোধী অভিযানে ধারাবাহিক কার্যক্রম

শেরপুর জেলা পুলিশ জানিয়েছে, গত এক বছরে জেলার বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে ইয়াবা, গাঁজা, ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয় এবং একাধিক মামলাও দায়ের করা হয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তাদের দাবি, শুধু অভিযান পরিচালনা নয়—মাদক কারবারিদের শনাক্ত করতে গোয়েন্দা নজরদারিও জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বিশেষ তৎপরতা চালানো হয়েছে।

জেলার বিভিন্ন থানা ও ফাঁড়ির সমন্বিত কার্যক্রমের কারণেই এই অর্জন সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।


পুলিশ সদস্যদের মধ্যে উচ্ছ্বাস

জাতীয় পর্যায়ে এই স্বীকৃতি পাওয়ার পর শেরপুর জেলা পুলিশের কর্মকর্তা ও সদস্যদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। তারা মনে করছেন, এই সম্মাননা ভবিষ্যতে আরও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করার অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।

শেরপুর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় বলা হয়, “এই অর্জন শুধু একজন কর্মকর্তার নয়, পুরো জেলার পুলিশ সদস্যদের সম্মিলিত পরিশ্রমের ফল।”

এছাড়া পুলিশ সুপারের নেতৃত্ব ও পরিকল্পিত কার্যক্রমের কথাও উল্লেখ করেছেন অনেকে।


মাদকমুক্ত জেলা গঠনের অঙ্গীকার

সম্মাননা পাওয়ার পর শেরপুর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সাফল্যকে সামনে রেখে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত করতে কাজ করা হবে। বিশেষ করে তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, শুধু অভিযান দিয়ে মাদক সমস্যা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। এজন্য পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সামাজিক সংগঠনগুলোকেও একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

তাদের মতে, মাদক সমাজের জন্য বড় ধরনের হুমকি। এটি শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, পুরো পরিবার ও সামাজিক পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।


জনসচেতনতার গুরুত্ব তুলে ধরলেন বিশ্লেষকরা

অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, দেশের বিভিন্ন জেলায় মাদকবিরোধী অভিযানের সাফল্য ইতিবাচক বার্তা দিলেও দীর্ঘমেয়াদে টেকসই ফল পেতে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি।

তারা বলছেন, তরুণদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম বাড়ানো এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা গেলে মাদকের বিস্তার অনেকটাই কমানো সম্ভব।

একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত নজরদারি ও তথ্যভিত্তিক অভিযান অব্যাহত রাখার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।



নিরাপদ জনপদ গঠনের প্রত্যয়

শেরপুর জেলা পুলিশ জানিয়েছে, ভবিষ্যতেও মাদক, চোরাচালান ও অন্যান্য অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থান বজায় রাখা হবে। “আমার পুলিশ, আমার দেশ—সবার আগে বাংলাদেশ” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জনগণের আস্থা অর্জনে কাজ করার কথাও জানিয়েছে তারা।

জেলার সাধারণ মানুষও এই অর্জনকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। অনেকের আশা, ধারাবাহিক অভিযান ও সামাজিক সচেতনতার মাধ্যমে শেরপুরকে আরও নিরাপদ ও মাদকমুক্ত জেলা হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর