দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

বিদেশি শিক্ষার্থীদের OPT-তে ৭০ হাজার ডলার ফি প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের

বিদেশি শিক্ষার্থীদের OPT-তে ৭০ হাজার ডলার ফি প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের

ইরান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের ৮১ সামরিক উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস: সিআরএস

ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় ২৩ ভারতীয় ক্রুবাহী তেল ট্যাঙ্কারে আগুন

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব, আক্রান্ত প্রায় ৩ হাজার ৯০০

দিল্লিতে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দীনেশ ত্রিবেদীর বৈঠক

যুক্তরাষ্ট্র সঙ্গ না দিলেও ইরানে হামলার প্রস্তুতি ইসরায়েলের

কাশ্মীরে ১৫০ বাংলাদেশিকে আটকের দাবি ভারতের, ৭ অক্টোবর ফেরত পাঠানোর কথা

‘মক্কা-মদিনা ছাড়া পুরো সৌদি আকাশসীমা হামলার জন্য উন্মুক্ত’: হুথিদের হুঁশিয়ারি

গোগা সীমান্তে বিজিবির অভিযান, ভারতীয় সিরাপসহ যুবক আটক

গোগা সীমান্তে বিজিবির অভিযান, ভারতীয় সিরাপসহ যুবক আটক
গোগা সীমান্তে বিজিবির অভিযানে উদ্ধার হওয়া ভারতীয় নেশাজাতীয় সিরাপ

যশোরের শার্শা উপজেলার গোগা সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৩০ বোতল ভারতীয় নেশাজাতীয় সিরাপ উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় মিনারুল ইসলাম (২১) নামে এক যুবককে আটক করা হয়। মঙ্গলবার (১২ মে) বিকেলে পরিচালিত এই অভিযানে সীমান্তপথে মাদক প্রবেশের একটি চক্র সক্রিয় থাকার অভিযোগ উঠে এসেছে।


গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান

স্থানীয় সূত্র ও বিজিবি জানায়, সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতীয় মাদকের একটি চালান দেশে প্রবেশ করতে পারে—এমন তথ্যের ভিত্তিতে আগে থেকেই নজরদারি বাড়ানো হয়। পরে খুলনা ব্যাটালিয়ন (২১ বিজিবি) এর অধীন গোগা বিওপির একটি টহল দল সীমান্ত সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান নেয়।


বিকেল ৩টার দিকে গোগা ইউনিয়নের একটি এলাকায় সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায় মিনারুল ইসলামকে। পরে বিজিবি সদস্যরা তাকে থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় তার কাছ থেকে ৩০ বোতল ভারতীয় নেশাজাতীয় সিরাপ উদ্ধার করা হয়।

আটক মিনারুল ইসলাম শার্শা থানার গোগা ইউনিয়নের বাসিন্দা। তিনি স্থানীয় রফিকুল ইসলামের ছেলে বলে জানা গেছে।


উদ্ধারকৃত মাদকের মূল্য প্রায় ৩২ হাজার টাকা

বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জব্দ করা সিরাপগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩২ হাজার টাকা। সীমান্ত এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই ভারতীয় বিভিন্ন মাদকদ্রব্য চোরাপথে প্রবেশের অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে ফেনসিডিল ও নেশাজাতীয় সিরাপের ছোট ছোট চালান বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে ধরা পড়ছে।

স্থানীয়দের দাবি, সীমান্তবর্তী কিছু এলাকায় মাদক কারবারিরা নানা কৌশলে সক্রিয় থাকার চেষ্টা করছে। তবে সম্প্রতি বিজিবির নজরদারি বাড়ায় এসব চক্র কিছুটা চাপের মুখে পড়েছে।


বিজিবির বক্তব্য

খুলনা ব্যাটালিয়ন (২১ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাফিজ ইমতিয়াজ আহসান অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও মাদক পাচার ঠেকাতে বিজিবির গোয়েন্দা তৎপরতা আগের চেয়ে আরও জোরদার করা হয়েছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, সীমান্তকে মাদকমুক্ত রাখতে নিয়মিত টহল ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মঙ্গলবারের অভিযানও সেই ধারাবাহিকতার অংশ।

বিজিবি আরও জানিয়েছে, আটক যুবকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে তাকে শার্শা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মাদকও জব্দ তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।


সীমান্তজুড়ে বাড়ছে উদ্বেগ

শার্শা সীমান্ত দীর্ঘদিন ধরেই চোরাচালান প্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। বিভিন্ন সময় মাদক, কসমেটিকস, স্বর্ণ কিংবা অন্যান্য অবৈধ পণ্য সীমান্ত দিয়ে পাচারের অভিযোগ উঠে এসেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বলছেন, সীমান্তের ভৌগোলিক অবস্থান এবং কিছু অসাধু চক্রের কারণে এই ঝুঁকি পুরোপুরি নির্মূল করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমান্ত এলাকায় তরুণদের মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়া সামাজিকভাবে উদ্বেগজনক। দ্রুত অর্থ আয়ের লোভ, বেকারত্ব এবং অপরাধচক্রের প্রলোভনের কারণে অনেক যুবক ঝুঁকিপূর্ণ পথে হাঁটছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তারা মনে করেন, শুধু অভিযান নয়—সচেতনতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান এবং স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে না পারলে মাদক নিয়ন্ত্রণ আরও কঠিন হয়ে পড়তে পারে।


স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া

গোগা ইউনিয়নের কয়েকজন বাসিন্দা জানান, সীমান্ত এলাকায় মাঝেমধ্যেই বিজিবির অভিযান দেখা যায়। তাদের দাবি, অভিযানের কারণে প্রকাশ্যে মাদক বহন কিছুটা কমলেও গোপনে এখনও কারবার চালানোর চেষ্টা হচ্ছে।


একজন স্থানীয় বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “মাদক শুধু একজন মানুষকে নষ্ট করে না, পুরো পরিবারকে ধ্বংস করে দেয়। সীমান্ত এলাকায় আরও কঠোর নজরদারি দরকার।”

তবে আটক মিনারুলের পরিবারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


তদন্ত ও পরবর্তী পদক্ষেপ

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, আটক ব্যক্তির সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মাদকগুলো কোথা থেকে আনা হয়েছিল এবং কার কাছে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল—সেসব বিষয় তদন্তাধীন রয়েছে।

বিজিবি বলছে, সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে ভবিষ্যতেও নিয়মিত চিরুনি অভিযান পরিচালনা করা হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগণকে সন্দেহজনক কোনো তথ্য পেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিষয় : বিজিবি অভিযান শার্শা সীমান্ত ভারতীয় সিরাপ উদ্ধার যশোর মাদক সংবাদ

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬


গোগা সীমান্তে বিজিবির অভিযান, ভারতীয় সিরাপসহ যুবক আটক

প্রকাশের তারিখ : ১২ মে ২০২৬

featured Image

যশোরের শার্শা উপজেলার গোগা সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৩০ বোতল ভারতীয় নেশাজাতীয় সিরাপ উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় মিনারুল ইসলাম (২১) নামে এক যুবককে আটক করা হয়। মঙ্গলবার (১২ মে) বিকেলে পরিচালিত এই অভিযানে সীমান্তপথে মাদক প্রবেশের একটি চক্র সক্রিয় থাকার অভিযোগ উঠে এসেছে।


গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান

স্থানীয় সূত্র ও বিজিবি জানায়, সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতীয় মাদকের একটি চালান দেশে প্রবেশ করতে পারে—এমন তথ্যের ভিত্তিতে আগে থেকেই নজরদারি বাড়ানো হয়। পরে খুলনা ব্যাটালিয়ন (২১ বিজিবি) এর অধীন গোগা বিওপির একটি টহল দল সীমান্ত সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান নেয়।


বিকেল ৩টার দিকে গোগা ইউনিয়নের একটি এলাকায় সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায় মিনারুল ইসলামকে। পরে বিজিবি সদস্যরা তাকে থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় তার কাছ থেকে ৩০ বোতল ভারতীয় নেশাজাতীয় সিরাপ উদ্ধার করা হয়।

আটক মিনারুল ইসলাম শার্শা থানার গোগা ইউনিয়নের বাসিন্দা। তিনি স্থানীয় রফিকুল ইসলামের ছেলে বলে জানা গেছে।


উদ্ধারকৃত মাদকের মূল্য প্রায় ৩২ হাজার টাকা

বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জব্দ করা সিরাপগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩২ হাজার টাকা। সীমান্ত এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই ভারতীয় বিভিন্ন মাদকদ্রব্য চোরাপথে প্রবেশের অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে ফেনসিডিল ও নেশাজাতীয় সিরাপের ছোট ছোট চালান বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে ধরা পড়ছে।

স্থানীয়দের দাবি, সীমান্তবর্তী কিছু এলাকায় মাদক কারবারিরা নানা কৌশলে সক্রিয় থাকার চেষ্টা করছে। তবে সম্প্রতি বিজিবির নজরদারি বাড়ায় এসব চক্র কিছুটা চাপের মুখে পড়েছে।


বিজিবির বক্তব্য

খুলনা ব্যাটালিয়ন (২১ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাফিজ ইমতিয়াজ আহসান অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও মাদক পাচার ঠেকাতে বিজিবির গোয়েন্দা তৎপরতা আগের চেয়ে আরও জোরদার করা হয়েছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, সীমান্তকে মাদকমুক্ত রাখতে নিয়মিত টহল ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মঙ্গলবারের অভিযানও সেই ধারাবাহিকতার অংশ।

বিজিবি আরও জানিয়েছে, আটক যুবকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে তাকে শার্শা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মাদকও জব্দ তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।


সীমান্তজুড়ে বাড়ছে উদ্বেগ

শার্শা সীমান্ত দীর্ঘদিন ধরেই চোরাচালান প্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। বিভিন্ন সময় মাদক, কসমেটিকস, স্বর্ণ কিংবা অন্যান্য অবৈধ পণ্য সীমান্ত দিয়ে পাচারের অভিযোগ উঠে এসেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বলছেন, সীমান্তের ভৌগোলিক অবস্থান এবং কিছু অসাধু চক্রের কারণে এই ঝুঁকি পুরোপুরি নির্মূল করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমান্ত এলাকায় তরুণদের মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়া সামাজিকভাবে উদ্বেগজনক। দ্রুত অর্থ আয়ের লোভ, বেকারত্ব এবং অপরাধচক্রের প্রলোভনের কারণে অনেক যুবক ঝুঁকিপূর্ণ পথে হাঁটছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তারা মনে করেন, শুধু অভিযান নয়—সচেতনতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান এবং স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে না পারলে মাদক নিয়ন্ত্রণ আরও কঠিন হয়ে পড়তে পারে।


স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া

গোগা ইউনিয়নের কয়েকজন বাসিন্দা জানান, সীমান্ত এলাকায় মাঝেমধ্যেই বিজিবির অভিযান দেখা যায়। তাদের দাবি, অভিযানের কারণে প্রকাশ্যে মাদক বহন কিছুটা কমলেও গোপনে এখনও কারবার চালানোর চেষ্টা হচ্ছে।


একজন স্থানীয় বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “মাদক শুধু একজন মানুষকে নষ্ট করে না, পুরো পরিবারকে ধ্বংস করে দেয়। সীমান্ত এলাকায় আরও কঠোর নজরদারি দরকার।”

তবে আটক মিনারুলের পরিবারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


তদন্ত ও পরবর্তী পদক্ষেপ

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, আটক ব্যক্তির সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মাদকগুলো কোথা থেকে আনা হয়েছিল এবং কার কাছে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল—সেসব বিষয় তদন্তাধীন রয়েছে।

বিজিবি বলছে, সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে ভবিষ্যতেও নিয়মিত চিরুনি অভিযান পরিচালনা করা হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগণকে সন্দেহজনক কোনো তথ্য পেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর