দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৯ মে ২০২৫

মাগুরার শিশু আছিয়া হত্যা-ধর্ষণ মামলার রায় পিছিয়েছে, সোমবার নতুন দিন

মাগুরার শিশু আছিয়া হত্যা-ধর্ষণ মামলার রায় পিছিয়েছে, সোমবার নতুন দিন

সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন তারেক রহমান, ২০ বছর পর নিউইয়র্ক সফর

অনুমোদিত নকশার বাইরে ভবন নির্মাণ বন্ধে নতুন উদ্যোগ, কী বললেন গৃহায়নমন্ত্রী?

সৌদির স্কুলের বইয়ে আমূল পরিবর্তন, ইহুদি-খ্রিস্টানদের নিয়ে বদলে গেল পুরোনো বয়ান

৬ মাস শেষে সরকারের অর্জন-সীমাবদ্ধতা জানাবেন প্রধানমন্ত্রী, চলছে সূক্ষ্ম মূল্যায়ন

দিল্লিতে শেখ হাসিনার বক্তব্য ঘিরে ঢাকা–দিল্লি টানাপোড়েন, সম্পর্ক কি আবার কঠিন পথে?

জ্বালানি খাত নিয়ে বড় সতর্কবার্তা প্রধানমন্ত্রীর, নিয়োগ হবে ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী

নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস: তরুণ প্রতিভাদের নিয়ে ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে জমজমাট সমাপনী

গভীর নিম্নচাপ উপকূলে আঘাত হানছে, ৪ ফুট জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা

গভীর নিম্নচাপ উপকূলে আঘাত হানছে, ৪ ফুট জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা

বঙ্গোপসাগর-এ সৃষ্টি হওয়া নিম্নচাপটি আরও শক্তিশালী হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে এবং ইতোমধ্যে উপকূল অতিক্রম শুরু করেছে। এতে উপকূলীয় এলাকায় ৪ ফুটের বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ মে) বিকেলে আবহাওয়ার বিশেষ বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। সংস্থাটি জানায়, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও আশপাশের এলাকায় অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি ধীরে ধীরে উত্তর দিকে এগিয়ে গিয়ে উপকূল অতিক্রম করছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গভীর নিম্নচাপটি সাগরদ্বীপ এবং খেপুপাড়া এলাকার মধ্য দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ উপকূলে প্রবেশ শুরু করেছে। সন্ধ্যার মধ্যে এটি উপকূল অতিক্রম সম্পন্ন করতে পারে এবং এরপর ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে যেতে পারে।

এই নিম্নচাপের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে দমকা থেকে ঝড়ো হাওয়া বইছে। গভীর নিম্নচাপ কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় বাতাসের গতি ঘণ্টায় প্রায় ৫০ কিলোমিটার, যা দমকা আকারে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়তে পারে। এর ফলে সাগর বেশ উত্তাল হয়ে উঠেছে।

পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা এবং পায়রা সমুদ্রবন্দরগুলোকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে উপকূলীয় এলাকাগুলোতে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

অমাবস্যার সময় হওয়ায় জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকি আরও বেড়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ভোলা, বরিশাল, খুলনা, সাতক্ষীরাসহ উপকূলীয় বহু জেলা ২ থেকে ৪ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে। দ্বীপ ও চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের জন্য ঝুঁকি বেশি বলে সতর্ক করা হয়েছে।

এ অবস্থায় উত্তর বঙ্গোপসাগরে থাকা সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাদের সমুদ্রে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে সাসকাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়-এর আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ জানিয়েছেন, গভীর নিম্নচাপটির কেন্দ্র স্থলভাগে প্রবেশের পর এটি খুলনা, ঢাকা ও রাজশাহী বিভাগের ওপর দিয়ে অগ্রসর হয়ে পরে ময়মনসিংহ ও সিলেট হয়ে ভারতের মেঘালয়ের দিকে যেতে পারে।

পটভূমি হিসেবে বলা যায়, বঙ্গোপসাগরে প্রায়ই নিম্নচাপ ও ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয়, যা বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকাগুলোর জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করে। বিশেষ করে অমাবস্যা বা পূর্ণিমার সময় জলোচ্ছ্বাসের মাত্রা আরও বেড়ে যায়, ফলে প্লাবনের আশঙ্কা বাড়ে।

সব মিলিয়ে, পরিস্থিতি এখনো ঝুঁকিপূর্ণ থাকায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষকে নিরাপদ স্থানে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা যায়।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬


গভীর নিম্নচাপ উপকূলে আঘাত হানছে, ৪ ফুট জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা

প্রকাশের তারিখ : ২৯ মে ২০২৫

featured Image

বঙ্গোপসাগর-এ সৃষ্টি হওয়া নিম্নচাপটি আরও শক্তিশালী হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে এবং ইতোমধ্যে উপকূল অতিক্রম শুরু করেছে। এতে উপকূলীয় এলাকায় ৪ ফুটের বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ মে) বিকেলে আবহাওয়ার বিশেষ বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। সংস্থাটি জানায়, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও আশপাশের এলাকায় অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি ধীরে ধীরে উত্তর দিকে এগিয়ে গিয়ে উপকূল অতিক্রম করছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গভীর নিম্নচাপটি সাগরদ্বীপ এবং খেপুপাড়া এলাকার মধ্য দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ উপকূলে প্রবেশ শুরু করেছে। সন্ধ্যার মধ্যে এটি উপকূল অতিক্রম সম্পন্ন করতে পারে এবং এরপর ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে যেতে পারে।

এই নিম্নচাপের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে দমকা থেকে ঝড়ো হাওয়া বইছে। গভীর নিম্নচাপ কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় বাতাসের গতি ঘণ্টায় প্রায় ৫০ কিলোমিটার, যা দমকা আকারে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়তে পারে। এর ফলে সাগর বেশ উত্তাল হয়ে উঠেছে।

পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা এবং পায়রা সমুদ্রবন্দরগুলোকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে উপকূলীয় এলাকাগুলোতে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

অমাবস্যার সময় হওয়ায় জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকি আরও বেড়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ভোলা, বরিশাল, খুলনা, সাতক্ষীরাসহ উপকূলীয় বহু জেলা ২ থেকে ৪ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে। দ্বীপ ও চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের জন্য ঝুঁকি বেশি বলে সতর্ক করা হয়েছে।

এ অবস্থায় উত্তর বঙ্গোপসাগরে থাকা সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাদের সমুদ্রে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে সাসকাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়-এর আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ জানিয়েছেন, গভীর নিম্নচাপটির কেন্দ্র স্থলভাগে প্রবেশের পর এটি খুলনা, ঢাকা ও রাজশাহী বিভাগের ওপর দিয়ে অগ্রসর হয়ে পরে ময়মনসিংহ ও সিলেট হয়ে ভারতের মেঘালয়ের দিকে যেতে পারে।

পটভূমি হিসেবে বলা যায়, বঙ্গোপসাগরে প্রায়ই নিম্নচাপ ও ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয়, যা বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকাগুলোর জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করে। বিশেষ করে অমাবস্যা বা পূর্ণিমার সময় জলোচ্ছ্বাসের মাত্রা আরও বেড়ে যায়, ফলে প্লাবনের আশঙ্কা বাড়ে।

সব মিলিয়ে, পরিস্থিতি এখনো ঝুঁকিপূর্ণ থাকায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষকে নিরাপদ স্থানে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা যায়।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর