প্রিন্ট এর তারিখ : ২৮ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৯ মে ২০২৫
গভীর নিম্নচাপ উপকূলে আঘাত হানছে, ৪ ফুট জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
বঙ্গোপসাগর-এ সৃষ্টি হওয়া নিম্নচাপটি আরও শক্তিশালী হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে এবং ইতোমধ্যে উপকূল অতিক্রম শুরু করেছে। এতে উপকূলীয় এলাকায় ৪ ফুটের বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।বৃহস্পতিবার (২৯ মে) বিকেলে আবহাওয়ার বিশেষ বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। সংস্থাটি জানায়, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও আশপাশের এলাকায় অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি ধীরে ধীরে উত্তর দিকে এগিয়ে গিয়ে উপকূল অতিক্রম করছে।আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গভীর নিম্নচাপটি সাগরদ্বীপ এবং খেপুপাড়া এলাকার মধ্য দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ উপকূলে প্রবেশ শুরু করেছে। সন্ধ্যার মধ্যে এটি উপকূল অতিক্রম সম্পন্ন করতে পারে এবং এরপর ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে যেতে পারে।এই নিম্নচাপের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে দমকা থেকে ঝড়ো হাওয়া বইছে। গভীর নিম্নচাপ কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় বাতাসের গতি ঘণ্টায় প্রায় ৫০ কিলোমিটার, যা দমকা আকারে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়তে পারে। এর ফলে সাগর বেশ উত্তাল হয়ে উঠেছে।পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা এবং পায়রা সমুদ্রবন্দরগুলোকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে উপকূলীয় এলাকাগুলোতে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।অমাবস্যার সময় হওয়ায় জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকি আরও বেড়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ভোলা, বরিশাল, খুলনা, সাতক্ষীরাসহ উপকূলীয় বহু জেলা ২ থেকে ৪ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে। দ্বীপ ও চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের জন্য ঝুঁকি বেশি বলে সতর্ক করা হয়েছে।এ অবস্থায় উত্তর বঙ্গোপসাগরে থাকা সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাদের সমুদ্রে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।এদিকে সাসকাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়-এর আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ জানিয়েছেন, গভীর নিম্নচাপটির কেন্দ্র স্থলভাগে প্রবেশের পর এটি খুলনা, ঢাকা ও রাজশাহী বিভাগের ওপর দিয়ে অগ্রসর হয়ে পরে ময়মনসিংহ ও সিলেট হয়ে ভারতের মেঘালয়ের দিকে যেতে পারে।পটভূমি হিসেবে বলা যায়, বঙ্গোপসাগরে প্রায়ই নিম্নচাপ ও ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয়, যা বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকাগুলোর জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করে। বিশেষ করে অমাবস্যা বা পূর্ণিমার সময় জলোচ্ছ্বাসের মাত্রা আরও বেড়ে যায়, ফলে প্লাবনের আশঙ্কা বাড়ে।
সব মিলিয়ে, পরিস্থিতি এখনো ঝুঁকিপূর্ণ থাকায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষকে নিরাপদ স্থানে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা যায়।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ হাবিব
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুর কাদের জিলানী
বিজ্ঞাপন ও তথ্য দিতেঃ 01860-519390
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর