ময়মনসিংহের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, উদ্বোধন করবেন নজরুল জন্মজয়ন্তী ও ধরার খাল পুনঃখনন
ময়মনসিংহের পথে প্রধানমন্ত্রী, ত্রিশালে একাধিক কর্মসূচি ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতিময়মনসিংহের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (২৩ মে) সকাল গড়াতেই রাজধানীর তেজগাঁও কার্যালয়ের সামনে জড়ো হতে থাকেন নেতাকর্মীরা। বেলা ১১টার দিকে সেখান থেকে সরকারি বহর নিয়ে তিনি ময়মনসিংহের পথে যাত্রা করেন। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে ত্রিশালজুড়ে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ, পাশাপাশি বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও।[TECHTARANGA-POST:1429]সরকারি সফরসূচি অনুযায়ী, দুপুরে ময়মনসিংহ পৌঁছে প্রথমেই ত্রিশালের বৈলর ইউনিয়নে ‘ধরার খাল’ পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর বিকাল ৩টায় নজরুল অ্যাকাডেমি মাঠে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম-এর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন তিনি। অনুষ্ঠান শেষে স্থানীয় অডিটরিয়ামে জেলার বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার।ত্রিশালজুড়ে বাড়তি নিরাপত্তাপ্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই ত্রিশাল ও আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা চোখে পড়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও অনুষ্ঠানস্থল ঘিরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সফর ঘিরে জনসমাগম বেশি হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।এদিকে বিভিন্ন উপজেলা থেকে দলীয় নেতাকর্মীরা সকাল থেকেই ত্রিশালের দিকে আসতে শুরু করেন। অনেকে ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে অবস্থান নেন সড়কের পাশে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের মধ্যেও সফর নিয়ে কৌতূহল দেখা গেছে।একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, জাতীয় পর্যায়ের কোনো শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সফর হলে এলাকার উন্নয়ন নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি হয়। বিশেষ করে খাল পুনঃখননের মতো প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে কৃষি ও পানি নিষ্কাশনে সুফল মিলতে পারে বলে তারা আশা করছেন।‘ধরার খাল’ নিয়ে কেন এত আলোচনা?ত্রিশালের বৈলর ইউনিয়নের ধরার খাল দীর্ঘদিন ধরে দখল, ভরাট ও অপরিকল্পিত ব্যবহারের কারণে সংকুচিত হয়ে পড়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। বর্ষা মৌসুমে পানি জমে কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে কয়েকবার। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা দাবি করছেন, পুনঃখনন শেষ হলে এলাকার জলাবদ্ধতা অনেকটাই কমবে।বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছোট নদী ও খাল হারিয়ে যাওয়ার কারণে পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। জলাবদ্ধতা, আকস্মিক বন্যা ও কৃষি সংকটের পেছনে এটিও বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তাই স্থানীয় খাল পুনরুদ্ধারের উদ্যোগগুলোকে অনেকেই ইতিবাচকভাবে দেখছেন।তবে পরিবেশবাদীদের একাংশ বলছেন, শুধু উদ্বোধন করলেই হবে না, প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করাও জরুরি। অতীতে অনেক পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ মাঝপথে থেমে যাওয়ার অভিযোগও উঠেছিল।নজরুল জন্মজয়ন্তী ঘিরে সাংস্কৃতিক আবহত্রিশাল মানেই জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতিবিজড়িত এক এলাকা। কবির স্মৃতি ঘিরে প্রতি বছর এখানকার জন্মজয়ন্তী অনুষ্ঠান ঘিরে থাকে বাড়তি আগ্রহ। এবার প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতির কারণে আয়োজনটি আরও বড় পরিসরে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, কবিতা আবৃত্তি, আলোচনা সভাসহ নানা আয়োজন রাখা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরাও এতে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে।স্থানীয় সংস্কৃতিকর্মীরা বলছেন, জাতীয় পর্যায়ের নেতৃত্ব যখন সাহিত্য ও সংস্কৃতির অনুষ্ঠানে সরাসরি যুক্ত হন, তখন তরুণদের মধ্যে সংস্কৃতি চর্চার আগ্রহ বাড়ে। একই সঙ্গে অঞ্চলভিত্তিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য নতুন করে আলোচনায় আসে।[TECHTARANGA-POST:1403]রাজনৈতিক বার্তাও থাকছে সফরেসফরের শেষ ভাগে জেলার বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভাকে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে সাংগঠনিক আলোচনা, আসন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি নিয়ে সেখানে কথা হতে পারে বলে দলীয় সূত্রে দাবি করা হচ্ছে।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় পর্যায়ের নেতাদের জেলা সফর শুধু আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; এর মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের বার্তাও দেওয়া হয়। বিশেষ করে সাংগঠনিকভাবে সক্রিয়তা বাড়ানো, স্থানীয় দ্বন্দ্ব কমানো এবং উন্নয়ন ইস্যু সামনে আনার চেষ্টা থাকে।তবে বিরোধী রাজনৈতিক মহলের কেউ কেউ দাবি করছেন, সরকারি সফরের সঙ্গে দলীয় কার্যক্রম যুক্ত হওয়ায় রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হতে পারে। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা কোথায়?ময়মনসিংহ অঞ্চলের মানুষ এখন উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন, কর্মসংস্থান ও অবকাঠামো উন্নয়নের মতো বিষয়গুলোকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। স্থানীয়দের অনেকে মনে করছেন, উচ্চপর্যায়ের সফরের পর বাস্তব উন্নয়ন কাজ দ্রুত এগোলে সেটিই হবে সবচেয়ে বড় অর্জন।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে রাজনৈতিক সফরগুলো প্রায়ই জনসম্পৃক্ততা বাড়ালেও অনেক সময় ঘোষণাগুলোর বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। তাই জনগণের আস্থা ধরে রাখতে প্রতিশ্রুত প্রকল্পগুলোর দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করা জরুরি।[TECHTARANGA-POST:1388]
একই সঙ্গে সাংস্কৃতিক আয়োজন, পরিবেশ রক্ষা ও স্থানীয় উন্নয়নকে এক সফরের আওতায় আনা রাজনৈতিকভাবে ইতিবাচক বার্তা দিতে পারে বলেও মনে করছেন অনেকে।