চলমান এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার চতুর্থ দিনে রাজধানীর বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন ঢাকা জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিজ ফরিদা খানম। মঙ্গলবার সকালে ধানমন্ডিসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা কেন্দ্র ঘুরে দেখেন তিনি এবং সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
সারাদেশে একযোগে শুরু হওয়া এসএসসি, দাখিল, এসএসসি (ভোকেশনাল) ও দাখিল (ভোকেশনাল) পরীক্ষা-২০২৬ নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী চলছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এই পরীক্ষায় লাখো শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে।
ঢাকা মহানগরীতে এ বছর মোট ১২৭টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রতিদিন সকাল থেকেই কেন্দ্রগুলোতে পরীক্ষার্থীদের উপস্থিতি, অভিভাবকদের ভিড় এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে একটি নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
পরীক্ষার চতুর্থ দিনে জেলা প্রশাসক মিজ ফরিদা খানম রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকার কয়েকটি কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল ধানমন্ডি গভঃ বয়েজ হাই স্কুল এবং লালমাটিয়া উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়।
পরিদর্শনের সময় তিনি কেন্দ্রের ভেতরে পরীক্ষার পরিবেশ, আসন বিন্যাস, শিক্ষকদের দায়িত্ব পালন এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। পাশাপাশি তিনি কেন্দ্র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে বিভিন্ন দিক সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে নিয়মিত মনিটরিংয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, পরীক্ষার প্রতিটি কক্ষ এবং কেন্দ্রের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্থাপিত সিসিটিভি কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে হবে, যাতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা অসদুপায় অবলম্বনের সুযোগ না থাকে।
এছাড়া প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে পরীক্ষা ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক ও নিরাপদ করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
জেলা প্রশাসক সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র সচিব, শিক্ষক এবং দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের উদ্দেশে পরীক্ষা পরিচালনায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেন।
তিনি বলেন, প্রশ্নপত্র বিতরণ থেকে শুরু করে উত্তরপত্র সংগ্রহ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হবে। একই সঙ্গে পরীক্ষার্থীদের যেন কোনো ধরনের মানসিক চাপ বা অস্বস্তির মধ্যে পড়তে না হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখার আহ্বান জানান।
পরিদর্শনকালে কেন্দ্রের বাইরে থাকা অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরীক্ষার পরিবেশ প্রত্যাশা করছেন।
একজন অভিভাবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমরা চাই আমাদের সন্তানরা ন্যায্যভাবে পরীক্ষা দিক। প্রশাসনের এমন নজরদারি থাকলে অনিয়ম কমবে।”
অন্যদিকে কয়েকজন পরীক্ষার্থী জানান, কেন্দ্রের পরিবেশ শান্ত এবং সহায়ক হওয়ায় তারা স্বাচ্ছন্দ্যে পরীক্ষা দিতে পারছেন।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এখন পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন কেন্দ্রে পরীক্ষা শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কোথাও বড় ধরনের কোনো অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
তবে যেকোনো ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন। প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীও প্রস্তুত রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় পরিসরে জাতীয় পাবলিক পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত কেন্দ্র পরিদর্শন, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কঠোর মনিটরিংয়ের মাধ্যমে পরীক্ষার মান বজায় রাখা সম্ভব হয়।
বিশেষ করে রাজধানীর মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এই ধরনের নজরদারি পরীক্ষার বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
সব মিলিয়ে, এসএসসি পরীক্ষা ২০২৬ উপলক্ষে ঢাকায় জেলা প্রশাসকের এই পরিদর্শন সুষ্ঠু পরীক্ষা আয়োজনের প্রতি প্রশাসনের আন্তরিকতারই প্রতিফলন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এমন ধারাবাহিক নজরদারি বজায় থাকলে পরীক্ষার পরিবেশ আরও স্বচ্ছ, নিরাপদ ও গ্রহণযোগ্য হবে।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬
চলমান এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার চতুর্থ দিনে রাজধানীর বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন ঢাকা জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিজ ফরিদা খানম। মঙ্গলবার সকালে ধানমন্ডিসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা কেন্দ্র ঘুরে দেখেন তিনি এবং সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
সারাদেশে একযোগে শুরু হওয়া এসএসসি, দাখিল, এসএসসি (ভোকেশনাল) ও দাখিল (ভোকেশনাল) পরীক্ষা-২০২৬ নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী চলছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এই পরীক্ষায় লাখো শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে।
ঢাকা মহানগরীতে এ বছর মোট ১২৭টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রতিদিন সকাল থেকেই কেন্দ্রগুলোতে পরীক্ষার্থীদের উপস্থিতি, অভিভাবকদের ভিড় এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে একটি নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
পরীক্ষার চতুর্থ দিনে জেলা প্রশাসক মিজ ফরিদা খানম রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকার কয়েকটি কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল ধানমন্ডি গভঃ বয়েজ হাই স্কুল এবং লালমাটিয়া উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়।
পরিদর্শনের সময় তিনি কেন্দ্রের ভেতরে পরীক্ষার পরিবেশ, আসন বিন্যাস, শিক্ষকদের দায়িত্ব পালন এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। পাশাপাশি তিনি কেন্দ্র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে বিভিন্ন দিক সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে নিয়মিত মনিটরিংয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, পরীক্ষার প্রতিটি কক্ষ এবং কেন্দ্রের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্থাপিত সিসিটিভি কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে হবে, যাতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা অসদুপায় অবলম্বনের সুযোগ না থাকে।
এছাড়া প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে পরীক্ষা ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক ও নিরাপদ করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
জেলা প্রশাসক সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র সচিব, শিক্ষক এবং দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের উদ্দেশে পরীক্ষা পরিচালনায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেন।
তিনি বলেন, প্রশ্নপত্র বিতরণ থেকে শুরু করে উত্তরপত্র সংগ্রহ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হবে। একই সঙ্গে পরীক্ষার্থীদের যেন কোনো ধরনের মানসিক চাপ বা অস্বস্তির মধ্যে পড়তে না হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখার আহ্বান জানান।
পরিদর্শনকালে কেন্দ্রের বাইরে থাকা অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরীক্ষার পরিবেশ প্রত্যাশা করছেন।
একজন অভিভাবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমরা চাই আমাদের সন্তানরা ন্যায্যভাবে পরীক্ষা দিক। প্রশাসনের এমন নজরদারি থাকলে অনিয়ম কমবে।”
অন্যদিকে কয়েকজন পরীক্ষার্থী জানান, কেন্দ্রের পরিবেশ শান্ত এবং সহায়ক হওয়ায় তারা স্বাচ্ছন্দ্যে পরীক্ষা দিতে পারছেন।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এখন পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন কেন্দ্রে পরীক্ষা শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কোথাও বড় ধরনের কোনো অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
তবে যেকোনো ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন। প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীও প্রস্তুত রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় পরিসরে জাতীয় পাবলিক পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত কেন্দ্র পরিদর্শন, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কঠোর মনিটরিংয়ের মাধ্যমে পরীক্ষার মান বজায় রাখা সম্ভব হয়।
বিশেষ করে রাজধানীর মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এই ধরনের নজরদারি পরীক্ষার বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
সব মিলিয়ে, এসএসসি পরীক্ষা ২০২৬ উপলক্ষে ঢাকায় জেলা প্রশাসকের এই পরিদর্শন সুষ্ঠু পরীক্ষা আয়োজনের প্রতি প্রশাসনের আন্তরিকতারই প্রতিফলন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এমন ধারাবাহিক নজরদারি বজায় থাকলে পরীক্ষার পরিবেশ আরও স্বচ্ছ, নিরাপদ ও গ্রহণযোগ্য হবে।

আপনার মতামত লিখুন