দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
আপডেট : শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

গুম-শহীদ পরিবারের পাশে আমিনুল হক, ঈদ উপহার ও আর্থিক সহায়তা প্রদান

গুম-শহীদ পরিবারের পাশে আমিনুল হক, ঈদ উপহার ও আর্থিক সহায়তা প্রদান

ঈদযাত্রার সকালে রাজধানীতে ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনা, নর্দ্দায় নিহত ৪, আহত বহু

নরসিংদীর রায়পুরায় তৃতীয় লিঙ্গের সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা, আতঙ্কে এলাকাবাসী

টাঙ্গাইলে যমুনা সেতুর পূর্বপাড়ে ট্রাক দুর্ঘটনায় ১৫ প্রাণহানি, শোকে স্তব্ধ চাপাইনবাবগঞ্জ

বাংলাদেশ পরিচ্ছন্ন জ্বালানির পথে এগোচ্ছে, সংসদ ভবনে ১ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প উদ্বোধন

রায়পুরায় নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা, আতঙ্কে স্থানীয়রা

ঈদে ঘরমুখো মানুষের নিরাপত্তায় তুরাগ থানার বিশেষ প্রস্তুতি, ২৪ দিনে গ্রেপ্তার ২৯৬

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সিআরপি প্রতিনিধিদের সাক্ষাৎ, পুনর্বাসন সেবার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়

টানা বৃষ্টিতে খাগড়াছড়িতে বন্যা, হাজারো মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে

টানা বৃষ্টিতে খাগড়াছড়িতে বন্যা, হাজারো মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে
-ছবি: সংগৃহীত

টানা চার দিনের ভারী বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলের কারণে খাগড়াছড়ি জেলায় ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। শনিবার থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত থামেনি। এতে জেলার নিম্নাঞ্চলগুলো পানির নিচে চলে গেছে। ঘরবাড়ি, সড়ক ও বিভিন্ন জনপদ ডুবে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা প্রায় অচল হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, চেঙ্গী, মাইনি এবং ফেনী নদীর পানি বিপদসীমার কাছাকাছি বা তার উপরে প্রবাহিত হচ্ছে। পাহাড়ি এলাকা থেকে নেমে আসা ঢল ও টানা বৃষ্টির কারণে নদীগুলো উপচে আশপাশের এলাকা প্লাবিত করছে। খাগড়াছড়ির অন্তত ৯টি উপজেলায় পানিবন্দি পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নিচু এলাকার গ্রাম ও বসতবাড়ি। অনেক ঘরবাড়ি পানিতে ডুবে যাওয়ায় মানুষ বাধ্য হয়ে উঁচু জায়গা বা আশ্রয়কেন্দ্রে চলে গেছে। একই সঙ্গে গ্রামীণ সড়কগুলো পানির নিচে চলে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। কোথাও কোথাও নৌকা ছাড়া চলাচল করা যাচ্ছে না।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৯৯টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে হাজার হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে। অনেকেই খোলা আকাশের নিচে বা অস্থায়ী আশ্রয়ে দিন কাটাচ্ছেন।

স্থানীয়রা জানান, হঠাৎ করে পানি বেড়ে যাওয়ায় তারা ঘরবাড়ি রক্ষা করতে পারেননি। অনেকেই প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রও বের করতে পারেননি। ফলে খাদ্য ও পানীয় জলের সংকটও দেখা দিয়েছে কিছু এলাকায়। কিছু স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও স্থানীয় প্রশাসন ত্রাণ সহায়তা শুরু করেছে, তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় কম বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।

খাগড়াছড়ি পার্বত্য অঞ্চল সাধারণত বর্ষাকালে পাহাড়ি ঢল ও ভারী বৃষ্টির কারণে বন্যার ঝুঁকিতে থাকে। পাহাড় কেটে বসতি স্থাপন, বন উজাড় এবং নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়াও এই ধরনের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে বলে স্থানীয় বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

অতীতেও এই অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিতে বড় ধরনের বন্যা দেখা গেছে। বিশেষ করে চেঙ্গী ও মাইনি নদীর পানি বাড়লে আশপাশের এলাকা দ্রুত প্লাবিত হয়। ফলে প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে এখানকার মানুষকে একই ধরনের দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবেলায় তারা নিয়মিত নজরদারি করছে। পানিবন্দি মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া এবং ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পাশাপাশি নদীর পানি কমে গেলে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করা হবে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, দ্রুত স্থায়ী সমাধান না হলে প্রতি বছর এমন দুর্ভোগ আরও বাড়বে। তাই নদী ব্যবস্থাপনা ও পাহাড় সংরক্ষণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

বর্তমানে খাগড়াছড়িতে বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। ফলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রশাসন ও স্থানীয়রা সবাই মিলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

বুধবার, ২৭ মে ২০২৬


টানা বৃষ্টিতে খাগড়াছড়িতে বন্যা, হাজারো মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে

প্রকাশের তারিখ : ২০ আগস্ট ২০২৪

featured Image

টানা চার দিনের ভারী বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলের কারণে খাগড়াছড়ি জেলায় ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। শনিবার থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত থামেনি। এতে জেলার নিম্নাঞ্চলগুলো পানির নিচে চলে গেছে। ঘরবাড়ি, সড়ক ও বিভিন্ন জনপদ ডুবে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা প্রায় অচল হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, চেঙ্গী, মাইনি এবং ফেনী নদীর পানি বিপদসীমার কাছাকাছি বা তার উপরে প্রবাহিত হচ্ছে। পাহাড়ি এলাকা থেকে নেমে আসা ঢল ও টানা বৃষ্টির কারণে নদীগুলো উপচে আশপাশের এলাকা প্লাবিত করছে। খাগড়াছড়ির অন্তত ৯টি উপজেলায় পানিবন্দি পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নিচু এলাকার গ্রাম ও বসতবাড়ি। অনেক ঘরবাড়ি পানিতে ডুবে যাওয়ায় মানুষ বাধ্য হয়ে উঁচু জায়গা বা আশ্রয়কেন্দ্রে চলে গেছে। একই সঙ্গে গ্রামীণ সড়কগুলো পানির নিচে চলে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। কোথাও কোথাও নৌকা ছাড়া চলাচল করা যাচ্ছে না।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৯৯টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে হাজার হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে। অনেকেই খোলা আকাশের নিচে বা অস্থায়ী আশ্রয়ে দিন কাটাচ্ছেন।

স্থানীয়রা জানান, হঠাৎ করে পানি বেড়ে যাওয়ায় তারা ঘরবাড়ি রক্ষা করতে পারেননি। অনেকেই প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রও বের করতে পারেননি। ফলে খাদ্য ও পানীয় জলের সংকটও দেখা দিয়েছে কিছু এলাকায়। কিছু স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও স্থানীয় প্রশাসন ত্রাণ সহায়তা শুরু করেছে, তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় কম বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।

খাগড়াছড়ি পার্বত্য অঞ্চল সাধারণত বর্ষাকালে পাহাড়ি ঢল ও ভারী বৃষ্টির কারণে বন্যার ঝুঁকিতে থাকে। পাহাড় কেটে বসতি স্থাপন, বন উজাড় এবং নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়াও এই ধরনের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে বলে স্থানীয় বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

অতীতেও এই অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিতে বড় ধরনের বন্যা দেখা গেছে। বিশেষ করে চেঙ্গী ও মাইনি নদীর পানি বাড়লে আশপাশের এলাকা দ্রুত প্লাবিত হয়। ফলে প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে এখানকার মানুষকে একই ধরনের দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবেলায় তারা নিয়মিত নজরদারি করছে। পানিবন্দি মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া এবং ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পাশাপাশি নদীর পানি কমে গেলে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করা হবে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, দ্রুত স্থায়ী সমাধান না হলে প্রতি বছর এমন দুর্ভোগ আরও বাড়বে। তাই নদী ব্যবস্থাপনা ও পাহাড় সংরক্ষণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

বর্তমানে খাগড়াছড়িতে বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। ফলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রশাসন ও স্থানীয়রা সবাই মিলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর