দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

বিশ্ব পরিবেশ দিবসে দিনাজপুরে মহিলা পরিষদের বৃক্ষরোপণ ও আলোচনা সভা

বিশ্ব পরিবেশ দিবসে দিনাজপুরে মহিলা পরিষদের বৃক্ষরোপণ ও আলোচনা সভা

খুলনা বিভাগে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের অভিযান, ১১ প্রতিষ্ঠানকে ৮২ হাজার টাকা জরিমানা

নাটোর সদর হাসপাতালে শিশুর মাকে ধর্ষণের অভিযোগ, তিন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা; ভিডিও ধারণেরও অভিযোগ

দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগের নেপথ্যে কী? পার্বত্য জেলা পরিষদ গঠন, দলীয় দ্বন্দ্ব ও রাজনৈতিক চাপের অভিযোগ

মান্দার হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থল পরিদর্শনে পুলিশ সুপার, আটক দুই; প্রকৃত জড়িতদের খুঁজছে পুলিশ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দোকানের জায়গা নিয়ে সংঘর্ষ, ২০ জন আহত; গ্রেপ্তার ৫

শেরপুরে একই মাদরাসার তিন শিশুসহ পাঁচজন নিখোঁজ, উৎকণ্ঠায় পরিবার; তদন্তে পুলিশ

কটিয়াদীতে বাবার মৃত্যুতে ঢোল-বাঁশি বাজানোর কাণ্ড: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড়, ক্ষমা চাইলেন সন্তান

কক্সবাজার সীমান্তে চোরাচালান দমনে অভিযান, মিললো গোলাবারুদ ও অস্ত্র

কক্সবাজার সীমান্তে চোরাচালান দমনে অভিযান, মিললো গোলাবারুদ ও অস্ত্র
-ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারের উখিয়ায় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবির একটি বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার ভোরে পরিচালিত এ অভিযানে ২৮২ রাউন্ড গুলি এবং একটি দেশীয় অস্ত্র জব্দ করা হয়, যা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বিজিবির ৬৪ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা গোপন তথ্যের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করেন। জানা গেছে, উখিয়ার একটি নির্দিষ্ট এলাকায় সন্দেহজনক কার্যক্রমের খবর পেয়ে তারা দ্রুত সেখানে অভিযান চালান। অভিযানের সময় একটি পরিত্যক্ত স্থানে তল্লাশি চালিয়ে এসব গোলাবারুদ ও অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে।


বিজিবি সূত্রে বলা হয়েছে, উদ্ধার হওয়া ২৮২ রাউন্ড গুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এগুলো কোনো ধরনের অপরাধমূলক কাজে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে মজুদ করা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি যে দেশীয় অস্ত্রটি পাওয়া গেছে, সেটিও স্থানীয় পর্যায়ে অপরাধ বা সহিংস কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হতে পারত।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বিজিবি সদস্যরা আশপাশের এলাকায় টহল বাড়িয়েছে এবং সম্ভাব্য জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত চালাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদেরও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে এবং সন্দেহজনক কিছু দেখলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

উখিয়া এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই সীমান্তসংলগ্ন হওয়ায় বিভিন্ন ধরনের চোরাচালান ও অবৈধ কার্যক্রমের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে মিয়ানমার সীমান্তের কাছাকাছি হওয়ায় এখানে অস্ত্র, মাদক এবং মানবপাচারের মতো অপরাধের ঘটনা মাঝেমধ্যেই শোনা যায়। ফলে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত চালিয়ে যাচ্ছে বিজিবি।

বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড বা বিজিবির মূল কাজ হলো দেশের সীমান্ত রক্ষা করা এবং সীমান্ত এলাকায় যেকোনো অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধ করা। তারা নিয়মিত টহল, চেকপোস্ট এবং বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে এসব দায়িত্ব পালন করে থাকে। সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে, যাতে অপরাধীরা সহজে সক্রিয় হতে না পারে।

স্থানীয়রা বলছেন, এ ধরনের অভিযান এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি উন্নত করতে সাহায্য করে। অনেকেই মনে করছেন, বিজিবির এ তৎপরতার কারণে অপরাধীরা এখন আগের মতো সহজে তাদের কার্যক্রম চালাতে পারছে না। তবে তারা একই সঙ্গে নিয়মিত নজরদারি বজায় রাখারও দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, উদ্ধার হওয়া গোলাবারুদ কোথা থেকে এসেছে এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে অন্যান্য সংস্থার সহযোগিতাও নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, উখিয়ায় বিজিবির এই অভিযান সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। যদিও এখনো কাউকে আটক করা যায়নি, তবে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ উদ্ধার হওয়ায় সম্ভাব্য বড় ধরনের অপরাধ প্রতিরোধ করা গেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলে সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিষয় : কক্সবাজার চোরাচালান গোলাবারুদ

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬


কক্সবাজার সীমান্তে চোরাচালান দমনে অভিযান, মিললো গোলাবারুদ ও অস্ত্র

প্রকাশের তারিখ : ২৭ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

কক্সবাজারের উখিয়ায় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবির একটি বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার ভোরে পরিচালিত এ অভিযানে ২৮২ রাউন্ড গুলি এবং একটি দেশীয় অস্ত্র জব্দ করা হয়, যা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বিজিবির ৬৪ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা গোপন তথ্যের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করেন। জানা গেছে, উখিয়ার একটি নির্দিষ্ট এলাকায় সন্দেহজনক কার্যক্রমের খবর পেয়ে তারা দ্রুত সেখানে অভিযান চালান। অভিযানের সময় একটি পরিত্যক্ত স্থানে তল্লাশি চালিয়ে এসব গোলাবারুদ ও অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে।


বিজিবি সূত্রে বলা হয়েছে, উদ্ধার হওয়া ২৮২ রাউন্ড গুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এগুলো কোনো ধরনের অপরাধমূলক কাজে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে মজুদ করা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি যে দেশীয় অস্ত্রটি পাওয়া গেছে, সেটিও স্থানীয় পর্যায়ে অপরাধ বা সহিংস কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হতে পারত।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বিজিবি সদস্যরা আশপাশের এলাকায় টহল বাড়িয়েছে এবং সম্ভাব্য জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত চালাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদেরও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে এবং সন্দেহজনক কিছু দেখলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

উখিয়া এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই সীমান্তসংলগ্ন হওয়ায় বিভিন্ন ধরনের চোরাচালান ও অবৈধ কার্যক্রমের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে মিয়ানমার সীমান্তের কাছাকাছি হওয়ায় এখানে অস্ত্র, মাদক এবং মানবপাচারের মতো অপরাধের ঘটনা মাঝেমধ্যেই শোনা যায়। ফলে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত চালিয়ে যাচ্ছে বিজিবি।

বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড বা বিজিবির মূল কাজ হলো দেশের সীমান্ত রক্ষা করা এবং সীমান্ত এলাকায় যেকোনো অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধ করা। তারা নিয়মিত টহল, চেকপোস্ট এবং বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে এসব দায়িত্ব পালন করে থাকে। সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে, যাতে অপরাধীরা সহজে সক্রিয় হতে না পারে।

স্থানীয়রা বলছেন, এ ধরনের অভিযান এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি উন্নত করতে সাহায্য করে। অনেকেই মনে করছেন, বিজিবির এ তৎপরতার কারণে অপরাধীরা এখন আগের মতো সহজে তাদের কার্যক্রম চালাতে পারছে না। তবে তারা একই সঙ্গে নিয়মিত নজরদারি বজায় রাখারও দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, উদ্ধার হওয়া গোলাবারুদ কোথা থেকে এসেছে এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে অন্যান্য সংস্থার সহযোগিতাও নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, উখিয়ায় বিজিবির এই অভিযান সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। যদিও এখনো কাউকে আটক করা যায়নি, তবে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ উদ্ধার হওয়ায় সম্ভাব্য বড় ধরনের অপরাধ প্রতিরোধ করা গেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলে সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর