রাজধানীর ডেমরা এলাকায় এক নারীর ক্রয়কৃত জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধ করে দিয়েছে পুলিশ।
ঘটনাটি ঘটেছে রাজধানীর ডেমরা থানাধীন Demra-এর শান্তিবাগ হাজী বাদশা মিয়া রোড সংলগ্ন এলাকায়। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই এলাকার বাসিন্দা হনুফা আক্তার তার নিজস্ব ক্রয়কৃত জমিতে সম্প্রতি বাউন্ডারি নির্মাণ শুরু করলে সেখানে বাধা সৃষ্টি করা হয়।
ভুক্তভোগীর দাবি, ওই জমির মালিকানা তার নামে বৈধভাবে রয়েছে, কিন্তু একটি পক্ষ জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করছে।
অভিযোগে নাম এসেছে স্থানীয় Shamsul Haque School and College-এর শিক্ষক রমজান আলীর, যাকে এলাকাবাসী “রমজান মাস্টার” নামেও চেনে।
ভুক্তভোগী হনুফা আক্তারের অভিযোগ, রমজান আলী ও তার সহযোগীরা তার জমিতে অবৈধভাবে প্রবেশ করে বাউন্ডারি নির্মাণে বাধা দেন এবং পরে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেন।
তিনি বলেন, “আমি নিজের কেনা জমিতে কাজ করতে গেলে আমাকে ভয় দেখানো হয়। এখন আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই ঘটনার সঙ্গে আরও কয়েকজন জড়িত থাকতে পারেন। তাদের মধ্যে কালাম, মোহাম্মদ আলী জিন্নাহসহ প্রায় ১০ থেকে ১৫ জনের একটি দল রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এলাকাবাসীর দাবি, ওই দলটি একত্র হয়ে জমিটি দখলের চেষ্টা করছে এবং নিয়মিতভাবে সেখানে বাধা সৃষ্টি করছে।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “এখানে কয়েকদিন ধরে উত্তেজনা চলছিল। হঠাৎ কাজ শুরু হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যায়।”
ঘটনার পর ভুক্তভোগী পক্ষ থানায় অভিযোগ করলে ডেমরা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে চলমান নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়।
পুলিশের উপস্থিতিতে আপাতত এলাকায় পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এলাকায় এখনো উত্তেজনা বিরাজ করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজধানীতে জমি সংক্রান্ত বিরোধ নতুন নয়। বিশেষ করে ডেমরা, যাত্রাবাড়ী ও শনির আখড়া এলাকায় এমন অভিযোগ প্রায়ই দেখা যায়।
Jatrabari এবং Shonir Akhra-এর মতো এলাকায় জমির দাম বৃদ্ধি, দ্রুত নগরায়ন এবং মালিকানা জটিলতার কারণে এ ধরনের সংঘাত বাড়ছে।
একজন নগর পরিকল্পনাবিদ বলেন, “ঢাকায় জমির মূল্য ও চাহিদা যেভাবে বাড়ছে, তাতে ছোটখাটো বিরোধও বড় সংঘাতে রূপ নিচ্ছে।”
ডেমরা ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এখানে আবাসিক ও বাণিজ্যিক স্থাপনা দ্রুত বাড়ছে, ফলে জমি নিয়ে বিরোধও তুলনামূলক বেশি দেখা যায়।
Dhaka Metropolitan Police নিয়মিতভাবে এসব ঘটনায় হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ ঘটনায় পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন, দ্রুত এবং নিরপেক্ষ তদন্ত না হলে এলাকায় অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে। তারা দাবি করেছেন, প্রকৃত মালিক যেন নিরাপত্তা পান এবং অবৈধ দখলদারির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
একজন বাসিন্দা বলেন, “এ ধরনের ঘটনা বারবার ঘটলে সাধারণ মানুষ আতঙ্কে থাকবে।”
এ ঘটনায় অভিযুক্ত রমজান আলীর পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্যান্য অভিযুক্তদের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ডেমরায় জমি দখলকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট এই ঘটনা আবারও রাজধানীর ভূমি ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ এবং উত্তেজনার মধ্যে এখন নজর পুলিশের তদন্তের দিকে।
স্থানীয়রা দ্রুত ন্যায়বিচার এবং স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি আর না তৈরি হয়।

মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬
রাজধানীর ডেমরা এলাকায় এক নারীর ক্রয়কৃত জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধ করে দিয়েছে পুলিশ।
ঘটনাটি ঘটেছে রাজধানীর ডেমরা থানাধীন Demra-এর শান্তিবাগ হাজী বাদশা মিয়া রোড সংলগ্ন এলাকায়। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই এলাকার বাসিন্দা হনুফা আক্তার তার নিজস্ব ক্রয়কৃত জমিতে সম্প্রতি বাউন্ডারি নির্মাণ শুরু করলে সেখানে বাধা সৃষ্টি করা হয়।
ভুক্তভোগীর দাবি, ওই জমির মালিকানা তার নামে বৈধভাবে রয়েছে, কিন্তু একটি পক্ষ জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করছে।
অভিযোগে নাম এসেছে স্থানীয় Shamsul Haque School and College-এর শিক্ষক রমজান আলীর, যাকে এলাকাবাসী “রমজান মাস্টার” নামেও চেনে।
ভুক্তভোগী হনুফা আক্তারের অভিযোগ, রমজান আলী ও তার সহযোগীরা তার জমিতে অবৈধভাবে প্রবেশ করে বাউন্ডারি নির্মাণে বাধা দেন এবং পরে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেন।
তিনি বলেন, “আমি নিজের কেনা জমিতে কাজ করতে গেলে আমাকে ভয় দেখানো হয়। এখন আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই ঘটনার সঙ্গে আরও কয়েকজন জড়িত থাকতে পারেন। তাদের মধ্যে কালাম, মোহাম্মদ আলী জিন্নাহসহ প্রায় ১০ থেকে ১৫ জনের একটি দল রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এলাকাবাসীর দাবি, ওই দলটি একত্র হয়ে জমিটি দখলের চেষ্টা করছে এবং নিয়মিতভাবে সেখানে বাধা সৃষ্টি করছে।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “এখানে কয়েকদিন ধরে উত্তেজনা চলছিল। হঠাৎ কাজ শুরু হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যায়।”
ঘটনার পর ভুক্তভোগী পক্ষ থানায় অভিযোগ করলে ডেমরা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে চলমান নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়।
পুলিশের উপস্থিতিতে আপাতত এলাকায় পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এলাকায় এখনো উত্তেজনা বিরাজ করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজধানীতে জমি সংক্রান্ত বিরোধ নতুন নয়। বিশেষ করে ডেমরা, যাত্রাবাড়ী ও শনির আখড়া এলাকায় এমন অভিযোগ প্রায়ই দেখা যায়।
Jatrabari এবং Shonir Akhra-এর মতো এলাকায় জমির দাম বৃদ্ধি, দ্রুত নগরায়ন এবং মালিকানা জটিলতার কারণে এ ধরনের সংঘাত বাড়ছে।
একজন নগর পরিকল্পনাবিদ বলেন, “ঢাকায় জমির মূল্য ও চাহিদা যেভাবে বাড়ছে, তাতে ছোটখাটো বিরোধও বড় সংঘাতে রূপ নিচ্ছে।”
ডেমরা ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এখানে আবাসিক ও বাণিজ্যিক স্থাপনা দ্রুত বাড়ছে, ফলে জমি নিয়ে বিরোধও তুলনামূলক বেশি দেখা যায়।
Dhaka Metropolitan Police নিয়মিতভাবে এসব ঘটনায় হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ ঘটনায় পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন, দ্রুত এবং নিরপেক্ষ তদন্ত না হলে এলাকায় অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে। তারা দাবি করেছেন, প্রকৃত মালিক যেন নিরাপত্তা পান এবং অবৈধ দখলদারির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
একজন বাসিন্দা বলেন, “এ ধরনের ঘটনা বারবার ঘটলে সাধারণ মানুষ আতঙ্কে থাকবে।”
এ ঘটনায় অভিযুক্ত রমজান আলীর পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্যান্য অভিযুক্তদের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ডেমরায় জমি দখলকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট এই ঘটনা আবারও রাজধানীর ভূমি ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ এবং উত্তেজনার মধ্যে এখন নজর পুলিশের তদন্তের দিকে।
স্থানীয়রা দ্রুত ন্যায়বিচার এবং স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি আর না তৈরি হয়।

আপনার মতামত লিখুন