পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশ্যে এ বছর সৌদি আরবে বাংলাদেশিদের যাত্রা পুরোদমে চলছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দিবাগত রাত পর্যন্ত মোট ৩২ হাজার ৫৩২ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী ইতোমধ্যে সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। যাত্রীদের এই ধারাবাহিক যাত্রা আগামী কয়েক সপ্তাহ ধরে আরও চলবে।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ বিষয়ক বিশেষ বুলেটিনে জানানো হয়েছে, এবারের হজযাত্রীদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় গেছেন ৩ হাজার ২৮৪ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় গেছেন ২৯ হাজার ২৪৮ জন। প্রতি বছরই দেখা যায়, বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রীর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি থাকে, কারণ এতে প্যাকেজের বৈচিত্র্য এবং সুবিধা বেশি থাকে।
ফ্লাইট পরিচালনার দিক থেকেও এবার বেশ বড় আকারে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পরিচালিত ৩৩টি ফ্লাইট, সৌদি এয়ারলাইন্স এর ৩০টি ফ্লাইট এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স এর ১৮টি ফ্লাইটের মাধ্যমে যাত্রীদের সৌদি আরবে নেওয়া হয়েছে। এই তিনটি এয়ারলাইন্স মিলেই মূলত বাংলাদেশ থেকে হজযাত্রী পরিবহনের দায়িত্ব পালন করছে।
তবে সুখবরের পাশাপাশি দুঃসংবাদও এসেছে। এখন পর্যন্ত সৌদি আরবে গিয়ে দুইজন বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। তাদের একজন, মো. আবুল কাশেম (৭০), গত ২২ এপ্রিল মক্কা-তে মারা যান। এর আগের দিন জয়পুরহাটের মো. নইম উদ্দীন মন্ডল মৃত্যুবরণ করেন। প্রতি বছর হজের সময় বয়সজনিত অসুস্থতা বা শারীরিক জটিলতার কারণে কিছু সংখ্যক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে, যা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।
এ বছরের হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাব্য তারিখ ধরা হয়েছে আগামী ২৬ মে, যা চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করবে। ইসলাম ধর্মে হজ একটি ফরজ ইবাদত, যা সামর্থ্যবান মুসলমানদের জীবনে অন্তত একবার পালন করা বাধ্যতামূলক। হজের সময় বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখো মুসলমান একত্রিত হন সৌদি আরব-এর পবিত্র স্থানগুলোতে, বিশেষ করে মক্কা ও মদিনায়।
বাংলাদেশ থেকে হজযাত্রা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় গত ১৮ এপ্রিল। রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনের পর থেকেই প্রতিদিন নিয়মিত ফ্লাইটে যাত্রীরা সৌদির উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন। এই যাত্রা চলবে আগামী ৩১ মে পর্যন্ত।
অন্যদিকে, হজ শেষে দেশে ফেরার প্রস্তুতিও ইতোমধ্যে নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে ৩০ মে থেকে এবং শেষ হবে ৩০ জুন। অর্থাৎ প্রায় এক মাস ধরে দেশে ফেরার কার্যক্রম চলবে।
পটভূমি হিসেবে বলা যায়, বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ হজযাত্রী প্রেরণকারী দেশগুলোর একটি। প্রতি বছর লাখের কাছাকাছি মানুষ হজ পালনের জন্য নিবন্ধন করেন। সরকার ও বেসরকারি হজ এজেন্সিগুলো যৌথভাবে এই বিশাল ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করে থাকে। যাত্রীদের নিরাপত্তা, আবাসন, চিকিৎসা এবং পরিবহন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ও সৌদি আরব—দুই দেশের কর্তৃপক্ষই সমন্বিতভাবে কাজ করে।
সব মিলিয়ে, এবারের হজযাত্রা এখন পর্যন্ত স্বাভাবিক গতিতেই এগোচ্ছে। কিছু বিচ্ছিন্ন দুঃখজনক ঘটনা থাকলেও সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। সামনে আরও হাজারো যাত্রী সৌদি আরবে যাবেন—তাদের যাত্রা যেন নির্বিঘ্ন হয়, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা।
বিষয় : হজযাত্রা ইতোমধ্যে দুইজনের মৃত্যু

শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬
পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশ্যে এ বছর সৌদি আরবে বাংলাদেশিদের যাত্রা পুরোদমে চলছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দিবাগত রাত পর্যন্ত মোট ৩২ হাজার ৫৩২ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী ইতোমধ্যে সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। যাত্রীদের এই ধারাবাহিক যাত্রা আগামী কয়েক সপ্তাহ ধরে আরও চলবে।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ বিষয়ক বিশেষ বুলেটিনে জানানো হয়েছে, এবারের হজযাত্রীদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় গেছেন ৩ হাজার ২৮৪ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় গেছেন ২৯ হাজার ২৪৮ জন। প্রতি বছরই দেখা যায়, বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রীর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি থাকে, কারণ এতে প্যাকেজের বৈচিত্র্য এবং সুবিধা বেশি থাকে।
ফ্লাইট পরিচালনার দিক থেকেও এবার বেশ বড় আকারে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পরিচালিত ৩৩টি ফ্লাইট, সৌদি এয়ারলাইন্স এর ৩০টি ফ্লাইট এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স এর ১৮টি ফ্লাইটের মাধ্যমে যাত্রীদের সৌদি আরবে নেওয়া হয়েছে। এই তিনটি এয়ারলাইন্স মিলেই মূলত বাংলাদেশ থেকে হজযাত্রী পরিবহনের দায়িত্ব পালন করছে।
তবে সুখবরের পাশাপাশি দুঃসংবাদও এসেছে। এখন পর্যন্ত সৌদি আরবে গিয়ে দুইজন বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। তাদের একজন, মো. আবুল কাশেম (৭০), গত ২২ এপ্রিল মক্কা-তে মারা যান। এর আগের দিন জয়পুরহাটের মো. নইম উদ্দীন মন্ডল মৃত্যুবরণ করেন। প্রতি বছর হজের সময় বয়সজনিত অসুস্থতা বা শারীরিক জটিলতার কারণে কিছু সংখ্যক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে, যা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।
এ বছরের হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাব্য তারিখ ধরা হয়েছে আগামী ২৬ মে, যা চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করবে। ইসলাম ধর্মে হজ একটি ফরজ ইবাদত, যা সামর্থ্যবান মুসলমানদের জীবনে অন্তত একবার পালন করা বাধ্যতামূলক। হজের সময় বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখো মুসলমান একত্রিত হন সৌদি আরব-এর পবিত্র স্থানগুলোতে, বিশেষ করে মক্কা ও মদিনায়।
বাংলাদেশ থেকে হজযাত্রা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় গত ১৮ এপ্রিল। রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনের পর থেকেই প্রতিদিন নিয়মিত ফ্লাইটে যাত্রীরা সৌদির উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন। এই যাত্রা চলবে আগামী ৩১ মে পর্যন্ত।
অন্যদিকে, হজ শেষে দেশে ফেরার প্রস্তুতিও ইতোমধ্যে নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে ৩০ মে থেকে এবং শেষ হবে ৩০ জুন। অর্থাৎ প্রায় এক মাস ধরে দেশে ফেরার কার্যক্রম চলবে।
পটভূমি হিসেবে বলা যায়, বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ হজযাত্রী প্রেরণকারী দেশগুলোর একটি। প্রতি বছর লাখের কাছাকাছি মানুষ হজ পালনের জন্য নিবন্ধন করেন। সরকার ও বেসরকারি হজ এজেন্সিগুলো যৌথভাবে এই বিশাল ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করে থাকে। যাত্রীদের নিরাপত্তা, আবাসন, চিকিৎসা এবং পরিবহন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ও সৌদি আরব—দুই দেশের কর্তৃপক্ষই সমন্বিতভাবে কাজ করে।
সব মিলিয়ে, এবারের হজযাত্রা এখন পর্যন্ত স্বাভাবিক গতিতেই এগোচ্ছে। কিছু বিচ্ছিন্ন দুঃখজনক ঘটনা থাকলেও সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। সামনে আরও হাজারো যাত্রী সৌদি আরবে যাবেন—তাদের যাত্রা যেন নির্বিঘ্ন হয়, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা।

আপনার মতামত লিখুন