নওগাঁয় জমি দখলের উদ্দেশ্যে জাল দলিল তৈরি ও প্রতারণার অভিযোগে চারজনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। অভিযুক্তরা জামিনের আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করে তাদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
ঘটনাটি ঘটে বুধবার নওগাঁর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে। মামলার শুনানিতে আসামিরা জামিন চাইলে আদালত তাদের আবেদন প্রত্যাখ্যান করেন এবং কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
কারাগারে পাঠানো চারজন হলেন নওগাঁ পৌরসভার চকরামচন্দ্র এলাকার মতিউর রহমান, আবু বক্কর সিদ্দিক, মোস্তাফিজুর রহমান এবং মশিউর রহমান। মামলার আরেক আসামি জয়নাল আবেদীনের বিরুদ্ধেও প্রতারণার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে জানা গেছে।
মামলার সূত্রে জানা যায়, নওগাঁ সদর উপজেলার চকরামচন্দ্র মৌজার একটি জমির মালিকানা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। বিষয়টি মীমাংসার জন্য ২০২৫ সালের ১৯ এপ্রিল নওগাঁ জেলা অ্যাডভোকেট বার ভবনে দুই পক্ষকে আইনজীবীদের উপস্থিতিতে আলোচনায় বসানো হয়।
সেখানে বিবাদীপক্ষ একটি দলিল দেখিয়ে জমির মালিকানা দাবি করে। কিন্তু পরবর্তীতে যাচাই-বাছাই করলে দেখা যায়, ওই দলিলটি ভুয়া এবং জমির প্রকৃত কাগজপত্রের সঙ্গে এর কোনো মিল নেই।
এরপর ভুক্তভোগী পক্ষ আদালতে মামলা দায়ের করে। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-কে।
তদন্তে পিবিআই দেখতে পায়, অভিযুক্তরা পরস্পরের যোগসাজশে অন্যের মালিকানাধীন জমি দখলের উদ্দেশ্যে জাল দলিল তৈরি করে তা ব্যবহার করেছেন। কয়েকজন আসামি প্রকৃত মালিকানা না থাকা সত্ত্বেও জমিকে নিজেদের বলে দাবি করেন এবং নথিপত্র জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি করেন।
পিবিআই-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, অভিযুক্তদের কর্মকাণ্ড ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩-এর বিভিন্ন ধারায় অপরাধের আওতায় পড়ে। তদন্ত শেষে সম্প্রতি প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হয়।
আইন অনুযায়ী, জমি সংক্রান্ত জালিয়াতি ও প্রতারণার ঘটনা দেশে একটি গুরুতর সমস্যা হিসেবে দেখা হয়। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের সুযোগে অনেক সময় ভুয়া দলিল তৈরি করে প্রতারণার ঘটনা ঘটে থাকে।
আইনজীবীরা বলছেন, এ ধরনের অপরাধ রোধে ভূমি রেকর্ড ডিজিটালাইজেশন এবং কঠোর নজরদারি আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
সব মিলিয়ে নওগাঁর এই ঘটনায় জাল দলিল ও প্রতারণার মাধ্যমে জমি দখলের চেষ্টা প্রমাণিত হওয়ায় চারজনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে, যা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬
নওগাঁয় জমি দখলের উদ্দেশ্যে জাল দলিল তৈরি ও প্রতারণার অভিযোগে চারজনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। অভিযুক্তরা জামিনের আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করে তাদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
ঘটনাটি ঘটে বুধবার নওগাঁর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে। মামলার শুনানিতে আসামিরা জামিন চাইলে আদালত তাদের আবেদন প্রত্যাখ্যান করেন এবং কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
কারাগারে পাঠানো চারজন হলেন নওগাঁ পৌরসভার চকরামচন্দ্র এলাকার মতিউর রহমান, আবু বক্কর সিদ্দিক, মোস্তাফিজুর রহমান এবং মশিউর রহমান। মামলার আরেক আসামি জয়নাল আবেদীনের বিরুদ্ধেও প্রতারণার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে জানা গেছে।
মামলার সূত্রে জানা যায়, নওগাঁ সদর উপজেলার চকরামচন্দ্র মৌজার একটি জমির মালিকানা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। বিষয়টি মীমাংসার জন্য ২০২৫ সালের ১৯ এপ্রিল নওগাঁ জেলা অ্যাডভোকেট বার ভবনে দুই পক্ষকে আইনজীবীদের উপস্থিতিতে আলোচনায় বসানো হয়।
সেখানে বিবাদীপক্ষ একটি দলিল দেখিয়ে জমির মালিকানা দাবি করে। কিন্তু পরবর্তীতে যাচাই-বাছাই করলে দেখা যায়, ওই দলিলটি ভুয়া এবং জমির প্রকৃত কাগজপত্রের সঙ্গে এর কোনো মিল নেই।
এরপর ভুক্তভোগী পক্ষ আদালতে মামলা দায়ের করে। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-কে।
তদন্তে পিবিআই দেখতে পায়, অভিযুক্তরা পরস্পরের যোগসাজশে অন্যের মালিকানাধীন জমি দখলের উদ্দেশ্যে জাল দলিল তৈরি করে তা ব্যবহার করেছেন। কয়েকজন আসামি প্রকৃত মালিকানা না থাকা সত্ত্বেও জমিকে নিজেদের বলে দাবি করেন এবং নথিপত্র জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি করেন।
পিবিআই-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, অভিযুক্তদের কর্মকাণ্ড ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩-এর বিভিন্ন ধারায় অপরাধের আওতায় পড়ে। তদন্ত শেষে সম্প্রতি প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হয়।
আইন অনুযায়ী, জমি সংক্রান্ত জালিয়াতি ও প্রতারণার ঘটনা দেশে একটি গুরুতর সমস্যা হিসেবে দেখা হয়। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের সুযোগে অনেক সময় ভুয়া দলিল তৈরি করে প্রতারণার ঘটনা ঘটে থাকে।
আইনজীবীরা বলছেন, এ ধরনের অপরাধ রোধে ভূমি রেকর্ড ডিজিটালাইজেশন এবং কঠোর নজরদারি আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
সব মিলিয়ে নওগাঁর এই ঘটনায় জাল দলিল ও প্রতারণার মাধ্যমে জমি দখলের চেষ্টা প্রমাণিত হওয়ায় চারজনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে, যা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

আপনার মতামত লিখুন