দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
আপডেট : শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

গুম-শহীদ পরিবারের পাশে আমিনুল হক, ঈদ উপহার ও আর্থিক সহায়তা প্রদান

গুম-শহীদ পরিবারের পাশে আমিনুল হক, ঈদ উপহার ও আর্থিক সহায়তা প্রদান

ঈদযাত্রার সকালে রাজধানীতে ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনা, নর্দ্দায় নিহত ৪, আহত বহু

নরসিংদীর রায়পুরায় তৃতীয় লিঙ্গের সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা, আতঙ্কে এলাকাবাসী

টাঙ্গাইলে যমুনা সেতুর পূর্বপাড়ে ট্রাক দুর্ঘটনায় ১৫ প্রাণহানি, শোকে স্তব্ধ চাপাইনবাবগঞ্জ

বাংলাদেশ পরিচ্ছন্ন জ্বালানির পথে এগোচ্ছে, সংসদ ভবনে ১ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প উদ্বোধন

রায়পুরায় নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা, আতঙ্কে স্থানীয়রা

ঈদে ঘরমুখো মানুষের নিরাপত্তায় তুরাগ থানার বিশেষ প্রস্তুতি, ২৪ দিনে গ্রেপ্তার ২৯৬

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সিআরপি প্রতিনিধিদের সাক্ষাৎ, পুনর্বাসন সেবার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়

সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হকের বিরুদ্ধে তদন্তে নতুন মোড়, দুদকও যুক্ত হচ্ছে

সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হকের বিরুদ্ধে তদন্তে নতুন মোড়, দুদকও যুক্ত হচ্ছে
-ছবি: সংগৃহীত

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হককে ঘিরে তদন্ত এখন শুধু হত্যা মামলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার, অর্থনৈতিক অনিয়ম এবং বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগও নতুন করে সামনে আসছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, জিজ্ঞাসাবাদে তারা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে আরও একাধিক মামলার ভিত্তি হতে পারে।

ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, নিউমার্কেট থানায় দায়ের হওয়া হকার শাহজাহান আলী হত্যা মামলায় এই দুই সাবেক প্রভাবশালী ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। যদিও মামলার এজাহারে তাদের নাম ছিল না, তবে তদন্তে তাদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায় বলে দাবি পুলিশের।

গ্রেফতারের পর আদালতের নির্দেশে তাদের ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। বর্তমানে তারা ডিবি হেফাজতে আছেন। জিজ্ঞাসাবাদে তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য শুধু ওই মামলার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হচ্ছে না, বরং দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং অর্থনৈতিক অনিয়মের দিকেও তদন্ত বিস্তৃত করা হয়েছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে শেয়ারবাজারসহ বিভিন্ন আর্থিক খাতে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে আনিসুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তিনি কিছু সরকারি সিদ্ধান্তকে আইনগত বৈধতা দেওয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছিলেন।

ডিবি সূত্র জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে তারা দাবি করেছেন যে, আন্দোলন চলাকালে কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তৎকালীন কয়েকজন শীর্ষ মন্ত্রী ও প্রশাসনিক কর্মকর্তার ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। তবে এসব তথ্য এখনো যাচাই-বাছাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে।

এদিকে মামলার ভিকটিম শাহজাহান আলীর মৃত্যু নিয়েও ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। পুলিশের দাবি, তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। তবে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছিল ভিন্ন একটি ঘটনার কথা, যা নিয়ে তদন্তে অসঙ্গতি পাওয়া যাচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।

নিউমার্কেট থানার পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং সেগুলো বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। এ ছাড়া মামলার এজাহার কীভাবে তৈরি হয়েছে, সেটিও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।

অন্যদিকে মামলার বাদী আয়শা বেগম দাবি করেছেন, তিনি এজাহার নিজে লেখেননি। পুলিশই তা লিখে দিয়েছে এবং পরে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। তিনি ছেলের হত্যার সুষ্ঠু বিচার চান এবং যাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য যুক্ত করা হয়েছে তাদেরও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।


ডিএমপি কমিশনার বলেছেন, তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে, তাদের ভূমিকা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একাধিক ঘটনায় তাদের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, তদন্ত শেষে প্রকৃত সত্য সামনে আসবে এবং প্রয়োজন হলে আরও মামলা করা হতে পারে। একই সঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)ও কিছু মামলার তদন্তে যুক্ত হবে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হকের বিরুদ্ধে চলমান তদন্ত এখন একাধিক দিক থেকে বিস্তৃত হচ্ছে। হত্যা মামলা থেকে শুরু করে অর্থনৈতিক অনিয়ম ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত—সবকিছুই এখন তদন্তের আওতায় চলে এসেছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

বুধবার, ২৭ মে ২০২৬


সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হকের বিরুদ্ধে তদন্তে নতুন মোড়, দুদকও যুক্ত হচ্ছে

প্রকাশের তারিখ : ১৫ আগস্ট ২০২৪

featured Image

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হককে ঘিরে তদন্ত এখন শুধু হত্যা মামলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার, অর্থনৈতিক অনিয়ম এবং বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগও নতুন করে সামনে আসছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, জিজ্ঞাসাবাদে তারা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে আরও একাধিক মামলার ভিত্তি হতে পারে।

ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, নিউমার্কেট থানায় দায়ের হওয়া হকার শাহজাহান আলী হত্যা মামলায় এই দুই সাবেক প্রভাবশালী ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। যদিও মামলার এজাহারে তাদের নাম ছিল না, তবে তদন্তে তাদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায় বলে দাবি পুলিশের।

গ্রেফতারের পর আদালতের নির্দেশে তাদের ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। বর্তমানে তারা ডিবি হেফাজতে আছেন। জিজ্ঞাসাবাদে তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য শুধু ওই মামলার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হচ্ছে না, বরং দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং অর্থনৈতিক অনিয়মের দিকেও তদন্ত বিস্তৃত করা হয়েছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে শেয়ারবাজারসহ বিভিন্ন আর্থিক খাতে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে আনিসুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তিনি কিছু সরকারি সিদ্ধান্তকে আইনগত বৈধতা দেওয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছিলেন।

ডিবি সূত্র জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে তারা দাবি করেছেন যে, আন্দোলন চলাকালে কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তৎকালীন কয়েকজন শীর্ষ মন্ত্রী ও প্রশাসনিক কর্মকর্তার ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। তবে এসব তথ্য এখনো যাচাই-বাছাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে।

এদিকে মামলার ভিকটিম শাহজাহান আলীর মৃত্যু নিয়েও ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। পুলিশের দাবি, তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। তবে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছিল ভিন্ন একটি ঘটনার কথা, যা নিয়ে তদন্তে অসঙ্গতি পাওয়া যাচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।

নিউমার্কেট থানার পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং সেগুলো বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। এ ছাড়া মামলার এজাহার কীভাবে তৈরি হয়েছে, সেটিও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।

অন্যদিকে মামলার বাদী আয়শা বেগম দাবি করেছেন, তিনি এজাহার নিজে লেখেননি। পুলিশই তা লিখে দিয়েছে এবং পরে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। তিনি ছেলের হত্যার সুষ্ঠু বিচার চান এবং যাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য যুক্ত করা হয়েছে তাদেরও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।


ডিএমপি কমিশনার বলেছেন, তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে, তাদের ভূমিকা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একাধিক ঘটনায় তাদের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, তদন্ত শেষে প্রকৃত সত্য সামনে আসবে এবং প্রয়োজন হলে আরও মামলা করা হতে পারে। একই সঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)ও কিছু মামলার তদন্তে যুক্ত হবে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হকের বিরুদ্ধে চলমান তদন্ত এখন একাধিক দিক থেকে বিস্তৃত হচ্ছে। হত্যা মামলা থেকে শুরু করে অর্থনৈতিক অনিয়ম ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত—সবকিছুই এখন তদন্তের আওতায় চলে এসেছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর