দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

প্রযুক্তি চর্চায় তরুণদের উৎসাহ দিতে নরসিংদীতে আইসিটি অলিম্পিয়াড–২০২৬ অনুষ্ঠিত

প্রযুক্তি চর্চায় তরুণদের উৎসাহ দিতে নরসিংদীতে আইসিটি অলিম্পিয়াড–২০২৬ অনুষ্ঠিত

৭০০০mAh ব্যাটারির নতুন স্মার্টফোন আনছে রিয়েলমি, থাকছে ১২০Hz ডিসপ্লে ও ৬ বছরের ব্যাটারি স্থায়িত্ব

ভারতের বিধানসভা নির্বাচনে বড় চমক: আসাম ও পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির ‘ঐতিহাসিক’ অগ্রগতি, মোদির উচ্ছ্বাস

হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা, ইরানি তেলবাহী তিন ট্যাঙ্কার আটক দাবি যুক্তরাষ্ট্রের—বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা

কাজের ক্ষেত্র নিয়ে সংকীর্ণতা নয়, অভিনয়ই ছিল পূর্ণিমার আসল পরিচয়

বিশ্বকে হুমকি দেওয়া প্রেসিডেন্টের টুইট নিয়ে উদ্বেগ: নিরাপত্তা পরিষদের ভূমিকা বদলের আহ্বান লুলার

বীরগঞ্জে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান মেলা, নতুন স্বপ্ন দেখাল ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে

বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের সতর্কবার্তা: প্রথম ধাক্কা খেতে পারে বাংলাদেশসহ এশিয়ার দেশগুলো

হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা, ইরানি তেলবাহী তিন ট্যাঙ্কার আটক দাবি যুক্তরাষ্ট্রের—বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা

হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা, ইরানি তেলবাহী তিন ট্যাঙ্কার আটক দাবি যুক্তরাষ্ট্রের—বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা
-ছবি: সংগৃহীত

এশিয়ার বিভিন্ন জলসীমায় ইরানি পতাকাবাহী তিনটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার আটক করেছে যুক্তরাষ্ট্র—এমন খবর ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক ও জ্বালানি নিরাপত্তা অঙ্গনে। একই সময়ে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি এলাকায় জাহাজ চলাচল নিয়ে তৈরি হয়েছে অস্থিরতা, যার প্রভাব পড়ছে বৈশ্বিক তেল বাজারে।


মালয়েশিয়া ও ভারত মহাসাগরে অভিযান

মার্কিন সামরিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, আটক হওয়া জাহাজগুলোর মধ্যে একটি ছিল ইরানের পতাকাবাহী বড় সুপারট্যাঙ্কার, যা আংশিকভাবে অপরিশোধিত তেল বহন করছিল। জাহাজ ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, মালয়েশিয়ার উপকূলের কাছে প্রায় এক সপ্তাহ আগে সর্বশেষ এর অবস্থান শনাক্ত করা হয়।

এরপর থেকেই জাহাজটির গতিবিধি নজরদারিতে রাখছিল মার্কিন বাহিনী।

আরেকটি ছোট আকারের ইরানি ট্যাঙ্কারও আটক করা হয়েছে, যার ধারণক্ষমতা প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল। জাহাজটি তার মোট ধারণক্ষমতার প্রায় ৬৫ শতাংশ তেল বহন করছিল বলে জানা গেছে। প্রায় এক মাস আগে মালয়েশিয়ার কাছাকাছি এলাকায় এটি শেষবার দেখা যায়।



“ডোরেনা” ট্যাঙ্কার ও ভারত মহাসাগরের পরিস্থিতি

সবচেয়ে বড় জাহাজ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ইরানের সুপারট্যাঙ্কার “ডোরেনা”-কে। এতে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।

জাহাজটি তিন দিন আগে দক্ষিণ ভারতের উপকূলের কাছে শনাক্ত হওয়ার পর ভারত মহাসাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর একটি ডেস্ট্রয়ারের নজরদারিতে রয়েছে বলে জানিয়েছে United States Central Command।

এছাড়া “ডেরিয়া” নামের আরেকটি ট্যাঙ্কারও আটক করার তথ্য পাওয়া গেছে। এটি ভারতের একটি বন্দরে তেল খালাসের পরিকল্পনা করলেও নিষেধাজ্ঞার কারণে সেটি আর বাস্তবায়িত হয়নি বলে দাবি করা হচ্ছে।


ইরানের পাল্টা দাবি

অন্যদিকে ইরান দাবি করেছে, তারা পারস্য উপসাগর এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করা দুটি পণ্যবাহী কন্টেইনার জাহাজসহ আরও একটি জাহাজ আটক করেছে। দেশটি বলছে, চলমান উত্তেজনার মধ্যেই এটি তাদের প্রথম এমন পদক্ষেপ।

এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানকে কেন্দ্র করে সামুদ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে বলে বিশ্লেষকদের মত।


হরমুজ প্রণালি ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালি বর্তমানে সবচেয়ে আলোচিত অঞ্চলগুলোর একটি হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।

ফলে এখানে সামান্য উত্তেজনাও সরাসরি বৈশ্বিক বাজারে প্রভাব ফেলে। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে শিপিং কোম্পানিগুলো রুট পরিবর্তন বা অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করছে বলে জানা গেছে।


মার্কিন নজরদারি ও অভিযান

মার্কিন বাহিনী জানিয়েছে, ইরানের বন্দর ব্যবহারকারী বা সেখান থেকে বের হওয়া জাহাজগুলোর ওপর নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। অবরোধ কার্যকর হওয়ার পর অন্তত ৩১টি জাহাজকে পথ পরিবর্তন বা বন্দরে ফিরে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

ভাসমান মাইন বা নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতে হরমুজ প্রণালির বাইরে উন্মুক্ত সমুদ্র এলাকায় অভিযান চালানো হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে।



বিশ্ববাজারে সম্ভাব্য প্রভাব

জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে তা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং এশিয়া ও ইউরোপের জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।

তেলের সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন ঘটলে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার চাপ তৈরি হতে পারে। ইতোমধ্যেই কিছু বাজারে অনিশ্চয়তার প্রভাব দেখা দিতে শুরু করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


কূটনৈতিক সমাধানের প্রয়োজনীয়তা

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বর্তমান উত্তেজনা সামরিক বা কঠোর অবস্থান দিয়ে দীর্ঘস্থায়ীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হতে পারে। তাই কূটনৈতিক উদ্যোগ বাড়ানো জরুরি।

তাদের মতে, যদি দ্রুত সমাধান না আসে, তাহলে বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা নতুন এক অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে।


শেষ কথা

ইরানি ট্যাঙ্কার আটক, পাল্টা জাহাজ আটক এবং হরমুজ প্রণালি ঘিরে বাড়তে থাকা উত্তেজনা—সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক রাজনীতিতে নতুন চাপ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা এখন বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজার ও কূটনৈতিক মহলের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়।


বিষয় : ট্রাম্পের জাহাজ বাজারে চাপ

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

রোববার, ০৭ জুন ২০২৬


হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা, ইরানি তেলবাহী তিন ট্যাঙ্কার আটক দাবি যুক্তরাষ্ট্রের—বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা

প্রকাশের তারিখ : ২৩ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

এশিয়ার বিভিন্ন জলসীমায় ইরানি পতাকাবাহী তিনটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার আটক করেছে যুক্তরাষ্ট্র—এমন খবর ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক ও জ্বালানি নিরাপত্তা অঙ্গনে। একই সময়ে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি এলাকায় জাহাজ চলাচল নিয়ে তৈরি হয়েছে অস্থিরতা, যার প্রভাব পড়ছে বৈশ্বিক তেল বাজারে।


মালয়েশিয়া ও ভারত মহাসাগরে অভিযান

মার্কিন সামরিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, আটক হওয়া জাহাজগুলোর মধ্যে একটি ছিল ইরানের পতাকাবাহী বড় সুপারট্যাঙ্কার, যা আংশিকভাবে অপরিশোধিত তেল বহন করছিল। জাহাজ ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, মালয়েশিয়ার উপকূলের কাছে প্রায় এক সপ্তাহ আগে সর্বশেষ এর অবস্থান শনাক্ত করা হয়।

এরপর থেকেই জাহাজটির গতিবিধি নজরদারিতে রাখছিল মার্কিন বাহিনী।

আরেকটি ছোট আকারের ইরানি ট্যাঙ্কারও আটক করা হয়েছে, যার ধারণক্ষমতা প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল। জাহাজটি তার মোট ধারণক্ষমতার প্রায় ৬৫ শতাংশ তেল বহন করছিল বলে জানা গেছে। প্রায় এক মাস আগে মালয়েশিয়ার কাছাকাছি এলাকায় এটি শেষবার দেখা যায়।



“ডোরেনা” ট্যাঙ্কার ও ভারত মহাসাগরের পরিস্থিতি

সবচেয়ে বড় জাহাজ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ইরানের সুপারট্যাঙ্কার “ডোরেনা”-কে। এতে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।

জাহাজটি তিন দিন আগে দক্ষিণ ভারতের উপকূলের কাছে শনাক্ত হওয়ার পর ভারত মহাসাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর একটি ডেস্ট্রয়ারের নজরদারিতে রয়েছে বলে জানিয়েছে United States Central Command।

এছাড়া “ডেরিয়া” নামের আরেকটি ট্যাঙ্কারও আটক করার তথ্য পাওয়া গেছে। এটি ভারতের একটি বন্দরে তেল খালাসের পরিকল্পনা করলেও নিষেধাজ্ঞার কারণে সেটি আর বাস্তবায়িত হয়নি বলে দাবি করা হচ্ছে।


ইরানের পাল্টা দাবি

অন্যদিকে ইরান দাবি করেছে, তারা পারস্য উপসাগর এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করা দুটি পণ্যবাহী কন্টেইনার জাহাজসহ আরও একটি জাহাজ আটক করেছে। দেশটি বলছে, চলমান উত্তেজনার মধ্যেই এটি তাদের প্রথম এমন পদক্ষেপ।

এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানকে কেন্দ্র করে সামুদ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে বলে বিশ্লেষকদের মত।


হরমুজ প্রণালি ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালি বর্তমানে সবচেয়ে আলোচিত অঞ্চলগুলোর একটি হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।

ফলে এখানে সামান্য উত্তেজনাও সরাসরি বৈশ্বিক বাজারে প্রভাব ফেলে। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে শিপিং কোম্পানিগুলো রুট পরিবর্তন বা অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করছে বলে জানা গেছে।


মার্কিন নজরদারি ও অভিযান

মার্কিন বাহিনী জানিয়েছে, ইরানের বন্দর ব্যবহারকারী বা সেখান থেকে বের হওয়া জাহাজগুলোর ওপর নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। অবরোধ কার্যকর হওয়ার পর অন্তত ৩১টি জাহাজকে পথ পরিবর্তন বা বন্দরে ফিরে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

ভাসমান মাইন বা নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতে হরমুজ প্রণালির বাইরে উন্মুক্ত সমুদ্র এলাকায় অভিযান চালানো হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে।



বিশ্ববাজারে সম্ভাব্য প্রভাব

জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে তা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং এশিয়া ও ইউরোপের জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।

তেলের সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন ঘটলে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার চাপ তৈরি হতে পারে। ইতোমধ্যেই কিছু বাজারে অনিশ্চয়তার প্রভাব দেখা দিতে শুরু করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


কূটনৈতিক সমাধানের প্রয়োজনীয়তা

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বর্তমান উত্তেজনা সামরিক বা কঠোর অবস্থান দিয়ে দীর্ঘস্থায়ীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হতে পারে। তাই কূটনৈতিক উদ্যোগ বাড়ানো জরুরি।

তাদের মতে, যদি দ্রুত সমাধান না আসে, তাহলে বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা নতুন এক অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে।


শেষ কথা

ইরানি ট্যাঙ্কার আটক, পাল্টা জাহাজ আটক এবং হরমুজ প্রণালি ঘিরে বাড়তে থাকা উত্তেজনা—সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক রাজনীতিতে নতুন চাপ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা এখন বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজার ও কূটনৈতিক মহলের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়।



দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর