দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

রাজধানীতে ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ মিছিল, হামলা ও হত্যার বিচার দাবিতে সমাবেশ

রাজধানীতে ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ মিছিল, হামলা ও হত্যার বিচার দাবিতে সমাবেশ

গুপ্ত’ ইস্যুতে উত্তপ্ত একাধিক ক্যাম্পাস, পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভে ছাত্রদল–শিবির

টিআর প্রকল্পের টাকা নিয়ে উধাও! রায়পুরায় যুবদল নেতার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ

জুলাই আন্দোলনের অর্জন রক্ষায় নারীদের নিরাপত্তা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দাবি

দেড় মাসের শিশুসন্তানসহ কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন যুব মহিলা লীগ নেত্রী শিল্পী বেগম

রায়পুর বাজারে চাঁদা নিয়ে সংঘর্ষ, ব্যবসায়ীর ওপর হামলায় উত্তেজনা

‘আমি মনোনয়ন চাইনি’—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভ্রান্তি নিয়ে মুখ খুললেন আফরোজা আব্বাস

আওয়ামী লীগ নেত্রীর মেয়ে এবার বিএনপির নারী এমপি প্রার্থী, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আলোচনা তুঙ্গে

গুপ্ত’ ইস্যুতে উত্তপ্ত একাধিক ক্যাম্পাস, পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভে ছাত্রদল–শিবির

গুপ্ত’ ইস্যুতে উত্তপ্ত একাধিক ক্যাম্পাস, পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভে ছাত্রদল–শিবির
-ছবি: সংগৃহীত

প্ত রাজনীতি ইস্যুকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষের জেরে দেশের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার প্রতিবাদ ও পাল্টা প্রতিবাদে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিল, দেয়াল লিখন ও বক্তব্য পাল্টাপাল্টির ঘটনা ঘটেছে।

চট্টগ্রাম সিটি কলেজে সংঘর্ষের একদিন পরও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে, আর সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করতে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। এ ঘটনার প্রভাব ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়েছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে মঙ্গলবার রাতে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির আলাদা সময়ে বিক্ষোভ মিছিল করে। রাত সাড়ে ৯টার দিকে ছাত্রদল জিরোপয়েন্ট থেকে মিছিল শুরু করে। এরপর রাত সাড়ে ১০টার দিকে একই স্থান থেকে ছাত্রশিবিরও প্রতিবাদ মিছিল বের করে।

এ সময় ক্যাম্পাসের সোহরাওয়ার্দী মোড়সহ বিভিন্ন স্থানে ‘গুপ্ত’ লেখা দেয়াল লিখন করেন ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। বিক্ষোভ শেষে বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি আলাউদ্দিন মহসিন বলেন, সিটি কলেজে ‘রাজনীতি নিষিদ্ধ’ লেখা থাকা সত্ত্বেও গুপ্তভাবে ছাত্রদল ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা হলে তা প্রতিহত করা হবে।

অন্যদিকে ছাত্রশিবিরের বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি ইব্রাহিম হোসেন রনি অভিযোগ করেন, সিটি কলেজে তাদের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে মিছিল করলে আবারও বাধা দেওয়া হয়। তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ‘গুপ্ত’ বলা হচ্ছে, যা তাদের জন্য অপমানজনক।

চট্টগ্রামের ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্রদল। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে টিএসসির পায়রা চত্বর থেকে মিছিল শুরু হয়ে রাজু ভাস্কর্যে গিয়ে শেষ হয়।

সমাবেশে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির বলেন, দেয়ালে লেখা নিয়ে আপত্তি থাকলে পাল্টা লিখতে পারত শিবির। কিন্তু তারা হামলার পথ বেছে নিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঘটলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। এ কর্মসূচিতে ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরাও অংশ নেন।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেও ‘গুপ্ত’ লিখে দেয়াল লিখন করেছে ছাত্রদল। একই সঙ্গে শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি জানানো হয়। দুপুরে এ কর্মসূচি পালন করেন সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা।

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী দেশে গুপ্ত রাজনীতির জায়গা নেই। তবে ছাত্রদলের এই কর্মসূচিকে হঠকারী বলে মন্তব্য করেছে ছাত্রশিবির। সংগঠনটির পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, সিটি কলেজে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে, আর এখন উল্টো দোষ চাপানোর চেষ্টা চলছে।

 সরকারি সিটি কলেজে সংঘর্ষের পরদিনও ক্লাস কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়নি। ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম ছিল। যাতে অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উত্তেজনা ছড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য নগরীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পুলিশ সতর্ক রয়েছে।

সংঘর্ষে ধারালো অস্ত্র হাতে কয়েকজনের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও এখনো তাদের শনাক্ত করা যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

এদিকে ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে জড়িতদের গ্রেপ্তার, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং পুলিশের ভূমিকা খতিয়ে দেখার দাবিতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও ডাকসুর সাবেক ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, বহিরাগতদের এনে তাদের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনার পর সরকারি সিটি কলেজ প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কলেজের অধ্যক্ষ আবু ছালেহ মো. নইম উদ্দিন জানান, সাত দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

জানা গেছে, ক্যাম্পাসের একটি দেয়ালে আগে লেখা ছিল ‘ছাত্র রাজনীতি ও ছাত্রলীগমুক্ত ক্যাম্পাস’। পরে সেখানে ‘ছাত্র’ শব্দটি মুছে ‘গুপ্ত’ শব্দটি লিখে দেওয়া হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই মঙ্গলবার দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়।

বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ ক্যাম্পাসে দেয়াল লিখন বা গ্রাফিতি নিয়ে উত্তেজনার ঘটনা নতুন নয়। অতীতেও দেয়াল লিখন ঘিরে ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে বিরোধ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, যা অনেক সময় বড় ধরনের উত্তেজনায় রূপ নেয়।

বিশেষ করে বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর শিক্ষাঙ্গনে বিভিন্ন সংগঠনের অবস্থান ও প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোকেও অনেকেই সেই প্রেক্ষাপটের অংশ হিসেবে দেখছেন।

চট্টগ্রাম সিটি কলেজের একটি দেয়াল লিখন থেকে শুরু হওয়া বিরোধ এখন দেশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উত্তেজনার রূপ নিয়েছে। যদিও প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে, তবুও শিক্ষাঙ্গনে স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে দ্রুত তদন্ত শেষ করে স্পষ্ট পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টরা। পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, এখন সেদিকেই নজর সবার।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬


গুপ্ত’ ইস্যুতে উত্তপ্ত একাধিক ক্যাম্পাস, পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভে ছাত্রদল–শিবির

প্রকাশের তারিখ : ২৩ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

প্ত রাজনীতি ইস্যুকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষের জেরে দেশের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার প্রতিবাদ ও পাল্টা প্রতিবাদে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিল, দেয়াল লিখন ও বক্তব্য পাল্টাপাল্টির ঘটনা ঘটেছে।

চট্টগ্রাম সিটি কলেজে সংঘর্ষের একদিন পরও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে, আর সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করতে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। এ ঘটনার প্রভাব ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়েছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে মঙ্গলবার রাতে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির আলাদা সময়ে বিক্ষোভ মিছিল করে। রাত সাড়ে ৯টার দিকে ছাত্রদল জিরোপয়েন্ট থেকে মিছিল শুরু করে। এরপর রাত সাড়ে ১০টার দিকে একই স্থান থেকে ছাত্রশিবিরও প্রতিবাদ মিছিল বের করে।

এ সময় ক্যাম্পাসের সোহরাওয়ার্দী মোড়সহ বিভিন্ন স্থানে ‘গুপ্ত’ লেখা দেয়াল লিখন করেন ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। বিক্ষোভ শেষে বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি আলাউদ্দিন মহসিন বলেন, সিটি কলেজে ‘রাজনীতি নিষিদ্ধ’ লেখা থাকা সত্ত্বেও গুপ্তভাবে ছাত্রদল ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা হলে তা প্রতিহত করা হবে।

অন্যদিকে ছাত্রশিবিরের বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি ইব্রাহিম হোসেন রনি অভিযোগ করেন, সিটি কলেজে তাদের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে মিছিল করলে আবারও বাধা দেওয়া হয়। তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ‘গুপ্ত’ বলা হচ্ছে, যা তাদের জন্য অপমানজনক।

চট্টগ্রামের ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্রদল। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে টিএসসির পায়রা চত্বর থেকে মিছিল শুরু হয়ে রাজু ভাস্কর্যে গিয়ে শেষ হয়।

সমাবেশে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির বলেন, দেয়ালে লেখা নিয়ে আপত্তি থাকলে পাল্টা লিখতে পারত শিবির। কিন্তু তারা হামলার পথ বেছে নিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঘটলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। এ কর্মসূচিতে ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরাও অংশ নেন।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেও ‘গুপ্ত’ লিখে দেয়াল লিখন করেছে ছাত্রদল। একই সঙ্গে শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি জানানো হয়। দুপুরে এ কর্মসূচি পালন করেন সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা।

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী দেশে গুপ্ত রাজনীতির জায়গা নেই। তবে ছাত্রদলের এই কর্মসূচিকে হঠকারী বলে মন্তব্য করেছে ছাত্রশিবির। সংগঠনটির পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, সিটি কলেজে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে, আর এখন উল্টো দোষ চাপানোর চেষ্টা চলছে।

 সরকারি সিটি কলেজে সংঘর্ষের পরদিনও ক্লাস কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়নি। ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম ছিল। যাতে অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উত্তেজনা ছড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য নগরীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পুলিশ সতর্ক রয়েছে।

সংঘর্ষে ধারালো অস্ত্র হাতে কয়েকজনের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও এখনো তাদের শনাক্ত করা যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

এদিকে ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে জড়িতদের গ্রেপ্তার, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং পুলিশের ভূমিকা খতিয়ে দেখার দাবিতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও ডাকসুর সাবেক ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, বহিরাগতদের এনে তাদের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনার পর সরকারি সিটি কলেজ প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কলেজের অধ্যক্ষ আবু ছালেহ মো. নইম উদ্দিন জানান, সাত দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

জানা গেছে, ক্যাম্পাসের একটি দেয়ালে আগে লেখা ছিল ‘ছাত্র রাজনীতি ও ছাত্রলীগমুক্ত ক্যাম্পাস’। পরে সেখানে ‘ছাত্র’ শব্দটি মুছে ‘গুপ্ত’ শব্দটি লিখে দেওয়া হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই মঙ্গলবার দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়।

বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ ক্যাম্পাসে দেয়াল লিখন বা গ্রাফিতি নিয়ে উত্তেজনার ঘটনা নতুন নয়। অতীতেও দেয়াল লিখন ঘিরে ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে বিরোধ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, যা অনেক সময় বড় ধরনের উত্তেজনায় রূপ নেয়।

বিশেষ করে বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর শিক্ষাঙ্গনে বিভিন্ন সংগঠনের অবস্থান ও প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোকেও অনেকেই সেই প্রেক্ষাপটের অংশ হিসেবে দেখছেন।

চট্টগ্রাম সিটি কলেজের একটি দেয়াল লিখন থেকে শুরু হওয়া বিরোধ এখন দেশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উত্তেজনার রূপ নিয়েছে। যদিও প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে, তবুও শিক্ষাঙ্গনে স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে দ্রুত তদন্ত শেষ করে স্পষ্ট পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টরা। পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, এখন সেদিকেই নজর সবার।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর