দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

সিরাজগঞ্জে বাসচাপায় অটোরিকশার তিন যাত্রী নিহত, গুরুতর আহত আরও দুইজন

সিরাজগঞ্জে বাসচাপায় অটোরিকশার তিন যাত্রী নিহত, গুরুতর আহত আরও দুইজন

ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার অভিযোগ, ঢাকায় এনসিপির বিক্ষোভ মিছিল

সাভারে মৎস্যজীবী দলের সভায় খোরশেদ আলম: তৃণমূল নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান

দেশজুড়ে ধর্ষণ ও হত্যার বিচার দাবিতে এনসিপির মশাল মিছিল, শাহবাগে প্রতিবাদের ঢল

জামায়াত আমির শফিকুর রহমানের অভিযোগ—‘রাজনৈতিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠায় বিলুপ্ত করা হয়েছে বিচার বিভাগীয় সচিবালয়’

দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খারাপ, সরকার স্বীকার করছে না: ডা. শফিকুর রহমান

কুড়িগ্রামে প্রশাসনিক সিন্ডিকেটের অভিযোগ এমপি আতিক মোজাহিদের, উন্নয়ন ব্যাহত হওয়ার দাবি

রাজশাহীতে এনসিপির বড় যোগদান অনুষ্ঠান, বিভিন্ন দল ছেড়ে এলেন প্রায় ৫০০ নেতা-কর্মী

টিআর প্রকল্পের টাকা নিয়ে উধাও! রায়পুরায় যুবদল নেতার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ

টিআর প্রকল্পের টাকা নিয়ে উধাও! রায়পুরায় যুবদল নেতার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে টিআর প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ, ঈদ উপহার হরিলুট এবং ইজারার নামে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তিনি দলীয় প্রভাব খাটিয়ে এসব অনিয়ম করে আসছেন। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় বেশ আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

অভিযোগে উঠে এসেছে, রায়পুরা উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক মো. মোশারফ হোসেন সাগর দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন সরকারি সুবিধা নিজের নিয়ন্ত্রণে নেন। তিনি উপজেলার চরাঞ্চল চাঁনপুর ইউনিয়নের সদাগরকান্দি গ্রামের বাসিন্দা। স্থানীয়রা বলছেন, ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে তিনি সরকারি প্রকল্পের কাজ নিজের দখলে নিয়ে নেন, কিন্তু বাস্তবে কাজ করেন না।


সবচেয়ে বড় অভিযোগটি টিআর (গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ) প্রকল্পকে ঘিরে। জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সুজাতপুর মসজিদ থেকে নূর মিয়ার বাড়ি পর্যন্ত একটি সড়ক সংস্কারের কাজ তাকে দেওয়া হয়। এই কাজের জন্য প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস থেকে প্রায় ৬০ হাজার টাকা অগ্রিম নেওয়া হয়। কিন্তু টাকা নেওয়ার পর আর কোনো কাজ হয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি কাজের ধারেকাছেও যাননি।

শুধু তাই নয়, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দরিদ্র মানুষের জন্য দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহায়তাও আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। বলা হচ্ছে, অন্তত ১৫ জন অসহায় মানুষের কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করে তাদের নামে বরাদ্দকৃত নগদ অর্থ ও উপহার নিজেই নিয়ে নিয়েছেন। এতে করে প্রকৃত সুবিধাভোগীরা তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকায় রয়েছেন ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের দরিদ্র মানুষ। তাদের কেউ দিনমজুর, কেউ গৃহকর্মী—যারা ঈদের সময় সামান্য সহায়তার আশায় ছিলেন। কিন্তু সেই সহায়তা তাদের হাতে পৌঁছায়নি বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

এদিকে, খেয়াঘাটের ইজারা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে খোকা মিয়া নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। যদিও পরে চাপের মুখে ওই টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। খোকা মিয়া নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে একাধিকবার মোশারফ হোসেন সাগরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো সরাসরি বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফোনে না পেয়ে মেসেজ দেওয়া হলেও তিনি পরে যোগাযোগ করবেন বলে জানালেও আর সাড়া দেননি।

এ বিষয়ে উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব নূর আহমেদ চৌধুরি মানিক বলেন, কোনো নেতা বা কর্মীর ব্যক্তিগত কাজের দায় দল নেয় না। কেউ যদি ব্যক্তিগতভাবে অনিয়ম করে থাকে, সেটির দায় তাকেই বহন করতে হবে।

অন্যদিকে, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, কাজটি গত বছর দেওয়া হয়েছে। যদি কাজ না হয়ে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে টাকা ফেরত দিতে হবে। বিষয়টি তিনি খতিয়ে দেখছেন বলেও জানান।


বাংলাদেশে টিআর প্রকল্প মূলত গ্রামীণ সড়ক, কালভার্ট ও ছোটখাটো অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য নেওয়া হয়। এই প্রকল্পের মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হয় এবং এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হয়। তবে অনেক সময় প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে, যা নিয়ে বিভিন্ন সময় তদন্তও হয়েছে।

একইভাবে, ঈদ বা বিশেষ সময়ে দরিদ্র মানুষের জন্য সরকারি সহায়তা কার্যক্রম চালু থাকে। এসব সহায়তা যেন প্রকৃত মানুষের কাছে পৌঁছায়, সে জন্য প্রশাসন নানা উদ্যোগ নেয়। কিন্তু মাঝেমধ্যে স্থানীয় পর্যায়ে দুর্নীতির কারণে এই সহায়তা বণ্টনে সমস্যা দেখা দেয়।

রায়পুরা উপজেলা আগে থেকেই বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে আলোচনায় ছিল। স্থানীয়দের মতে, সঠিক নজরদারি না থাকলে এ ধরনের অনিয়ম আরও বাড়তে পারে। তাই তারা প্রশাসনের কাছে দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

সব মিলিয়ে, একাধিক অভিযোগে ঘেরা এই ঘটনাটি এখন স্থানীয়ভাবে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সত্যতা যাচাই করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলে একদিকে যেমন মানুষের আস্থা ফিরবে, অন্যদিকে সরকারি প্রকল্পের সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

বিষয় : রায়পুরায় নেতার যুবদল

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

রোববার, ০৭ জুন ২০২৬


টিআর প্রকল্পের টাকা নিয়ে উধাও! রায়পুরায় যুবদল নেতার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ২২ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে টিআর প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ, ঈদ উপহার হরিলুট এবং ইজারার নামে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তিনি দলীয় প্রভাব খাটিয়ে এসব অনিয়ম করে আসছেন। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় বেশ আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

অভিযোগে উঠে এসেছে, রায়পুরা উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক মো. মোশারফ হোসেন সাগর দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন সরকারি সুবিধা নিজের নিয়ন্ত্রণে নেন। তিনি উপজেলার চরাঞ্চল চাঁনপুর ইউনিয়নের সদাগরকান্দি গ্রামের বাসিন্দা। স্থানীয়রা বলছেন, ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে তিনি সরকারি প্রকল্পের কাজ নিজের দখলে নিয়ে নেন, কিন্তু বাস্তবে কাজ করেন না।


সবচেয়ে বড় অভিযোগটি টিআর (গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ) প্রকল্পকে ঘিরে। জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সুজাতপুর মসজিদ থেকে নূর মিয়ার বাড়ি পর্যন্ত একটি সড়ক সংস্কারের কাজ তাকে দেওয়া হয়। এই কাজের জন্য প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস থেকে প্রায় ৬০ হাজার টাকা অগ্রিম নেওয়া হয়। কিন্তু টাকা নেওয়ার পর আর কোনো কাজ হয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি কাজের ধারেকাছেও যাননি।

শুধু তাই নয়, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দরিদ্র মানুষের জন্য দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহায়তাও আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। বলা হচ্ছে, অন্তত ১৫ জন অসহায় মানুষের কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করে তাদের নামে বরাদ্দকৃত নগদ অর্থ ও উপহার নিজেই নিয়ে নিয়েছেন। এতে করে প্রকৃত সুবিধাভোগীরা তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকায় রয়েছেন ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের দরিদ্র মানুষ। তাদের কেউ দিনমজুর, কেউ গৃহকর্মী—যারা ঈদের সময় সামান্য সহায়তার আশায় ছিলেন। কিন্তু সেই সহায়তা তাদের হাতে পৌঁছায়নি বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

এদিকে, খেয়াঘাটের ইজারা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে খোকা মিয়া নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। যদিও পরে চাপের মুখে ওই টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। খোকা মিয়া নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে একাধিকবার মোশারফ হোসেন সাগরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো সরাসরি বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফোনে না পেয়ে মেসেজ দেওয়া হলেও তিনি পরে যোগাযোগ করবেন বলে জানালেও আর সাড়া দেননি।

এ বিষয়ে উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব নূর আহমেদ চৌধুরি মানিক বলেন, কোনো নেতা বা কর্মীর ব্যক্তিগত কাজের দায় দল নেয় না। কেউ যদি ব্যক্তিগতভাবে অনিয়ম করে থাকে, সেটির দায় তাকেই বহন করতে হবে।

অন্যদিকে, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, কাজটি গত বছর দেওয়া হয়েছে। যদি কাজ না হয়ে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে টাকা ফেরত দিতে হবে। বিষয়টি তিনি খতিয়ে দেখছেন বলেও জানান।


বাংলাদেশে টিআর প্রকল্প মূলত গ্রামীণ সড়ক, কালভার্ট ও ছোটখাটো অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য নেওয়া হয়। এই প্রকল্পের মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হয় এবং এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হয়। তবে অনেক সময় প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে, যা নিয়ে বিভিন্ন সময় তদন্তও হয়েছে।

একইভাবে, ঈদ বা বিশেষ সময়ে দরিদ্র মানুষের জন্য সরকারি সহায়তা কার্যক্রম চালু থাকে। এসব সহায়তা যেন প্রকৃত মানুষের কাছে পৌঁছায়, সে জন্য প্রশাসন নানা উদ্যোগ নেয়। কিন্তু মাঝেমধ্যে স্থানীয় পর্যায়ে দুর্নীতির কারণে এই সহায়তা বণ্টনে সমস্যা দেখা দেয়।

রায়পুরা উপজেলা আগে থেকেই বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে আলোচনায় ছিল। স্থানীয়দের মতে, সঠিক নজরদারি না থাকলে এ ধরনের অনিয়ম আরও বাড়তে পারে। তাই তারা প্রশাসনের কাছে দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

সব মিলিয়ে, একাধিক অভিযোগে ঘেরা এই ঘটনাটি এখন স্থানীয়ভাবে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সত্যতা যাচাই করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলে একদিকে যেমন মানুষের আস্থা ফিরবে, অন্যদিকে সরকারি প্রকল্পের সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর