চাঁদপুরের সদর উপজেলায় রাজনৈতিক অস্থিরতা ও উত্তেজনার মধ্যে সাবেক এক ইউপি চেয়ারম্যান ও তার ছেলে নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। একই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন হবিগঞ্জের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি।
ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার (৫ আগস্ট) বিকেলে চাঁদপুরের বালিয়া ইউনিয়নের বাগাড়া বাজার এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই সময় এলাকায় চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে একাধিক ব্যক্তি এলাকা ছাড়ার চেষ্টা করছিলেন। তখনই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
নিহতরা হলেন লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সেলিম খান এবং তার ছেলে, চলচ্চিত্র অভিনেতা শান্ত খান। ঘটনার সময় তাদের সঙ্গে সাবেক সংসদ সদস্য আবু জাহিরও ছিলেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, তারা এলাকা থেকে বের হওয়ার সময় ফরক্কাবাদ বাজার এলাকায় প্রথমে উত্তেজনার মুখে পড়েন। এরপর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে বাগাড়া বাজার এলাকায় পৌঁছালে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। সেখানেই সংঘর্ষের মতো পরিস্থিতি তৈরি হলে হতাহতের ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। আহতদের মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য আবু জাহিরকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য চাঁদপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়।
চিকিৎসা সূত্রে জানা গেছে, তিনি গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন এবং তার শারীরিক অবস্থার কারণে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে। তবে পরিস্থিতির কারণে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে অন্য কোথাও স্থানান্তর করা সম্ভব হয়নি বলে হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়।
স্থানীয়দের মধ্যে এ ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়ে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
উল্লেখ্য, নিহত সেলিম খান দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পাশাপাশি তিনি চলচ্চিত্র প্রযোজনা ও বালু ব্যবসার সঙ্গেও সম্পৃক্ত ছিলেন বলে জানা যায়। তার বিরুদ্ধে অতীতে অবৈধ বালু উত্তোলনসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা ও তদন্ত চলমান ছিল বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
তার ছেলে শান্ত খান চলচ্চিত্র জগতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং কয়েকটি সিনেমায় অভিনয় করেছেন। অল্প সময়ে তিনি বিনোদন অঙ্গনে পরিচিতি পান।
এদিকে ঘটনার পর পুরো এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি এলাকায় নতুন করে কোনো সহিংসতা যেন না ঘটে, সে জন্য নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে চাঁদপুরের এই ঘটনা স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতার একটি বড় উদাহরণ হয়ে উঠেছে। এতে করে এলাকায় উদ্বেগ ও আতঙ্ক আরও বেড়ে গেছে, আর সাধারণ মানুষ দ্রুত স্থিতিশীল পরিস্থিতি ফিরে আসার অপেক্ষায় রয়েছে।

বুধবার, ২৭ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ আগস্ট ২০২৪
চাঁদপুরের সদর উপজেলায় রাজনৈতিক অস্থিরতা ও উত্তেজনার মধ্যে সাবেক এক ইউপি চেয়ারম্যান ও তার ছেলে নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। একই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন হবিগঞ্জের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি।
ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার (৫ আগস্ট) বিকেলে চাঁদপুরের বালিয়া ইউনিয়নের বাগাড়া বাজার এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই সময় এলাকায় চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে একাধিক ব্যক্তি এলাকা ছাড়ার চেষ্টা করছিলেন। তখনই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
নিহতরা হলেন লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সেলিম খান এবং তার ছেলে, চলচ্চিত্র অভিনেতা শান্ত খান। ঘটনার সময় তাদের সঙ্গে সাবেক সংসদ সদস্য আবু জাহিরও ছিলেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, তারা এলাকা থেকে বের হওয়ার সময় ফরক্কাবাদ বাজার এলাকায় প্রথমে উত্তেজনার মুখে পড়েন। এরপর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে বাগাড়া বাজার এলাকায় পৌঁছালে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। সেখানেই সংঘর্ষের মতো পরিস্থিতি তৈরি হলে হতাহতের ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। আহতদের মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য আবু জাহিরকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য চাঁদপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়।
চিকিৎসা সূত্রে জানা গেছে, তিনি গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন এবং তার শারীরিক অবস্থার কারণে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে। তবে পরিস্থিতির কারণে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে অন্য কোথাও স্থানান্তর করা সম্ভব হয়নি বলে হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়।
স্থানীয়দের মধ্যে এ ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়ে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
উল্লেখ্য, নিহত সেলিম খান দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পাশাপাশি তিনি চলচ্চিত্র প্রযোজনা ও বালু ব্যবসার সঙ্গেও সম্পৃক্ত ছিলেন বলে জানা যায়। তার বিরুদ্ধে অতীতে অবৈধ বালু উত্তোলনসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা ও তদন্ত চলমান ছিল বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
তার ছেলে শান্ত খান চলচ্চিত্র জগতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং কয়েকটি সিনেমায় অভিনয় করেছেন। অল্প সময়ে তিনি বিনোদন অঙ্গনে পরিচিতি পান।
এদিকে ঘটনার পর পুরো এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি এলাকায় নতুন করে কোনো সহিংসতা যেন না ঘটে, সে জন্য নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে চাঁদপুরের এই ঘটনা স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতার একটি বড় উদাহরণ হয়ে উঠেছে। এতে করে এলাকায় উদ্বেগ ও আতঙ্ক আরও বেড়ে গেছে, আর সাধারণ মানুষ দ্রুত স্থিতিশীল পরিস্থিতি ফিরে আসার অপেক্ষায় রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন