দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

জ্বালানি সাশ্রয় ও বিচার দ্রুত করতে হাইকোর্টে সপ্তাহে দুই দিন ভার্চুয়াল শুনানি

জ্বালানি সাশ্রয় ও বিচার দ্রুত করতে হাইকোর্টে সপ্তাহে দুই দিন ভার্চুয়াল শুনানি

সম্পত্তির দ্বন্দ্বে নিয়ামতপুরে এক পরিবারের চারজনকে গলাকেটে হত্যা, ভাগ্নেসহ গ্রেফতার ৩

নরসিংদীতে সাংবাদিকদের সঙ্গে জেলা প্রশাসকের প্রথম মতবিনিময়, সমস্যা সমাধানে আশ্বাস

পোরশা থেকে উদ্ধার ১৩৭ কেজির বিষ্ণুমূর্তি, বরেন্দ্র জাদুঘরে হস্তান্তর

মাদক ও সাইবার অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থানে পুলিশ: ‘জিরো টলারেন্স’ বাস্তবায়নের নির্দেশ আইজিপির

মুন্সিগঞ্জের ডাকাতি মামলার আসামি কক্সবাজারে গ্রেফতার, র‍্যাবের যৌথ অভিযান সফল

দীর্ঘ ছুটি শেষে খুললো হাইকোর্ট: ৬৩ বেঞ্চে শুরু নিয়মিত বিচারকাজ

ছয় মাসের দাম্পত্য, শেষ হলো করুণ পরিণতিতে—পুলিশ সদস্য সম্রাটের মৃত্যুতে স্তব্ধ পরিবার

সম্পত্তির দ্বন্দ্বে নিয়ামতপুরে এক পরিবারের চারজনকে গলাকেটে হত্যা, ভাগ্নেসহ গ্রেফতার ৩

সম্পত্তির দ্বন্দ্বে নিয়ামতপুরে এক পরিবারের চারজনকে গলাকেটে হত্যা, ভাগ্নেসহ গ্রেফতার ৩
-ছবি: সংগৃহীত

নওগাঁর নিয়ামতপুরে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে একই পরিবারের চারজনকে গলাকেটে হত্যার ভয়াবহ ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় নিহত ব্যক্তির আপন ভাগ্নে, ভগ্নীপতি ও ভগ্নীপতির ছেলেসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে নওগাঁ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডটি ছিল সম্পূর্ণ পরিকল্পিত এবং এতে মোট ছয়জন সরাসরি অংশ নেয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত হাবিবুর রহমানের বাবা নমির উদ্দিন তার ছেলেকে ১৩ বিঘা জমি এবং পাঁচ মেয়ের প্রত্যেককে ১০ কাঠা করে জমি লিখে দেন। এই জমি বণ্টনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের ভেতরে ক্ষোভ ও বিরোধ চলছিল। এই ক্ষোভ থেকেই শেষ পর্যন্ত ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করা হয়।

ঘটনার দুই দিন আগে থেকেই হত্যার পরিকল্পনা শুরু হয়। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নিহতের ভাগ্নে সবুজ রানা আগে থেকেই হাবিবুর রহমানের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। এরপর সোমবার রাত প্রায় ১১টার দিকে সবুজ বাড়ির দরজা খুলে দিলে শহীদুল ইসলাম ও শাহিন মন্ডলসহ আরও কয়েকজন ভেতরে প্রবেশ করে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে তারা হাবিবুর রহমানকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করে। এরপর একে একে তার স্ত্রী ও দুই শিশুকেও একইভাবে হত্যা করা হয়। রাত ১১টা থেকে রাত ১টার মধ্যে পুরো হত্যাকাণ্ড সম্পন্ন হয় বলে ধারণা করছে পুলিশ।

ঘটনার পরপরই পুলিশ সন্দেহভাজন পাঁচজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে সবুজ রানা হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শাহিনের বাড়ির পাশের ঝোপ থেকে একটি হাসুয়া উদ্ধার করা হয়। পরে একটি পুকুর সেচ দিয়ে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃত তিনজনকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। 

পুলিশ সুপার আরও জানান, প্রাথমিক তদন্তে এটি সম্পূর্ণভাবে পারিবারিক জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের ফল বলেই মনে হচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে পুরো ঘটনার বিস্তারিত চিত্র আরও পরিষ্কার হবে।

বাংলাদেশের গ্রামীণ এলাকায় জমিজমা নিয়ে বিরোধ নতুন কোনো ঘটনা নয়। অনেক সময় পারিবারিক সম্পত্তি বণ্টন নিয়ে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব সহিংস রূপ নেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিকভাবে আইনি প্রক্রিয়ায় সম্পত্তি বণ্টন এবং পারিবারিক সমঝোতা না হলে এমন ঘটনা ঘটার ঝুঁকি বাড়ে।

নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুর এলাকাটি সাধারণত শান্তিপূর্ণ হিসেবে পরিচিত। তবে মাঝেমধ্যে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের কারণে সেখানে সংঘর্ষ বা সহিংস ঘটনার খবর পাওয়া যায় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। সাম্প্রতিক এই হত্যাকাণ্ডে এলাকায় চরম আতঙ্ক ও শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। 

স্থানীয়দের দাবি, এমন নৃশংস ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ কমে আসবে। পুলিশও জানিয়েছে, এই মামলার তদন্ত গুরুত্ব সহকারে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

একটি পরিবারের চারজন সদস্যকে নির্মমভাবে হত্যার এই ঘটনা শুধু নিয়ামতপুর নয়, পুরো এলাকায় গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপে ঘটনার মূল রহস্য উন্মোচিত হলেও, এখন সবার প্রত্যাশা—অপরাধীদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬


সম্পত্তির দ্বন্দ্বে নিয়ামতপুরে এক পরিবারের চারজনকে গলাকেটে হত্যা, ভাগ্নেসহ গ্রেফতার ৩

প্রকাশের তারিখ : ২২ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

নওগাঁর নিয়ামতপুরে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে একই পরিবারের চারজনকে গলাকেটে হত্যার ভয়াবহ ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় নিহত ব্যক্তির আপন ভাগ্নে, ভগ্নীপতি ও ভগ্নীপতির ছেলেসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে নওগাঁ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডটি ছিল সম্পূর্ণ পরিকল্পিত এবং এতে মোট ছয়জন সরাসরি অংশ নেয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত হাবিবুর রহমানের বাবা নমির উদ্দিন তার ছেলেকে ১৩ বিঘা জমি এবং পাঁচ মেয়ের প্রত্যেককে ১০ কাঠা করে জমি লিখে দেন। এই জমি বণ্টনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের ভেতরে ক্ষোভ ও বিরোধ চলছিল। এই ক্ষোভ থেকেই শেষ পর্যন্ত ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করা হয়।

ঘটনার দুই দিন আগে থেকেই হত্যার পরিকল্পনা শুরু হয়। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নিহতের ভাগ্নে সবুজ রানা আগে থেকেই হাবিবুর রহমানের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। এরপর সোমবার রাত প্রায় ১১টার দিকে সবুজ বাড়ির দরজা খুলে দিলে শহীদুল ইসলাম ও শাহিন মন্ডলসহ আরও কয়েকজন ভেতরে প্রবেশ করে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে তারা হাবিবুর রহমানকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করে। এরপর একে একে তার স্ত্রী ও দুই শিশুকেও একইভাবে হত্যা করা হয়। রাত ১১টা থেকে রাত ১টার মধ্যে পুরো হত্যাকাণ্ড সম্পন্ন হয় বলে ধারণা করছে পুলিশ।

ঘটনার পরপরই পুলিশ সন্দেহভাজন পাঁচজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে সবুজ রানা হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শাহিনের বাড়ির পাশের ঝোপ থেকে একটি হাসুয়া উদ্ধার করা হয়। পরে একটি পুকুর সেচ দিয়ে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃত তিনজনকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। 

পুলিশ সুপার আরও জানান, প্রাথমিক তদন্তে এটি সম্পূর্ণভাবে পারিবারিক জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের ফল বলেই মনে হচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে পুরো ঘটনার বিস্তারিত চিত্র আরও পরিষ্কার হবে।

বাংলাদেশের গ্রামীণ এলাকায় জমিজমা নিয়ে বিরোধ নতুন কোনো ঘটনা নয়। অনেক সময় পারিবারিক সম্পত্তি বণ্টন নিয়ে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব সহিংস রূপ নেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিকভাবে আইনি প্রক্রিয়ায় সম্পত্তি বণ্টন এবং পারিবারিক সমঝোতা না হলে এমন ঘটনা ঘটার ঝুঁকি বাড়ে।

নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুর এলাকাটি সাধারণত শান্তিপূর্ণ হিসেবে পরিচিত। তবে মাঝেমধ্যে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের কারণে সেখানে সংঘর্ষ বা সহিংস ঘটনার খবর পাওয়া যায় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। সাম্প্রতিক এই হত্যাকাণ্ডে এলাকায় চরম আতঙ্ক ও শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। 

স্থানীয়দের দাবি, এমন নৃশংস ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ কমে আসবে। পুলিশও জানিয়েছে, এই মামলার তদন্ত গুরুত্ব সহকারে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

একটি পরিবারের চারজন সদস্যকে নির্মমভাবে হত্যার এই ঘটনা শুধু নিয়ামতপুর নয়, পুরো এলাকায় গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপে ঘটনার মূল রহস্য উন্মোচিত হলেও, এখন সবার প্রত্যাশা—অপরাধীদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর