দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

‘ভালো অভিনেতা আর বড় তারকা এক নয়’— বলিউডে নতুন বিতর্ক ছড়াল মুমতাজের মন্তব্য

‘ভালো অভিনেতা আর বড় তারকা এক নয়’— বলিউডে নতুন বিতর্ক ছড়াল মুমতাজের মন্তব্য

গুলশানের আলোচিত শিশু নির্যাতন মামলায় অধ্যাপক মঈনুদ্দিন মুক্ত, পরিবারে উদ্বেগ

হৃদরোগে না ফেরার দেশে ফরাসি-মরক্কো অভিনেত্রী নাদিয়া ফারেস

জাফর জ্যাকসনের রূপে জীবন্ত মাইকেল জ্যাকসন, বিশ্বজুড়ে বাড়ছে ‘মাইকেল’ সিনেমার উন্মাদনা

একদিনেই ৪০ লাখ ভিউ: কেন এত আলোচনায় ‘জখম’ নাটক?

অনুমতি ছাড়া সমাবেশের অভিযোগ, চেন্নাইয়ে বিজয়ের নামে মামলা

ঈদ ২০২৭-এ অ্যাকশন অবতারে ফিরছেন সালমান, প্রথমবার জুটি নয়নতারা

ঈদুল আজহায় নতুন চমক: প্রথমবার জুটি বাঁধছেন শাকিব খান ও সাবিলা নূর ‘রকস্টার’ সিনেমায়

‘ভালো অভিনেতা আর বড় তারকা এক নয়’— বলিউডে নতুন বিতর্ক ছড়াল মুমতাজের মন্তব্য

‘ভালো অভিনেতা আর বড় তারকা এক নয়’— বলিউডে নতুন বিতর্ক ছড়াল মুমতাজের মন্তব্য
-ছবি: সংগৃহীত

বলিউডের সোনালি সময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী Mumtaz আবারও আলোচনার কেন্দ্রে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি ‘তারকা’ আর ‘অভিনেতা’—এই দুই পরিচয়ের পার্থক্য নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন Zeenat Aman-এর অভিনয় দক্ষতা নিয়েও। তার এই বক্তব্য ঘিরে বলিউডপ্রেমীদের মধ্যে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। 

সাক্ষাৎকারে মুমতাজ বলেন, সবাই ভালো অভিনেতা হতে পারেন, কিন্তু সবাই বড় তারকা হন না। এই পার্থক্যটা বোঝা জরুরি। তিনি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন কিংবদন্তি অভিনেতা Sanjeev Kumar-এর নাম। তার ভাষায়, সঞ্জীব কুমার ছিলেন অসাধারণ অভিনেতা, কিন্তু তাকে তিনি ‘বড় তারকা’ হিসেবে দেখেন না। তার মতে, একজন শিল্পীর অভিনয় দক্ষতা আর দর্শকের মধ্যে তৈরি হওয়া তারকা-আকর্ষণ এক জিনিস নয়।

মুমতাজ আরও ব্যাখ্যা করেন, তারকা বলতে তিনি শুধু অভিনয় বোঝান না। বরং ব্যক্তিত্ব, জনপ্রিয়তা, দর্শক টানার ক্ষমতা—সব মিলিয়ে একজন শিল্পীর উপস্থিতিই তাকে প্রকৃত অর্থে তারকা বানায়। এই প্রসঙ্গে তিনি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন Dilip Kumar, Dev Anand এবং Shammi Kapoor-এর নাম। তার মতে, তাদের উপস্থিতিই সিনেমা হলে দর্শকদের আলাদা উন্মাদনা তৈরি করত।

জিনাত আমানকে নিয়েও সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন মুমতাজ। তিনি জানতে চান, জিনাত আমান অভিনয়ের জন্য কতগুলো বড় পুরস্কার পেয়েছেন। তার মতে, পুরস্কার একজন অভিনেতার কাজের স্বীকৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড। যদিও এই মন্তব্য অনেকের কাছে কঠোর মনে হয়েছে, তবুও মুমতাজের দাবি—তিনি নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই কথা বলেছেন।

তবে বলিউডের একটি বড় অংশ মনে করছে, এই মন্তব্য কিছুটা বিতর্কিত। কারণ জিনাত আমান শুধু একজন অভিনেত্রীই নন, বরং ১৯৭০-এর দশকে বলিউডে আধুনিক ও গ্ল্যামারাস নারী চরিত্রের নতুন ধারা তৈরি করেছিলেন। “হরে রামা হরে কৃষ্ণ”, “ডন” বা “সত্যম শিবম সুন্দরম”-এর মতো ছবিতে তার উপস্থিতি সেই সময়ের দর্শকদের কাছে নতুন এক স্টাইল ও সাহসী পর্দা-ভাবনা তুলে ধরেছিল। তাই অনেকেই মনে করেন, পুরস্কারের সংখ্যা দিয়ে একজন শিল্পীর অবদান পুরোপুরি বিচার করা যায় না।

একইভাবে সঞ্জীব কুমারও বলিউডে চরিত্রভিত্তিক অভিনয়ের এক শক্তিশালী নাম হিসেবে পরিচিত ছিলেন। “আন্ধি”, “কোশিশ”, “শোলে”-এর মতো ছবিতে তার অভিনয় আজও দর্শকদের কাছে শিক্ষণীয় উদাহরণ হিসেবে ধরা হয়। তিনি বাণিজ্যিক সিনেমার বাইরেও অভিনয়ের গভীরতা দেখিয়ে নিজের আলাদা অবস্থান তৈরি করেছিলেন।

বলিউডের ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, ১৯৬০ ও ৭০-এর দশকে ‘তারকা’ শব্দটির মানে ছিল অনেকটা ভিন্ন। তখন একজন অভিনেতার জনপ্রিয়তা নির্ধারিত হতো তার পোস্টার দেখেই সিনেমা হলে দর্শক ভিড় করছে কি না—এই বিষয় দিয়ে। সেই সময়ের তারকা-সংস্কৃতি আজকের সোশ্যাল মিডিয়া নির্ভর জনপ্রিয়তার থেকে অনেকটাই আলাদা ছিল। 

এ কারণেই অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, মুমতাজের বক্তব্যকে তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে দেখা উচিত। কারণ তিনি নিজেই সেই সময়ের বলিউডের ভেতর থেকে তারকা হওয়ার মানদণ্ড খুব কাছ থেকে দেখেছেন। অন্যদিকে নতুন প্রজন্মের দর্শকরা আজ তারকা হওয়ার সংজ্ঞা ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেন।

সব মিলিয়ে মুমতাজের মন্তব্য আবারও একটি পুরোনো প্রশ্ন সামনে নিয়ে এসেছে—একজন অভিনেতা আর একজন তারকার মধ্যে আসল পার্থক্য কোথায়? কেউ তার সঙ্গে একমত হচ্ছেন, কেউ আবার ভিন্ন মত দিচ্ছেন। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট, এই আলোচনা বলিউডের অতীত ও বর্তমান—দুই সময়ের তারকা-ধারণা নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি করেছে। 

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬


‘ভালো অভিনেতা আর বড় তারকা এক নয়’— বলিউডে নতুন বিতর্ক ছড়াল মুমতাজের মন্তব্য

প্রকাশের তারিখ : ২২ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

বলিউডের সোনালি সময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী Mumtaz আবারও আলোচনার কেন্দ্রে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি ‘তারকা’ আর ‘অভিনেতা’—এই দুই পরিচয়ের পার্থক্য নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন Zeenat Aman-এর অভিনয় দক্ষতা নিয়েও। তার এই বক্তব্য ঘিরে বলিউডপ্রেমীদের মধ্যে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। 

সাক্ষাৎকারে মুমতাজ বলেন, সবাই ভালো অভিনেতা হতে পারেন, কিন্তু সবাই বড় তারকা হন না। এই পার্থক্যটা বোঝা জরুরি। তিনি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন কিংবদন্তি অভিনেতা Sanjeev Kumar-এর নাম। তার ভাষায়, সঞ্জীব কুমার ছিলেন অসাধারণ অভিনেতা, কিন্তু তাকে তিনি ‘বড় তারকা’ হিসেবে দেখেন না। তার মতে, একজন শিল্পীর অভিনয় দক্ষতা আর দর্শকের মধ্যে তৈরি হওয়া তারকা-আকর্ষণ এক জিনিস নয়।

মুমতাজ আরও ব্যাখ্যা করেন, তারকা বলতে তিনি শুধু অভিনয় বোঝান না। বরং ব্যক্তিত্ব, জনপ্রিয়তা, দর্শক টানার ক্ষমতা—সব মিলিয়ে একজন শিল্পীর উপস্থিতিই তাকে প্রকৃত অর্থে তারকা বানায়। এই প্রসঙ্গে তিনি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন Dilip Kumar, Dev Anand এবং Shammi Kapoor-এর নাম। তার মতে, তাদের উপস্থিতিই সিনেমা হলে দর্শকদের আলাদা উন্মাদনা তৈরি করত।

জিনাত আমানকে নিয়েও সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন মুমতাজ। তিনি জানতে চান, জিনাত আমান অভিনয়ের জন্য কতগুলো বড় পুরস্কার পেয়েছেন। তার মতে, পুরস্কার একজন অভিনেতার কাজের স্বীকৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড। যদিও এই মন্তব্য অনেকের কাছে কঠোর মনে হয়েছে, তবুও মুমতাজের দাবি—তিনি নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই কথা বলেছেন।

তবে বলিউডের একটি বড় অংশ মনে করছে, এই মন্তব্য কিছুটা বিতর্কিত। কারণ জিনাত আমান শুধু একজন অভিনেত্রীই নন, বরং ১৯৭০-এর দশকে বলিউডে আধুনিক ও গ্ল্যামারাস নারী চরিত্রের নতুন ধারা তৈরি করেছিলেন। “হরে রামা হরে কৃষ্ণ”, “ডন” বা “সত্যম শিবম সুন্দরম”-এর মতো ছবিতে তার উপস্থিতি সেই সময়ের দর্শকদের কাছে নতুন এক স্টাইল ও সাহসী পর্দা-ভাবনা তুলে ধরেছিল। তাই অনেকেই মনে করেন, পুরস্কারের সংখ্যা দিয়ে একজন শিল্পীর অবদান পুরোপুরি বিচার করা যায় না।

একইভাবে সঞ্জীব কুমারও বলিউডে চরিত্রভিত্তিক অভিনয়ের এক শক্তিশালী নাম হিসেবে পরিচিত ছিলেন। “আন্ধি”, “কোশিশ”, “শোলে”-এর মতো ছবিতে তার অভিনয় আজও দর্শকদের কাছে শিক্ষণীয় উদাহরণ হিসেবে ধরা হয়। তিনি বাণিজ্যিক সিনেমার বাইরেও অভিনয়ের গভীরতা দেখিয়ে নিজের আলাদা অবস্থান তৈরি করেছিলেন।

বলিউডের ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, ১৯৬০ ও ৭০-এর দশকে ‘তারকা’ শব্দটির মানে ছিল অনেকটা ভিন্ন। তখন একজন অভিনেতার জনপ্রিয়তা নির্ধারিত হতো তার পোস্টার দেখেই সিনেমা হলে দর্শক ভিড় করছে কি না—এই বিষয় দিয়ে। সেই সময়ের তারকা-সংস্কৃতি আজকের সোশ্যাল মিডিয়া নির্ভর জনপ্রিয়তার থেকে অনেকটাই আলাদা ছিল। 

এ কারণেই অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, মুমতাজের বক্তব্যকে তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে দেখা উচিত। কারণ তিনি নিজেই সেই সময়ের বলিউডের ভেতর থেকে তারকা হওয়ার মানদণ্ড খুব কাছ থেকে দেখেছেন। অন্যদিকে নতুন প্রজন্মের দর্শকরা আজ তারকা হওয়ার সংজ্ঞা ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেন।

সব মিলিয়ে মুমতাজের মন্তব্য আবারও একটি পুরোনো প্রশ্ন সামনে নিয়ে এসেছে—একজন অভিনেতা আর একজন তারকার মধ্যে আসল পার্থক্য কোথায়? কেউ তার সঙ্গে একমত হচ্ছেন, কেউ আবার ভিন্ন মত দিচ্ছেন। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট, এই আলোচনা বলিউডের অতীত ও বর্তমান—দুই সময়ের তারকা-ধারণা নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি করেছে। 


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর