দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

আওয়ামী লীগ নেত্রী সুবর্ণা ঠাকুর পেলেন বিএনপির নারী আসনের মনোনয়ন, গোপালগঞ্জে তোলপাড়

আওয়ামী লীগ নেত্রী সুবর্ণা ঠাকুর পেলেন বিএনপির নারী আসনের মনোনয়ন, গোপালগঞ্জে তোলপাড়

ছাত্রলীগ-ছাত্রদল-শিবির—যেখান থেকেই আসুক, যোগ দিতে পারবেন এনসিপিতে: নাহিদ

তারেক রহমানকে নিয়ে মন্তব্যের জেরে উত্তাপ: রাশেদ প্রধানের পিএসকে জিজ্ঞাসাবাদ

জাতীয় নারীশক্তির কমিটিতে নাম আসতেই পদত্যাগের ঘোষণা এনসিপি নেত্রী ফারাহার

বাংলাদেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে যেতে পারে মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি: বাতিলের দাবি গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির

রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় ৯ দফা প্রস্তাবনা জামায়াতের

২০২৯ সালের মধ্যে চার লেনে উঠছে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক

ভবন নির্মাণ থেমে আছে, চিকিৎসক নেই—সরাইলের স্বাস্থ্যসেবার বেহাল চিত্র সংসদে

আওয়ামী লীগ নেত্রী সুবর্ণা ঠাকুর পেলেন বিএনপির নারী আসনের মনোনয়ন, গোপালগঞ্জে তোলপাড়

আওয়ামী লীগ নেত্রী সুবর্ণা ঠাকুর পেলেন বিএনপির নারী আসনের মনোনয়ন, গোপালগঞ্জে তোলপাড়
-ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার আওয়ামী লীগ নেত্রী সুবর্ণা ঠাকুর। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই স্থানীয় রাজনীতি থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—সবখানেই শুরু হয়েছে আলোচনা ও বিতর্ক।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি বিএনপি সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য ৩৬ জন প্রার্থীর একটি তালিকা চূড়ান্ত করেছে। সেই তালিকায় জায়গা পেয়েছেন কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক সুবর্ণা ঠাকুর। তিনি গোপালগঞ্জের ঐতিহাসিক ওড়াকান্দি ঠাকুরবাড়ির সদস্য হিসেবেও পরিচিত।

এই মনোনয়ন ঘিরে বিএনপির অনেক নেতাকর্মীর মধ্যেই বিস্ময় ও হতাশা দেখা গেছে। বিশেষ করে যারা দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন, তাদের কেউ কেউ প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছেন—দলীয়ভাবে সক্রিয় নেত্রীরা থাকা সত্ত্বেও কেন আওয়ামী লীগের একজন নেত্রীকে মনোনয়ন দেওয়া হলো।

গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক নেতা শরিফুল ইসলাম রোমান সামাজিক মাধ্যমে নিজের প্রতিক্রিয়ায় লিখেছেন, দীর্ঘদিন মাঠে থেকে আন্দোলন করা নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন না হলে সেটি হতাশাজনক। তিনি আরও জানতে চান, সুবর্ণা ঠাকুর আওয়ামী লীগ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছেন কি না, কিংবা তিনি বিএনপির সদস্য হয়েছেন কি না—এ বিষয়ে এখনো পরিষ্কার কোনো তথ্য নেই।

একই ধরনের প্রশ্ন তুলেছেন টিটো বৈদ্য নামের আরেকজন স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মী। তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের পদধারী একজন নেত্রী যদি কোনো রাজনৈতিক সংগ্রাম ছাড়াই অল্প সময়ের মধ্যে সংসদ সদস্য হওয়ার সুযোগ পান, তাহলে তা দলের জন্য ইতিবাচক বার্তা দেয় না।

এদিকে কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের ৩০ নভেম্বর উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সুবর্ণা ঠাকুরকে বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে রাখা হয়। এই তালিকায় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষরও রয়েছে বলে স্থানীয় নেতারা জানিয়েছেন।

তবে এ বিষয়ে সুবর্ণা ঠাকুরের নিজস্ব কোনো বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। তার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

সুবর্ণা ঠাকুর মতুয়া সম্প্রদায়ের একজন নারী এবং ওড়াকান্দির হরিচাঁদ ঠাকুর পরিবারের সদস্য। ওড়াকান্দি এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই মতুয়া সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। প্রতি বছর এখানে বড় ধর্মীয় সমাবেশ হয়, যেখানে দেশ-বিদেশ থেকে ভক্তরা অংশ নেন। ফলে এই পরিবারের সদস্যদের সামাজিক প্রভাবও এলাকায় উল্লেখযোগ্য।

বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনগুলো সরাসরি ভোটে নয়, বরং সংসদে দলীয় আসনের অনুপাতে রাজনৈতিক দলগুলোর মনোনয়নের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়। তাই এসব মনোনয়ন অনেক সময় দলীয় কৌশল, সামাজিক প্রতিনিধিত্ব এবং রাজনৈতিক সমীকরণের ওপর নির্ভর করে দেওয়া হয়।

এই প্রেক্ষাপটে সুবর্ণা ঠাকুরকে বিএনপির মনোনয়ন দেওয়া রাজনৈতিক কৌশলের অংশ, নাকি ভিন্ন কোনো সমঝোতার ফল—তা নিয়ে এখনো পরিষ্কার ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি যে স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে, তা বলাই যায়। আগামী দিনে দলীয়ভাবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা এলে পরিস্থিতি আরও পরিষ্কার হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬


আওয়ামী লীগ নেত্রী সুবর্ণা ঠাকুর পেলেন বিএনপির নারী আসনের মনোনয়ন, গোপালগঞ্জে তোলপাড়

প্রকাশের তারিখ : ২০ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার আওয়ামী লীগ নেত্রী সুবর্ণা ঠাকুর। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই স্থানীয় রাজনীতি থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—সবখানেই শুরু হয়েছে আলোচনা ও বিতর্ক।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি বিএনপি সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য ৩৬ জন প্রার্থীর একটি তালিকা চূড়ান্ত করেছে। সেই তালিকায় জায়গা পেয়েছেন কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক সুবর্ণা ঠাকুর। তিনি গোপালগঞ্জের ঐতিহাসিক ওড়াকান্দি ঠাকুরবাড়ির সদস্য হিসেবেও পরিচিত।

এই মনোনয়ন ঘিরে বিএনপির অনেক নেতাকর্মীর মধ্যেই বিস্ময় ও হতাশা দেখা গেছে। বিশেষ করে যারা দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন, তাদের কেউ কেউ প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছেন—দলীয়ভাবে সক্রিয় নেত্রীরা থাকা সত্ত্বেও কেন আওয়ামী লীগের একজন নেত্রীকে মনোনয়ন দেওয়া হলো।

গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক নেতা শরিফুল ইসলাম রোমান সামাজিক মাধ্যমে নিজের প্রতিক্রিয়ায় লিখেছেন, দীর্ঘদিন মাঠে থেকে আন্দোলন করা নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন না হলে সেটি হতাশাজনক। তিনি আরও জানতে চান, সুবর্ণা ঠাকুর আওয়ামী লীগ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছেন কি না, কিংবা তিনি বিএনপির সদস্য হয়েছেন কি না—এ বিষয়ে এখনো পরিষ্কার কোনো তথ্য নেই।

একই ধরনের প্রশ্ন তুলেছেন টিটো বৈদ্য নামের আরেকজন স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মী। তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের পদধারী একজন নেত্রী যদি কোনো রাজনৈতিক সংগ্রাম ছাড়াই অল্প সময়ের মধ্যে সংসদ সদস্য হওয়ার সুযোগ পান, তাহলে তা দলের জন্য ইতিবাচক বার্তা দেয় না।

এদিকে কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের ৩০ নভেম্বর উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সুবর্ণা ঠাকুরকে বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে রাখা হয়। এই তালিকায় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষরও রয়েছে বলে স্থানীয় নেতারা জানিয়েছেন।

তবে এ বিষয়ে সুবর্ণা ঠাকুরের নিজস্ব কোনো বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। তার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

সুবর্ণা ঠাকুর মতুয়া সম্প্রদায়ের একজন নারী এবং ওড়াকান্দির হরিচাঁদ ঠাকুর পরিবারের সদস্য। ওড়াকান্দি এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই মতুয়া সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। প্রতি বছর এখানে বড় ধর্মীয় সমাবেশ হয়, যেখানে দেশ-বিদেশ থেকে ভক্তরা অংশ নেন। ফলে এই পরিবারের সদস্যদের সামাজিক প্রভাবও এলাকায় উল্লেখযোগ্য।

বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনগুলো সরাসরি ভোটে নয়, বরং সংসদে দলীয় আসনের অনুপাতে রাজনৈতিক দলগুলোর মনোনয়নের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়। তাই এসব মনোনয়ন অনেক সময় দলীয় কৌশল, সামাজিক প্রতিনিধিত্ব এবং রাজনৈতিক সমীকরণের ওপর নির্ভর করে দেওয়া হয়।

এই প্রেক্ষাপটে সুবর্ণা ঠাকুরকে বিএনপির মনোনয়ন দেওয়া রাজনৈতিক কৌশলের অংশ, নাকি ভিন্ন কোনো সমঝোতার ফল—তা নিয়ে এখনো পরিষ্কার ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি যে স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে, তা বলাই যায়। আগামী দিনে দলীয়ভাবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা এলে পরিস্থিতি আরও পরিষ্কার হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর