দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

সিরাজগঞ্জে বাসচাপায় অটোরিকশার তিন যাত্রী নিহত, গুরুতর আহত আরও দুইজন

সিরাজগঞ্জে বাসচাপায় অটোরিকশার তিন যাত্রী নিহত, গুরুতর আহত আরও দুইজন

ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার অভিযোগ, ঢাকায় এনসিপির বিক্ষোভ মিছিল

সাভারে মৎস্যজীবী দলের সভায় খোরশেদ আলম: তৃণমূল নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান

দেশজুড়ে ধর্ষণ ও হত্যার বিচার দাবিতে এনসিপির মশাল মিছিল, শাহবাগে প্রতিবাদের ঢল

জামায়াত আমির শফিকুর রহমানের অভিযোগ—‘রাজনৈতিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠায় বিলুপ্ত করা হয়েছে বিচার বিভাগীয় সচিবালয়’

দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খারাপ, সরকার স্বীকার করছে না: ডা. শফিকুর রহমান

কুড়িগ্রামে প্রশাসনিক সিন্ডিকেটের অভিযোগ এমপি আতিক মোজাহিদের, উন্নয়ন ব্যাহত হওয়ার দাবি

রাজশাহীতে এনসিপির বড় যোগদান অনুষ্ঠান, বিভিন্ন দল ছেড়ে এলেন প্রায় ৫০০ নেতা-কর্মী

আওয়ামী লীগ নেত্রী সুবর্ণা ঠাকুর পেলেন বিএনপির নারী আসনের মনোনয়ন, গোপালগঞ্জে তোলপাড়

আওয়ামী লীগ নেত্রী সুবর্ণা ঠাকুর পেলেন বিএনপির নারী আসনের মনোনয়ন, গোপালগঞ্জে তোলপাড়
-ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার আওয়ামী লীগ নেত্রী সুবর্ণা ঠাকুর। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই স্থানীয় রাজনীতি থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—সবখানেই শুরু হয়েছে আলোচনা ও বিতর্ক।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি বিএনপি সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য ৩৬ জন প্রার্থীর একটি তালিকা চূড়ান্ত করেছে। সেই তালিকায় জায়গা পেয়েছেন কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক সুবর্ণা ঠাকুর। তিনি গোপালগঞ্জের ঐতিহাসিক ওড়াকান্দি ঠাকুরবাড়ির সদস্য হিসেবেও পরিচিত।

এই মনোনয়ন ঘিরে বিএনপির অনেক নেতাকর্মীর মধ্যেই বিস্ময় ও হতাশা দেখা গেছে। বিশেষ করে যারা দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন, তাদের কেউ কেউ প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছেন—দলীয়ভাবে সক্রিয় নেত্রীরা থাকা সত্ত্বেও কেন আওয়ামী লীগের একজন নেত্রীকে মনোনয়ন দেওয়া হলো।

গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক নেতা শরিফুল ইসলাম রোমান সামাজিক মাধ্যমে নিজের প্রতিক্রিয়ায় লিখেছেন, দীর্ঘদিন মাঠে থেকে আন্দোলন করা নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন না হলে সেটি হতাশাজনক। তিনি আরও জানতে চান, সুবর্ণা ঠাকুর আওয়ামী লীগ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছেন কি না, কিংবা তিনি বিএনপির সদস্য হয়েছেন কি না—এ বিষয়ে এখনো পরিষ্কার কোনো তথ্য নেই।

একই ধরনের প্রশ্ন তুলেছেন টিটো বৈদ্য নামের আরেকজন স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মী। তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের পদধারী একজন নেত্রী যদি কোনো রাজনৈতিক সংগ্রাম ছাড়াই অল্প সময়ের মধ্যে সংসদ সদস্য হওয়ার সুযোগ পান, তাহলে তা দলের জন্য ইতিবাচক বার্তা দেয় না।

এদিকে কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের ৩০ নভেম্বর উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সুবর্ণা ঠাকুরকে বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে রাখা হয়। এই তালিকায় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষরও রয়েছে বলে স্থানীয় নেতারা জানিয়েছেন।

তবে এ বিষয়ে সুবর্ণা ঠাকুরের নিজস্ব কোনো বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। তার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

সুবর্ণা ঠাকুর মতুয়া সম্প্রদায়ের একজন নারী এবং ওড়াকান্দির হরিচাঁদ ঠাকুর পরিবারের সদস্য। ওড়াকান্দি এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই মতুয়া সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। প্রতি বছর এখানে বড় ধর্মীয় সমাবেশ হয়, যেখানে দেশ-বিদেশ থেকে ভক্তরা অংশ নেন। ফলে এই পরিবারের সদস্যদের সামাজিক প্রভাবও এলাকায় উল্লেখযোগ্য।

বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনগুলো সরাসরি ভোটে নয়, বরং সংসদে দলীয় আসনের অনুপাতে রাজনৈতিক দলগুলোর মনোনয়নের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়। তাই এসব মনোনয়ন অনেক সময় দলীয় কৌশল, সামাজিক প্রতিনিধিত্ব এবং রাজনৈতিক সমীকরণের ওপর নির্ভর করে দেওয়া হয়।

এই প্রেক্ষাপটে সুবর্ণা ঠাকুরকে বিএনপির মনোনয়ন দেওয়া রাজনৈতিক কৌশলের অংশ, নাকি ভিন্ন কোনো সমঝোতার ফল—তা নিয়ে এখনো পরিষ্কার ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি যে স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে, তা বলাই যায়। আগামী দিনে দলীয়ভাবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা এলে পরিস্থিতি আরও পরিষ্কার হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিষয় : আওয়ামী লীগ সুবর্ণা গোপালগঞ্জে

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬


আওয়ামী লীগ নেত্রী সুবর্ণা ঠাকুর পেলেন বিএনপির নারী আসনের মনোনয়ন, গোপালগঞ্জে তোলপাড়

প্রকাশের তারিখ : ২০ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার আওয়ামী লীগ নেত্রী সুবর্ণা ঠাকুর। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই স্থানীয় রাজনীতি থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—সবখানেই শুরু হয়েছে আলোচনা ও বিতর্ক।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি বিএনপি সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য ৩৬ জন প্রার্থীর একটি তালিকা চূড়ান্ত করেছে। সেই তালিকায় জায়গা পেয়েছেন কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক সুবর্ণা ঠাকুর। তিনি গোপালগঞ্জের ঐতিহাসিক ওড়াকান্দি ঠাকুরবাড়ির সদস্য হিসেবেও পরিচিত।

এই মনোনয়ন ঘিরে বিএনপির অনেক নেতাকর্মীর মধ্যেই বিস্ময় ও হতাশা দেখা গেছে। বিশেষ করে যারা দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন, তাদের কেউ কেউ প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছেন—দলীয়ভাবে সক্রিয় নেত্রীরা থাকা সত্ত্বেও কেন আওয়ামী লীগের একজন নেত্রীকে মনোনয়ন দেওয়া হলো।

গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক নেতা শরিফুল ইসলাম রোমান সামাজিক মাধ্যমে নিজের প্রতিক্রিয়ায় লিখেছেন, দীর্ঘদিন মাঠে থেকে আন্দোলন করা নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন না হলে সেটি হতাশাজনক। তিনি আরও জানতে চান, সুবর্ণা ঠাকুর আওয়ামী লীগ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছেন কি না, কিংবা তিনি বিএনপির সদস্য হয়েছেন কি না—এ বিষয়ে এখনো পরিষ্কার কোনো তথ্য নেই।

একই ধরনের প্রশ্ন তুলেছেন টিটো বৈদ্য নামের আরেকজন স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মী। তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের পদধারী একজন নেত্রী যদি কোনো রাজনৈতিক সংগ্রাম ছাড়াই অল্প সময়ের মধ্যে সংসদ সদস্য হওয়ার সুযোগ পান, তাহলে তা দলের জন্য ইতিবাচক বার্তা দেয় না।

এদিকে কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের ৩০ নভেম্বর উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সুবর্ণা ঠাকুরকে বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে রাখা হয়। এই তালিকায় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষরও রয়েছে বলে স্থানীয় নেতারা জানিয়েছেন।

তবে এ বিষয়ে সুবর্ণা ঠাকুরের নিজস্ব কোনো বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। তার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

সুবর্ণা ঠাকুর মতুয়া সম্প্রদায়ের একজন নারী এবং ওড়াকান্দির হরিচাঁদ ঠাকুর পরিবারের সদস্য। ওড়াকান্দি এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই মতুয়া সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। প্রতি বছর এখানে বড় ধর্মীয় সমাবেশ হয়, যেখানে দেশ-বিদেশ থেকে ভক্তরা অংশ নেন। ফলে এই পরিবারের সদস্যদের সামাজিক প্রভাবও এলাকায় উল্লেখযোগ্য।

বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনগুলো সরাসরি ভোটে নয়, বরং সংসদে দলীয় আসনের অনুপাতে রাজনৈতিক দলগুলোর মনোনয়নের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়। তাই এসব মনোনয়ন অনেক সময় দলীয় কৌশল, সামাজিক প্রতিনিধিত্ব এবং রাজনৈতিক সমীকরণের ওপর নির্ভর করে দেওয়া হয়।

এই প্রেক্ষাপটে সুবর্ণা ঠাকুরকে বিএনপির মনোনয়ন দেওয়া রাজনৈতিক কৌশলের অংশ, নাকি ভিন্ন কোনো সমঝোতার ফল—তা নিয়ে এখনো পরিষ্কার ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি যে স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে, তা বলাই যায়। আগামী দিনে দলীয়ভাবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা এলে পরিস্থিতি আরও পরিষ্কার হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর