দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ টেস্ট সিরিজের সূচিতে পরিবর্তন

বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ টেস্ট সিরিজের সূচিতে পরিবর্তন

স্লো ওভার রেটে ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজকে জরিমানা করল আইসিসি

এশিয়ান গেমসে নিয়ম ভেঙে ঘোরাঘুরি, শাস্তির মুখে সাইফ-হৃদয়-রিশাদ

লিটন-শান্তদের সহকারী কোচ হলেন দক্ষিণ আফ্রিকার মাকেতা

পাকিস্তানে যাচ্ছে না জিম্বাবুয়ে, বাতিল হচ্ছে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজ

‘তাড়াহুড়ো নেই’, মেসির শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ পর্যন্ত ১০ নম্বর জার্সি ফাঁকা রাখবে আর্জেন্টিনা

হাসান–খালেদের নৈপুণ্যে কাউন্টির শীর্ষ লিগে ফিরল কেন্ট

আমিরুলের জোড়া গোলে হকিতে বাংলাদেশের টানা দ্বিতীয় জয়

শের-ই-বাংলায় নাহিদের ঝড়: দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ১৯৮ রানেই অলআউট নিউজিল্যান্ড

শের-ই-বাংলায় নাহিদের ঝড়: দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ১৯৮ রানেই অলআউট নিউজিল্যান্ড
-ছবি: সংগৃহীত

মিরপুরের শের-ই-বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দুর্দান্ত বোলিংয়ে নিউজিল্যান্ডকে মাত্র ১৯৮ রানে আটকে দিয়েছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে পেসার নাহিদ রানার আগুনঝরা বোলিংয়ে শুরু থেকেই চাপে পড়ে যায় সফরকারীরা। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয়বারের মতো পাঁচ উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচে বড় ভূমিকা রাখেন এই তরুণ পেসার।

সোমবার (২০ এপ্রিল) তিন ম্যাচের সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নামে নিউজিল্যান্ড। কিন্তু শুরু থেকেই বাংলাদেশের বোলাররা নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথে বল করে প্রতিপক্ষকে রান তুলতে দেননি। শেষ পর্যন্ত ৪৮.৪ ওভারে সব উইকেট হারিয়ে ১৯৮ রানেই থেমে যায় কিউইদের ইনিংস।

ইনিংসের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক বোলিং করেন নাহিদ রানা। দলীয় অষ্টম ওভারে তিনি প্রথম সাফল্য এনে দেন। ১৩ রান করা হেনরি নিকোলসকে এলবিডব্লিউ করে ফিরিয়ে দেন তিনি। এরপর তিন নম্বরে নামা উইল ইয়ংও বেশি সময় টিকতে পারেননি। নাহিদের গতির সামনে তিনিও পরাস্ত হন।

এরপর মিডল অর্ডারেও দাপট দেখান নাহিদ। ধারাবাহিকভাবে মোহাম্মদ আব্বাস, ডিন ফক্সক্রফ্ট ও জেডেন লিনক্সকে ফিরিয়ে দিয়ে নিজের পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন। তার এই স্পেলই মূলত নিউজিল্যান্ডকে বড় সংগ্রহ গড়তে দেয়নি।

তবে নিউজিল্যান্ডের হয়ে সবচেয়ে লড়াই করেছেন ওপেনার নিক কেলি। তিনি ১০২ বলে ১৪টি চারের সাহায্যে ৮৩ রান করেন। ইনিংসের একমাত্র দৃঢ় প্রতিরোধ ছিল তার ব্যাট থেকেই। শেষ পর্যন্ত শরিফুল ইসলামের বলে তাওহীদ হৃদয়ের ক্যাচ হয়ে সাজঘরে ফেরেন কেলি। তার আউটের পর নিউজিল্যান্ডের ইনিংস দ্রুত গুটিয়ে যায়।

বাংলাদেশের অন্য বোলাররাও ভালো সমর্থন দিয়েছেন। শরিফুল ইসলাম নেন ২টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। তাসকিন আহমেদ, সৌম্য সরকার ও রিশাদ হোসেন প্রত্যেকে ১টি করে উইকেট তুলে নিয়ে দলের সাফল্যে অবদান রাখেন। পুরো বোলিং ইউনিট একসঙ্গে পরিকল্পনা মেনে বল করায় কিউই ব্যাটাররা বড় রান করতে পারেননি।

মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম বরাবরই স্পিন ও নিয়ন্ত্রিত পেস বোলিংয়ের জন্য সহায়ক হিসেবে পরিচিত। এখানে অতীতে অনেক বড় দলই কম রানে অলআউট হয়েছে। বাংলাদেশের বোলাররা এই মাঠের কন্ডিশন ভালোভাবে কাজে লাগাতে পারলে প্রতিপক্ষের জন্য বড় স্কোর করা কঠিন হয়ে যায়—আজকের ম্যাচেও তার প্রমাণ মিলেছে।

এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের পেস বোলিং বিভাগে নতুনদের উত্থান দলকে বাড়তি শক্তি দিচ্ছে। নাহিদ রানার মতো তরুণ বোলারদের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স ভবিষ্যতে দলের জন্য বড় সম্পদ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকেরা। 

সব মিলিয়ে, নিউজিল্যান্ডকে ১৯৮ রানে আটকে দিয়ে ম্যাচে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে বাংলাদেশ। এখন ব্যাটিং বিভাগ দায়িত্বশীল পারফরম্যান্স দেখাতে পারলে সিরিজে সমতা ফেরানোর দারুণ সুযোগ তৈরি হয়েছে দলের সামনে।

বিষয় : নাহিদের বাংলায় অলআউট

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬


শের-ই-বাংলায় নাহিদের ঝড়: দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ১৯৮ রানেই অলআউট নিউজিল্যান্ড

প্রকাশের তারিখ : ২০ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

মিরপুরের শের-ই-বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দুর্দান্ত বোলিংয়ে নিউজিল্যান্ডকে মাত্র ১৯৮ রানে আটকে দিয়েছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে পেসার নাহিদ রানার আগুনঝরা বোলিংয়ে শুরু থেকেই চাপে পড়ে যায় সফরকারীরা। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয়বারের মতো পাঁচ উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচে বড় ভূমিকা রাখেন এই তরুণ পেসার।

সোমবার (২০ এপ্রিল) তিন ম্যাচের সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নামে নিউজিল্যান্ড। কিন্তু শুরু থেকেই বাংলাদেশের বোলাররা নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথে বল করে প্রতিপক্ষকে রান তুলতে দেননি। শেষ পর্যন্ত ৪৮.৪ ওভারে সব উইকেট হারিয়ে ১৯৮ রানেই থেমে যায় কিউইদের ইনিংস।

ইনিংসের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক বোলিং করেন নাহিদ রানা। দলীয় অষ্টম ওভারে তিনি প্রথম সাফল্য এনে দেন। ১৩ রান করা হেনরি নিকোলসকে এলবিডব্লিউ করে ফিরিয়ে দেন তিনি। এরপর তিন নম্বরে নামা উইল ইয়ংও বেশি সময় টিকতে পারেননি। নাহিদের গতির সামনে তিনিও পরাস্ত হন।

এরপর মিডল অর্ডারেও দাপট দেখান নাহিদ। ধারাবাহিকভাবে মোহাম্মদ আব্বাস, ডিন ফক্সক্রফ্ট ও জেডেন লিনক্সকে ফিরিয়ে দিয়ে নিজের পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন। তার এই স্পেলই মূলত নিউজিল্যান্ডকে বড় সংগ্রহ গড়তে দেয়নি।

তবে নিউজিল্যান্ডের হয়ে সবচেয়ে লড়াই করেছেন ওপেনার নিক কেলি। তিনি ১০২ বলে ১৪টি চারের সাহায্যে ৮৩ রান করেন। ইনিংসের একমাত্র দৃঢ় প্রতিরোধ ছিল তার ব্যাট থেকেই। শেষ পর্যন্ত শরিফুল ইসলামের বলে তাওহীদ হৃদয়ের ক্যাচ হয়ে সাজঘরে ফেরেন কেলি। তার আউটের পর নিউজিল্যান্ডের ইনিংস দ্রুত গুটিয়ে যায়।

বাংলাদেশের অন্য বোলাররাও ভালো সমর্থন দিয়েছেন। শরিফুল ইসলাম নেন ২টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। তাসকিন আহমেদ, সৌম্য সরকার ও রিশাদ হোসেন প্রত্যেকে ১টি করে উইকেট তুলে নিয়ে দলের সাফল্যে অবদান রাখেন। পুরো বোলিং ইউনিট একসঙ্গে পরিকল্পনা মেনে বল করায় কিউই ব্যাটাররা বড় রান করতে পারেননি।

মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম বরাবরই স্পিন ও নিয়ন্ত্রিত পেস বোলিংয়ের জন্য সহায়ক হিসেবে পরিচিত। এখানে অতীতে অনেক বড় দলই কম রানে অলআউট হয়েছে। বাংলাদেশের বোলাররা এই মাঠের কন্ডিশন ভালোভাবে কাজে লাগাতে পারলে প্রতিপক্ষের জন্য বড় স্কোর করা কঠিন হয়ে যায়—আজকের ম্যাচেও তার প্রমাণ মিলেছে।

এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের পেস বোলিং বিভাগে নতুনদের উত্থান দলকে বাড়তি শক্তি দিচ্ছে। নাহিদ রানার মতো তরুণ বোলারদের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স ভবিষ্যতে দলের জন্য বড় সম্পদ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকেরা। 

সব মিলিয়ে, নিউজিল্যান্ডকে ১৯৮ রানে আটকে দিয়ে ম্যাচে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে বাংলাদেশ। এখন ব্যাটিং বিভাগ দায়িত্বশীল পারফরম্যান্স দেখাতে পারলে সিরিজে সমতা ফেরানোর দারুণ সুযোগ তৈরি হয়েছে দলের সামনে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর