দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : রোববার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

ঈদগাঁও-ঈদগড় সড়কে ডাকাতি: লুণ্ঠিত মালামাল ও অস্ত্র উদ্ধার, আটক ২

ঈদগাঁও-ঈদগড় সড়কে ডাকাতি: লুণ্ঠিত মালামাল ও অস্ত্র উদ্ধার, আটক ২

টঙ্গীতে তুরাগ নদ থেকে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির পচাগলা মরদেহ উদ্ধার

নাটোরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ১৪, আহত ৩২

ঢাকায় ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে ২৪ ঘণ্টায় ২ হাজার ১৭টি মামলা

গাজীপুরে পৃথক অগ্নিকাণ্ডে তিন ঝুট গুদাম পুড়ে ছাই

শিবচরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত দুজনের ব্যাগে ৬০ বোতল এসকাফ সিরাপ

স্কুলের অফিসকক্ষে শিক্ষক দম্পতির ধস্তাধস্তি, স্বামী-স্ত্রীকে বদলি দুই প্রান্তে

কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুনে নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, একই পরিবারের ৬ জন

কাঁচামাল না পেয়ে বন্ধ চট্টগ্রামের ডিএপি কারখানা, চাপে সার সরবরাহ

কাঁচামাল না পেয়ে বন্ধ চট্টগ্রামের ডিএপি কারখানা, চাপে সার সরবরাহ
-ছবি: সংগৃহীত

অ্যামোনিয়ার তীব্র সংকটের কারণে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট (ডিএপি) সার কারখানার উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় অবস্থিত এই কারখানাটির মজুদ অ্যামোনিয়া শেষ হয়ে যাওয়ায় শনিবার রাতে উৎপাদন থামাতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। এতে দেশের সার উৎপাদন পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

কারখানার ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) ও বিভাগীয় প্রধান (প্রশাসন) আলমগীর জলিল জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে মজুদ অ্যামোনিয়া দিয়ে উৎপাদন চালু রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত সেই মজুদ শেষ হয়ে যাওয়ায় উৎপাদন বন্ধ করতে হয়েছে। নতুন করে অ্যামোনিয়া সরবরাহ শুরু না হলে কারখানা চালু করা সম্ভব নয় বলেও তিনি জানান।

জানা গেছে, গত ৪ মার্চ গ্যাস সংকটের কারণে রাষ্ট্রায়ত্ত চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (সিইউএফএল) এবং বহুজাতিক কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো) কারখানায় ইউরিয়া ও অ্যামোনিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। এই দুই কারখানা থেকেই এতদিন ডিএপি কারখানার জন্য অ্যামোনিয়া সরবরাহ করা হতো। ফলে সেগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকেই ডিএপি কারখানার কাঁচামাল সরবরাহ পুরোপুরি থেমে যায়।

কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈনুল হক জানিয়েছেন, মার্চের শুরু থেকেই অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধ ছিল। এরপর মজুদ দিয়ে কিছুদিন উৎপাদন চালু রাখা হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই মজুদও শেষ হয়ে যাওয়ায় উৎপাদন বন্ধ করা ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না। এখন নতুন করে সরবরাহ না এলে উৎপাদন পুনরায় শুরু করা সম্ভব হবে না।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) নিয়ন্ত্রিত এই ডিএপি কারখানাটি ২০০৬ সাল থেকে বাণিজ্যিক উৎপাদনে রয়েছে। এখানে দৈনিক প্রায় ৮০০ মেট্রিক টন উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ইউনিট রয়েছে। দেশের কৃষি খাতে ডিএপি সারের একটি বড় অংশ এই কারখানা থেকেই সরবরাহ করা হয়। ????

ডিএপি সার মূলত ধান, গম, ভুট্টাসহ বিভিন্ন ফসলের উৎপাদন বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কৃষকেরা জমিতে দ্রুত ফলন বাড়াতে এই সার ব্যবহার করেন। তাই উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আগামী মৌসুমে সারের সরবরাহে চাপ তৈরি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

এর আগে গ্যাস সংকটের কারণে সিইউএফএল ও কাফকো কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনাও দেশের সার উৎপাদনে বড় প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম অঞ্চলের এই তিনটি কারখানা একে অপরের সঙ্গে উৎপাদন ব্যবস্থায় সরাসরি যুক্ত। একটি বন্ধ হলে অন্যগুলোর ওপরও তার প্রভাব পড়ে—বর্তমান পরিস্থিতি তারই উদাহরণ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের কৃষি উৎপাদন ঠিক রাখতে সার কারখানাগুলো সচল রাখা অত্যন্ত জরুরি। এ জন্য গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং কাঁচামাল নিশ্চিত করার দিকে দ্রুত নজর দেওয়া প্রয়োজন। না হলে আমদানির ওপর নির্ভরতা আরও বাড়তে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে ব্যয় বাড়াবে।

সব মিলিয়ে অ্যামোনিয়া সংকটের কারণে ডিএপি কারখানার উৎপাদন বন্ধ হওয়া দেশের সার সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য একটি সতর্ক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। দ্রুত কাঁচামাল সরবরাহ স্বাভাবিক করা গেলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব—এমনটাই আশা সংশ্লিষ্টদের।

বিষয় : কাঁচামাল কারখানা, ডিএপি

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬


কাঁচামাল না পেয়ে বন্ধ চট্টগ্রামের ডিএপি কারখানা, চাপে সার সরবরাহ

প্রকাশের তারিখ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

অ্যামোনিয়ার তীব্র সংকটের কারণে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট (ডিএপি) সার কারখানার উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় অবস্থিত এই কারখানাটির মজুদ অ্যামোনিয়া শেষ হয়ে যাওয়ায় শনিবার রাতে উৎপাদন থামাতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। এতে দেশের সার উৎপাদন পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

কারখানার ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) ও বিভাগীয় প্রধান (প্রশাসন) আলমগীর জলিল জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে মজুদ অ্যামোনিয়া দিয়ে উৎপাদন চালু রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত সেই মজুদ শেষ হয়ে যাওয়ায় উৎপাদন বন্ধ করতে হয়েছে। নতুন করে অ্যামোনিয়া সরবরাহ শুরু না হলে কারখানা চালু করা সম্ভব নয় বলেও তিনি জানান।

জানা গেছে, গত ৪ মার্চ গ্যাস সংকটের কারণে রাষ্ট্রায়ত্ত চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (সিইউএফএল) এবং বহুজাতিক কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো) কারখানায় ইউরিয়া ও অ্যামোনিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। এই দুই কারখানা থেকেই এতদিন ডিএপি কারখানার জন্য অ্যামোনিয়া সরবরাহ করা হতো। ফলে সেগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকেই ডিএপি কারখানার কাঁচামাল সরবরাহ পুরোপুরি থেমে যায়।

কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈনুল হক জানিয়েছেন, মার্চের শুরু থেকেই অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধ ছিল। এরপর মজুদ দিয়ে কিছুদিন উৎপাদন চালু রাখা হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই মজুদও শেষ হয়ে যাওয়ায় উৎপাদন বন্ধ করা ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না। এখন নতুন করে সরবরাহ না এলে উৎপাদন পুনরায় শুরু করা সম্ভব হবে না।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) নিয়ন্ত্রিত এই ডিএপি কারখানাটি ২০০৬ সাল থেকে বাণিজ্যিক উৎপাদনে রয়েছে। এখানে দৈনিক প্রায় ৮০০ মেট্রিক টন উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ইউনিট রয়েছে। দেশের কৃষি খাতে ডিএপি সারের একটি বড় অংশ এই কারখানা থেকেই সরবরাহ করা হয়। ????

ডিএপি সার মূলত ধান, গম, ভুট্টাসহ বিভিন্ন ফসলের উৎপাদন বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কৃষকেরা জমিতে দ্রুত ফলন বাড়াতে এই সার ব্যবহার করেন। তাই উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আগামী মৌসুমে সারের সরবরাহে চাপ তৈরি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

এর আগে গ্যাস সংকটের কারণে সিইউএফএল ও কাফকো কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনাও দেশের সার উৎপাদনে বড় প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম অঞ্চলের এই তিনটি কারখানা একে অপরের সঙ্গে উৎপাদন ব্যবস্থায় সরাসরি যুক্ত। একটি বন্ধ হলে অন্যগুলোর ওপরও তার প্রভাব পড়ে—বর্তমান পরিস্থিতি তারই উদাহরণ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের কৃষি উৎপাদন ঠিক রাখতে সার কারখানাগুলো সচল রাখা অত্যন্ত জরুরি। এ জন্য গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং কাঁচামাল নিশ্চিত করার দিকে দ্রুত নজর দেওয়া প্রয়োজন। না হলে আমদানির ওপর নির্ভরতা আরও বাড়তে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে ব্যয় বাড়াবে।

সব মিলিয়ে অ্যামোনিয়া সংকটের কারণে ডিএপি কারখানার উৎপাদন বন্ধ হওয়া দেশের সার সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য একটি সতর্ক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। দ্রুত কাঁচামাল সরবরাহ স্বাভাবিক করা গেলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব—এমনটাই আশা সংশ্লিষ্টদের।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর