দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

‘ক্ষমতার গরমের আঁচ পড়েছে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে’:উদ্বেগ শফিকুর রহমানের

‘ক্ষমতার গরমের আঁচ পড়েছে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে’:উদ্বেগ শফিকুর রহমানের

গাজী নজরুলের ৪ দিন, প্রথম স্ত্রী মাকছুদার ১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

বিএনপির নাম ভাঙিয়ে অপকর্ম করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে: রিজভী

নারী উদ্যোক্তা আন্দোলনের অগ্রদূত সেলিমা আহমাদ আর নেই, রেখে গেলেন অনুপ্রেরণার এক ইতিহাস

সিরাজগঞ্জে বাসচাপায় অটোরিকশার তিন যাত্রী নিহত, গুরুতর আহত আরও দুইজন

ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার অভিযোগ, ঢাকায় এনসিপির বিক্ষোভ মিছিল

সাভারে মৎস্যজীবী দলের সভায় খোরশেদ আলম: তৃণমূল নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান

২০২৯ সালের মধ্যে চার লেনে উঠছে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক

২০২৯ সালের মধ্যে চার লেনে উঠছে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক
-ছবি: সংগৃহীত

২০২৯ সালের মধ্যে চার লেনে উঠছে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক

দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হতে যাচ্ছে অবশেষে। দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। প্রথম ধাপে ২৬ দশমিক ২১ কিলোমিটার অংশ চার লেনে উন্নীত করার কাজ শুরু হতে যাচ্ছে এবং ২০২৯ সালের মধ্যে এই অংশের কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, হাইওয়ে ইমপ্রুভমেন্ট ফেজ–ওয়ানের আওতায় এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। ইতোমধ্যে প্রকল্পটি পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) পদ্ধতিতে অনুমোদন পেয়েছে। ফলে খুব শিগগিরই কাজ শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মন্ত্রী আরও জানান, এই প্রকল্পের মধ্যে প্রায় ২ দশমিক ৬ কিলোমিটার ফ্লাইওভার নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। এতে যানজট কমবে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানোর ক্ষেত্রেও বড় ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে ব্যস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলোতে এই ফ্লাইওভার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত মোট প্রায় ১৫৯ কিলোমিটার দীর্ঘ এই মহাসড়কের বাকি প্রায় ৪৮ কিলোমিটার অংশ চার লেনে উন্নীত করার জন্য বর্তমানে সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে। এ বিষয়ে জাপানের উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জাইকার সঙ্গে অর্থায়ন নিয়ে আলোচনা চলছে বলেও সংসদে জানান মন্ত্রী। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে পুরো মহাসড়ককে চার লেনে উন্নীত করা সম্ভব হবে।

মন্ত্রী বলেন, এই মহাসড়কটি দীর্ঘদিন ধরেই দুর্ঘটনাপ্রবণ হিসেবে পরিচিত। তাই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে সেখানে ইতোমধ্যে কিছু নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে চার লেনে উন্নীত করা গেলে দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন করিডর হিসেবে পরিচিত। প্রতি বছর লাখো মানুষ কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে ভ্রমণ করতে এই সড়ক ব্যবহার করেন। বিশেষ করে ঈদ ও ছুটির মৌসুমে এই পথে ব্যাপক যানজট সৃষ্টি হয়। চার লেনে উন্নীত হলে যাত্রাসময় কমবে এবং ভ্রমণ আরও স্বস্তিদায়ক হবে বলে আশা করছেন যাত্রীরা।

এই মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা নতুন নয়। এর আগে ২০১৩ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে একটি বিদেশি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এই সড়ক নিয়ে সমীক্ষা চালায়। সেই সময় প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে পুরো সড়কটি চার লেনে উন্নীত করার প্রাথমিক হিসাব দেওয়া হয়েছিল। এরপর বিভিন্ন সময় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হলেও বাস্তব কাজ শুরু হয়নি।

এখন নতুন করে প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ায় সংশ্লিষ্ট এলাকায় বসবাসকারী মানুষ ও নিয়মিত যাত্রীদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। তারা মনে করছেন, পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে শুধু দুর্ঘটনা কমবে না, ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটন খাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

সব মিলিয়ে দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার উদ্যোগ বাস্তব রূপ নিতে যাচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হলে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে চলাচল হবে আরও দ্রুত, নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


২০২৯ সালের মধ্যে চার লেনে উঠছে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক

প্রকাশের তারিখ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

২০২৯ সালের মধ্যে চার লেনে উঠছে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক

দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হতে যাচ্ছে অবশেষে। দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। প্রথম ধাপে ২৬ দশমিক ২১ কিলোমিটার অংশ চার লেনে উন্নীত করার কাজ শুরু হতে যাচ্ছে এবং ২০২৯ সালের মধ্যে এই অংশের কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, হাইওয়ে ইমপ্রুভমেন্ট ফেজ–ওয়ানের আওতায় এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। ইতোমধ্যে প্রকল্পটি পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) পদ্ধতিতে অনুমোদন পেয়েছে। ফলে খুব শিগগিরই কাজ শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মন্ত্রী আরও জানান, এই প্রকল্পের মধ্যে প্রায় ২ দশমিক ৬ কিলোমিটার ফ্লাইওভার নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। এতে যানজট কমবে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানোর ক্ষেত্রেও বড় ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে ব্যস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলোতে এই ফ্লাইওভার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত মোট প্রায় ১৫৯ কিলোমিটার দীর্ঘ এই মহাসড়কের বাকি প্রায় ৪৮ কিলোমিটার অংশ চার লেনে উন্নীত করার জন্য বর্তমানে সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে। এ বিষয়ে জাপানের উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জাইকার সঙ্গে অর্থায়ন নিয়ে আলোচনা চলছে বলেও সংসদে জানান মন্ত্রী। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে পুরো মহাসড়ককে চার লেনে উন্নীত করা সম্ভব হবে।

মন্ত্রী বলেন, এই মহাসড়কটি দীর্ঘদিন ধরেই দুর্ঘটনাপ্রবণ হিসেবে পরিচিত। তাই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে সেখানে ইতোমধ্যে কিছু নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে চার লেনে উন্নীত করা গেলে দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন করিডর হিসেবে পরিচিত। প্রতি বছর লাখো মানুষ কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে ভ্রমণ করতে এই সড়ক ব্যবহার করেন। বিশেষ করে ঈদ ও ছুটির মৌসুমে এই পথে ব্যাপক যানজট সৃষ্টি হয়। চার লেনে উন্নীত হলে যাত্রাসময় কমবে এবং ভ্রমণ আরও স্বস্তিদায়ক হবে বলে আশা করছেন যাত্রীরা।

এই মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা নতুন নয়। এর আগে ২০১৩ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে একটি বিদেশি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এই সড়ক নিয়ে সমীক্ষা চালায়। সেই সময় প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে পুরো সড়কটি চার লেনে উন্নীত করার প্রাথমিক হিসাব দেওয়া হয়েছিল। এরপর বিভিন্ন সময় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হলেও বাস্তব কাজ শুরু হয়নি।

এখন নতুন করে প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ায় সংশ্লিষ্ট এলাকায় বসবাসকারী মানুষ ও নিয়মিত যাত্রীদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। তারা মনে করছেন, পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে শুধু দুর্ঘটনা কমবে না, ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটন খাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

সব মিলিয়ে দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার উদ্যোগ বাস্তব রূপ নিতে যাচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হলে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে চলাচল হবে আরও দ্রুত, নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর