দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

স্বাধীনতার পর অর্জন আছে, কিন্তু প্রত্যাশা পূরণ হয়নি: জেসিআই অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল

স্বাধীনতার পর অর্জন আছে, কিন্তু প্রত্যাশা পূরণ হয়নি: জেসিআই অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল

জ্বালানি সংকটে হাতিরঝিলের ওয়াটার ট্যাক্সি: ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় যাত্রীরা

পুলিশ আধুনিকায়নে নতুন সহযোগিতার বার্তা: আইজিপির সঙ্গে বৈঠকে ব্রিটিশ হাইকমিশনার

এশিয়ার জ্বালানি নিরাপত্তা ও জলবায়ু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যৌথ উদ্যোগ জরুরি: এজিইসি প্লাস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী

বনানীর ১১ তলা ভবনের কাপড়ের গোডাউনে আগুন, ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের ৫ ইউনিট

দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার: এক মাসে কোটি টাকার সম্পদে দুদকের হস্তক্ষেপ

সংসদে নিজের বক্তব্য সংশোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী, প্রাইভেট স্কুলে গাইডলাইন থাকার কথা স্বীকার

সংস্কার ও রাজনীতি নিয়ে টাঙ্গাইলে তপ্ত ভাষণ, বিরোধীদের কড়া সমালোচনা প্রধানমন্ত্রীর

স্বাধীনতার পর অর্জন আছে, কিন্তু প্রত্যাশা পূরণ হয়নি: জেসিআই অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল

স্বাধীনতার পর অর্জন আছে, কিন্তু প্রত্যাশা পূরণ হয়নি: জেসিআই অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল
-ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ স্বাধীনতার ৫৬ বছর পার করলেও এখনও প্রত্যাশিত উন্নয়ন অর্জন করা যায়নি বলে মন্তব্য করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তবে একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, দেশের তরুণদের উদ্যোগ এবং কৃষিভিত্তিক নতুন কাজ ভবিষ্যতের জন্য আশার বার্তা দিচ্ছে।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) যুব নেতৃত্ব ও উন্নয়ন সংগঠন Junior Chamber International (জেসিআই) আয়োজিত এক কার্নিভালে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে তরুণদের ভূমিকা, দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত কথা তুলে ধরেন তিনি।

বক্তব্যে তিনি বলেন, Bangladesh Liberation War–এর মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন জাতি হিসেবে বিশ্বের কাছে পরিচিতি পেয়েছে। কিন্তু স্বাধীনতার এত বছর পরেও দেশের সার্বিক উন্নয়ন প্রত্যাশার জায়গায় পৌঁছাতে পারেনি। তার মতে, অর্থনীতি ও সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে এখনও অনেক পথ পাড়ি দেওয়া বাকি।

তিনি আরও বলেন, দেশের মাথাপিছু আয় এবং মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) এখনও কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। তার ভাষায়, দেশের প্রায় ৪২ শতাংশ মানুষ এখনও দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে। একই সঙ্গে অনেক মানুষ এখনও মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত—যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের উন্নয়নের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

তবে শুধু সমস্যার কথা নয়, ইতিবাচক দিকও তুলে ধরেন তিনি। খাদ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অগ্রগতি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এক সময় যে দেশ খাদ্য ঘাটতিতে ভুগত, সেই বাংলাদেশ এখন অনেকটাই স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথে এগিয়েছে। কৃষি খাতের এই পরিবর্তন দেশের জন্য বড় অর্জন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

বিশেষ করে তরুণদের উদ্যোগ নিয়ে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন। তার মতে, দেশের অনেক তরুণ এখন চাকরির অপেক্ষায় না থেকে নিজেরাই ব্যবসা শুরু করছে। কেউ কৃষিভিত্তিক খামার গড়ে তুলছে, কেউ নতুন ধরনের উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করছে। এসব উদ্যোগ দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

তিনি বলেন, তরুণদের দক্ষতা বাড়াতে এবং নেতৃত্ব গড়ে তুলতে জেসিআই দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। এই ধরনের সংগঠন তরুণদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করে এবং তাদের সমাজ ও দেশের উন্নয়নে যুক্ত হতে উৎসাহ দেয়—যা ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক একটি দিক।পটভূমি হিসেবে উল্লেখ করা যায়, জেসিআই একটি আন্তর্জাতিক যুব সংগঠন, যা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তরুণদের নেতৃত্ব, উদ্যোক্তা দক্ষতা এবং সামাজিক দায়িত্ববোধ গড়ে তুলতে কাজ করে। বাংলাদেশেও সংগঠনটি নিয়মিত প্রশিক্ষণ, কর্মশালা ও সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও নারীর ক্ষমতায়নের মতো অনেক খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে—এটি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থাও স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে একই সঙ্গে দারিদ্র্য, কর্মসংস্থান এবং মানসম্মত শিক্ষার মতো বিষয়গুলো এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।

সব মিলিয়ে তিনি বলেন, দেশের বর্তমান বাস্তবতায় সমস্যা যেমন আছে, তেমনি সম্ভাবনাও কম নয়। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম যদি আরও বেশি উদ্যোগী হয়ে সামনে এগিয়ে আসে, তাহলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ আরও শক্ত অবস্থানে পৌঁছাতে পারবে—এমন প্রত্যাশাই ব্যক্ত করেন তিনি।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬


স্বাধীনতার পর অর্জন আছে, কিন্তু প্রত্যাশা পূরণ হয়নি: জেসিআই অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল

প্রকাশের তারিখ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশ স্বাধীনতার ৫৬ বছর পার করলেও এখনও প্রত্যাশিত উন্নয়ন অর্জন করা যায়নি বলে মন্তব্য করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তবে একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, দেশের তরুণদের উদ্যোগ এবং কৃষিভিত্তিক নতুন কাজ ভবিষ্যতের জন্য আশার বার্তা দিচ্ছে।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) যুব নেতৃত্ব ও উন্নয়ন সংগঠন Junior Chamber International (জেসিআই) আয়োজিত এক কার্নিভালে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে তরুণদের ভূমিকা, দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত কথা তুলে ধরেন তিনি।

বক্তব্যে তিনি বলেন, Bangladesh Liberation War–এর মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন জাতি হিসেবে বিশ্বের কাছে পরিচিতি পেয়েছে। কিন্তু স্বাধীনতার এত বছর পরেও দেশের সার্বিক উন্নয়ন প্রত্যাশার জায়গায় পৌঁছাতে পারেনি। তার মতে, অর্থনীতি ও সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে এখনও অনেক পথ পাড়ি দেওয়া বাকি।

তিনি আরও বলেন, দেশের মাথাপিছু আয় এবং মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) এখনও কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। তার ভাষায়, দেশের প্রায় ৪২ শতাংশ মানুষ এখনও দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে। একই সঙ্গে অনেক মানুষ এখনও মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত—যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের উন্নয়নের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

তবে শুধু সমস্যার কথা নয়, ইতিবাচক দিকও তুলে ধরেন তিনি। খাদ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অগ্রগতি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এক সময় যে দেশ খাদ্য ঘাটতিতে ভুগত, সেই বাংলাদেশ এখন অনেকটাই স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথে এগিয়েছে। কৃষি খাতের এই পরিবর্তন দেশের জন্য বড় অর্জন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

বিশেষ করে তরুণদের উদ্যোগ নিয়ে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন। তার মতে, দেশের অনেক তরুণ এখন চাকরির অপেক্ষায় না থেকে নিজেরাই ব্যবসা শুরু করছে। কেউ কৃষিভিত্তিক খামার গড়ে তুলছে, কেউ নতুন ধরনের উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করছে। এসব উদ্যোগ দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

তিনি বলেন, তরুণদের দক্ষতা বাড়াতে এবং নেতৃত্ব গড়ে তুলতে জেসিআই দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। এই ধরনের সংগঠন তরুণদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করে এবং তাদের সমাজ ও দেশের উন্নয়নে যুক্ত হতে উৎসাহ দেয়—যা ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক একটি দিক।পটভূমি হিসেবে উল্লেখ করা যায়, জেসিআই একটি আন্তর্জাতিক যুব সংগঠন, যা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তরুণদের নেতৃত্ব, উদ্যোক্তা দক্ষতা এবং সামাজিক দায়িত্ববোধ গড়ে তুলতে কাজ করে। বাংলাদেশেও সংগঠনটি নিয়মিত প্রশিক্ষণ, কর্মশালা ও সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও নারীর ক্ষমতায়নের মতো অনেক খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে—এটি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থাও স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে একই সঙ্গে দারিদ্র্য, কর্মসংস্থান এবং মানসম্মত শিক্ষার মতো বিষয়গুলো এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।

সব মিলিয়ে তিনি বলেন, দেশের বর্তমান বাস্তবতায় সমস্যা যেমন আছে, তেমনি সম্ভাবনাও কম নয়। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম যদি আরও বেশি উদ্যোগী হয়ে সামনে এগিয়ে আসে, তাহলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ আরও শক্ত অবস্থানে পৌঁছাতে পারবে—এমন প্রত্যাশাই ব্যক্ত করেন তিনি।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর