দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সাক্ষাৎ, গুরুত্ব পেল বাণিজ্য ও বিনিয়োগ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সাক্ষাৎ, গুরুত্ব পেল বাণিজ্য ও বিনিয়োগ

দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাস নদীতে পড়ার ঘটনায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি

বাঞ্ছারামপুরে অস্ত্র ও গুলিসহ যুবক গ্রেফতার, পালিয়েছে দুই সহযোগী

জলাশয়হীন আগারগাঁও এখন ‘আরবান হিট আইল্যান্ড’, কংক্রিটের চাপে বাড়ছে তাপদাহের ঝুঁকি

বাঞ্ছারামপুর পৌরসভার অনলাইন সেবা চালু, ঘরে বসেই মিলছে ট্রেড লাইসেন্স ও নাগরিক সনদ

বেনাপোল সীমান্তে ৫ লাখ টাকার বেশি চোরাচালানী মালামাল আটক

উখিয়া সীমান্তে বিজিবির সঙ্গে গোলাগুলি, জি-থ্রি রাইফেল ও ৪ হাজার ইয়াবা উদ্ধার

মণিরামপুরে অন্তঃসত্ত্বা নারীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, ধামাচাপার চেষ্টারও দাবি

জ্বালানি সংকটে হাতিরঝিলের ওয়াটার ট্যাক্সি: ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় যাত্রীরা

জ্বালানি সংকটে হাতিরঝিলের ওয়াটার ট্যাক্সি: ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় যাত্রীরা
-ফাইল ফটো

রাজধানীর যানজট এড়িয়ে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর অন্যতম সহজ মাধ্যম হাতিরঝিলের ওয়াটার ট্যাক্সি সার্ভিস এখন জ্বালানি সংকটে পড়েছে। পর্যাপ্ত ডিজেল না থাকায় কমিয়ে দেওয়া হয়েছে ট্রিপ সংখ্যা। ফলে প্রতিদিনের যাত্রীদের ঘাটে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হাতিরঝিল এলাকায় এফডিসি, রামপুরা ব্রিজ, গুদারাঘাট ও পুলিশ প্লাজা—এই চারটি গুরুত্বপূর্ণ রুটে চলাচলের জন্য মোট ১৫টি ওয়াটার ট্যাক্সি রয়েছে। আগে নিয়মিত ১২ থেকে ১৩টি ট্যাক্সি চলাচল করলেও বর্তমানে তেলের সংকটের কারণে কয়েকটি ট্যাক্সি ঘাটেই বসিয়ে রাখা হয়েছে। এতে যাত্রী পরিবহন কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে।

চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একটি ওয়াটার ট্যাক্সি সচল রাখতে দিনে অন্তত ৩০ লিটার ডিজেল প্রয়োজন হয়। কিন্তু বর্তমানে প্রতিটি ট্যাক্সির জন্য বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে মাত্র ১৫ থেকে ২০ লিটার। এই সীমিত জ্বালানি দিয়ে নিয়মিত ট্রিপ চালানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে অনেক সময় যাত্রী থাকা সত্ত্বেও ট্যাক্সি ছাড়তে দেরি হচ্ছে।

আগে যাত্রী অর্ধেক হলেই ওয়াটার ট্যাক্সি ছেড়ে যেত। কিন্তু এখন পরিস্থিতি ভিন্ন। চালকরা জানান, এখন ৩০ থেকে ৪০ জন যাত্রী না হওয়া পর্যন্ত তারা ইঞ্জিন চালু করছেন না। এতে যেখানে ১৭ থেকে ১৮ মিনিটে গন্তব্যে পৌঁছানোর কথা, সেখানে যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। প্রতিদিন এই পথে যাতায়াত করা প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার মানুষের জন্য এটি বড় ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ঈদুল ফিতরের পর থেকেই ওয়াটার ট্যাক্সির ট্রিপ কিছুটা কমিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে পহেলা বৈশাখ ঘিরে হাতিরঝিলে দর্শনার্থীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও চাপের মধ্যে পড়েছে। অনেক পরিবার ও তরুণ-তরুণী ঘুরতে আসছেন, আবার অনেকে নিয়মিত যাতায়াতের জন্য এই সার্ভিস ব্যবহার করেন। ফলে যাত্রী চাপ সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

তবে ভোগান্তির মধ্যেও অনেক যাত্রী পরিস্থিতিকে বাস্তবতা হিসেবে মেনে নিচ্ছেন। কয়েকজন যাত্রী বলেন, ঢাকার রাস্তায় দীর্ঘ যানজটে আটকে থাকার চেয়ে কিছুটা দেরি হলেও ওয়াটার ট্যাক্সিতে যাতায়াত অনেক স্বস্তির। তারা দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করে সার্ভিস স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন।

২০১৬ সালের বিজয় দিবসে চালু হওয়া হাতিরঝিল ওয়াটার ট্যাক্সি সার্ভিস রাজধানীর পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনে। বিশেষ করে বাড্ডা, রামপুরা, গুলশান ও কারওয়ান বাজার এলাকার মানুষ কম সময়ে সহজে চলাচলের সুযোগ পান। এই প্রকল্প চালুর মূল লক্ষ্য ছিল যানজট কমানো এবং বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থা তৈরি করা।

হাতিরঝিল প্রকল্প নিজেও রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নগর উন্নয়ন উদ্যোগ হিসেবে পরিচিত। এটি শুধু যোগাযোগ নয়, বরং জলাধার সংরক্ষণ, পরিবেশ উন্নয়ন এবং বিনোদনের সুযোগ তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তাই এই এলাকার ওয়াটার ট্যাক্সি সার্ভিস সচল রাখা নগরবাসীর জন্য অত্যন্ত জরুরি।

বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘদিন চলতে থাকলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলে আরও সমস্যা বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করে সার্ভিস স্বাভাবিক করবে—এমনটাই প্রত্যাশা যাত্রীদের।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬


জ্বালানি সংকটে হাতিরঝিলের ওয়াটার ট্যাক্সি: ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় যাত্রীরা

প্রকাশের তারিখ : ১৬ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

রাজধানীর যানজট এড়িয়ে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর অন্যতম সহজ মাধ্যম হাতিরঝিলের ওয়াটার ট্যাক্সি সার্ভিস এখন জ্বালানি সংকটে পড়েছে। পর্যাপ্ত ডিজেল না থাকায় কমিয়ে দেওয়া হয়েছে ট্রিপ সংখ্যা। ফলে প্রতিদিনের যাত্রীদের ঘাটে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হাতিরঝিল এলাকায় এফডিসি, রামপুরা ব্রিজ, গুদারাঘাট ও পুলিশ প্লাজা—এই চারটি গুরুত্বপূর্ণ রুটে চলাচলের জন্য মোট ১৫টি ওয়াটার ট্যাক্সি রয়েছে। আগে নিয়মিত ১২ থেকে ১৩টি ট্যাক্সি চলাচল করলেও বর্তমানে তেলের সংকটের কারণে কয়েকটি ট্যাক্সি ঘাটেই বসিয়ে রাখা হয়েছে। এতে যাত্রী পরিবহন কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে।

চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একটি ওয়াটার ট্যাক্সি সচল রাখতে দিনে অন্তত ৩০ লিটার ডিজেল প্রয়োজন হয়। কিন্তু বর্তমানে প্রতিটি ট্যাক্সির জন্য বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে মাত্র ১৫ থেকে ২০ লিটার। এই সীমিত জ্বালানি দিয়ে নিয়মিত ট্রিপ চালানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে অনেক সময় যাত্রী থাকা সত্ত্বেও ট্যাক্সি ছাড়তে দেরি হচ্ছে।

আগে যাত্রী অর্ধেক হলেই ওয়াটার ট্যাক্সি ছেড়ে যেত। কিন্তু এখন পরিস্থিতি ভিন্ন। চালকরা জানান, এখন ৩০ থেকে ৪০ জন যাত্রী না হওয়া পর্যন্ত তারা ইঞ্জিন চালু করছেন না। এতে যেখানে ১৭ থেকে ১৮ মিনিটে গন্তব্যে পৌঁছানোর কথা, সেখানে যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। প্রতিদিন এই পথে যাতায়াত করা প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার মানুষের জন্য এটি বড় ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ঈদুল ফিতরের পর থেকেই ওয়াটার ট্যাক্সির ট্রিপ কিছুটা কমিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে পহেলা বৈশাখ ঘিরে হাতিরঝিলে দর্শনার্থীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও চাপের মধ্যে পড়েছে। অনেক পরিবার ও তরুণ-তরুণী ঘুরতে আসছেন, আবার অনেকে নিয়মিত যাতায়াতের জন্য এই সার্ভিস ব্যবহার করেন। ফলে যাত্রী চাপ সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

তবে ভোগান্তির মধ্যেও অনেক যাত্রী পরিস্থিতিকে বাস্তবতা হিসেবে মেনে নিচ্ছেন। কয়েকজন যাত্রী বলেন, ঢাকার রাস্তায় দীর্ঘ যানজটে আটকে থাকার চেয়ে কিছুটা দেরি হলেও ওয়াটার ট্যাক্সিতে যাতায়াত অনেক স্বস্তির। তারা দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করে সার্ভিস স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন।

২০১৬ সালের বিজয় দিবসে চালু হওয়া হাতিরঝিল ওয়াটার ট্যাক্সি সার্ভিস রাজধানীর পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনে। বিশেষ করে বাড্ডা, রামপুরা, গুলশান ও কারওয়ান বাজার এলাকার মানুষ কম সময়ে সহজে চলাচলের সুযোগ পান। এই প্রকল্প চালুর মূল লক্ষ্য ছিল যানজট কমানো এবং বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থা তৈরি করা।

হাতিরঝিল প্রকল্প নিজেও রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নগর উন্নয়ন উদ্যোগ হিসেবে পরিচিত। এটি শুধু যোগাযোগ নয়, বরং জলাধার সংরক্ষণ, পরিবেশ উন্নয়ন এবং বিনোদনের সুযোগ তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তাই এই এলাকার ওয়াটার ট্যাক্সি সার্ভিস সচল রাখা নগরবাসীর জন্য অত্যন্ত জরুরি।

বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘদিন চলতে থাকলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলে আরও সমস্যা বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করে সার্ভিস স্বাভাবিক করবে—এমনটাই প্রত্যাশা যাত্রীদের।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর