দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
আপডেট : শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

ফজরের নামাজ: একজন মুসলিমের দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শুরু

ফজরের নামাজ: একজন মুসলিমের দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শুরু

হজ মৌসুমে সৌদি আরবে ৭ বাংলাদেশির মৃত্যু, বেশিরভাগই ‘স্বাভাবিক’—বলছে কর্তৃপক্ষ

প্রথম হজ ফ্লাইট সৌদি পৌঁছেছে, ৪১৯ যাত্রীর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু

হজ ফ্লাইট-২০২৬ উদ্বোধন, প্রথম যাত্রায় ৪১৯ হাজী সৌদি আরবের পথে

জিলহজ শুরু হতে পারে ১৮ মে, বাংলাদেশে ২৮ মে ঈদুল আজহার জোর সম্ভাবনা

৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হজ ভিসা ইস্যু, ২০ মার্চের মধ্যে আবেদন শেষ করার নির্দেশ

শুক্রবার শুরু হচ্ছে হজযাত্রা: ৭৮ হাজার ৫০০ বাংলাদেশি যাচ্ছেন সৌদি আরব

ঈদের নামাজে তারেক রহমানের অংশগ্রহণ, সাধারণ মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময়ে উচ্ছ্বাস

ইসলামে জ্ঞানীদের মর্যাদা: নবী-রাসূলদের মাধ্যমে হিদায়েতের বার্তা

ইসলামে জ্ঞানীদের মর্যাদা: নবী-রাসূলদের মাধ্যমে হিদায়েতের বার্তা
-ছবি: সংগৃহীত

ইসলামে জ্ঞান ও মেধার মর্যাদা: নবী-রাসূলদের মাধ্যমে মানবজাতির হিদায়েতের বার্তা

ইসলামে জ্ঞান ও মেধার মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চস্থানে রাখা হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা মানবজাতির হিদায়েতের জন্য যেসব নবী-রাসূল প্রেরণ করেছেন, তাদের সবাইকে বিশেষ জ্ঞান ও প্রজ্ঞা দিয়ে প্রেরণ করেছেন। তারা মানুষের কাছে সত্য, ন্যায় এবং সঠিক পথের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।

নবী-রাসূলদের জ্ঞান ও দায়িত্ব

ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী, নবী-রাসূলগণ আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত জ্ঞান ও প্রজ্ঞার মাধ্যমে মানুষকে ভালো-মন্দের পার্থক্য শেখাতেন। তারা শুধু ধর্মীয় নির্দেশনাই দেননি, বরং সমাজে ন্যায়বিচার, সততা ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার পথ দেখিয়েছেন।

ইতিহাসে দেখা যায়, প্রত্যেক নবী-রাসূলের সময়েই সমাজে একটি নির্দিষ্ট চিন্তাধারা ও জীবনব্যবস্থা ছিল, যাকে তারা জ্ঞান ও দাওয়াতের মাধ্যমে পরিবর্তনের চেষ্টা করেছেন।


 হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর চিন্তা ও পরিবর্তন

হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর জীবন থেকে জ্ঞানের গুরুত্ব বিশেষভাবে বোঝা যায়। তিনি এমন এক সমাজে জন্মগ্রহণ করেন, যেখানে মানুষ মূর্তি পূজা, সূর্য-চন্দ্রের উপাসনা এবং শাসকের অন্ধ আনুগত্যে অভ্যস্ত ছিল।

এই পরিবেশে বেড়ে ওঠার সময় তাঁর মনে নানা প্রশ্ন জন্ম নেয়— সৃষ্টিকর্তা কে, এই জগৎ কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে, এবং মানুষ কেন নিজের হাতে বানানো জিনিসের উপাসনা করছে।

এই চিন্তা ও অনুসন্ধানই তাঁকে সত্যের পথে নিয়ে যায় এবং আল্লাহ তায়ালা তাঁকে নবুয়তের মর্যাদায় ভূষিত করেন। তিনি হন “খলিলুল্লাহ” বা আল্লাহর ঘনিষ্ঠ বন্ধু।

দোয়ার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ জ্ঞানীদের কামনা

হজরত ইবরাহিম (আ.) তাঁর বংশধরদের জন্য আল্লাহর কাছে এমন একজন রাসূল প্রেরণের দোয়া করেন, যিনি তাদেরকে জ্ঞান, কিতাব ও প্রজ্ঞা শিক্ষা দেবেন এবং তাদের পরিশুদ্ধ করবেন।

এই দোয়াটি কোরআনে সূরা বাকারা (আয়াত ১২৯)-এ উল্লেখ আছে, যেখানে বলা হয়েছে তিনি এমন একজন রাসূল প্রেরণের জন্য প্রার্থনা করেছিলেন, যিনি মানুষকে আল্লাহর নিদর্শন শোনাবেন এবং জ্ঞান শিক্ষা দেবেন।

 কোরআনে জ্ঞান ও প্রজ্ঞার গুরুত্ব

কোরআনে বিভিন্ন স্থানে জ্ঞান ও প্রজ্ঞার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। সূরা আম্বিয়ায় বলা হয়েছে, আল্লাহ হজরত সুলাইমান (আ.)-কে বিশেষ জ্ঞান ও বিচারবুদ্ধি দান করেছিলেন।

এছাড়া কোরআনের সূরা যুমারে বলা হয়েছে— যারা জানে এবং যারা জানে না, তারা কখনো সমান হতে পারে না। এখানে জ্ঞানীদের মর্যাদা স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

 নবী-রাসূলদের পর জ্ঞানীদের ভূমিকা

ইসলামি শিক্ষা অনুযায়ী, নবী-রাসূলদের আগমনের ধারা শেষ হয়েছে হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর মাধ্যমে। তবে তাঁর শিক্ষা ও আদর্শের ধারক হিসেবে জ্ঞানী মানুষরা এখনো সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

সমাজে শান্তি, ন্যায়বিচার এবং সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা বজায় রাখতে জ্ঞানী ও সচেতন মানুষের ভূমিকা অপরিহার্য বলে ইসলামি চিন্তাবিদরা মনে করেন।

 শেষ কথা

ইসলামের মূল বার্তা হলো জ্ঞান, ন্যায় এবং সচেতনতার মাধ্যমে একটি সুন্দর সমাজ গঠন করা। নবী-রাসূলদের জীবন ও কোরআনের নির্দেশনা থেকে স্পষ্ট হয়, জ্ঞানী মানুষেরাই সমাজকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে পারে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, ইসলাম জ্ঞান ও মেধাকে শুধু মর্যাদাই দেয়নি, বরং মানবজাতির উন্নতি ও হিদায়েতের মূল ভিত্তি হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করেছে।

সলামে জ্ঞান ও মেধার মর্যাদা: নবী-রাসূলদের মাধ্যমে মানবজাতির হিদায়েতের বার্তা

ইসলামে জ্ঞান ও মেধার মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চস্থানে রাখা হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা মানবজাতির হিদায়েতের জন্য যেসব নবী-রাসূল প্রেরণ করেছেন, তাদের সবাইকে বিশেষ জ্ঞান ও প্রজ্ঞা দিয়ে প্রেরণ করেছেন। তারা মানুষের কাছে সত্য, ন্যায় এবং সঠিক পথের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।

???? নবী-রাসূলদের জ্ঞান ও দায়িত্ব

ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী, নবী-রাসূলগণ আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত জ্ঞান ও প্রজ্ঞার মাধ্যমে মানুষকে ভালো-মন্দের পার্থক্য শেখাতেন। তারা শুধু ধর্মীয় নির্দেশনাই দেননি, বরং সমাজে ন্যায়বিচার, সততা ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার পথ দেখিয়েছেন।

ইতিহাসে দেখা যায়, প্রত্যেক নবী-রাসূলের সময়েই সমাজে একটি নির্দিষ্ট চিন্তাধারা ও জীবনব্যবস্থা ছিল, যাকে তারা জ্ঞান ও দাওয়াতের মাধ্যমে পরিবর্তনের চেষ্টা করেছেন।

 হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর চিন্তা ও পরিবর্তন

হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর জীবন থেকে জ্ঞানের গুরুত্ব বিশেষভাবে বোঝা যায়। তিনি এমন এক সমাজে জন্মগ্রহণ করেন, যেখানে মানুষ মূর্তি পূজা, সূর্য-চন্দ্রের উপাসনা এবং শাসকের অন্ধ আনুগত্যে অভ্যস্ত ছিল।

এই পরিবেশে বেড়ে ওঠার সময় তাঁর মনে নানা প্রশ্ন জন্ম নেয়— সৃষ্টিকর্তা কে, এই জগৎ কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে, এবং মানুষ কেন নিজের হাতে বানানো জিনিসের উপাসনা করছে।

এই চিন্তা ও অনুসন্ধানই তাঁকে সত্যের পথে নিয়ে যায় এবং আল্লাহ তায়ালা তাঁকে নবুয়তের মর্যাদায় ভূষিত করেন। তিনি হন “খলিলুল্লাহ” বা আল্লাহর ঘনিষ্ঠ বন্ধু।

 দোয়ার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ জ্ঞানীদের কামনা

হজরত ইবরাহিম (আ.) তাঁর বংশধরদের জন্য আল্লাহর কাছে এমন একজন রাসূল প্রেরণের দোয়া করেন, যিনি তাদেরকে জ্ঞান, কিতাব ও প্রজ্ঞা শিক্ষা দেবেন এবং তাদের পরিশুদ্ধ করবেন।

এই দোয়াটি কোরআনে সূরা বাকারা (আয়াত ১২৯)-এ উল্লেখ আছে, যেখানে বলা হয়েছে তিনি এমন একজন রাসূল প্রেরণের জন্য প্রার্থনা করেছিলেন, যিনি মানুষকে আল্লাহর নিদর্শন শোনাবেন এবং জ্ঞান শিক্ষা দেবেন।

 কোরআনে জ্ঞান ও প্রজ্ঞার গুরুত্ব

কোরআনে বিভিন্ন স্থানে জ্ঞান ও প্রজ্ঞার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। সূরা আম্বিয়ায় বলা হয়েছে, আল্লাহ হজরত সুলাইমান (আ.)-কে বিশেষ জ্ঞান ও বিচারবুদ্ধি দান করেছিলেন।

এছাড়া কোরআনের সূরা যুমারে বলা হয়েছে— যারা জানে এবং যারা জানে না, তারা কখনো সমান হতে পারে না। এখানে জ্ঞানীদের মর্যাদা স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

 নবী-রাসূলদের পর জ্ঞানীদের ভূমিকা

ইসলামি শিক্ষা অনুযায়ী, নবী-রাসূলদের আগমনের ধারা শেষ হয়েছে হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর মাধ্যমে। তবে তাঁর শিক্ষা ও আদর্শের ধারক হিসেবে জ্ঞানী মানুষরা এখনো সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

সমাজে শান্তি, ন্যায়বিচার এবং সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা বজায় রাখতে জ্ঞানী ও সচেতন মানুষের ভূমিকা অপরিহার্য বলে ইসলামি চিন্তাবিদরা মনে করেন।

শেষ কথা

ইসলামের মূল বার্তা হলো জ্ঞান, ন্যায় এবং সচেতনতার মাধ্যমে একটি সুন্দর সমাজ গঠন করা। নবী-রাসূলদের জীবন ও কোরআনের নির্দেশনা থেকে স্পষ্ট হয়, জ্ঞানী মানুষেরাই সমাজকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে পারে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, ইসলাম জ্ঞান ও মেধাকে শুধু মর্যাদাই দেয়নি, বরং মানবজাতির উন্নতি ও হিদায়েতের মূল ভিত্তি হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করেছে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

সোমবার, ২৫ মে ২০২৬


ইসলামে জ্ঞানীদের মর্যাদা: নবী-রাসূলদের মাধ্যমে হিদায়েতের বার্তা

প্রকাশের তারিখ : ০১ আগস্ট ২০২৪

featured Image

ইসলামে জ্ঞান ও মেধার মর্যাদা: নবী-রাসূলদের মাধ্যমে মানবজাতির হিদায়েতের বার্তা

ইসলামে জ্ঞান ও মেধার মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চস্থানে রাখা হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা মানবজাতির হিদায়েতের জন্য যেসব নবী-রাসূল প্রেরণ করেছেন, তাদের সবাইকে বিশেষ জ্ঞান ও প্রজ্ঞা দিয়ে প্রেরণ করেছেন। তারা মানুষের কাছে সত্য, ন্যায় এবং সঠিক পথের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।

নবী-রাসূলদের জ্ঞান ও দায়িত্ব

ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী, নবী-রাসূলগণ আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত জ্ঞান ও প্রজ্ঞার মাধ্যমে মানুষকে ভালো-মন্দের পার্থক্য শেখাতেন। তারা শুধু ধর্মীয় নির্দেশনাই দেননি, বরং সমাজে ন্যায়বিচার, সততা ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার পথ দেখিয়েছেন।

ইতিহাসে দেখা যায়, প্রত্যেক নবী-রাসূলের সময়েই সমাজে একটি নির্দিষ্ট চিন্তাধারা ও জীবনব্যবস্থা ছিল, যাকে তারা জ্ঞান ও দাওয়াতের মাধ্যমে পরিবর্তনের চেষ্টা করেছেন।


 হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর চিন্তা ও পরিবর্তন

হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর জীবন থেকে জ্ঞানের গুরুত্ব বিশেষভাবে বোঝা যায়। তিনি এমন এক সমাজে জন্মগ্রহণ করেন, যেখানে মানুষ মূর্তি পূজা, সূর্য-চন্দ্রের উপাসনা এবং শাসকের অন্ধ আনুগত্যে অভ্যস্ত ছিল।

এই পরিবেশে বেড়ে ওঠার সময় তাঁর মনে নানা প্রশ্ন জন্ম নেয়— সৃষ্টিকর্তা কে, এই জগৎ কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে, এবং মানুষ কেন নিজের হাতে বানানো জিনিসের উপাসনা করছে।

এই চিন্তা ও অনুসন্ধানই তাঁকে সত্যের পথে নিয়ে যায় এবং আল্লাহ তায়ালা তাঁকে নবুয়তের মর্যাদায় ভূষিত করেন। তিনি হন “খলিলুল্লাহ” বা আল্লাহর ঘনিষ্ঠ বন্ধু।

দোয়ার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ জ্ঞানীদের কামনা

হজরত ইবরাহিম (আ.) তাঁর বংশধরদের জন্য আল্লাহর কাছে এমন একজন রাসূল প্রেরণের দোয়া করেন, যিনি তাদেরকে জ্ঞান, কিতাব ও প্রজ্ঞা শিক্ষা দেবেন এবং তাদের পরিশুদ্ধ করবেন।

এই দোয়াটি কোরআনে সূরা বাকারা (আয়াত ১২৯)-এ উল্লেখ আছে, যেখানে বলা হয়েছে তিনি এমন একজন রাসূল প্রেরণের জন্য প্রার্থনা করেছিলেন, যিনি মানুষকে আল্লাহর নিদর্শন শোনাবেন এবং জ্ঞান শিক্ষা দেবেন।

 কোরআনে জ্ঞান ও প্রজ্ঞার গুরুত্ব

কোরআনে বিভিন্ন স্থানে জ্ঞান ও প্রজ্ঞার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। সূরা আম্বিয়ায় বলা হয়েছে, আল্লাহ হজরত সুলাইমান (আ.)-কে বিশেষ জ্ঞান ও বিচারবুদ্ধি দান করেছিলেন।

এছাড়া কোরআনের সূরা যুমারে বলা হয়েছে— যারা জানে এবং যারা জানে না, তারা কখনো সমান হতে পারে না। এখানে জ্ঞানীদের মর্যাদা স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

 নবী-রাসূলদের পর জ্ঞানীদের ভূমিকা

ইসলামি শিক্ষা অনুযায়ী, নবী-রাসূলদের আগমনের ধারা শেষ হয়েছে হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর মাধ্যমে। তবে তাঁর শিক্ষা ও আদর্শের ধারক হিসেবে জ্ঞানী মানুষরা এখনো সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

সমাজে শান্তি, ন্যায়বিচার এবং সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা বজায় রাখতে জ্ঞানী ও সচেতন মানুষের ভূমিকা অপরিহার্য বলে ইসলামি চিন্তাবিদরা মনে করেন।

 শেষ কথা

ইসলামের মূল বার্তা হলো জ্ঞান, ন্যায় এবং সচেতনতার মাধ্যমে একটি সুন্দর সমাজ গঠন করা। নবী-রাসূলদের জীবন ও কোরআনের নির্দেশনা থেকে স্পষ্ট হয়, জ্ঞানী মানুষেরাই সমাজকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে পারে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, ইসলাম জ্ঞান ও মেধাকে শুধু মর্যাদাই দেয়নি, বরং মানবজাতির উন্নতি ও হিদায়েতের মূল ভিত্তি হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করেছে।

সলামে জ্ঞান ও মেধার মর্যাদা: নবী-রাসূলদের মাধ্যমে মানবজাতির হিদায়েতের বার্তা

ইসলামে জ্ঞান ও মেধার মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চস্থানে রাখা হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা মানবজাতির হিদায়েতের জন্য যেসব নবী-রাসূল প্রেরণ করেছেন, তাদের সবাইকে বিশেষ জ্ঞান ও প্রজ্ঞা দিয়ে প্রেরণ করেছেন। তারা মানুষের কাছে সত্য, ন্যায় এবং সঠিক পথের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।

???? নবী-রাসূলদের জ্ঞান ও দায়িত্ব

ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী, নবী-রাসূলগণ আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত জ্ঞান ও প্রজ্ঞার মাধ্যমে মানুষকে ভালো-মন্দের পার্থক্য শেখাতেন। তারা শুধু ধর্মীয় নির্দেশনাই দেননি, বরং সমাজে ন্যায়বিচার, সততা ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার পথ দেখিয়েছেন।

ইতিহাসে দেখা যায়, প্রত্যেক নবী-রাসূলের সময়েই সমাজে একটি নির্দিষ্ট চিন্তাধারা ও জীবনব্যবস্থা ছিল, যাকে তারা জ্ঞান ও দাওয়াতের মাধ্যমে পরিবর্তনের চেষ্টা করেছেন।

 হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর চিন্তা ও পরিবর্তন

হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর জীবন থেকে জ্ঞানের গুরুত্ব বিশেষভাবে বোঝা যায়। তিনি এমন এক সমাজে জন্মগ্রহণ করেন, যেখানে মানুষ মূর্তি পূজা, সূর্য-চন্দ্রের উপাসনা এবং শাসকের অন্ধ আনুগত্যে অভ্যস্ত ছিল।

এই পরিবেশে বেড়ে ওঠার সময় তাঁর মনে নানা প্রশ্ন জন্ম নেয়— সৃষ্টিকর্তা কে, এই জগৎ কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে, এবং মানুষ কেন নিজের হাতে বানানো জিনিসের উপাসনা করছে।

এই চিন্তা ও অনুসন্ধানই তাঁকে সত্যের পথে নিয়ে যায় এবং আল্লাহ তায়ালা তাঁকে নবুয়তের মর্যাদায় ভূষিত করেন। তিনি হন “খলিলুল্লাহ” বা আল্লাহর ঘনিষ্ঠ বন্ধু।

 দোয়ার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ জ্ঞানীদের কামনা

হজরত ইবরাহিম (আ.) তাঁর বংশধরদের জন্য আল্লাহর কাছে এমন একজন রাসূল প্রেরণের দোয়া করেন, যিনি তাদেরকে জ্ঞান, কিতাব ও প্রজ্ঞা শিক্ষা দেবেন এবং তাদের পরিশুদ্ধ করবেন।

এই দোয়াটি কোরআনে সূরা বাকারা (আয়াত ১২৯)-এ উল্লেখ আছে, যেখানে বলা হয়েছে তিনি এমন একজন রাসূল প্রেরণের জন্য প্রার্থনা করেছিলেন, যিনি মানুষকে আল্লাহর নিদর্শন শোনাবেন এবং জ্ঞান শিক্ষা দেবেন।

 কোরআনে জ্ঞান ও প্রজ্ঞার গুরুত্ব

কোরআনে বিভিন্ন স্থানে জ্ঞান ও প্রজ্ঞার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। সূরা আম্বিয়ায় বলা হয়েছে, আল্লাহ হজরত সুলাইমান (আ.)-কে বিশেষ জ্ঞান ও বিচারবুদ্ধি দান করেছিলেন।

এছাড়া কোরআনের সূরা যুমারে বলা হয়েছে— যারা জানে এবং যারা জানে না, তারা কখনো সমান হতে পারে না। এখানে জ্ঞানীদের মর্যাদা স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

 নবী-রাসূলদের পর জ্ঞানীদের ভূমিকা

ইসলামি শিক্ষা অনুযায়ী, নবী-রাসূলদের আগমনের ধারা শেষ হয়েছে হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর মাধ্যমে। তবে তাঁর শিক্ষা ও আদর্শের ধারক হিসেবে জ্ঞানী মানুষরা এখনো সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

সমাজে শান্তি, ন্যায়বিচার এবং সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা বজায় রাখতে জ্ঞানী ও সচেতন মানুষের ভূমিকা অপরিহার্য বলে ইসলামি চিন্তাবিদরা মনে করেন।

শেষ কথা

ইসলামের মূল বার্তা হলো জ্ঞান, ন্যায় এবং সচেতনতার মাধ্যমে একটি সুন্দর সমাজ গঠন করা। নবী-রাসূলদের জীবন ও কোরআনের নির্দেশনা থেকে স্পষ্ট হয়, জ্ঞানী মানুষেরাই সমাজকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে পারে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, ইসলাম জ্ঞান ও মেধাকে শুধু মর্যাদাই দেয়নি, বরং মানবজাতির উন্নতি ও হিদায়েতের মূল ভিত্তি হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করেছে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর