দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
আপডেট : শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

ড্যাফোডিল ও সুইসকন্ট্যাক্টের যৌথ উদ্যোগে দেশে প্রথম ইউজিসি অনুমোদিত সাস্টেইনেবিলিটি পিজিডি চালু

ড্যাফোডিল ও সুইসকন্ট্যাক্টের যৌথ উদ্যোগে দেশে প্রথম ইউজিসি অনুমোদিত সাস্টেইনেবিলিটি পিজিডি চালু

ইডেন কলেজে শিশু রামিসার হত্যার বিচারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও সংবাদ সম্মেলন

জবিতে বৃহস্পতিবারের অনলাইন ক্লাস বন্ধের সিদ্ধান্ত, ৭ জুন থেকে ফিরছে পূর্ণাঙ্গ সশরীরে ক্লাস

ভিসি প্রত্যাহারের দাবিতে ডুয়েটে শাটডাউন ঘোষণা, সংঘর্ষের ঘটনায় উত্তপ্ত ক্যাম্পাস

ভিসি নিয়োগ ঘিরে উত্তাল ডুয়েট: ব্লকেডে অচল ক্যাম্পাস, মূল ফটকে তালা দিয়ে শিক্ষার্থীদের অবস্থান

জাবিতে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় উত্তেজনা, অবরোধ তুলে দিয়ে ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম শিক্ষার্থীদের

২০২৭ সালের এসএসসি ৭ জানুয়ারি, এইচএসসি শুরু ৬ জুন: পরীক্ষার নতুন সময়সূচি ঘোষণা

সোহরাওয়ার্দী কলেজ সাংবাদিক সমিতির ৫ম বর্ষে পদার্পণ: ক্যাম্পাস সাংবাদিকতায় নতুন অঙ্গীকার

এসএসসি পরীক্ষা ২০২৬: অসদুপায় অবলম্বন করলেই ‘সাইলেন্ট এক্সপেল’, যা জানা জরুরি পরীক্ষার্থীদের

এসএসসি পরীক্ষা ২০২৬: অসদুপায় অবলম্বন করলেই ‘সাইলেন্ট এক্সপেল’, যা জানা জরুরি পরীক্ষার্থীদের
-ছবি: সংগৃহীত

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় নকল বা যে কোনো ধরণের অনিয়ম রোধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে শিক্ষা বোর্ডগুলো। এবারের পরীক্ষায় বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে কার্যকর থাকছে ‘নীরব বহিষ্কার’ বা ‘সাইলেন্ট এক্সপেল’ পদ্ধতি। সম্প্রতি প্রকাশিত পরীক্ষা পরিচালনা সংক্রান্ত চূড়ান্ত নীতিমালায় এই কড়া সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। সাধারণ পরীক্ষার্থীদের কাছে বিষয়টি নতুন মনে হতে পারে, তবে পরীক্ষার হলে স্বচ্ছতা ফেরাতে এটি একটি অত্যন্ত কার্যকরী পদক্ষেপ।

সাইলেন্ট এক্সপেল বা নীরব বহিষ্কার আসলে কী? সহজ কথায় বলতে গেলে, পরীক্ষার হলে অনেক সময় দেখা যায় কোনো পরীক্ষার্থী কথা বলছে, পাশের জনের খাতা দেখার চেষ্টা করছে কিংবা বারবার ঘাড় ঘুরিয়ে বিশৃঙ্খলা করছে। তাৎক্ষণিকভাবে হলের পরিবেশ শান্ত রাখতে অনেক সময় পরিদর্শক সেই পরীক্ষার্থীকে হাতেনাতে ধরে সরাসরি হল থেকে বের করে দেন না। কিন্তু তার খাতার ওপর গোপনে একটি বিশেষ মার্কিং বা রিপোর্ট করে দেওয়া হয়। একেই বলা হচ্ছে ‘সাইলেন্ট এক্সপেল’। এর ফলে পরীক্ষার্থী বুঝতে পারেন না যে তিনি বহিষ্কৃত হয়েছেন, কিন্তু ফলাফল প্রকাশের সময় তার খাতা বা সেই বিষয়টির উত্তরপত্র বাতিল হয়ে যায়।

নির্দেশনায় যা বলা হয়েছে শিক্ষা বোর্ডের নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো পরীক্ষার্থীকে যদি ‘সাইলেন্ট এক্সপেল’ করা হয়, তবে তার উত্তরপত্রের কভার পৃষ্ঠার প্রথম অংশ ছেঁড়া হবে না। দায়িত্বরত পরিদর্শক তার পর্যবেক্ষণ বা কারণ উল্লেখ করে একটি গোপনীয় রিপোর্ট তৈরি করবেন। পরীক্ষা শেষ হওয়ার সাথে সাথেই ওই পরীক্ষার্থীর খাতা আলাদা একটি প্যাকেটে ভরে লাল কালি দিয়ে ‘রিপোর্টেড’ লিখে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দপ্তরে পাঠাতে হবে। অর্থাৎ, পরীক্ষার্থী পুরো পরীক্ষা দিলেও তার ভাগ্য নির্ধারণ হবে বোর্ডের বিশেষ তদন্ত কমিটির মাধ্যমে।

পরবর্তী পরীক্ষাগুলোতে কী হবে? নীতিমালার একটি মজার কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, যদি কোনো পরীক্ষার্থী একটি বিষয়ে নীরব বহিষ্কৃত হয়, তবে তাকে পরবর্তী পরীক্ষাগুলোতে অংশ নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে। তবে তার পরবর্তী সব পরীক্ষার খাতা এবং নৈর্ব্যক্তিক (MCQ) উত্তরপত্র একইভাবে আলাদা প্যাকেটে করে কারণ উল্লেখপূর্বক বোর্ডে জমা দিতে হবে। এতে করে বোর্ড নিশ্চিত হতে পারবে যে ওই পরীক্ষার্থী ঠিক কতটি পরীক্ষায় বা কী ধরণের নিয়ম ভঙ্গ করেছে।

কেন এই কঠোরতা? বাংলাদেশের পাবলিক পরীক্ষাগুলোতে এক সময় গণহারে নকলের প্রবণতা ছিল। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেক কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা দেখা যেত। শিক্ষা বোর্ডগুলো বছরের পর বছর ধরে প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকানো এবং হলের মান বাড়াতে কাজ করে যাচ্ছে। ‘সাইলেন্ট এক্সপেল’ পদ্ধতিটি মূলত পরীক্ষার্থীদের মানসিকভাবে চাপে রাখতে নয়, বরং তারা যেন নিজের ওপর আত্মবিশ্বাসী হয়ে পরীক্ষা দেয় এবং অন্যকে বিরক্ত না করে—সেই অভ্যাস গড়ে তুলতে ব্যবহার করা হয়। এর মাধ্যমে নকল প্রতিরোধের পাশাপাশি হলে দায়িত্ব পালন করা শিক্ষকদের ক্ষমতাও অনেকটা বেড়েছে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ও সতর্কতা শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেক সময় পরীক্ষার্থীরা উত্তেজনার বসে বা বুঝতে না পেরে পাশের বন্ধুর সাথে কথা বলে ফেলে। কিন্তু সাইলেন্ট এক্সপেল নিয়মের কারণে ছোট একটি ভুলও পুরো বছরের পরিশ্রম নষ্ট করে দিতে পারে। তাই পরীক্ষার্থীদের উচিত হবে পরীক্ষার হলে নিজের খাতা ছাড়া অন্য কোথাও মনোযোগ না দেওয়া। অভিভাবক এবং শিক্ষকদেরও উচিত শিক্ষার্থীদের এই বিষয়টি সম্পর্কে আগেভাগেই সচেতন করা।

পরিশেষে বলা যায়, এবারের এসএসসি পরীক্ষা যেন কোনো ধরণের বিতর্ক ছাড়াই শেষ হয়, সেটাই বোর্ডের মূল লক্ষ্য। সাইলেন্ট এক্সপেল পদ্ধতির মাধ্যমে বোর্ড পরীক্ষার্থীদের একটি সুযোগ দেয় পরবর্তী পরীক্ষাগুলো অন্তত ভালো করে দেওয়ার, তবে প্রথম অপরাধের জন্য শাস্তি নিশ্চিত থাকে। তাই মেধাবী ও সাধারণ পরীক্ষার্থীদের প্রতি পরামর্শ থাকবে—নিজের মেধার ওপর আস্থা রাখা এবং হলের প্রতিটি নিয়ম অক্ষরে অক্ষরে পালন করা। মনে রাখবেন, আপনার সামান্য একটি অসতর্কতা আপনার সারা জীবনের ক্যারিয়ারের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

রোববার, ৩১ মে ২০২৬


এসএসসি পরীক্ষা ২০২৬: অসদুপায় অবলম্বন করলেই ‘সাইলেন্ট এক্সপেল’, যা জানা জরুরি পরীক্ষার্থীদের

প্রকাশের তারিখ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় নকল বা যে কোনো ধরণের অনিয়ম রোধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে শিক্ষা বোর্ডগুলো। এবারের পরীক্ষায় বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে কার্যকর থাকছে ‘নীরব বহিষ্কার’ বা ‘সাইলেন্ট এক্সপেল’ পদ্ধতি। সম্প্রতি প্রকাশিত পরীক্ষা পরিচালনা সংক্রান্ত চূড়ান্ত নীতিমালায় এই কড়া সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। সাধারণ পরীক্ষার্থীদের কাছে বিষয়টি নতুন মনে হতে পারে, তবে পরীক্ষার হলে স্বচ্ছতা ফেরাতে এটি একটি অত্যন্ত কার্যকরী পদক্ষেপ।

সাইলেন্ট এক্সপেল বা নীরব বহিষ্কার আসলে কী? সহজ কথায় বলতে গেলে, পরীক্ষার হলে অনেক সময় দেখা যায় কোনো পরীক্ষার্থী কথা বলছে, পাশের জনের খাতা দেখার চেষ্টা করছে কিংবা বারবার ঘাড় ঘুরিয়ে বিশৃঙ্খলা করছে। তাৎক্ষণিকভাবে হলের পরিবেশ শান্ত রাখতে অনেক সময় পরিদর্শক সেই পরীক্ষার্থীকে হাতেনাতে ধরে সরাসরি হল থেকে বের করে দেন না। কিন্তু তার খাতার ওপর গোপনে একটি বিশেষ মার্কিং বা রিপোর্ট করে দেওয়া হয়। একেই বলা হচ্ছে ‘সাইলেন্ট এক্সপেল’। এর ফলে পরীক্ষার্থী বুঝতে পারেন না যে তিনি বহিষ্কৃত হয়েছেন, কিন্তু ফলাফল প্রকাশের সময় তার খাতা বা সেই বিষয়টির উত্তরপত্র বাতিল হয়ে যায়।

নির্দেশনায় যা বলা হয়েছে শিক্ষা বোর্ডের নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো পরীক্ষার্থীকে যদি ‘সাইলেন্ট এক্সপেল’ করা হয়, তবে তার উত্তরপত্রের কভার পৃষ্ঠার প্রথম অংশ ছেঁড়া হবে না। দায়িত্বরত পরিদর্শক তার পর্যবেক্ষণ বা কারণ উল্লেখ করে একটি গোপনীয় রিপোর্ট তৈরি করবেন। পরীক্ষা শেষ হওয়ার সাথে সাথেই ওই পরীক্ষার্থীর খাতা আলাদা একটি প্যাকেটে ভরে লাল কালি দিয়ে ‘রিপোর্টেড’ লিখে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দপ্তরে পাঠাতে হবে। অর্থাৎ, পরীক্ষার্থী পুরো পরীক্ষা দিলেও তার ভাগ্য নির্ধারণ হবে বোর্ডের বিশেষ তদন্ত কমিটির মাধ্যমে।

পরবর্তী পরীক্ষাগুলোতে কী হবে? নীতিমালার একটি মজার কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, যদি কোনো পরীক্ষার্থী একটি বিষয়ে নীরব বহিষ্কৃত হয়, তবে তাকে পরবর্তী পরীক্ষাগুলোতে অংশ নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে। তবে তার পরবর্তী সব পরীক্ষার খাতা এবং নৈর্ব্যক্তিক (MCQ) উত্তরপত্র একইভাবে আলাদা প্যাকেটে করে কারণ উল্লেখপূর্বক বোর্ডে জমা দিতে হবে। এতে করে বোর্ড নিশ্চিত হতে পারবে যে ওই পরীক্ষার্থী ঠিক কতটি পরীক্ষায় বা কী ধরণের নিয়ম ভঙ্গ করেছে।

কেন এই কঠোরতা? বাংলাদেশের পাবলিক পরীক্ষাগুলোতে এক সময় গণহারে নকলের প্রবণতা ছিল। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেক কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা দেখা যেত। শিক্ষা বোর্ডগুলো বছরের পর বছর ধরে প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকানো এবং হলের মান বাড়াতে কাজ করে যাচ্ছে। ‘সাইলেন্ট এক্সপেল’ পদ্ধতিটি মূলত পরীক্ষার্থীদের মানসিকভাবে চাপে রাখতে নয়, বরং তারা যেন নিজের ওপর আত্মবিশ্বাসী হয়ে পরীক্ষা দেয় এবং অন্যকে বিরক্ত না করে—সেই অভ্যাস গড়ে তুলতে ব্যবহার করা হয়। এর মাধ্যমে নকল প্রতিরোধের পাশাপাশি হলে দায়িত্ব পালন করা শিক্ষকদের ক্ষমতাও অনেকটা বেড়েছে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ও সতর্কতা শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেক সময় পরীক্ষার্থীরা উত্তেজনার বসে বা বুঝতে না পেরে পাশের বন্ধুর সাথে কথা বলে ফেলে। কিন্তু সাইলেন্ট এক্সপেল নিয়মের কারণে ছোট একটি ভুলও পুরো বছরের পরিশ্রম নষ্ট করে দিতে পারে। তাই পরীক্ষার্থীদের উচিত হবে পরীক্ষার হলে নিজের খাতা ছাড়া অন্য কোথাও মনোযোগ না দেওয়া। অভিভাবক এবং শিক্ষকদেরও উচিত শিক্ষার্থীদের এই বিষয়টি সম্পর্কে আগেভাগেই সচেতন করা।

পরিশেষে বলা যায়, এবারের এসএসসি পরীক্ষা যেন কোনো ধরণের বিতর্ক ছাড়াই শেষ হয়, সেটাই বোর্ডের মূল লক্ষ্য। সাইলেন্ট এক্সপেল পদ্ধতির মাধ্যমে বোর্ড পরীক্ষার্থীদের একটি সুযোগ দেয় পরবর্তী পরীক্ষাগুলো অন্তত ভালো করে দেওয়ার, তবে প্রথম অপরাধের জন্য শাস্তি নিশ্চিত থাকে। তাই মেধাবী ও সাধারণ পরীক্ষার্থীদের প্রতি পরামর্শ থাকবে—নিজের মেধার ওপর আস্থা রাখা এবং হলের প্রতিটি নিয়ম অক্ষরে অক্ষরে পালন করা। মনে রাখবেন, আপনার সামান্য একটি অসতর্কতা আপনার সারা জীবনের ক্যারিয়ারের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর