দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ০১ আগস্ট ২০২৪

ইরানে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা অনুষ্ঠিত, পরিবারের চার সদস্যেরও নামাজে অংশগ্রহণ

ইরানে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা অনুষ্ঠিত, পরিবারের চার সদস্যেরও নামাজে অংশগ্রহণ

জুলাই আন্দোলনের শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের সম্মাননা, প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে ‘জুলাই স্মৃতি স্মারক’ গ্রহণ

কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগার পরিদর্শনে ডিসি সোহানা নাসরিন, বন্দিদের কল্যাণে দিলেন একগুচ্ছ নির্দেশনা

আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর একান্ত বৈঠক, কর্মী প্রেরণ ও বিনিয়োগে নতুন সম্ভাবনার আলোচনা

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলতে উদ্যোগ, প্রবাসীদের সমস্যার সমাধানের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ২০২৬: শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে বিনিয়োগই জাতি গঠনের সবচেয়ে বড় ভিত্তি—প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ভৈরবে মাইক্রোবাস ভাড়া নিয়ে ভয়াবহ সংঘর্ষ: মহাসড়ক অবরোধ, দোকানপাট ভাঙচুর-লুটপাট, এসপির অভিযানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে

খুলনায় ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের সাঁড়াশি অভিযান, ১১ প্রতিষ্ঠানে প্রায় দেড় লাখ টাকা জরিমানা

জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপনের পর ঢাকায় নিরাপত্তা জোরদার

জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপনের পর ঢাকায় নিরাপত্তা জোরদার
-ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও তাদের ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরকে সরকারিভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণার পর রাজধানী ঢাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের নাশকতা বা বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে প্রস্তুত রয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) বিকেলে ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং গোটা শহরেই নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ বাড়ানো হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে আছে বলেও জানান তিনি।

সরকারের নির্বাহী আদেশে সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এর ১৮(১) ধারা অনুযায়ী জামায়াতে ইসলামী, ছাত্রশিবির এবং তাদের সব অঙ্গসংগঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। প্রজ্ঞাপনটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে জারি করা হয়েছে, যেখানে স্বাক্ষর করেন মন্ত্রণালয়ের সচিব জাহাংগীর আলম।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে জামায়াতে ইসলামী এবং ছাত্রশিবিরকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধ, যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যার সঙ্গে যুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া হাইকোর্ট ২০১৩ সালে জামায়াতের রাজনৈতিক নিবন্ধন বাতিল করে এবং সেই রায় আপিল বিভাগেও বহাল থাকে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

এছাড়া প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত সহিংসতা, হত্যাকাণ্ড ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের সম্পৃক্ততার বিষয়ে সরকারের কাছে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ রয়েছে। এসব কারণেই সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় সংগঠন দুটিকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়।

এই সিদ্ধান্তের আগে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে আলোচনা চলছিল। কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সহিংস ঘটনার পর সরকারের পক্ষ থেকে জামায়াত-শিবিরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। পরে ক্ষমতাসীন জোটের বৈঠকে সংগঠন দুটি নিষিদ্ধ করার বিষয়ে একমত হয় বলে জানা যায়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের নিষিদ্ধ ঘোষণার পর রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের প্রস্তুতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, রাজনৈতিক সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে কিছু জায়গায় উত্তেজনা তৈরি হতে পারে।

ডিএমপি জানিয়েছে, শহরের প্রবেশপথ, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবন, কূটনৈতিক এলাকা এবং জনসমাগমস্থলে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি নিয়মিত টহল ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

সব মিলিয়ে, জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধ ঘোষণার পর রাজধানী ঢাকায় এখন কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

বিষয় : বাংলাদেশ জামায়াতে

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

রোববার, ১২ জুলাই ২০২৬


জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপনের পর ঢাকায় নিরাপত্তা জোরদার

প্রকাশের তারিখ : ০১ আগস্ট ২০২৪

featured Image

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও তাদের ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরকে সরকারিভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণার পর রাজধানী ঢাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের নাশকতা বা বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে প্রস্তুত রয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) বিকেলে ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং গোটা শহরেই নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ বাড়ানো হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে আছে বলেও জানান তিনি।

সরকারের নির্বাহী আদেশে সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এর ১৮(১) ধারা অনুযায়ী জামায়াতে ইসলামী, ছাত্রশিবির এবং তাদের সব অঙ্গসংগঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। প্রজ্ঞাপনটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে জারি করা হয়েছে, যেখানে স্বাক্ষর করেন মন্ত্রণালয়ের সচিব জাহাংগীর আলম।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে জামায়াতে ইসলামী এবং ছাত্রশিবিরকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধ, যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যার সঙ্গে যুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া হাইকোর্ট ২০১৩ সালে জামায়াতের রাজনৈতিক নিবন্ধন বাতিল করে এবং সেই রায় আপিল বিভাগেও বহাল থাকে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

এছাড়া প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত সহিংসতা, হত্যাকাণ্ড ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের সম্পৃক্ততার বিষয়ে সরকারের কাছে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ রয়েছে। এসব কারণেই সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় সংগঠন দুটিকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়।

এই সিদ্ধান্তের আগে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে আলোচনা চলছিল। কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সহিংস ঘটনার পর সরকারের পক্ষ থেকে জামায়াত-শিবিরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। পরে ক্ষমতাসীন জোটের বৈঠকে সংগঠন দুটি নিষিদ্ধ করার বিষয়ে একমত হয় বলে জানা যায়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের নিষিদ্ধ ঘোষণার পর রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের প্রস্তুতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, রাজনৈতিক সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে কিছু জায়গায় উত্তেজনা তৈরি হতে পারে।

ডিএমপি জানিয়েছে, শহরের প্রবেশপথ, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবন, কূটনৈতিক এলাকা এবং জনসমাগমস্থলে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি নিয়মিত টহল ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

সব মিলিয়ে, জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধ ঘোষণার পর রাজধানী ঢাকায় এখন কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর