দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
আপডেট : শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

গুম-শহীদ পরিবারের পাশে আমিনুল হক, ঈদ উপহার ও আর্থিক সহায়তা প্রদান

গুম-শহীদ পরিবারের পাশে আমিনুল হক, ঈদ উপহার ও আর্থিক সহায়তা প্রদান

ঈদযাত্রার সকালে রাজধানীতে ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনা, নর্দ্দায় নিহত ৪, আহত বহু

নরসিংদীর রায়পুরায় তৃতীয় লিঙ্গের সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা, আতঙ্কে এলাকাবাসী

টাঙ্গাইলে যমুনা সেতুর পূর্বপাড়ে ট্রাক দুর্ঘটনায় ১৫ প্রাণহানি, শোকে স্তব্ধ চাপাইনবাবগঞ্জ

বাংলাদেশ পরিচ্ছন্ন জ্বালানির পথে এগোচ্ছে, সংসদ ভবনে ১ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প উদ্বোধন

রায়পুরায় নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা, আতঙ্কে স্থানীয়রা

ঈদে ঘরমুখো মানুষের নিরাপত্তায় তুরাগ থানার বিশেষ প্রস্তুতি, ২৪ দিনে গ্রেপ্তার ২৯৬

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সিআরপি প্রতিনিধিদের সাক্ষাৎ, পুনর্বাসন সেবার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়

জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপনের পর ঢাকায় নিরাপত্তা জোরদার

জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপনের পর ঢাকায় নিরাপত্তা জোরদার
-ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও তাদের ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরকে সরকারিভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণার পর রাজধানী ঢাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের নাশকতা বা বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে প্রস্তুত রয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) বিকেলে ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং গোটা শহরেই নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ বাড়ানো হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে আছে বলেও জানান তিনি।

সরকারের নির্বাহী আদেশে সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এর ১৮(১) ধারা অনুযায়ী জামায়াতে ইসলামী, ছাত্রশিবির এবং তাদের সব অঙ্গসংগঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। প্রজ্ঞাপনটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে জারি করা হয়েছে, যেখানে স্বাক্ষর করেন মন্ত্রণালয়ের সচিব জাহাংগীর আলম।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে জামায়াতে ইসলামী এবং ছাত্রশিবিরকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধ, যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যার সঙ্গে যুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া হাইকোর্ট ২০১৩ সালে জামায়াতের রাজনৈতিক নিবন্ধন বাতিল করে এবং সেই রায় আপিল বিভাগেও বহাল থাকে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

এছাড়া প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত সহিংসতা, হত্যাকাণ্ড ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের সম্পৃক্ততার বিষয়ে সরকারের কাছে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ রয়েছে। এসব কারণেই সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় সংগঠন দুটিকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়।

এই সিদ্ধান্তের আগে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে আলোচনা চলছিল। কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সহিংস ঘটনার পর সরকারের পক্ষ থেকে জামায়াত-শিবিরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। পরে ক্ষমতাসীন জোটের বৈঠকে সংগঠন দুটি নিষিদ্ধ করার বিষয়ে একমত হয় বলে জানা যায়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের নিষিদ্ধ ঘোষণার পর রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের প্রস্তুতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, রাজনৈতিক সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে কিছু জায়গায় উত্তেজনা তৈরি হতে পারে।

ডিএমপি জানিয়েছে, শহরের প্রবেশপথ, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবন, কূটনৈতিক এলাকা এবং জনসমাগমস্থলে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি নিয়মিত টহল ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

সব মিলিয়ে, জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধ ঘোষণার পর রাজধানী ঢাকায় এখন কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

বিষয় : বাংলাদেশ জামায়াতে

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬


জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপনের পর ঢাকায় নিরাপত্তা জোরদার

প্রকাশের তারিখ : ০১ আগস্ট ২০২৪

featured Image

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও তাদের ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরকে সরকারিভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণার পর রাজধানী ঢাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের নাশকতা বা বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে প্রস্তুত রয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) বিকেলে ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং গোটা শহরেই নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ বাড়ানো হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে আছে বলেও জানান তিনি।

সরকারের নির্বাহী আদেশে সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এর ১৮(১) ধারা অনুযায়ী জামায়াতে ইসলামী, ছাত্রশিবির এবং তাদের সব অঙ্গসংগঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। প্রজ্ঞাপনটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে জারি করা হয়েছে, যেখানে স্বাক্ষর করেন মন্ত্রণালয়ের সচিব জাহাংগীর আলম।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে জামায়াতে ইসলামী এবং ছাত্রশিবিরকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধ, যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যার সঙ্গে যুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া হাইকোর্ট ২০১৩ সালে জামায়াতের রাজনৈতিক নিবন্ধন বাতিল করে এবং সেই রায় আপিল বিভাগেও বহাল থাকে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

এছাড়া প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত সহিংসতা, হত্যাকাণ্ড ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের সম্পৃক্ততার বিষয়ে সরকারের কাছে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ রয়েছে। এসব কারণেই সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় সংগঠন দুটিকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়।

এই সিদ্ধান্তের আগে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে আলোচনা চলছিল। কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সহিংস ঘটনার পর সরকারের পক্ষ থেকে জামায়াত-শিবিরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। পরে ক্ষমতাসীন জোটের বৈঠকে সংগঠন দুটি নিষিদ্ধ করার বিষয়ে একমত হয় বলে জানা যায়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের নিষিদ্ধ ঘোষণার পর রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের প্রস্তুতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, রাজনৈতিক সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে কিছু জায়গায় উত্তেজনা তৈরি হতে পারে।

ডিএমপি জানিয়েছে, শহরের প্রবেশপথ, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবন, কূটনৈতিক এলাকা এবং জনসমাগমস্থলে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি নিয়মিত টহল ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

সব মিলিয়ে, জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধ ঘোষণার পর রাজধানী ঢাকায় এখন কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর