দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬

ভৈরবে মাইক্রোবাস ভাড়া নিয়ে ভয়াবহ সংঘর্ষ: মহাসড়ক অবরোধ, দোকানপাট ভাঙচুর-লুটপাট, এসপির অভিযানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে

ভৈরবে মাইক্রোবাস ভাড়া নিয়ে ভয়াবহ সংঘর্ষ: মহাসড়ক অবরোধ, দোকানপাট ভাঙচুর-লুটপাট, এসপির অভিযানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে

খুলনায় ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের সাঁড়াশি অভিযান, ১১ প্রতিষ্ঠানে প্রায় দেড় লাখ টাকা জরিমানা

আইসিপি বিজিবির অভিযানে ২ লক্ষ টাকার ভারতীয় কসমেটিক্স আটক

ট্রান্সফরমার চুরির তদন্তে বেরিয়ে এলো মাদকের গুদাম, নওগাঁয় উদ্ধার ৯০ কেজি গাঁজা

বাংলাদেশ-রাশিয়া বৈঠক: জ্বালানি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগে সহযোগিতা বাড়ানোর অঙ্গীকার

এলডিসি উত্তরণের পর শুল্কমুক্ত সুবিধা হারানোর শঙ্কা, ঝুঁকিতে ১৭.৫ বিলিয়ন ডলারের রফতানি আয়

রাজন-রাকিবের মতো রামিসার বিচারও কি হারিয়ে যাবে উচ্চ আদালতে!

কক্সবাজারে পুলিশের জোড়া অভিযান: অপহৃত শিশু উদ্ধার, মানবপাচার মামলার আলোচিত আসামি গ্রেফতার

ইসরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের, উত্তেজনা আরও বাড়ল মধ্যপ্রাচ্যে

ইসরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের, উত্তেজনা আরও বাড়ল মধ্যপ্রাচ্যে
-ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়কে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান। দেশটির সামরিক বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা ও নৌবাহিনীর সদস্যদের নিহত হওয়ার ঘটনার প্রতিশোধ হিসেবেই এই হামলা পরিচালনা করা হয়েছে।

শুক্রবার (২০ মার্চ) ভোরে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

পশ্চিম জেরুজালেমে হামলার দাবি

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিম জেরুজালেমে অবস্থিত ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়কে লক্ষ্য করে এই ড্রোন হামলা চালানো হয় বলে দাবি করেছে তেহরান।

ইরানের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, এটি পূর্বপরিকল্পিত প্রতিশোধমূলক অভিযান, যা তাদের নৌবাহিনী ও গোয়েন্দা কাঠামোর ওপর হামলার জবাব হিসেবে পরিচালিত হয়েছে।


“ডেনা” জাহাজ ও প্রতিশোধের ঘোষণা

ইরানের সামরিক বিবৃতিতে বলা হয়, যুদ্ধজাহাজ “আইআরআইএস ডেনা”-এর নৌসদস্যদের নিহত হওয়ার ঘটনার প্রতিশোধ এবং গোয়েন্দামন্ত্রী ইসমাইল খতিব হত্যার জবাব দিতেই এই হামলা চালানো হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে অনিশ্চয়তা

তবে এই হামলায় ঠিক কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা কোনো প্রাণহানি ঘটেছে কি না—সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত স্বাধীন কোনো সূত্র থেকে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানায়নি।

পটভূমি: নৌঘাঁটি ও উত্তেজনা বৃদ্ধি

এর আগে গত ৪ মার্চ শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ উপকূলে ইরানের যুদ্ধজাহাজ “আইআরআইএস ডেনা”-কে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র টর্পেডো হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করে তেহরান।

ইরানের দাবি অনুযায়ী, ভারতের একটি সামরিক মহড়া শেষে দেশে ফেরার পথে ওই জাহাজটি হামলার শিকার হয় এবং এতে ৮০ জনের বেশি নৌসদস্য নিহত হন।

এই ঘটনার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়তে থাকে।

ইসমাইল খতিব হত্যার অভিযোগ

অন্যদিকে চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইরানের গোয়েন্দামন্ত্রী ইসমাইল খতিব নিহত হন বলে দাবি করে তেহরান।

এই ঘটনার পর দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও হুমকি-ধমকি আরও তীব্র আকার ধারণ করে।

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংঘাতের শঙ্কা

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই ঘটনাগুলো মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

ড্রোন হামলা, নৌঘাঁটি লক্ষ্য করে আক্রমণ এবং শীর্ষ কর্মকর্তাদের হত্যার অভিযোগ—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।

আন্তর্জাতিক উদ্বেগ

আন্তর্জাতিক মহল বলছে, এই ধরনের পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত থাকলে পুরো অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা আরও বাড়বে এবং এর প্রভাব বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতেও পড়তে পারে।

উপসংহার

সব মিলিয়ে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা এখন আরও সরাসরি সামরিক সংঘর্ষের দিকে এগোচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

বিষয় : ইরান ইসরায়েল ড্রোন হামলা মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ পরিস্থিতি ২০২৬ আল জাজিরা রিপোর্ট ইসরায়েল হামলা হরমুজ প্রণালি ও ইরান উত্তেজনা

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬


ইসরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের, উত্তেজনা আরও বাড়ল মধ্যপ্রাচ্যে

প্রকাশের তারিখ : ২০ মার্চ ২০২৬

featured Image

ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়কে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান। দেশটির সামরিক বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা ও নৌবাহিনীর সদস্যদের নিহত হওয়ার ঘটনার প্রতিশোধ হিসেবেই এই হামলা পরিচালনা করা হয়েছে।

শুক্রবার (২০ মার্চ) ভোরে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

পশ্চিম জেরুজালেমে হামলার দাবি

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিম জেরুজালেমে অবস্থিত ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়কে লক্ষ্য করে এই ড্রোন হামলা চালানো হয় বলে দাবি করেছে তেহরান।

ইরানের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, এটি পূর্বপরিকল্পিত প্রতিশোধমূলক অভিযান, যা তাদের নৌবাহিনী ও গোয়েন্দা কাঠামোর ওপর হামলার জবাব হিসেবে পরিচালিত হয়েছে।


“ডেনা” জাহাজ ও প্রতিশোধের ঘোষণা

ইরানের সামরিক বিবৃতিতে বলা হয়, যুদ্ধজাহাজ “আইআরআইএস ডেনা”-এর নৌসদস্যদের নিহত হওয়ার ঘটনার প্রতিশোধ এবং গোয়েন্দামন্ত্রী ইসমাইল খতিব হত্যার জবাব দিতেই এই হামলা চালানো হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে অনিশ্চয়তা

তবে এই হামলায় ঠিক কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা কোনো প্রাণহানি ঘটেছে কি না—সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত স্বাধীন কোনো সূত্র থেকে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানায়নি।

পটভূমি: নৌঘাঁটি ও উত্তেজনা বৃদ্ধি

এর আগে গত ৪ মার্চ শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ উপকূলে ইরানের যুদ্ধজাহাজ “আইআরআইএস ডেনা”-কে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র টর্পেডো হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করে তেহরান।

ইরানের দাবি অনুযায়ী, ভারতের একটি সামরিক মহড়া শেষে দেশে ফেরার পথে ওই জাহাজটি হামলার শিকার হয় এবং এতে ৮০ জনের বেশি নৌসদস্য নিহত হন।

এই ঘটনার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়তে থাকে।

ইসমাইল খতিব হত্যার অভিযোগ

অন্যদিকে চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইরানের গোয়েন্দামন্ত্রী ইসমাইল খতিব নিহত হন বলে দাবি করে তেহরান।

এই ঘটনার পর দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও হুমকি-ধমকি আরও তীব্র আকার ধারণ করে।

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংঘাতের শঙ্কা

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই ঘটনাগুলো মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

ড্রোন হামলা, নৌঘাঁটি লক্ষ্য করে আক্রমণ এবং শীর্ষ কর্মকর্তাদের হত্যার অভিযোগ—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।

আন্তর্জাতিক উদ্বেগ

আন্তর্জাতিক মহল বলছে, এই ধরনের পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত থাকলে পুরো অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা আরও বাড়বে এবং এর প্রভাব বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতেও পড়তে পারে।

উপসংহার

সব মিলিয়ে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা এখন আরও সরাসরি সামরিক সংঘর্ষের দিকে এগোচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর